📘 সংশয়বাদী > 📄 লিবারেল-সেক্যুলারিসমের ভণ্ডামি

📄 লিবারেল-সেক্যুলারিসমের ভণ্ডামি


লিবারেল-সেক্যুলারিসম বলে—কী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। মানুষ যে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন এটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই যুক্তি দিয়ে লিবারেল-সেক্যুলারিসম আসমানী দিকনির্দেশনাকে প্রত্যাখ্যান করে। সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাই যদি মুখ্য হয় তাহলে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে দিনশেষে সেটা মূল্যহীন। তাহলে আর আসমানী নির্দেশনার কী দরকার? হাতে ম্যাপ, কম্পাস, বাতি থাকার কী দরকার? সঠিক রাস্তা খুঁজে বের করার কী দরকার? গন্তব্য পৌঁছানোরও-বা কী দরকার? আমার এ পথ চলাতেই আনন্দ!
আর কোনো দর্শন, নৈতিকতার আর কোনো কাঠামো সম্ভবত লিবারেল-সেক্যুলারিসমের মতো এতটা অন্তঃসারশূন্য না। অন্যান্য মানবরচিত আদর্শ ও দর্শনগুলো আর কিছু না হোক, তাত্ত্বিকভাবে হলেও মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করে। এমন কিছু নির্দেশনা আর মূলনীতি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে যেগুলো মানুষকে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক প্রশান্তির দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু লিবারেল-সেক্যুলারিসমের এসব নিয়ে মাথাব্যথাই নেই। লিবারেল-সেক্যুলারিসমের বক্তব্য হলো,
সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই হলো, আর কিছু লাগবে না। কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা থাকাটাই মুখ্য। কেউ যদি স্বেচ্ছায় সবচেয়ে জঘন্য, বিপজ্জনক, কিংবা অর্থহীন সিদ্ধান্তও নেয়, তবে তা-ই সই। স্রষ্টা আমাকে বলে দেবে কী করবে হবে? ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষমা চাইতে হবে? অনুশোচনা বোধ করতে হবে? না, কক্ষনো না!
এর চেয়ে অসংলগ্ন কোনো দর্শন পৃথিবীতে আর আসেনি। তবু এই চিন্তা আধুনিক মানুষের মনে রাজত্ব করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00