📘 সংশয়বাদী > 📄 আমরাই সর্বশেষ, আমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ

📄 আমরাই সর্বশেষ, আমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ


নৈতিক প্রগতির ধারণার অন্যতম চালিকাশক্তি হলো বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ওপর বিশ্বাস। আধুনিক যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যেহেতু এত অগ্রগতি হয়েছে, তাই ধরে নেয়া যায় নৈতিকভাবেও অগ্রগতি হয়েছে। প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের মতোই, নৈতিক জ্ঞানের দিক থেকেও আমাদের সভ্যতা অতীতের সভ্যতাগুলোর চেয়ে অগ্রসর।
এ ধরনের চিন্তা আসলে নতুন না। যুগে যুগে সব বড় বড় সভ্যতা নিজেদের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করে এসেছে। আল্লাহ কুরআনে সরাসরি এই মনোভাবের বিরুদ্ধে বলেছেন। আল্লাহ আমাদের ওইসব সভ্যতার কথা চিন্তা করতে বলেছেন, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অর্জন সত্ত্বেও ঔদ্ধত্য এবং আল্লাহর ও তাঁর রাসূলদের (আলাইহিমুস সালাম) বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারণে যারা ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ আমাদের আরও জানিয়েছেন, শক্তি, ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অর্জনের বদৌলতে নিজেদের ন্যায়পরায়ণ এবং নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ মনে করা ভুল এবং ঔদ্ধত্যের পরিচায়ক। শুধু তা-ই না, নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর সভ্যতা মনে করাও সঠিক না। এমনও সভ্যতা ছিল যারা শক্তি আর সংখ্যায় আরও প্রভাবশালী ছিল। আল্লাহ বলেছেন,
আর তারা কি যমীনে ভ্রমণ করে না? তাহলে তারা দেখত, কেমন ছিল তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম। অথচ তারা তো শক্তিতে ছিল এদের চেয়েও প্রবল। আল্লাহ তো এমন নন যে, আসমানসমূহ ও যমীনের কোনো কিছু তাকে অক্ষম করে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। [তরজমা, সূরা ফাতির, ৩৫]
এরা কি যমীনে বিচরণ করে না? তাহলে দেখত, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণতি কেমন হয়েছিল। তারা এদের তুলনায় যমীনে শক্তিমত্তা ও প্রভাব বিস্তারে প্রবলতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের পাকড়াও করলেন তাদের পাপাচারের কারণে। আর তাদের জন্য ছিল না আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো রক্ষাকারী। [তরজমা, সূরা গাফির, ২১]
তারা কি যমীনে ভ্রমণ করেনি, তা হলে তারা দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? তারা যমীনে ছিল তাদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক, আর শক্তিতে ও কীর্তিতে তাদের চেয়ে অধিক প্রবল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তা তাদের কোনো কাজে আসেনি। রক্ষাকারী। [তরজমা, সূরা গাফির, ৮২]
তারা কি যমীনে ভ্রমণ করে না? তাহলে তারা দেখত যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। তারা শক্তিতে তাদের চেয়েও প্রবল ছিল। আর তারা জমি চাষ করত এবং তারা এদের আবাদ করার চেয়েও বেশি আবাদ করত। আর তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল। বস্তুত আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তাদের প্রতি যুলম করবেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজদের প্রতি যুলম করত। [তরজমা, সূরা আর-রুম, ৯]
...আমি যাকে ইচ্ছা তার মর্যাদা উঁচু করে দিই এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপর রয়েছে একজন মহাজ্ঞানী। [তরজমা, সূরা ইউসুফ, ৭৬]
অতীতে কি এমন কোনো সভ্যতা ছিল, যা ছিল প্রযুক্তিগতভাবে আজকের সভ্যতার চেয়েও অগ্রসর? আল্লাহই ভালো জানেন। এমন কোনো সভ্যতা ছিল না, এটা আমাদের ধরে নেয়া উচিত না। তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ কত 'আধুনিক' সেটা দিয়ে তাদের মূল্যবোধকে বিচার করা উচিত না; বরং মানুষের মূল্যবোধের বিচার করা উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনীত শরীয়াহর আলোকে।

টিকাঃ

📘 সংশয়বাদী > 📄 প্রগতিবাদ এবং ফিরাউনের উত্তরসূরি

📄 প্রগতিবাদ এবং ফিরাউনের উত্তরসূরি


ইতিহাসের ব্যাপারে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রগতিবাদী না। কুরআনে বর্ণিত মুসা, ইসা, ইউসুফ, ইব্রাহিম (আলাইহিমুস সালাম) এর মতো নবীদের ঘটনা জানার সময় আমাদের ভাবা উচিত না যে এগুলো কেবল অতীতের কাহিনি, আর আমরা হলাম আধুনিক সময়ের মানুষ। আমাদের পৃথিবী আলাদা। আমাদের সমাজ, প্রতিষ্ঠান, সরকারগুলো অনেক বেশি উন্নত এবং সূক্ষ্ম।
না, এক মুহূর্তের জন্যও এভাবে চিন্তা করা যাবে না। কারণ, এটা কাফিরদের চিন্তা। মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে এটা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহ বলেছেন- ...যারা কুফরী করেছে তারা বলে, 'এটা পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনি ছাড়া কিছুই নয়।' [তরজমা, সূরা আল-আন'আম, ২৫]
পূর্ববর্তী নবী এবং তাঁদের শত্রুদের মধ্যকার সংঘাতের বর্ণনা আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন। এর কারণ আছে। আমরাও সেই একই সংঘাতের মুখোমুখি। দুনিয়াতে যেমন 'নবীদের ওয়ারিশ'-রা আছে, তেমনিভাবে ইবলিশ, ফিরআউন, আবু জাহল এবং আবু লাহাবের উত্তরসূরিরাও আছে। এই বাস্তবতার ব্যাপারে অন্ধ হয়ে থাকলে, আমার রবের সতর্কতাবাণী অগ্রাহ্য করলে, আমরা অপ্রস্তুত অবস্থায় আক্রমণের সম্মুখীন হব।

টিকাঃ

📘 সংশয়বাদী > 📄 জ্ঞানের ধারণা—আধুনিকতা বনাম ট্র্যাডিশান

📄 জ্ঞানের ধারণা—আধুনিকতা বনাম ট্র্যাডিশান


জ্ঞান হলো এমন কিছু যা বই, হার্ড ড্রাইভ কিংবা ডিজিটাল ক্লাউডে খুঁজে পাওয়া যায়-আধুনিক এই ধারণা একটা বিচ্ছিন্ন চিন্তা। ইসলামী ইলমের সিলসিলা এ ধরনের 'জ্ঞানের' ওপর গড়ে ওঠেনি। প্রকৃত জ্ঞান বিমূর্ত হয় না। সত্যিকারের জ্ঞান কখনো রক্তমাংসের মানুষ থেকে আলাদা হয় না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আল্লাহ ওয়াহি নাযিল করেছেন জিব্রিল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে। সেই জ্ঞান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়েছেন তাঁর সাহাবীগণকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)। সাহাবাগণ শুধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা থেকে শিক্ষা নেননি। তাঁরা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাঁর কাজ, তাঁর আচার-আচরণ, এমনকি তাঁর নীরবতা থেকেও। কাজেই জ্ঞানের প্রবাহের মাধ্যম হলো মানুষ। এ কারণেই ইসলামী জ্ঞানে ইসনাদ বা সনদের (বর্ণনাসূত্র) ধারণা এত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহর নাযিলকৃত ইলমের কিছু অংশ সত্যিকারভাবে জানার দাবি করতে হলে, যাদের মাধ্যমে এই ইলম শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত হয়েছে-শেষ পর্যন্ত আপনার উস্তাদের মাধ্যমে আপনার কাছে এসে পৌঁছেছে-সেই ধারা সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। ইন্টারনেট থেকে কোনো বই নামিয়ে পড়ে ফেলা কখনোই এর বিকল্প হতে পারে না। এর মাধ্যমে বড়জোর কোনো রচনার সাথে পরিচিত হওয়া যায়, এর বেশি কিছু না।
আমাকে ভুল বুঝবেন না, যদি সঠিকভাবে করা হয় তাহলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানার অনেক উপকারিতা আছে। তবে আলিম হতে হলে, দ্বীনের বিষয়ে কর্তৃত্বের সাথে কথা বলতে হলে অনেক ক্ষেত্রে ইসনাদ একটা শর্ত। এভাবেই আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে হেফাযত করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'আল্লাহ তাআলা ইলমকে এমনভাবে তুলে নেবেন না যে বান্দাদের (অন্তর) থেকে তা তুলে নিলেন; বরং ইলমকে তুলে নেবেন আলিমদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমে। অবশেষে যখন আলিম থাকবে না তখন লোকেরা বেইলম লোকদের নেতা বানাবে আর তারা ইলম ছাড়া ফতোয়া দেবে। ফলে নিজেরা গোমরাহ হবে, অন্যদের গোমরাহ করবে।[৮২]
এর সাথে জ্ঞানের আধুনিক ধারণার তুলনা করে দেখুন। আধুনিক ধারণায় জ্ঞান বিমূর্ত। জনমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন। আর এর কোনো নৈতিক অক্ষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্সের কোনো ক্লাসে যান। ফর্মুলাগুলো কীভাবে এল, কে কাকে শেখাল-এ ধরনের ইতিহাসের আলোচনা খুব কমই দেখবেন, বা একেবারেই দেখবেন না। হয়তো এ ধরনের বিচ্ছিন্নতা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে থাকতে পারে। হয়তো বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এমন হলে সমস্যা নেই। কিন্তু বিশ্বাসের ক্ষেত্রে, ধর্মের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে না। দ্বীনের ব্যাপারে জ্ঞানের সব উৎস আমাদের অতীতে। তাই অতীত থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করার অর্থ সেই জ্ঞান থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। জ্ঞানের ব্যাপারে আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আমরা যেন প্রকৃত দ্বীনি জ্ঞান মনে করে না বসি।

টিকাঃ
[৮২] সহীহ বুখারী ও মুসলিম

📘 সংশয়বাদী > 📄 সত্যিকারের মুক্তচিন্তক কে?

📄 সত্যিকারের মুক্তচিন্তক কে?


ওই নাস্তিক- সত্যিকারের মুক্তচিক্তক কে?
১) যে সেক্যুলার পৃথিবীতে বসবাস করে।
২) যে সেক্যুলার স্কুলে পড়াশোনা করে, যেসব স্কুলের কারিকুলাম গড়ে উঠেছে সেক্যুলার দর্শনের ভিত্তিতে। ক্রমাগত বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা আর সমালোচনার ভিত্তিতে।
৩) যে এমন এক উন্নাসিক কালচারের অংশ, যা স্রষ্টা কিংবা ধর্মকে স্বীকার করে না।
৪) যে প্রতিদিন মিডিয়াতে এমন অগণিত সিনেমা, সিরিয, ডকুমেন্টারি কিংবা গান দেখছে যেগুলো হয় স্রষ্টাকে উপেক্ষা করে অথবা স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
৫) যে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশে অবস্থান করে যেখানে ধার্মিক হবার মানে বোকাসোকা হাবাগোবা গণ্য হওয়া, আর ধর্মের ব্যাপারে সংশয়বাদী হবার মানে এনলাইটেন্ড বা আলোকিত হওয়া।
নাকি সত্যিকারের মুক্তচিক্তক ওই মুসলিম-
১) যে সেক্যুলার বিশ্বে বসবাস করে
২) সেক্যুলার স্কুলে পড়াশোনা করে। যেসব স্কুলের কারিকুলাম গড়ে উঠেছে সেক্যুলার দর্শনের ভিত্তিতে। ক্রমাগত বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা আর সমালোচনার ভিত্তিতে।
৩) যে এমন এক উন্নাসিক সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে থাকে, যা ইসলামকে সেকেলে, পশ্চাৎপদ এবং জঙ্গিবাদী মনে করে
৪) যে প্রতিদিন মিডিয়াতে এমন অগণিত সিনেমা, সিরিয, ডকুমেন্টারি কিংবা গানের মুখোমুখি হয়, যেগুলো হয় স্রষ্টাকে উপেক্ষা করে অথবা স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে
৫) যে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশে অবস্থান করে যেখানে ধার্মিক হবার মানে বোকাসোকা হাবাগোবা গণ্য হওয়া, আর ধর্মের ব্যাপারে সংশয়বাদী হবার মানে হলো এনলাইটেন্ড বা আলোকিত হওয়া। আর মুসলিম হবার অর্থ হলো বোকাসোকা হওয়া অথবা মধ্যযুগীয় বর্বর হওয়া।
এতকিছুর পরও সে ইসলামের ওপর অটল থাকে। শত প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জ্বলন্ত কয়লার মতো করে সে ইসলামকে আঁকড়ে ধরে রাখে।
কে আসলে স্রোতের বিপরীতে যাচ্ছে? দুর্বার প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে কে সত্যের অনুসরণ করছে?

টিকাঃ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00