📘 সংশয়বাদী > 📄 লিবারেলিসমের মেকি সহিষ্ণুতা

📄 লিবারেলিসমের মেকি সহিষ্ণুতা


লিবারেল বুলি: তোমরা অসহিষ্ণু! তরজমা: আমি যা মানি তোমরা তা মানো না
সহিষ্ণুতার একটা সংজ্ঞা হলো-সুনির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অনুমোদিত পার্থক্য।
ফ্যাক্টরিতে বানানো পণ্য কখনো ১০০% এক রকম হয় না। কিছুটা এদিক-সেদিক থাকে। কোনো ফ্যাক্টরিতে ১০০,০০০ পিস্টন তৈরি হলে ২টা হুবহু এক হবে না। কিছু-না-কিছু পার্থক্য থাকবেই। তবে সে পার্থক্য হবে এক নির্দিষ্ট সীমার ভেতর। এটাই হলো পার্থক্যের অনুমোদিত সীমা। কোনো পিস্টন পার্থক্য-সীমার বাইরে চলে গেলে সেটা বাতিল। অকেজো ধরে নিয়ে সেটাকে আর্বজনায় ফেলে দেয়া হবে।
লিবারেলরা দেখাতে চায় যে তাদের সহিষ্ণুতা সীমাহীন। আর বাকি সবাই অসহিষ্ণু। কিন্তু বাস্তবতা হলো লিবারেল সহিষ্ণুতারও একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। সীমাহীন সহিষ্ণুতা বলে কিছু নেই। এটা একটা অক্সিমোরন।[৭৯] নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সহিষ্ণুতা সব দর্শন এবং বিশ্বাসেই থাকে। ইসলামেও আছে। পার্থক্য হলো ইসলামে সহিষ্ণুতার ভিত্তি শরীয়াহ, হিকমাহ, ইসলামী হিদায়াহ। আর লিবারেলিসমের ক্ষেত্রে সহিষ্ণুতার ভিত্তি হলো এলেমেলো, ক্রমাগত বদলাতে থাকা সাংস্কৃতিক রীতিনীতি আর প্রথা।
ফ্যাক্টরির উদাহরণে ফেরত যাই। অনুমোদিত পার্থক্যের সঠিক মাত্রা ফ্যাক্টরির মেশিনগুলোতে ঠিক করে দেয়া না হলে উৎপাদিত পার্টসগুলো অকেজো এবং ত্রুটিপূর্ণ হবে। মানুষের ক্ষেত্রেও সঠিক মাপকাঠি অনুযায়ী একটা নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে পার্থক্য বা ভ্যারিয়েশান বা বৈচিত্র্য মেনে নেয়া যায়। কিন্তু সব ধরনের পার্থক্য মেনে নেয়া যায় না। সব ধরনের ভ্যারিয়েশন চলতে দিলে সেটা হবে মানুষের দেহ, মন এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আর মানুষ এবং মানবসমাজের জন্য কোনটা উত্তম, সেটা মানবজাতির স্রষ্টার চেয়ে আর কে বেশি ভালো জানবে?

টিকাঃ
[৭৯] দুটি পরস্পরবিরোধী শব্দ বা ধারণার একত্রীকরণ, যা কোনো যৌক্তিক অর্থ প্রকাশ করে না। যেমন-আলোকিত অন্ধকার, একসাথে একাকী, নীরব আওয়াজ ইত্যাদি। - অনুবাদক

📘 সংশয়বাদী > 📄 লিবারেল-সেক্যুলারিসমের ভণ্ডামি

📄 লিবারেল-সেক্যুলারিসমের ভণ্ডামি


লিবারেল-সেক্যুলারিসম বলে—কী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। মানুষ যে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন এটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই যুক্তি দিয়ে লিবারেল-সেক্যুলারিসম আসমানী দিকনির্দেশনাকে প্রত্যাখ্যান করে। সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাই যদি মুখ্য হয় তাহলে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে দিনশেষে সেটা মূল্যহীন। তাহলে আর আসমানী নির্দেশনার কী দরকার? হাতে ম্যাপ, কম্পাস, বাতি থাকার কী দরকার? সঠিক রাস্তা খুঁজে বের করার কী দরকার? গন্তব্য পৌঁছানোরও-বা কী দরকার? আমার এ পথ চলাতেই আনন্দ!
আর কোনো দর্শন, নৈতিকতার আর কোনো কাঠামো সম্ভবত লিবারেল-সেক্যুলারিসমের মতো এতটা অন্তঃসারশূন্য না। অন্যান্য মানবরচিত আদর্শ ও দর্শনগুলো আর কিছু না হোক, তাত্ত্বিকভাবে হলেও মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করে। এমন কিছু নির্দেশনা আর মূলনীতি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে যেগুলো মানুষকে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক প্রশান্তির দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু লিবারেল-সেক্যুলারিসমের এসব নিয়ে মাথাব্যথাই নেই। লিবারেল-সেক্যুলারিসমের বক্তব্য হলো,
সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই হলো, আর কিছু লাগবে না। কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা থাকাটাই মুখ্য। কেউ যদি স্বেচ্ছায় সবচেয়ে জঘন্য, বিপজ্জনক, কিংবা অর্থহীন সিদ্ধান্তও নেয়, তবে তা-ই সই। স্রষ্টা আমাকে বলে দেবে কী করবে হবে? ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষমা চাইতে হবে? অনুশোচনা বোধ করতে হবে? না, কক্ষনো না!
এর চেয়ে অসংলগ্ন কোনো দর্শন পৃথিবীতে আর আসেনি। তবু এই চিন্তা আধুনিক মানুষের মনে রাজত্ব করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00