📄 হিজাব ও ক্ষমতায়ন
হিজাব কি নারীর ক্ষমতায়নের নিদর্শন? অনেক মুসলিম ফেমিনিস্টকে এমন দাবি করতে দেখা যায়। তারা এখানে 'সিদ্ধান্তের' এর কথা আনে। তারা বলে-হিজাব পরার মাধ্যমে মুসলিম নারীর ক্ষমতায়ন ঘটে, কারণ সে নিজেদের ইচ্ছেমতো পোশাক পরতে পারে, আর হিজাব পরার সিদ্ধান্ত সে স্বেচ্ছায় নিয়েছে। স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে পারার মাধ্যমে তার ক্ষমতায়ন ঘটে। এটা হলো মুসলিম ফেমিনিস্টদের যুক্তি।
কিন্তু এই যুক্তি অনুযায়ী যেই নারী স্বেচ্ছায় বিকিনি পরে, তারও ক্ষমতায়ন হচ্ছে, তাই না? বিকিনি আর হিজাব দুটো একইভাবে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক। যেহেতু দুটোই নারী স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছে। এভাবে যেকোনো পোশাকের ক্ষেত্রে এটা দেখানো সম্ভব। বুঝতেই পারছেন, এ যুক্তি দুর্বল এবং ত্রুটিপূর্ণ। তাই নারী ক্ষমতায়নের ধারণা মাথায় নিয়ে বেড়ে ওঠা মুসলিম মেয়েদের অনেকে যে একসময় পুরোপুরিভাবে হিজাব করা ছেড়ে দেয় তাতে অবাক হবার কিছু নেই। হিজাব নিয়ে মাথাব্যথার কী আছে, যখন মুখ্য বিষয় হলো ক্ষমতায়ন আর 'সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা'? ফ্যাশনেবল পোশাক পরলে খুব শক্তিশালী ক্ষমতায়নের অনুভূতি হবার কথা। এতে করে নিজেকে দেখতে আকর্ষণীয় লাগে, ছেলেদের মনোযোগ পাওয়া যায়, আর কত কী। আমাদের সমাজের যেকোনো কিশোরী কিংবা তরুণী, হিজাবের বদলে ফ্যাশনেবল পোশাক পরে অনেক বেশি ক্ষমতায়নের অনুভূতি পাবে।
কাজেই ক্ষমতায়নের এই বুলি বাদ দিন। হয়তো কোনো একসময়, কিছু মানুষের কাছে এটা যৌক্তিক মনে হয়েছিল, কিন্তু দিনশেষে এতে করে লাভের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ক্ষমতায়ন দিয়েই যদি হিজাবকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে হয় তাহলে এটা করার আরও ভালো উপায় আছে। নিজেকে ঢেকে রাখা, মানুষের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করার মাধ্যমে শক্তি অর্জনের ধারণা সর্বজনীন। সিআইএ, এমআইসিক্সের এর মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কথা চিন্তা করুন। তাদের ক্ষমতার একটা উৎস হলো তাদের গোপনীয়তা, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা।
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষরা থাকে চোখের আড়ালে। তারা ট্যাবলয়েড পত্রিকা কিংবা ছবি তোলা এড়িয়ে যায়। অ্যামেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপারে শক্তভাবে প্রাইভেসি মেনে চলে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী লোক এবং রাজনীতিবিদদের মিটিং হয় বদ্ধ দরজার আড়ালে। আর এটা নতুন কিছু না। আগেরকার দিনের রাজা-বাদশা আর সুলতানরা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। মনে করা হতো সাধারণ মানুষের চোখে পড়লে তাদের সম্মান কমবে। কখনো বাধ্য হয়ে রাজপথ দিয়ে যেতে হলে উসমানী সুলতানরা নিজেদের আড়াল করার জন্য পর্দা করত। আজও শাসক ও রাজনীতিবিদরা কালো কাচ লাগানো লিমুসিনে করে ঘুরে বেড়ায়।
কিন্তু কোনো অদ্ভুত কারণে, আজ মানুষ আজ মনে করছে নিজের শরীর উন্মুক্ত করে দেয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ঘটে। কী অদ্ভুত নির্বুদ্ধিতা। মানুষ আজ শুধু নিজের শরীর উন্মুক্ত করে ক্ষান্ত হয় না; বরং ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে গোপন কথাগুলোও সোশ্যাল মিডিয়াতে সবার সামনে উন্মুক্ত করে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে যেকোনো অপরিচিত লোক, এখন আপনার বাসার ভেতরে এখন ঢুকে পড়তে পারে। এটা ক্ষমতার ঠিক বিপরীত। এটা হলো অন্যের সামনে নিজেকে উন্মুক্ত করে দেয়া। প্রত্যেক সমাজ প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু নারীবাদের মতো দূষিত মতবাদগুলোর প্রভাবে আমাদের সময়ে প্রাইভেসির এই ধারণা একেবার নষ্ট হয়ে গেছে।
এভাবে আমরা হিজাবের বিধানের সম্ভাব্য হিকমাহ নিয়ে চিন্তা করতে পারি। নিজেকে আড়াল করার ব্যাপারটা নারী ও পুরুষ, উভয়ের ক্ষেত্রে খাটে। তবে স্বাভাবিকভাবেই নারীর জন্য এর প্রয়োজন পুরুষের তুলনায় বেশি। আল্লাহ নারী ও পুরুষকে আলাদা করে সৃষ্টি করেছেন। তাহলে নারী কেন নিজেকে মানুষের সামনে উন্মুক্ত করবে? এটা বিবেকবুদ্ধির সাথে সংগতিপূর্ণ না এবং এটা নানাভাবে তাঁর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বাস্তবতা হলো, অতীতের নারীরা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে জানত। এ শক্তিকে তারা সামাজিক, আর্থিক, পারিবারিক এমনকি রাজনৈতিকভাবেও কাজে লাগাত। কিন্তু আধুনিক অ্যাকাডেমিক আর গবেষকরা সহজভাবে ধরে নেয়-হিজাব মুসলিম নারীর পরাধীনতার চিহ্ন। যখন তারাই আসলে পরাধীন।
আর আমরা জানি যে হিজাব করার মূল কারণ হলো আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর বিধান আন্তরিকতা ও ইখলাসের সাথে মেনে চলা। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
📄 ফ্রান্স ও হিজাব
আর যাই হোক, ফরাসীদের সোজাসাপ্টা কথা বলার অভ্যাসের প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। শরীরের কোন অংশ ঢাকা যাবে আর কোন অংশ ঢাকা যাবে না, তা নিয়ে ওদের নিজস্ব মত আছে। সেই মত ওরা শক্তভাবে মেনে চলে। শুধু নিজেরা মানে না, তাদের দেশে থাকতে হলে সেই মত অন্যদেরও তারা মানতে বাধ্য করে। শরীরের কোন অংশ ঢাকতে হবে আর কোন অংশ ঢাকা হবে না, এ নিয়ে মুসলিমদেরও নিজস্ব অবস্থান আছে। একসময় মুসলিমরাও এই অবস্থান শক্তভাবে মেনে চলত।
ফরাসীদের অবস্থানের ভিত্তি মানবপ্রকৃতি, অধিকার, মর্যাদা ইত্যাদির ব্যাপারে ভাসাভাসা কিছু মেটাফিযিকাল ধারণা আর ধর্মহীনতা। ওদের ভিত্তি নড়বড়ে। তবু নিজেদের মতের পক্ষে ওরা শক্তভাবে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে মুসলিমদের অবস্থানের ভিত্তি আল্লাহ এবং তাঁর বিধানের প্রতি ঈমান, দ্বীনি এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। কিন্তু ভিত শক্ত হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমদের অনেকে নিজেদের বিশ্বাসের পক্ষে শক্ত অবস্থা নেয় না। ফরাসীদের দৃঢ়তার ধারে-কাছেও কিছু তাদের মধ্যে দেখা যায় না।
ফরাসীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে—আমাদের মতই সঠিক। এটাই যথাযথ।
কিন্তু ফরাসীদের কথার জবাবে মুসলিমরা বড়জোর বলে—হ্যাঁ, তোমাদের কথা সম্ভবত ঠিক। তবে অনেক মহিলা হয়তো মাঝেমাঝে বোরকা পরতে চায়। এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আর তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। তাই না?
এমন মিনমিনে, দুর্বল অবস্থানকে ফরাসীরা (কিংবা অন্য কেউ) কেন সম্মান করবে? ওরা মনে করে বোরকা সভ্যতার সাথে সাংঘর্ষিক, সভ্যতার ওপর আক্রমণ। ওদের কাছে বোরকা ঘৃণ্য, জঘন্য। মানুষ যে জিনিসকে ঘৃণা করে সেটাকে সম্মান করতে পারে না। কিন্তু আমরা মুসলিমরা শক্ত অবস্থান নিই না। ফরাসীদের অবস্থানের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলি না। মানবদেহ, নগ্নতা, লিঙ্গ, শালীনতার ব্যাপারে ফরাসী এবং পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে থাকা ধারণাগুলোকে আমরা প্রশ্ন করি না। আমরা শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতা আর 'সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা' করার বুলি আওড়াই। অথচ এগুলো আমাদের ধ্যানধারণা না, আমাদের শব্দ না। এগুলো আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যেরও অংশ না। এগুলো ওদের ধারণা, ওদের শব্দ। তবুও আমরা এগুলো ব্যবহার করি। আমরা বোকার মতো ভাবি হয়তো এতে ওরা আমাদের সম্মান করবে। আমাদের কথা মেনে নেবে।
না, ওরা মানেনি। মানবেও না।
তাই ফরাসীদের প্রশংসা করা উচিত। যতটা আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তা নিয়ে বাতিলের পক্ষে ওরা অবস্থান নেয়, তার ভগ্নাংশ পরিমাণ আত্মবিশ্বাস যদি হকের পক্ষে আমরা দেখাতে পারতাম!
📄 হিজাব কি যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণ বন্ধে কার্যকরী
হিজাব কি যৌন নির্যাতন বন্ধ করতে পারে?
হিজাব পরেও তো অনেকে যৌন নির্যাতন আর ধর্ষণের শিকার হয়। তাহলে হিজাব পরে লাভ কী? এটা তো পরিষ্কার যে হিজাব নারীকে যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচাতে পারে না।
প্রায়ই এ ধরনের কথা শোনা যায়।
কিন্তু এই যুক্তিটা আসলে ভুল। কারণ, হিজাব করলে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা টিযিং এর সব সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন দাবি কেউ করেনি। নিঃসন্দেহে ইসলাম এমন কোনো দাবি করেনি।
বরং দাবি করা হয়েছে বাকি সব ফ্যাক্টর যদি অপরিবর্তিত থাকে তাহলে হিজাব উল্লেখযোগ্যভাবে যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের আশঙ্কা কমায়।
হ্যাঁ, কায়রোর রাস্তায় হিজাব পরা নারীদেরও টিটকারী কিংবা অশালীন উক্তির মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু অনস্বীকার্য সত্য হলো, এই নারীরা যদি ইয়োগা প্যান্টস, ট্যাংক টপ কিংবা অন্যান্য পশ্চিমা পোশাক পরে রাস্তায় হাঁটা চলা করত তাহলে এসব ঘটনার হার আরও অনেক বেশি হতো।
আর এ ব্যাপারে প্রাসঙ্গিক আয়াতের বক্তব্যও স্পষ্ট:
হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার কন্যাদের আর মু'মিনদের নারীদের বলে দাও—তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয় (যখন তারা বাড়ির বাইরে যায়), এতে তাদের চেনা সহজতর হবে এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [তরজমা, সূরা আল-আহযাব, ৫৯]
📄 হিজাবের কার্যকরী কোনো ভূমিকা নেই
ক-আমি আর কক্ষনো সিটবেল্ট বাঁধব না। সিটবেল্ট বাঁধার কোনো মানেই হয় না।
খ-মানে? কী বলছ এসব?!
ক-সিটবেল্ট একটা প্রতীকী জিনিস। একটা অর্থহীন প্রথা। কিছু মানুষ সিটবেল্ট বেঁধে নিজেদের সুনাগরিক প্রমাণ করতে চায়। এটা হলো নিজেকে ভালো প্রমাণ করার ঢং। যারা এসব করে তাদের সিদ্ধান্তকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমি এসব করতে পারব না।
খ-এভাবে হয়তো বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করা যায়, কিন্তু এর জন্য সিটবেল্ট কেন অর্থহীন হয়ে যাবে? সিটবেল্টের একটা গুরুত্বপূর্ণ প্র্যাকটিকাল ভূমিকা আছে।
ক-আচ্ছা, তাই নাকি! কী সেটা, শুনি?
খ-সিটবেল্ট মানুষকে দুর্ঘটনায় আহত হওয়া থেকে রক্ষা করে
ক-হাস্যকর কথা! সিটবেল্ট বাঁধার পরও অনেক মানুষ দুর্ঘটনায় আহত হয়, এটা জানো? অনেকে তো সিটবেল্ট বাঁধা সত্ত্বেও মারা যায়। কাজেই সিটবেল্ট ইউসলেস। এটা কোনো ধরনের নিরাপত্তা দিতে পারে না।
খ-আরে! সিটবেল্ট তো জাদুমন্ত্র না যে এটা সব ধরনের বিপদ থেকে মানুষকে বাঁচাবে। কিন্তু সিটবেল্ট অনেক ক্ষেত্রেই কাজে লাগে, এটা তো স্পষ্ট।
ক-না, তুমি ভুল বলছ। আমি এমন মানুষকে চিনি সিটবেল্ট বাঁধার পরও যারা আহত হয়েছে। এদের অনেকে আবার এমন দেশের নাগরিক যেখানে সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। তারপরও তারা আহত হয়েছে।
খ-দেখো তুমি একটা লজিকাল ভুল করছ। সিটবেল্ট আমাদের ১০০% সুরক্ষা দিতে পারে না এটা ঠিক। কিন্তু তার মানে তো এটা না যে সিটবেল্ট আমাদের কোনো সুরক্ষাই দিতে পারে না। যদি অন্য সব ফ্যাক্টর অপরিবর্তিত থাকে তাহলে সিটবেল্ট উল্লেখযোগ্য হারে আহত ও নিহত হবার আশঙ্কা কমায়।
ক-এসব ফালতু কথা বাদ দাও তো। আরেকজনকে খারাপ প্রমাণ করে তোমার লাভটা কী? সিটবেল্ট না বেঁধে গাড়ি চালানোর সময় কোনো মাতাল ড্রাইভার যদি আমার গাড়িতে ধাক্কা দেয়, আর আমি যদি আহত হই বা মারা যাই, তাহলে সেটা কি আমার দোষ? নাকি ওই মাতাল ড্রাইভারের দোষ। ভিকটিমকে দোষ দেয়া বন্ধ করো!
খ-আজব! অবশ্যই এটা ওই মাতাল ড্রাইভারের দোষ। কিন্তু এর সাথে সিটবেল্ট বাঁধা-না-বাঁধার কী সম্পর্ক? পৃথিবীতে অনেক দায়িত্বজ্ঞানহীন, পাগল লোক আছে, কিন্তু তাতে তো সিটবেল্টের প্র্যাকটিকাল গুরুত্ব এবং উপকারিতা বাতিল হয়ে যাচ্ছে না; বরং এ ধরনের লোকজন আছে দেখেই আমাদের সিটবেল্ট পরাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।
ক-দেখো, তুমি নিজে সিটবেল্ট পরো তাই অন্য সবাইকে ছোট করে দেখছ। তুমি মনে করছ তুমি অন্য সবার চেয়ে ভালো। অথচ আমরা কেবল আমাদের স্বাধীনতার প্রয়োগ করছি। আমি সিটবেল্ট বাঁধব কি না, সেটা আমার ব্যাপার। এখানে তোমার সমস্যা কী? এই হলো আজকের দুনিয়ার সমস্যা...
খ-শোনো, মাথা ঠান্ডা করো। তোমাকে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। তোমার গাড়ির সাথে দেয়া ম্যানুয়ালটা খুলে দেখো। গাড়ি যারা বানিয়েছে, তারাই বলছে দুর্ঘটনায় আহত হবার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সিটবেল্ট বাঁধতে হবে। এরাও কি তোমাকে ছোট করে দেখছে? তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে? জ্ঞান দিচ্ছে?
ক-এটা তোমার নিজস্ব ব্যাখ্যা। ম্যানুয়ালের কথা তুমি নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করছ। তুমি নিজে যেহেতু সিটবেল্ট বাঁধো তাই তুমি ওভাবেই ব্যাখ্যা করছ। কিন্তু ম্যানুয়াল ব্যাখ্যা করার অধিকার তোমার একার না।
খ-আমার তো মনে হয় না, ম্যানুয়ালের বক্তব্য অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ আছে...
ক-যথেষ্ট হয়েছে! থামো!। আমার জীবন আমার সিদ্ধান্ত! গাড়ি চালাতে গিয়ে আমাকে কেমন-সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়ে তুমি জানো? কোন সাহসে তুমি আমাকে সিটবেল্ট বাঁধার কথা বলো? আবার ম্যানুয়ালের কথা টানছ! তোমার নিজের গাড়ি আছে?
খ-না নেই, কিন্তু সেটা এখানে প্রাসঙ্গিক কেন?
ক-বাহ! তোমার নিজের কোনো গাড়ি পর্যন্ত নেই, অথচ তুমি আমাকে সিটবেল্ট বাঁধার লেকচার দিয়ে যাচ্ছ! চুপ থাকো!
***
আর এভাবেই হিজাব আর ধর্ষণ নিয়ে আরেকটা গঠনমূলক আলোচনার সমাপ্তি ঘটল।
আচ্ছা ভালো কথা, ম্যানুয়ালের প্রাসঙ্গিক অংশটা কী জানেন? জানা না থাকলে জানিয়ে দিই-
হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার কন্যাদের আর মু'মিনদের নারীদের বলে দাও-তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয় (যখন তারা বাড়ির বাইরে যায়), এতে তাদের চেনা সহজতর হবে এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [তরজমা, সূরা আল-আহযাব, ৫৯]