📘 সংশয়বাদী > 📄 হিজাব নিষিদ্ধ হবার ব্যাপারে যেভাবে তর্ক করতে হয় না

📄 হিজাব নিষিদ্ধ হবার ব্যাপারে যেভাবে তর্ক করতে হয় না


হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুসলিমরা যখন 'স্বাধীনতার' দোহাই দিয়ে তর্ক করে, তখন সেটা অসংলগ্নতা। পোশাকপরিচ্ছদের ব্যাপারে প্রত্যেক সমাজের কোনো-না-কোনো মাপকাঠি থাকে। প্রতিটি সমাজ কোনো-না-কোনোভাবে মানুষের পোশাককে নিয়ন্ত্রণ করে। এটা সব সময় নির্দিষ্ট কোনো পোশাককে নিষিদ্ধ কিংবা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করার মাধ্যমে হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা হয় সামাজিক চাপের মাধ্যমে।
যেমন, পশ্চিমা বিশ্বে বসবাস করা মুসলিম নারীদের অনেকে হিজাব খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সামাজিক চাপের কারণে। তারা এমন এক সমাজে থাকে, যেখানে হিজাব পরলে নিজেকে ডাঙায় তোলা মাছের মতো মনে হয়। রাস্তাঘাটে মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে। এতে তারা অস্বস্তি বোধ করে। হয়তো সেক্যুলার আত্মীয়রা হিজাব নিয়ে খোঁটা দেয়। হয়তো বাসা থেকে হিজাব খোলার জন্য চাপ দেয়া হয়। সবকিছু একসাথে জড়ো হতে হতে একসময় সামাজিক প্রথাপ্রচলনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য নিজের হিজাব সে খুলে ফেলে। অথবা অন্য কোনোভাবে নিজের পোশাককে বদলে নেয়। এভাবে সমাজ মানুষের পোশাককে নিয়ন্ত্রণ করে।
কাজেই এ ধরনের শক্তিশালী সামাজিক চাপের উপস্থিতিতে 'স্বাধীন সিদ্ধান্ত'-এর কথা বলা অর্থহীন। মানুষ নিজের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি স্বাধীন এবং নিজস্ব মনে করলেও বাস্তবতা হলো সমাজ মানুষের সামনে সীমিত কিছু সুযোগ রাখে, আর মানুষ সেখান থেকে কোনো একটাকে বেছে নেয়।
তবে এটা আমার আলোচনার মূল বিষয় না। আমার পয়েন্ট হলো, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ অর্জন এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ইচ্ছা মুসলিমদেরও থাকা উচিত। একটা আদর্শ মুসলিম সমাজে, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পোশাক পরাটাই হবে স্বাভাবিক। এমন কোনো সমাজে যদি কোনো কারণে পোশাকের ব্যাপারে নির্দিষ্ট আইন নাও থাকে, তবু নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক পরার ব্যাপারে সামাজিক চাপ সেখানে থাকবে। এমন সমাজে বিকিনি আর শর্ট স্কার্ট পরা নারীরা অস্বস্তি বোধ করবে। যদি কোনো আইন নাও থাকে, যদি কোনো জরিমানা নাও করা হয়, তবু অন্য সবার মতো পোশাক পরার তীব্র চাপ তারা নিজে থেকেই অনুভব করবে। এভাবে ইসলামী ধর্মীয় রীতি আরোপিত হবে, ঠিক যেভাবে পশ্চিমা ড্রেস কোড আজ আরোপ করা হচ্ছে।
আদর্শ মুসলিম সমাজ কোনটি?
নিঃসন্দেহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তৈরি করা সমাজ। যদি তর্কের খাতিরে আমরা ধরেও নেই, মদীনাতে নির্দিষ্ট কোনো ড্রেস কোড ছিল না, তবু আমাদের স্বীকার করতে হবে যে মদীনার অধিকাংশ অধিবাসী ইসলামী বিধান অনুযায়ী পোশাক পরত। এতে কি অন্য অধিবাসীদের ওপর একই ধরনের পোশাক পরার চাপ তৈরি হতো না? এটা কি সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় বিধিবিধান আরোপ করা না? তাহলে স্বাধীন সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে আপনি কীভাবে হিজাবের পক্ষে যুক্তি দেবেন? এই অসংলগ্নতা এড়ানোর উপায় হলো,
- হয় ফ্রিডম অফ চয়েসের এই ধারণার বৈধতা অস্বীকার করা এবং এগুলোর সুবিধাবাদী ব্যবহার করা বন্ধ করা, অথবা
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবাদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) সমাজ যে আদর্শের ওপর ছিল তা অস্বীকার করা।
অন্যভাবে বলা যায়, ফ্রিডম অফ চয়েসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজের কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না। বাস্তবে তো নেই, তাত্ত্বিকভাবেও নেই। আর যদি এমন কোনো সমাজের অস্তিত্ব থাকেও তাহলে সেটা ইসলামী মূল্যবোধ এবং বিধিবিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে না। কাজেই যখনই হিজাব কিংবা অন্য কোনো মুসলিম পোশাককে আক্রমণ করা হয় তখন 'স্বাধীন সিদ্ধান্তের' বুলি আঁকড়ে ধরার কোনো অর্থ হয় না। চিন্তা, কথায় ও কাজে কনসিসটেন্ট হওয়া জরুরী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00