📄 মডার্নিটি ও ইসলামের সংঘাত
আধুনিকতা শব্দটাকে প্রায় সর্বজনীনভাবে ইতিবাচক ধরা হয়। কিন্তু একটু খতিয়ে দেখতে গেলে বোঝা যায় আধুনিকতাবাদের অনেক দিক ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। সমস্যা হলো, আধুনিকতাবাদ বলতে আসলে ঠিক কী বোঝানো হয় সেটাই আমরা জানি না। শত্রুকে না চিনলে শত্রুর আক্রমণের মোকাবিলা করা যায় না।
আধুনিকতাবাদ আসলে একটা ধর্মের মতো। 'ধর্ম' শব্দটা শুনলে আমরা সাধারণত এক বা একাধিক স্রষ্টা, কোনো পবিত্র গ্রন্থ কিংবা ধর্ম প্রচারকের ওপর বিশ্বাসের কথা ভাবি। কেউ যখন 'ধর্ম' শব্দটা উচ্চারণ করে আমাদের মাথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলাম, খ্রিষ্ট ধর্ম, ইহুদী ধর্ম, হিন্দু ধর্ম ইত্যাদির কথা চলে আসে। কিন্তু আমি ধর্মের ধারণাকে আরও ব্যাপক অর্থে দেখতে চাই কিংবা বলা ভালো পুনর্বিবেচনা করতে চাই। আমার মতে ধর্ম হলো এমন কিছু, যা ভালোমন্দ, নৈতিকতা, কল্যাণ-অকল্যাণের সংজ্ঞা দেয়। ধর্ম হলো এমন কিছু, যা বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করে। ধর্ম বলে দেয়, কীভাবে পৃথিবী চলে এবং কীভাবে মানুষের চলা উচিত।
এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হলে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্ম কোনটা হয় বলুন তো?
প্রশ্নটা মুসলিমদের করা হলে তারা সাধারণত খ্রিষ্ট ধর্মের কথা বলে। কিন্তু এই উত্তর আসলে ঠিক না। ইউরোপ কিংবা অ্যামেরিকার কোনো সাধারণ খ্রিষ্টানকে যদি প্রশ্ন করা হয়, মানুষের উৎস কী, মানুষ কোথা থেকে এল? তাহলে সে বাইবেলের কথা বলবে না। সে হয়তো বায়োলোজির কথা বলবে অথবা ডারউইনের বির্বতনবাদের কথা বলবে। হয়তো বলবে, দেখো আমি এ প্রশ্নের উত্তর জানি না, তবে বড় বড় বিজ্ঞানীদের কাছে গেলে জবাব পাওয়া যাবে।
যদি বলেন, 'তুমি না খ্রিষ্টান? বাইবেলে কি এ ব্যাপারে কিছু বলা নেই?'
সে বলবে, বাইবেল আমার ধর্মগ্রন্থ। কিন্তু মানুষ কোথা থেকে এল সেটা জানার উৎস বাইবেল না। এটা জানতে হলে সেক্যুলার বিজ্ঞান এবং বায়োলজির কাছে যেতে হবে। একইভাবে কোনো ইহুদীকে যদি প্রশ্ন করা হয়, সমাজ-ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কী? তাহলে সে তাওরাত কিংবা তালমুদের কথা বলবে না। সে কোনো র্যাবাইয়ের কাছে যাবে না। সে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের কথা বলবে। হয়তো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র কিংবা নির্জলা পুঁজিবাদের কথা বলবে।
কাজেই সেও তার ধর্মবিশ্বাস এবং ধর্মগ্রন্থের ভিত্তিতে জবাব দিচ্ছে না। তার জবাবের ভিত্তি অন্য কিছু। এসব মানুষ নিজেকে ধার্মিক বলে পরিচয় দিলেও ব্যক্তি, রাষ্ট্র, সমাজ, পৃথিবী, মহাবিশ্ব, মানুষের অস্তিত্ব, ভালো-মন্দসহ অধিকাংশ বিষয়ে তাদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং অবস্থানের উৎস ধর্ম না। তারা এগুলো নিচ্ছে অন্য কোনো উৎস থেকে। সেই উৎসটা কী? সেটা কোন ধর্ম? তারা আসলে কিসের অনুসরণ করছে?
তারা অনুসরণ করছে আধুনিকতাবাদের। আধুনিকতাবাদ এমন এক ধর্ম, যাকে ধর্ম নামে ডাকা হয় না। আধুনিকতাবাদ হলো এমন এক বিশ্বাসের কাঠামো, যার জন্ম ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপে, প্রটেস্ট্যান্ট রিফর্মেশানের[৮৮] সময়।
ধর্ম শব্দটা বেশ সংকীর্ণ, এটা আমরা একটু আগেই বলেছি। এই সংকীর্ণ শব্দ থেকে সরে এসে আরও উপযুক্ত কোনো শব্দ আমাদের ব্যবহার করতে হবে। সেই শব্দটা হতে পারে দ্বীন। যেমন আমরা বলি ইসলাম হলো একটি দ্বীন—একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এটা কেবল কিছু বিশ্বাস আর আমলের নাম না; বরং ইসলাম এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা জীবনের প্রতিটি অক্ষের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলাম যেমন একটি দ্বীন, ঠিক তেমনিভাবে আধুনিকতাবাদও একটি দ্বীন এবং এটি আজকের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দ্বীন। আরেকটা উপযুক্ত শব্দ হলো 'প্যারাডাইম'। মডার্নিস্ট প্যারাডাইম এবং ইসলামী প্যারাডাইম আলাদা। কিছু কিছু মিল থাকলেও অনেক মৌলিক জায়গাতে এই দুই প্যারাডাইমের মধ্যে সংঘর্ষ আছে। আধুনিকতাবাদকে আমাদের এভাবে বোঝা এবং চিনতে শেখা উচিত।
আজকের পৃথিবীতে আধুনিকতার কোনো সমালোচনা সহ্য করা হয় না। পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলো দাবি করে সব ধর্মের ব্যাপারে তারা সহনশীল। স্বাধীনভাবে সব ধর্ম পালনের অধিকার দেয়ার কথাও তারা বলে। কিন্তু পরিপূর্ণ সহিষ্ণুতা বলে আসলে কিছু নেই। একজন মুসলিম মসজিদের ভেতরে তার ধর্ম পালন করতে পারবে। খ্রিষ্টান গির্জার ভেতরে তার ধর্ম পালন করতে পারবে। আল্লাহ, নবী, আখিরাত-ইত্যাদি নিয়ে নিজয় কিছু বিশ্বাস রাখা যাবে। কিন্তু এমন কিছু সীমারেখা আছে যেগুলো মেনে চলতেই হবে।
ধরুন কেউ বিশ্বাস করে নারী ও পুরুষ আলাদা, তারা সমান না। পরিবার, সমাজে তাদের ভূমিকাও আলাদা। তার এই বিশ্বাসকে কি সম্মান করা হবে? নাকি তাকে নারীবিদ্বেষী আর সেকেলে বলা হবে?
কেউ বিশ্বাস করে কিছু কিছু যৌন আচরণ ঘৃণ্য, বিকৃত, অবৈধ এবং অনৈতিক। এসব আচরণকে নির্বিঘ্নে চলতে দেয়া হলে একসময় সমাজ কলুষিত হয়ে ধাংস হয়ে যাবে। এ বিশ্বাসকে কি সম্মান করা হবে? নাকি সমকামবিদ্বেষ বলা হবে?
কাজেই মুখে সহিষ্ণুতার কথা বললে আধুনিকতাবাদের 'পবিত্র' বিশ্বাসগুলোর সমালোচনা আসলে সহ্য করা হয় না। নিজের বিশ্বাস আর আদর্শ নিয়ে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরে থাকতে হয়, এর বাইরে যাওয়া যায় না।
ইতিহাস
আসুন আধুনিকতাবাদ বা মডার্নিসমের ইতিহাসের দিকে তাকানো যাক। মডার্নিসমের শুরু ইউরোপে। ষোড়শ শতাব্দীর প্রটেস্ট্যান্ট রিফর্মেশানের সময়। এ সময় ক্যাথলিক চার্চ আর প্রটেসট্যান্টদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। প্রটেস্ট্যান্টরা ক্যাপলিক চার্চ থেকে আলাদা হয়ে যাবার ঘোষণা দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল ক্যাথলিক চার্চ খ্রিষ্টানদের ধর্মবিশ্বাসকে নিজস্ব স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে। বাইবেলকে কীভাবে বুঝতে হবে, খ্রিষ্টান হিসেবে কীভাবে জীবনযাপন করতে হবে তা বোঝার নিজস্ব পদ্ধতি আমাদের আছে। ক্যাথলিক চার্চকে আমাদের দরকার নেই। দুর্নীতিগ্রস্ত, অনৈতিক এবং খ্রিস্টের শিক্ষাকে বিকৃত করা ক্যাথলিক চার্চের সাথে আমরা থাকব না।
এই বিভাজনের ফলে ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টদের মধ্যে অনেকগুলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ইতিহাসের প্রচলিত বয়ান অনুযায়ী, এই যুদ্ধ একপর্যায়ে এমন অবস্থায় পৌঁছল যে বাইবেলের ব্যাপারে খ্রিষ্টানদের মোহভঙ্গ ঘটল। তারা ভাবল, এত সংঘাত আর রক্তপাত হচ্ছে বাইবেলের জন্য। বাইবেলের ব্যাখ্যা নিয়েও কেউ একমত হতে পারছে না। ক্যাথলিকদের ব্যাখ্যা প্রটেস্ট্যান্টরা গ্রহণ করে না। প্রটেসট্যান্টদের ব্যাখ্যা ক্যাথলিকরা গ্রহণ করে না। একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করছে। আর এগুলোকে কেন্দ্র করে চলছে অরাজকতা আর খুনোখুনি। তাহলে বাইবেল তো হিদায়াত আর শান্তির উৎস হতে পারে না; বরং বাইবেল হলো দ্বন্দ্ব, হত্যা আর ধ্বংসের উৎস।
ইউরোপের মানুষ তখন প্রশ্ন করল-মানব অস্তিত্ব, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়কে বোঝার জন্য তাহলে আমরা কোথায় যাব? কিসের দ্বারস্থ হব?
উত্তর এল, মানবীয় বুদ্ধিমত্তা। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে হবে মানুষের মন, বিবেক, বুদ্ধি, যুক্তি আর বিজ্ঞানের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সাজাতে হবে মানবীয় জ্ঞানবুদ্ধির ভিত্তিতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে।
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তারা আবিষ্কার করল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের ব্যাপারে কেউ একমত হতে পারছে না। দার্শনিক আর বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দেখা দিচ্ছে গভীর এবং তীব্র মতপার্থক্য। বিভিন্ন মতবাদ আর তত্ত্বগুলো একটা আরেকটার সাথে সাংঘর্ষিক। একদিন এক জিনিসকে সত্য বলা হচ্ছে, পরেরদিন সেটা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় নিজের সাথে সৎ থেকে ইউরোপের আর দাবি করার উপায় থাকল না যে তাদের বিশ্বাসের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো আছে; বরং তাদের কাছে আছে বিভিন্ন মত, ধ্যানধারণা, তত্ত্ব আর দর্শনের এক জগাখিচুড়ি। একে সুনির্দিষ্ট, সুসংহত জীবনব্যবস্থা বলা যায় না। জীবনদর্শন বলা যায় না।
তবে এখানে একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক হাতসাফাইয়ের সুযোগ থাকে। যেহেতু সুনির্দিষ্ট কোনো আদর্শ, বিশ্বাস এবং অবস্থান ঠিক করা যাচ্ছে না, তাই বলা যায়-
কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দরকার নেই। মানুষ তার বিবেকবুদ্ধি খাটাবে, বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে, আর খোলা মন রাখবে। ব্যস, এটুকুই যথেষ্ট। আমরা কোনো নির্দিষ্ট ধ্যানধারণা কিংবা জীবনবিধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না। এভাবে কোনো কিছু আঁকড়ে থাকা পশ্চাৎপদতা। এর বদলে পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করতে হবে। ক্রমাগত নিজেকে বদলাতে হবে, আপডেট করতে হবে। এটাই অগ্রগতি, এটাই প্রগতি। আর প্রগতিই মুখ্য।
আর এটাই হলো মডার্নিসমের ভিত্তি। এভাবেই পশ্চিমা বিশ্ব দুনিয়া ও বাস্তবতার ব্যাপারে তাদের অসংলগ্ন অবস্থানকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে।
আধুনিকতাবাদের প্রধান দুই শাখা
আধুনিকতাবাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের মতবাদের সম্পর্ক আছে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, নারীবাদ, সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, বস্তুবাদ, বিজ্ঞানবাদসহ বিভিন্ন মতবাদ আধুনিকতাবাদের ছাতার নিচে জড়ো হয়েছে। কিন্তু মডার্নিসমের প্রধান শাখা দুটি-
* লিবারেলিসম
* সায়েন্টিসম (বিজ্ঞানবাদ)
ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, রাজনীতি, শাসন, মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলোর আলোচনা হয় লিবারেলিসমের অধীনে। আর মহাবিশ্ব কী দিয়ে তৈরি, কীভাবে কাজ করে, মহাবিশ্বকে আমরা কীভাবে বুঝব, মহাবিশ্বে কী আছে-এই প্রশ্নগুলোর আলোচনা হয় সায়েন্টিসমের অধীনে।
সায়েন্টিসম ফোকাস করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর। সায়েন্টিসমের অধীনে আবার বিভিন্ন মতবাদ পাবেন। যেমন-বস্তুবাদ, ন্যাচারালিসন, বির্বতনবাদ, ডারউইনবাদ, এড্যুলুশানারি বায়োলজি, এম্পিরিসিসমসহ আরও অনেক মতবাদ।
অন্যদিকে লিবারেলিসমের অধীনে আছে-ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, নারীবাদ, সমাজতন্ত্র, ক্রিটিকাল রেইস থিওরিসহ বিভিন্ন মতবাদ। এই মতবাদগুলোর একটির সাথে আরেকটির অনেক পার্থক্য আছে, কিন্তু সার্বিকভাবে এদের অবস্থান লিবারেলিসমের ছাতার নিচে।
আধুনিকতাবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য
আধুনিকতাবাদের দুটো প্রধান বৈশিষ্ট্য আছে।
• ট্র্যাডিশান বিরোধিতা (Anti traditionalism)
• প্রগতিবাদ (Progressivism)
ট্র্যাডিশান বিরোধিতা
আধুনিকতাবাদ ট্র্যাডিশানের বিরোধিতা করে। আধুনিকতাবাদের বক্তব্য হলো- ট্যাডিশন 'শেকলের মতো' মানুষকে আটকে রাখে। নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে দেয় না। অগ্রগতি আর প্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ট্র্যাডিশান থেকে মুক্ত হতে হবে, ট্র্যাডিশানকে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। ধর্ম অনুসরণ করার অর্থ একধরনের ট্র্যাডিশান অনুসরণ করা। ইসলাম মেনে চলা, কুরআন-হাদীসের বক্তব্য গুরুত্বের সাথে নেয়া এবং এগুলোকে জীবনবিধানের উৎস বানানোর অর্থ অতীত আঁকড়ে থাকা। আপনি যখন কুরআন খুলছেন, হাদীস পড়ছেন তখন অতীতের দিকে তাকাচ্ছেন। কিন্তু আপনাকে তাকাতে হবে সামনের দিকে। এভাবে অতীত আঁকড়ে থাকলে আপনার সম্ভাবনা সীমিত হয়ে আসবে। স্বাধীন বিকাশ ঘটবে না। পুরো পৃথিবী এগিয়ে যাবে আর আপনি আটকে থাকবেন ট্র্যাডিশানের শেকলে। তাই ট্র্যাডিশান বাদ দিতে হবে। অতীতের শেকল, অতীতের চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে। নিজেকে বারবার বদলাতে হবে।
প্রগতিবাদ
প্রগতিবাদের বক্তব্য হলো সময়ের সাথে মানুষের অগ্রগতি হবে। ধর্মীয় বিশ্বাসের মতো সেকেলে ধ্যানধারণা বাদ দিলে, পশ্চাৎপদ সাংস্কৃতিক প্রথাপ্রচলন থেকে বের হয়ে আসলে, যত সময় যাবে তত মানুষের অগ্রগতি হবে। সময় যত যাচ্ছে মানবজাতির তত অগ্রগতি এবং উন্নতি হচ্ছে।
মডার্নিসমের মতে এই অগ্রগতি আর উন্নতি মূলত দুটি দিক থেকে হচ্ছে। একদিকে যুক্তি, বুদ্ধি, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের দিকে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে অগ্রগতি হচ্ছে নৈতিকতার। অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে একদিকে আমরা আরও বেশি বুদ্ধিমান আর যৌক্তিক হচ্ছি, অন্যদিকে আমরা আরও বেশি নৈতিক হচ্ছি।
বর্ণবাদ, দাসত্ব, বিয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য, নারীবিদ্বেষ, পুরুষতান্ত্রিকতার মতো জঘন্য-সব জিনিস অতীতে প্রচলিত ছিল। অতীতে অনেক বেশি অন্যায়, অবিচার ছিল। কিন্তু এখন আমাদের অগ্রগতি হয়েছে। ওসব অনৈতিক সময় আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। মডার্নিসম যে নিখুঁত কল্পজগতের কথা বলে-দুনিয়াতে জান্নাতের যে প্রতিশ্রুতি দেয়-সেটাতে আমরা এখনো পৌঁছাতে পারিনি। কিন্তু সেই পথে আমরা নিরন্তর এগিয়ে যাচ্ছি। যতদিন আমরা নিজেদের বদলাতে থাকব, নিজেদের আপডেট করতে থাকব ততদিন অগ্রগতি আর প্রগতি চলবে।
একইভাবে বুদ্ধি এবং জ্ঞানের দিক থেকেও আমরা এগোচ্ছি। বিজ্ঞানের কল্যাণে দুনিয়াকে এখন আমরা আরও ভালোভাবে বুঝি। মহাবিশ্ব কীভাবে কাজ করে, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ আর পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা তা বুঝতে শিখেছি। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির যত অগ্রগতি হবে, মানবসভ্যতার তত অগ্রগতি হবে। অগ্রগতির গ্রাফ একটা ঊর্ধ্বগামী রেখা। সময়ের সাথে সাথে এটা ওপরে উঠতে থাকবে।
কাজেই আজকের একজন মানুষ আজ থেকে ২০, ৫০, ১০০ কিংবা ১০০০ বছর আগেকার মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান, যৌক্তিক, জ্ঞানসম্পন্ন এবং নৈতিক।
সংঘাত
মডার্নিসমের এই অবস্থানের সাথে ইসলামের গভীর দ্বন্দ্ব আছে। আমরা জানি জ্ঞান এবং নৈতিকতার চূড়া ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়। শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) প্রজন্ম, তারপর তাবেঈদের প্রজন্ম, তারপর তাবে-তাবেঈনের প্রজন্ম।[৮৯] তার পর থেকে জ্ঞান, নৈতিকতা, তাকওয়া সবকিছুর অবনতি হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে বেড়েচে অবনতির পরিমাণ। নৈতিকতাবোধ, বুঝ, আকল-সময়ের সাথে অবনতি হয়েছে সবকিছুর। ইসলাম আল্লাহর মনোনীত এবং তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র দ্বীন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নবী। তার পর আর কোনো নবী আসবেন না, আর কোনো ওয়াহি আসবে না। তিনি যা এনেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আর এই শিক্ষা জানা, বোঝা, অনুধাবন করা এবং পালন করার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম ছিল সাহাবীগণের প্রজন্ম।
কাজেই ইসলাম আমাদের জানাচ্ছে শ্রেষ্ঠ সময় ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়। তার পর থেকে গ্রাফ নিম্নমুখী। অন্যদিকে আধুনিকতাবাদ আমাদের বলছে গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। দুটো অবস্থান সাংঘর্ষিক। ইসলামের শিক্ষার সাথে তাই আধুনিকতার দৃষ্টিভঙ্গির গভীর দ্বন্দ্ব আছে। একই সাথে ইতিহাসের বাস্তবতার সাথেও মৌলিক সংঘাত আছে মডার্নিসমের মিথের।
এ কারণে কোনো মুসলিম যখন আধুনিকতাবাদের ধ্যানধারণা বুঝে কিংবা না বুঝে গ্রহণ করে, তখন তার মধ্যে ইসলাম নিয়ে নানা ধরনের সংশয় কাজ করবে। শাসন, নারী অধিকার, রিবা, অর্থনীতি, পরিবার, স্ত্রীর দায়িত্ব, স্বামীর দায়িত্ব, যৌনতাসহ অসংখ্য বিষয়ে ইসলামের অবস্থানের সাথে আধুনিকতার অবস্থান মেলে না। যে অবস্থানগুলোকে আজ নৈতিক এবং যৌক্তিক মনে করা হয়, ইসলাম সেগুলোর স্বীকৃতি দেয় না। যে মানুষ মনে করে আজ আমরা জ্ঞান এবং নৈতিকতার চূড়ায় অবস্থান করছি, ইসলামের সাথে আধুনিকতার এই সংঘাতের মীমাংসা সে কীভাবে করবে?
খোদ কুরআনের অনেক বক্তব্য মেনে নিতেও তার কষ্ট হবে। অল্প কিছু আয়াত ছাড়া কুরআনের প্রায় সব আয়াতেই এমন কিছু-না-কিছু সে খুঁজে পাবে, যা তার মডার্নিস্ট বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ কাফিরদের জাহান্নামে পাঠাবেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, এটাও হয়তো সে মেনে নিতে পারবে না। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো আজ এমন অনেক মানুষ আছে, যারা নিজেদের মুসলিম দাবি করলেও, এ কথাটা মানতে পারে না।
ইসলাম এবং মডার্নিসমের এই দ্বন্দ্ব অনেক মুসলিমের মনে সংশয় ও সন্দেহের জন্ম দেয়। এ জন্যই মডার্নিসম ঈমানের জন্য বিপজ্জনক। ইন্টারনেট আর ম্যাস মিডিয়ার কল্যাণে মডার্নিসমের এই বিশ্বাস আর মতবাদগুলো আজ ছড়িয়ে আছে সারা পৃথিবীজুড়ে। এগুলোর কবল থেকে পালানোর কোনো পথ নেই। যে বাতাসে আমরা শ্বাস নেই তার মাঝেই যেন এগুলো মিশে গেছে। সচেতনভাবে কেউ যদি এই ধরনের মতবাদগুলোর কবল থেকে বের হবার চেষ্টা না করে, তাহলে এগুলো ক্রমাগত তাকে প্রভাবিত করতে থাকবে। তার চিন্তাকে সংক্রমিত করতে থাকবে।
এ জন্য দেখবেন, মুসলিমদের মধ্য থেকে যারা নারীবাদ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মতো মতবাদগুলো দ্বারা প্রভাবিত, তারা সব সময় ইসলামী ইলমের ধারাকে বাদ দেয়ার কথা বলে। অতীতের আলিমগণের বক্তব্য বাদ দিতে বলে। কেউ সরাসরি বলে, কেউ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলে। যেমন অনেকে বলে, 'আমাদের ইসলামী জ্ঞানের সংস্কার করতে হবে', 'ইসলামী শরীয়াহর ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গির জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবর্তন আনতে হবে', 'মাকাসিদুশ শরীয়াহর আলোকে বিভিন্ন মাসায়েলকে নতুন করে পুনর্বিবেচনা করতে হবে', ইত্যাদি। যেভাবেই বলা হোক না কেন, কথগুলোর মূল অর্থ এক- ইসলামের ইলমী সিলসিলাকে প্রত্যাখ্যান করে আধুনিকতাবাদের সাথে মিলিয়ে নতুন করে কুরআন-সুন্নাহকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
এই মানুষগুলো সাগরে বুকে নোঙরহীন নৌকার মতো। মডার্নিসমের বাতাস যেদিকে বইবে, সেদিকেই এরা ছুটে চলবে। এ কারণেই হকপন্থী আলিমদের সাহচর্যে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আপনার নোঙর লাগবে। সঠিক পরিবেশে থেকে নিজেকে এসব প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। যদি সচেতন ও সক্রিয়ভাবে এ মতবাদগুলোর মোকাবিলা না করা হয় তাহলে একসময় ইসলামের ব্যাপারে ধারণা বদলাতে শুরু করবে। একপর্যায়ে মানুষ ইসলামকে তাচ্ছিল্য করতে, নিচু করে দেখতে শুরু করবে। এ জন্যই মডার্নিসম সম্পর্কে জানা, বোঝা এবং এর মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।
নববী যুগ কেন শ্রেষ্ঠ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় কেন জ্ঞান এবং নৈতিকতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ? নৈতিকতার দিক থেকে কেন শ্রেষ্ঠ সেটা না হয় বুঝলাম, কিন্তু জ্ঞানের দিক থেকে কেন সেই সময়টা শ্রেষ্ঠ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময় তো এত প্রযুক্তি ছিল না। বিজ্ঞানের এত অগ্রগতি তখনো হয়নি। তাহলে কীভাবে আমরা সেই সময়কে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করব?
এই প্রশ্নের উত্তর বোঝার জন্য আগে আমাদের বুঝতে হবে, জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তা আসলে কী। এই শব্দগুলোকে ইসলামের অবস্থান থেকে বুঝতে হবে। আল্লাহ কী বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী বলেছেন, সেটা দেখতে হবে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেয়া সংজ্ঞা ফেলে অন্যদের বানানো সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা কিংবা অন্যদের ভাষা আর পরিভাষা আমরা গ্রহণ করতে পারি না।
তাহলে জ্ঞান কী? বুদ্ধিমত্তা কী?
সত্যকে চেনা। হককে চেনা। হক্ক আর বাতিলের পার্থক্য করতে পারা। এটা হলো জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তার সত্যিকারের কেন্দ্র।
জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তার যে ব্যাখ্যা বস্তুবাদ দেবে তা বিকৃত, সংকীর্ণ এবং নড়বড়ে। বস্তুবাদ বলবে, বুদ্ধিমান হবার অর্থ দৃশ্যমান পৃথিবীর বিভিন্ন বস্তু কীভাবে একে অপরের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করে সেটা জানা। যেমনটা পদার্থবিজ্ঞান কিংবা রসায়নে শেখানো হয়। অর্থাৎ বস্তুবাদের মতে জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ হবার অর্থ নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। যেমন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কীভাবে আরও দ্রুত গতিতে যাওয়া যায় তা বের করা।
অবশ্যই এসব প্রযুক্তির উপকারিতা আছে, কিন্তু এটাই কি সব? বাস্তবতা কি এটুকুতেই সীমাবদ্ধ? অবশ্যই না।
সবচেয়ে বড় সত্য কী? সবচেয়ে বড় বাস্তবতা কী?
সবচেয়ে মৌলিক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, আল্লাহ আমাদের রব এবং তাঁর ইবাদাত করতে হবে। যে আল্লাহকে চেনে না, যে তাঁর রাসূলকে চেনে না, তাকে কীভাবে জ্ঞানসম্পন্ন বলা যায়? তাকে কীভাবে বুদ্ধিমান বলা যায়? সবচেয়ে স্পষ্ট বাস্তবতাকে চিনতে সে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের একজন রব আছেন এবং তাঁর ইবাদত করতে হবে, এই অবিসংবাদিত সত্যকে সে গ্রহণ করতে পারেনি। কীভাবে সে নৈতিকতা আর বুদ্ধিমত্তার শিখরে থাকার কথা দাবি করে যখন মৌলিক এই বাস্তবতাকে সে চিনতে পারেনি?
মানুষের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। তার ভেতরে কী আছে, সেটাও সে জানে না। সে তার নিজের রূহ, কলব, নাফসকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। সে টিস্যু, সেল, শিরা, উপশিরা, ধমনি চিনতে শিখেছে, কিন্তু এর বাইরে আর কিছু সে বোঝে না। এমন সীমিত জ্ঞানের মানুষ কীভাবে নৈতিকতা আর বুদ্ধিমত্তার চূড়ায় থাকার দাবি করে? এ দাবি আমরা প্রত্যাখ্যান করি। নৈতিকতা, জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তার শিখর হলো আল্লাহর কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসা দিকনির্দেশনা। যা জিব্রিল আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে আল্লাহ পাঠিয়েছেন।
মডার্নিসমের মৌলিক সমস্যা হলো, মর্ডানিসম মানুষের খেয়ালখুশি আর কামনা-বাসনাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে। মডার্নিসম মনে করে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এই কামনা-বাসনা, খেয়ালখুশি, পূর্বধারণা, আর বায়াস ভেদ করে সত্যকে চিনতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে। আজকের পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখুন। দেখুন মানুষ কতটা অযৌক্তিক, কতটা নির্বোধ। মানুষ একদিন একটা কথা বিশ্বাস করে, পরের দিন অন্য কিছু। একদিন একটা জিনিসের পেছনে ছুটে বেড়ায় পরের দিন ছোটে অন্য কিছুর পেছনে। সংস্কৃতি বদলায় প্রতিনিয়ত। মানুষের বানানো যেসব ধ্যানধারণা গতকাল সমাধান দিতে পারেনি, আজ সেগুলো সমাধান দিতে পারবে, এমন মনে করার কারণ কী? বরং এগুলো মানুষকে আরও দুর্দশা আর অবনতির দিকে নিয়ে যাবে।
যে আসলেই বুদ্ধিমান, যে আসলেই জ্ঞানসম্পন্ন, সে মানুষের বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতাকে চিনতে পারে। সে বোঝে মানবীয় সীমাবদ্ধতা ভেদ করে মানুষের বুদ্ধিমত্তা দেখতে পারে না। তাই স্রষ্টার কাছ থেকে আসা আলো ছাড়া আর কোনো আলো নেই। এই সত্য একজন অমুসলিমও চিনতে পারার কথা। সত্যিকারের নির্দেশনা আসতে হবে পার্থিব সীমার অতীত কোনো উৎস থেকে, ওপর থেকে। আর সেই উৎস হলেন আমাদের রব, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। যিনি আমাদের স্রষ্টা, তিনিই জানেন কোনটা আমাদের জন্য উত্তম। কোনটা কল্যাণকর। তিনিই বাস্তবতার এবং মানবপ্রকৃতি সম্বন্ধে সর্বাধিক অবগত। তাই আমাদের উচিত জ্ঞানের মূল উৎসের কাছে যাওয়া। মানুষের খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর না করে মূল উৎস থেকে নির্দেশনা নেয়া।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, মানুষের খেয়ালখুশির অনুসরণের পরিণতি ভালো হয় না। আর সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা ত্যাগ করার ফলাফল কী, চোখের সামনেই আজ সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। মানবজাতি পথ হারিয়েছে। আল্লাহর নির্দেশনা ছাড়া মানুষ কতটা দিকভ্রান্ত হতে পারে, আজকের মতো আর কখনো হয়তো তা এতটা স্পষ্ট ছিল না।
টিকাঃ
[৮৮] প্রটেস্ট্যান্ট রিফর্মেশান—ষোড়শ শতকে ইউরোপে শুরু হওয়া খ্রিষ্ট ধর্মের সংস্কার-আন্দোলন। জার্মান ধর্মযাজক মার্টিন লুথার এই আন্দোলনের সূচনা করে। এর মাধ্যমে খ্রিষ্ট ধর্মের প্রটেস্ট্যান্ট (Protestant) ধারার সূচনা হয়। রিফর্মেশন ইউরোপ এবং আধুনিক পশ্চিমের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। - অনুবাদক
[৮৯] "আমার যুগের লোকেরাই হচ্ছে সর্বোত্তম লোক, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী যুগের।" [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]