📄 হিজাব যখন অবাধ্যতা
ইসলাম ও নারী নিয়ে বিবিসির একটা ডকুমেন্টারি দেখছিলাম। একজন মুসলিম নারীকে (যে হিজাব পরে) প্রশ্ন করা হলো, 'হিজাব কি একধরনের শোষণ না? জবাবে মহিলা ভয়ংকর এক উত্তর দিলো—
'কেউ যদি আমাকে বলে, 'তোমাকে হিজাব পরতেই হবে', তাহলে আমি হিজাব পরবো না। হিজাব পরতে বাধ্য করা হলে আমি হিজাব খুলে ফেলব। আমি হিজাব পরি ভালোবাসা থেকে। এটা আমার পরিচয়। আমি এটা পরতে ভালোবাসি। এমনকি, আল্লাহ হিজাব পরতে বলেছেন তাই হিজাব পরি, এটাও আমি বলি না। আল্লাহ যা যা করতে বলেছেন, সবকিছুর ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। আমি হিজাব পরি, কারণ আমি নিজে এটা পরতে চাই। আমি এটা ভালোবাসি। এটা আমার ধর্মের অংশ এবং আমি এটা ঔন করি।'
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো ওপরের কথাগুলোর মধ্যে সমস্যা কী, অনেক তরুণ মুসলিম সেটা বুঝতে পারে না। এ ধরনের বক্তব্যের ভেতরে থাকা কুফরকে তারা চিনতে পারে না। এটাই হলো লিবারেলিসমের কলুষিত করার ক্ষমতা। মানুষের চিন্তাচেতনাকে লিবারেলিসম খুব সূক্ষ্মভাবে সংক্রমিত করে। ধীরে ধীরে ঈমানকে ক্ষয় করে করে একদম নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু মানুষ বুঝতেও পারে না।
আল্লাহও যদি আমাকে কিছু করতে বলেন, আমি করব না—এমন কথা একজন মুসলিম কীভাবে বলে? এমন কথা শুধু তখনই বলা সম্ভব যখন লিবারেলিসমের আদর্শে পুরোপুরিভাবে তার মগজধোলাই হয়ে গেছে।
লিবারেলিসম কী শেখায়? লিবারেলিসম শেখায়—কাউকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করার অর্থ তার 'অটোনমি' বা ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়া। তার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারে হস্তক্ষেপ করা। আর যা কিছু মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করে তা মন্দ। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার অর্থ মানুষের পরিচয় ছিনিয়ে নেয়া। এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে?
কেউ যখন এভাবে চিন্তা করে তখন ইসলামের বিধি-বিধানের ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে তা সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু আল্লাহ কি আমাদের জন্য কিছু কাজ বাধ্যতামূলক করেননি? কিছু কাজ নিষিদ্ধ করেননি? যারা আল্লাহর বিধান মেনে চলবে না, আল্লাহর আনুগত্য করবে না, তাদের জন্য কি আল্লাহর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেননি? এটা কি বলপ্রয়োগ না? হুমকি না?
লিবারেলিসমে আক্রান্ত মুসলিম এই প্রশ্নগুলোর জবাবে দুটো উত্তর দিতে পারে—
১। আল্লাহ খারাপ (নাউযুবিল্লাহ)
২। আল্লাহ খারাপ নন, তবে তিনি আমাদের জন্য কোনো কিছু বাধ্যতামূলক করেননি, কোনো কিছু নিষিদ্ধও করেননি।
দুটো অবস্থানই কুফর।
এই উভয়সংকট থেকে বের হবার উপায় হলো লিবারেলিসমের ক্রিটিক করা। স্বাধীনতা, বলপ্রয়োগের মতো ধারণাগুলোর ব্যবচ্ছেদ করা।
📄 ‘হিজাব আমার চয়েস’, এবং অন্যান্য বিভ্রান্তি
হিজাবের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য 'চয়েস' বা 'সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা'র কথা বলা অর্থহীন। আধুনিক মানুষ আসলে কোন অর্থে তার পোশাক 'বেছে' নেয়? পশ্চিমা নারী সরলমনে বিশ্বাস করে তার পরনের পোশাক তার নিজের বাছাই করা, সে স্বেচ্ছায় এ পোশাক বেছে নিয়েছে। কিন্তু সে আসলে ঠিক ওই ট্রেন্ডগুলো অনুসরণ করে যেগুলো ভারসাচি, শ্যানেলের মতো ব্র্যান্ড কিংবা টিভি চ্যানেল আর ফ্যাশন ম্যাগাযিনগুলো প্রমোট করে। এটা কি কাকতালীয়? এসব কর্পোরেশানের বেধে দেয়া ফ্যাশনের স্ট্যান্ডার্ড পশ্চিমা নারী যতটা অন্ধভাবে মেনে চলে, সবচেয়ে অন্ধ মুরিদও অত অন্ধভাবে তার পীরের অনুসরণ করে না।
সমাজের নারীদের পোশাক যদি আসলেই তাদের স্বাধীন পছন্দ অনুযায়ী বাছাই করা হতো, তাহলে আমরা বিভিন্ন ধাঁচের পোশাক দেখতাম। শরীরের কোনো অংশ ঢাকা হবে আর কোনো অংশ উন্মুক্ত রাখা হবে সেটা নিয়েও অনেক পার্থক্য দেখা যেত। পোশাকগুলোর উৎসও আলাদা হতো। কিন্তু পশ্চিমা সমাজে আমরা সেটা দেখি না; বরং উল্টোটা দেখি। সমাজের নারীরা (এবং পুরুষরাও) একই ধরনের পোশাক পরে। কারণ, নগ্নতা, শালীনতা, ফ্যাশন ইত্যাদির ব্যাপারে তাদের সবার ধ্যানধারণা মোটামুটি একই। তা ছাড়া অধিকাংশ মানুষ একই ব্র্যান্ডের পোশাক কেনে। এসব পোশাকের রং, ফ্যাব্রিক, কাটিংয়ে অল্পসল্প কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু মূল থিম এক। অথচ মানুষ মনে করছে তারা স্বাধীনভাবে এসব পোশাক বেছে নিয়েছে।
এটা আসলে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের অতিরঞ্জিত অনুভূতি ছাড়া আর কিছু না। হ্যাঁ, আপনার ব্লাউসের রং আপনি নিজে বাছাই করছেন। কিন্তু বুক যে ঢাকতে হবে, এটা আপনি বেছে নেননি। আপনার আশেপাশে যে দোকানগুলো আছে, সেটা আপনি ঠিক করেননি। দোকানগুলোতে যে ঘুরেফিরে যে একই ডিসাইনগুলো দেখা যায়, সেটাও আপনি ঠিক করেননি।
মানুষকে আপনি যত সীমিত অপশানই দিন না কেন, মানুষ মনে করবে সে স্বাধীন। সে নিজের স্বাধীনতার চর্চা করছে। পশ্চিমা সমাজ যেহেতু 'সিদ্ধান্ত' আর 'ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য' নিয়ে ঘোরের মধ্যে থাকে তাই এমন হওয়া অবধারিত। লক্ষ লক্ষ নারী সেই একই বুট, জ্যাকেট আর ইয়োগা প্যান্টস পরছে। সেই একই ডিসাইনের অলংকার আর পারফিউম ব্যবহার করছে। ফ্যাক্টরিগুলোতে বানানো হচ্ছে একই আইটেমের কোটি কোটি কপি। সবগুলো এক। অথচ এই পশ্চিমা নারী বোরকা পরা মুসলিম নারীকে বলছে তুমি শোষিত, তোমার কোনো স্বাধীনতা নেই, তোমার কোনো স্বকীয়তা নেই ইত্যাদি...।
অন্যদিকে যাদের শোষিত বলা হচ্ছে, সেই মুসলিম নারীদের অনেকে আবার সাক্ষাৎকার কিংবা প্রবন্ধে অনুনয়-বিনয় করে পশ্চিমাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে-না না! আমি শোষিত না, আমি তোমাদের মতোই স্বাধীন। হিজাব আমার চয়েস!' কী বিচিত্র!
📄 হিজাব ও ক্ষমতায়ন
হিজাব কি নারীর ক্ষমতায়নের নিদর্শন? অনেক মুসলিম ফেমিনিস্টকে এমন দাবি করতে দেখা যায়। তারা এখানে 'সিদ্ধান্তের' এর কথা আনে। তারা বলে-হিজাব পরার মাধ্যমে মুসলিম নারীর ক্ষমতায়ন ঘটে, কারণ সে নিজেদের ইচ্ছেমতো পোশাক পরতে পারে, আর হিজাব পরার সিদ্ধান্ত সে স্বেচ্ছায় নিয়েছে। স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে পারার মাধ্যমে তার ক্ষমতায়ন ঘটে। এটা হলো মুসলিম ফেমিনিস্টদের যুক্তি।
কিন্তু এই যুক্তি অনুযায়ী যেই নারী স্বেচ্ছায় বিকিনি পরে, তারও ক্ষমতায়ন হচ্ছে, তাই না? বিকিনি আর হিজাব দুটো একইভাবে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক। যেহেতু দুটোই নারী স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছে। এভাবে যেকোনো পোশাকের ক্ষেত্রে এটা দেখানো সম্ভব। বুঝতেই পারছেন, এ যুক্তি দুর্বল এবং ত্রুটিপূর্ণ। তাই নারী ক্ষমতায়নের ধারণা মাথায় নিয়ে বেড়ে ওঠা মুসলিম মেয়েদের অনেকে যে একসময় পুরোপুরিভাবে হিজাব করা ছেড়ে দেয় তাতে অবাক হবার কিছু নেই। হিজাব নিয়ে মাথাব্যথার কী আছে, যখন মুখ্য বিষয় হলো ক্ষমতায়ন আর 'সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা'? ফ্যাশনেবল পোশাক পরলে খুব শক্তিশালী ক্ষমতায়নের অনুভূতি হবার কথা। এতে করে নিজেকে দেখতে আকর্ষণীয় লাগে, ছেলেদের মনোযোগ পাওয়া যায়, আর কত কী। আমাদের সমাজের যেকোনো কিশোরী কিংবা তরুণী, হিজাবের বদলে ফ্যাশনেবল পোশাক পরে অনেক বেশি ক্ষমতায়নের অনুভূতি পাবে।
কাজেই ক্ষমতায়নের এই বুলি বাদ দিন। হয়তো কোনো একসময়, কিছু মানুষের কাছে এটা যৌক্তিক মনে হয়েছিল, কিন্তু দিনশেষে এতে করে লাভের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ক্ষমতায়ন দিয়েই যদি হিজাবকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে হয় তাহলে এটা করার আরও ভালো উপায় আছে। নিজেকে ঢেকে রাখা, মানুষের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করার মাধ্যমে শক্তি অর্জনের ধারণা সর্বজনীন। সিআইএ, এমআইসিক্সের এর মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কথা চিন্তা করুন। তাদের ক্ষমতার একটা উৎস হলো তাদের গোপনীয়তা, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা।
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষরা থাকে চোখের আড়ালে। তারা ট্যাবলয়েড পত্রিকা কিংবা ছবি তোলা এড়িয়ে যায়। অ্যামেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপারে শক্তভাবে প্রাইভেসি মেনে চলে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী লোক এবং রাজনীতিবিদদের মিটিং হয় বদ্ধ দরজার আড়ালে। আর এটা নতুন কিছু না। আগেরকার দিনের রাজা-বাদশা আর সুলতানরা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। মনে করা হতো সাধারণ মানুষের চোখে পড়লে তাদের সম্মান কমবে। কখনো বাধ্য হয়ে রাজপথ দিয়ে যেতে হলে উসমানী সুলতানরা নিজেদের আড়াল করার জন্য পর্দা করত। আজও শাসক ও রাজনীতিবিদরা কালো কাচ লাগানো লিমুসিনে করে ঘুরে বেড়ায়।
কিন্তু কোনো অদ্ভুত কারণে, আজ মানুষ আজ মনে করছে নিজের শরীর উন্মুক্ত করে দেয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ঘটে। কী অদ্ভুত নির্বুদ্ধিতা। মানুষ আজ শুধু নিজের শরীর উন্মুক্ত করে ক্ষান্ত হয় না; বরং ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে গোপন কথাগুলোও সোশ্যাল মিডিয়াতে সবার সামনে উন্মুক্ত করে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে যেকোনো অপরিচিত লোক, এখন আপনার বাসার ভেতরে এখন ঢুকে পড়তে পারে। এটা ক্ষমতার ঠিক বিপরীত। এটা হলো অন্যের সামনে নিজেকে উন্মুক্ত করে দেয়া। প্রত্যেক সমাজ প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু নারীবাদের মতো দূষিত মতবাদগুলোর প্রভাবে আমাদের সময়ে প্রাইভেসির এই ধারণা একেবার নষ্ট হয়ে গেছে।
এভাবে আমরা হিজাবের বিধানের সম্ভাব্য হিকমাহ নিয়ে চিন্তা করতে পারি। নিজেকে আড়াল করার ব্যাপারটা নারী ও পুরুষ, উভয়ের ক্ষেত্রে খাটে। তবে স্বাভাবিকভাবেই নারীর জন্য এর প্রয়োজন পুরুষের তুলনায় বেশি। আল্লাহ নারী ও পুরুষকে আলাদা করে সৃষ্টি করেছেন। তাহলে নারী কেন নিজেকে মানুষের সামনে উন্মুক্ত করবে? এটা বিবেকবুদ্ধির সাথে সংগতিপূর্ণ না এবং এটা নানাভাবে তাঁর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বাস্তবতা হলো, অতীতের নারীরা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে জানত। এ শক্তিকে তারা সামাজিক, আর্থিক, পারিবারিক এমনকি রাজনৈতিকভাবেও কাজে লাগাত। কিন্তু আধুনিক অ্যাকাডেমিক আর গবেষকরা সহজভাবে ধরে নেয়-হিজাব মুসলিম নারীর পরাধীনতার চিহ্ন। যখন তারাই আসলে পরাধীন।
আর আমরা জানি যে হিজাব করার মূল কারণ হলো আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর বিধান আন্তরিকতা ও ইখলাসের সাথে মেনে চলা। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
📄 ফ্রান্স ও হিজাব
আর যাই হোক, ফরাসীদের সোজাসাপ্টা কথা বলার অভ্যাসের প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। শরীরের কোন অংশ ঢাকা যাবে আর কোন অংশ ঢাকা যাবে না, তা নিয়ে ওদের নিজস্ব মত আছে। সেই মত ওরা শক্তভাবে মেনে চলে। শুধু নিজেরা মানে না, তাদের দেশে থাকতে হলে সেই মত অন্যদেরও তারা মানতে বাধ্য করে। শরীরের কোন অংশ ঢাকতে হবে আর কোন অংশ ঢাকা হবে না, এ নিয়ে মুসলিমদেরও নিজস্ব অবস্থান আছে। একসময় মুসলিমরাও এই অবস্থান শক্তভাবে মেনে চলত।
ফরাসীদের অবস্থানের ভিত্তি মানবপ্রকৃতি, অধিকার, মর্যাদা ইত্যাদির ব্যাপারে ভাসাভাসা কিছু মেটাফিযিকাল ধারণা আর ধর্মহীনতা। ওদের ভিত্তি নড়বড়ে। তবু নিজেদের মতের পক্ষে ওরা শক্তভাবে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে মুসলিমদের অবস্থানের ভিত্তি আল্লাহ এবং তাঁর বিধানের প্রতি ঈমান, দ্বীনি এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। কিন্তু ভিত শক্ত হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমদের অনেকে নিজেদের বিশ্বাসের পক্ষে শক্ত অবস্থা নেয় না। ফরাসীদের দৃঢ়তার ধারে-কাছেও কিছু তাদের মধ্যে দেখা যায় না।
ফরাসীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে—আমাদের মতই সঠিক। এটাই যথাযথ।
কিন্তু ফরাসীদের কথার জবাবে মুসলিমরা বড়জোর বলে—হ্যাঁ, তোমাদের কথা সম্ভবত ঠিক। তবে অনেক মহিলা হয়তো মাঝেমাঝে বোরকা পরতে চায়। এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আর তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। তাই না?
এমন মিনমিনে, দুর্বল অবস্থানকে ফরাসীরা (কিংবা অন্য কেউ) কেন সম্মান করবে? ওরা মনে করে বোরকা সভ্যতার সাথে সাংঘর্ষিক, সভ্যতার ওপর আক্রমণ। ওদের কাছে বোরকা ঘৃণ্য, জঘন্য। মানুষ যে জিনিসকে ঘৃণা করে সেটাকে সম্মান করতে পারে না। কিন্তু আমরা মুসলিমরা শক্ত অবস্থান নিই না। ফরাসীদের অবস্থানের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলি না। মানবদেহ, নগ্নতা, লিঙ্গ, শালীনতার ব্যাপারে ফরাসী এবং পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে থাকা ধারণাগুলোকে আমরা প্রশ্ন করি না। আমরা শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতা আর 'সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা' করার বুলি আওড়াই। অথচ এগুলো আমাদের ধ্যানধারণা না, আমাদের শব্দ না। এগুলো আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যেরও অংশ না। এগুলো ওদের ধারণা, ওদের শব্দ। তবুও আমরা এগুলো ব্যবহার করি। আমরা বোকার মতো ভাবি হয়তো এতে ওরা আমাদের সম্মান করবে। আমাদের কথা মেনে নেবে।
না, ওরা মানেনি। মানবেও না।
তাই ফরাসীদের প্রশংসা করা উচিত। যতটা আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তা নিয়ে বাতিলের পক্ষে ওরা অবস্থান নেয়, তার ভগ্নাংশ পরিমাণ আত্মবিশ্বাস যদি হকের পক্ষে আমরা দেখাতে পারতাম!