📘 সফল মানব > 📄 সাফল্যের রহস্য

📄 সাফল্যের রহস্য


এ জগতে বহু সফল মানুষের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, অনেকে অতি সহজে সাফল্য লাভ করেছেন, অনেকে করেছেন অতি কষ্টে। অবশ্য প্রত্যেকের সাফল্যের পিছে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রধান যে কারণে মানুষ সফল হয়, তাকে তার সাফল্যের রহস্য বলা যেতে পারে।

তার মধ্যে একটি হল সততা ও সত্যবাদিতা।

অভিজ্ঞগণ বলেন, 'কোনও কাজ নিষ্পত্তি করার দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হয় দুটি স্তম্ভের উপর। সে দুটি হল: সততা ও বিজ্ঞতা। যদি তোমার আর্থিক ক্ষতিও হয়, তবু তোমার অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকার নামই সততা। আর বিজ্ঞতা হচ্ছে, যেখানে ক্ষতি হবে সেই রকম বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ না হওয়া।'

প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর হলে মানুষের সততা প্রকাশ পায়। আর তারই উর্বর মাটিতে উদ্‌গত হয় সাফল্যের কচি কিশলয়।

পক্ষান্তরে মিথ্যাবাদিতা, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, দুর্নীতি প্রভৃতি মানুষকে সাফল্যের পথ প্রদর্শন করে না।

প্রাচীন কালে প্রাচ্যের এক দেশের রাজা অতি বৃদ্ধ হয়ে পড়লে তিনি ঠিক করলেন, এবার দেশের পরবর্তী রাজা তিনি নিজেই নির্বাচন ক'রে যাবেন। কিন্তু তিনি এ নির্বাচনে একটি অভিনব পন্থা অবলম্বন করলেন।

তিনি রাজ-পরিবারের কাউকে নির্বাচন করলেন না। নৈকট্যপ্রাপ্ত কোন মানুষকেও না।

তিনি তাঁর দেশের বাছাই করা যোগ্য তরুণদেরকে রাজদরবারে উপস্থিত করলেন। তাদেরকে আপ্যায়ন ক'রে বললেন, 'আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। এখন এ দেশের একটি নতুন রাজা নির্বাচনের সময় এসেছে। আমি আশা করব, সে রাজা হবে তোমাদেরই মধ্য হতে একজন। তবে আমি একটি পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে এখতিয়ার করব।'

অতঃপর রাজা তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি ক'রে কোন গাছের বীজ দিয়ে বললেন, 'এই বীজটি তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ টবে রোপণ করবে। অতঃপর রীতিমতো তার সিঞ্চন ও পরিচর্যা করবে। তারপর এক বছর পরে তোমরা আমার সাথে ঠিক এই জায়গায় দেখা করবে। আমি তোমাদের মধ্যে যার গাছ সুন্দর ও ফুল-ফলে সুশোভিত দেখব, তাকে এ রাজ্যের রাজা নির্বাচন করব।'

তরুণদের মধ্যে একজনের নাম ছিল লঞ্জ। খুশীতে মাতোয়ারা হয়ে বীজ নিয়ে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে সব কথা খুলে বলল। মা কাজটিকে অতি সহজ মনে করল। যেহেতু তার বাড়িতে এমনিই কত গাছ টবে লাগানো আছে এবং ফুল-ফলে সুশোভিত আছে। বড় আনন্দের সাথে ছেলেকে আশা প্রদান করল। ছেলের গাছ লাগানোতে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করল। প্রত্যহ তার যথাযথ সিঞ্চন করতে ও যত্ন নিতে লাগল। যাতে তার ছেলে দেশের পরবর্তী রাজা হয় এবং সে হয় রাজমাতা।

কিন্তু কোথায়? রাজা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেল। লঞ্জের টবে রোপিত বীজ অঙ্কুরিত হল না। মা ও ছেলে অবাক হল। ওদিকে অন্যান্যদের খবর নিতে শোনা গেল সকলের গাছ সুন্দরভাবে যথা নিয়মে বৃদ্ধিলাভ করছে। কেবল লঞ্জেরই চারা এখনও মাটি ঠেলে পৃথিবীর মুখ দেখল না। কেন? কী ব্যাপার? লঞ্জ নিজেকে বিফল ও ব্যর্থ মনে ক'রে হতাশায় ভেঙ্গে পড়ল।

আরো কিছুদিন অতিবাহিত হলে সে ও তার মা নিশ্চিত হল যে, তাদের সেই বীজ থেকে কোন গাছ হবে না। যেহেতু পচে মাটির সাথে তা মিশে গেছে।

দেখতে দেখতে রাজার সাথে সাক্ষাতের দিন এসে উপস্থিত হল। সকলেই তাদের নিজ নিজ টবে সুন্দর সুন্দর ফুল-ফলে সুশোভিত গাছ নিয়ে রাজদরবারে উপস্থিত হল। সকলের গাছ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার মতো। কিন্তু লঞ্জের টবে কোন গাছ ছিল না।

সবাই আগেভাগে নিজ নিজ গাছ রাজার সম্মুখে পেশ করল। আর লঞ্জ ভর্ৎসনা ও লাঞ্ছনার ভয়ে সকলের পিছনে লুকোচুরি খেলছিল।

একটার পর একটা তরুণ নিজ নিজ গাছ প্রদর্শন ক'রে দরবারের এক পাশে আসন গ্রহণ করল।

পরিশেষে লঞ্জকে দেখা দিতেই হল। না জানি রাজা কী হুকুম ক'রে বসেন, এই ভয়ে সে ভীত-সন্ত্রস্ত ছিল। হয়তো-বা তার গর্দানই কাটা যায়। তবুও সে নিজেকে প্রকৃতিস্থ ক'রে রাজার সম্মুখে দন্ডায়মাণ হল।

রাজা তার দিকে এক নজর তাকিয়ে মুখ নামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, 'কী নাম তোমার?'

লঞ্জ তার নাম বললে রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার গাছ কোথায়?' সে বলল, 'মহাশয়! আমার বীজটি সম্ভবতঃ খারাপ ছিল। তাই অঙ্কুরিত হয়নি।'

সভাস্থ সকলেই হো-হো শব্দে হেসে উঠল। কিন্তু রাজা মশায় সকলকে চুপ থাকতে আদেশ ক'রে বললেন, 'তোমরা তোমাদের দেশের নতুন রাজাকে মোবারকবাদ জানাও।'

সকলেই অবাক, হতবাক। খোদ লঞ্জও। কেউই এ কথা বিশ্বাস করতে পারছিল না। ব্যাপার কী?

রাজা মশায় রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, 'আমি এক বছর আগে তোমাদের প্রত্যেককে একটি ক'রে বীজ দিয়ে বিশেষ প্রযত্নে গাছ ফলিয়ে দেখানোর কথা বলেছিলাম। কিন্তু এ কথা বলিনি যে, বীজগুলি গরম পানিতে সিদ্ধ করা এবং অঙ্কুরিত হওয়ার অযোগ্য। কিন্তু তোমরা আমাকে প্রতারিত করার জন্য মিথ্যা ও ছলনার আশ্রয় নিয়ে অন্য বীজ দিয়ে গাছ লাগিয়ে তা ফুলফলে সুশোভিত ক'রে এনে দেখিয়েছ। তোমরা ধারণা করেছ, ধোঁকাবাজি ও ছলনা তোমাদেরকে রাজা বানিয়ে দেবে!

কিন্তু লঞ্জ তা করেনি। ইছা করলে সেও তোমাদের মতো কিছুদিন পরে বীজ অঙ্কুরিত হতে না দেখে অন্য বীজ বপন ক'রে গাছ এনে দেখাতে পারত। কিন্তু সে রাজাকে প্রতারিত করতে চায়নি। আশা করি সে আমার প্রজাদেরকেও প্রতারিত করবে না। অতএব আমার নিকট তার আমানতদারি, সততা ও সাহসিকতা প্রমাণিত হওয়ার ফলে আমি তাকে এ দেশের ভাবী রাজা নির্বাচন করলাম।'

হ্যাঁ, রাজা সঠিকভাবে সঠিক প্রতিনিধিই নির্বাচন করলেন। নচেৎ আমরা যদি মিথ্যাবাদিতা ও প্রতারণার বীজ বপন করি, তাহলে যথাসময়ে বিফলতা ও ব্যর্থতার কাঁটাই কর্তন করব। আর আমরা যদি যথাসময়ে সততা, সত্যবাদিতা ও আন্তরিকতার বীজ বপন করি, তাহলে যথাসময়ে আমরা ভালোবাসা ও সাফল্যের ফসল কর্তন করব।

সাফল্যকামীর সর্বদা মনে রাখা উচিত, আমরা আজ যা বপন করব, আগামী কাল তাই কর্তন করব। নিম গাছ লাগিয়ে আঙুর ফলের আশা করা ভুল।

সাফল্যের অন্যতম রহস্য হল আশাবাদিতা। তার মানে বিফলতার মাঝেও সফলতার আলো খুঁজে নেওয়া এবং ব্যর্থতায় নিরাশ না হওয়া। অপ্রিয় কিছু সামনে এলেও তাকে প্রিয় বানিয়ে নিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কোনও ঘটন-অঘটনের নেতিবাচক ফল না নিয়ে ইতিবাচক ফল নিতে চেষ্টা করা।

একজন সফল ব্যক্তিকে তাঁর সাফল্যের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, 'নিয়মানুবর্তিতা বা সময়ানুবর্তিতা।'

আর একজন বলেছেন, 'আমার সাফলের রহস্য হল অবিরাম প্রচেষ্টা।'

একজন সফল চিন্তাবিদ বলেছেন, 'সাফল্য কেবল সৌভাগ্যই নয়। তা পরিপূর্ণ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হয়।'

সাফল্য লাভের চেষ্টায় এক সাথে সব কিছুতে সাফল্য লাভ করতে চাওয়াটা ভুল পদক্ষেপ হবে। সুতরাং যেটা সহজ ও সাধ্যাধীন তা দিয়েই শুরু করা কর্তব্য। নচেৎ এমনও হতে পারে যে, সবগুলি এক সাথে পেতে গিয়ে সবগুলিই হারিয়ে যাবে।

📘 সফল মানব > 📄 দুনিয়ার সাফল্য

📄 দুনিয়ার সাফল্য


দুনিয়ার সাফল্য আমরা হাতে হাতে প্রত্যক্ষ করতে পারি। নিজ পেশায় অনেকেই সফল মানব। নিজ বৈবাহিক জীবনে অনেকে সফল দম্পতি। সংসার জীবনে অনেকেই সফল পিতামাতা। ধনোপার্জনে অনেকেই সফল ধনী। অনেকে লেবু বেচতে বেচতে কোটিপতি, পেপার বেচতে বেচতে দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। অনেকে রাজনৈতিক জীবনে খুদে কমরেড থেকে প্রধান মন্ত্রী হতে সফল হয়েছেন। অল্প পড়াশোনা ক'রে সাহিত্য চর্চায় সফল হয়ে অনেকে কবি, সাহিত্যিক ও লেখক হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।
জ্ঞান-গবেষণায় সাফল্য লাভ ক'রে অনেকে বিজ্ঞানী হয়েছেন। চিকিৎসায় অভিজ্ঞতা লাভ ক'রে অনেকে সফল চিকিৎসক হয়েছেন। অনেকে অবৈধ পথে মানুষের কাছে সফল মানুষ রূপে প্রসিদ্ধ হয়েছেন। অনেকে দুনিয়ার বাদশা, আমীর বা রাষ্ট্রনেতা হয়ে সফল মানব হয়েছেন। অনেকেই দুনিয়ায় বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ি, রকমারি পানাহার, রকমারি লেবাস-পোশাক, নানা বর্ণের নারী সম্ভোগ ক'রে সাফল্যের দাবীদার হয়েছে। অনেকেই কারুনের মতো সাফল্যের পাহাড়-চূড়ায় আরোহন করেছে। তার ঘটনা ছিল,
{فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ قَالَ الَّذِينَ يُرِيدُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا يَا لَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَا أُوتِيَ قَارُونُ إِنَّهُ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٍ} (۷۹) سورة القصص "কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমক সহকারে বের হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল, 'আহা! কারুনকে যা দেওয়া হয়েছে, সেরূপ যদি আমাদেরও থাকত; প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান।' (ক্বাসাস্বঃ ৭৯)
অনেকেই দুনিয়াদারি দৃষ্টিতে পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাস কামনা করে। হয়তো-বা তারা পরকালের জীবনে বিশ্বাসটুকুও রাখে না। সুতরাং তাদের অবস্থা হল এই যে,
يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ } (۷) سورة الروم "ওরা পার্থিব জীবনের বাহ্য দিক সম্বন্ধে অবগত, অথচ পারলৌকিক জীবন সম্বন্ধে ওরা উদাসীন।” (রুমঃ ৭)
তারা জানে না অথবা মানে না যে,
زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَابِ} “নারী, সন্তান-সন্ততি, জমাকৃত সোনা-রূপার ভান্ডার, পছন্দসই (চিহ্নিত) ঘোড়া, চতুষ্পদ জন্তু ও ক্ষেত-খামারের প্রতি আসক্তি মানুষের নিকট লোভনীয় করা হয়েছে। এ সব ইহজীবনের ভোগ্য বস্তু। আর আল্লাহর নিকটেই উত্তম আশ্রয়স্থল রয়েছে।” (আলে ইমরানঃ ১৪)
اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاء وَيَقْدِرُ وَفَرِحُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إلا مَتَاعٌ } (٢٦) سورة الرعد
"আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন, তার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং সংকুচিত করেন। কিন্তু তারা পার্থিব জীবন নিয়েই উল্লসিত; অথচ ইহজীবন তো পরজীবনের তুলনায় নগণ্য ভোগ মাত্র।” (রা'দঃ ২৬)

{وَمَا أُوتِيتُم مِّن شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى أَفَلَا تَعْقِلُونَ} (٦٠) سورة القصص "তোমাদেরকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে, তা তো পার্থিব জীবনের ভোগ ও সৌন্দর্য এবং যা আল্লাহর নিকট আছে, তা উত্তম এবং স্থায়ী। তোমরা কি অনুধাবন করবে না?” (ক্বাস্বাস্বঃ ৬০)

{فَمَا أُوتِيتُم مِّن شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} (٣٦) سورة الشورى “বস্তুতঃ তোমাদেরকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ভোগ; কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে, তা উত্তম ও চিরস্থায়ী তাদের জন্য, যারা বিশ্বাস করে ও তাদের প্রতিপালকের ওপর নির্ভর করে।” (শূরাঃ ৩৬)

{يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ} (۳۹) سورة غافر "হে আমার সম্প্রদায়! এ পার্থিব জীবন তো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু। আর নিশ্চয় পরকাল হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।” (মু'মিনঃ ৩৯)

اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ}
"তোমরা জেনে রেখো যে, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ব প্রকাশ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছুই নয়। এর উপমা বৃষ্টি; যার দ্বারা উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তা পীতবর্ণ দেখতে পাও, অবশেষে তা টুকরা-টুকরা (খড়-কুটায়) পরিণত হয় এবং পরকালে রয়েছে কঠিন শান্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়।” (হাদীদঃ ২০)

পক্ষান্তরে যারা প্রকৃতত্ব জানে, তারা অপরের পার্থিব সাফল্য দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,

{ وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِّمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ} (۸۰) سورة القصص
"যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা (কারুনের ধন-সাফল্য দেখে) বলল, 'ধিক তোমাদের! যারা ঈমান রাখে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ। আর ধৈর্যশীল ব্যতীত তা অন্য কেউ পায় না।' (ক্বাস্বাস্বঃ ৮০)

📘 সফল মানব > 📄 প্রকৃত সফল মানব

📄 প্রকৃত সফল মানব


সফল মানব অনেক আছে এ পৃথিবীতে। কিন্তু প্রকৃত দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যাবে, আসলে তারা অসফল। বহুমুখী সাফল্যের অধিকারী হয়েও বাস্তবে সে বিফল মনোরথ। অধিকাংশ মানুষের সাফল্য এক শতাব্দীব্যাপী। আসলে তাদের বিশ্বাসই শতাব্দীকালীন। মরণের পরেও যে অন্তহীন শতাব্দীর জীবন আছে, তা তারা বিশ্বাস করে না অথবা বিশ্বাস করলেও সঠিকভাবে করে না অথবা সঠিকভাবে করলেও তার জন্য প্রস্তুতি নেয় না এবং সে জীবনে সাফল্যের জন্য কোন প্রয়াস চালাতে অনুপ্রাণিত হয় না।

আমরা যারা পরকালে বিশ্বাস রাখি, তাদের প্রকৃত সাফল্য হল পরকালে। পরকালের সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য। সে সাফল্য কাদের জন্য? মহান আল্লাহ তার উত্তর দিয়েছেন।

যারা মু'মিন অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করবে: মহান আল্লাহ বলেছেন,
{ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (۱) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ (۲) وَالَّذِينَ هُمْ عَنْ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ (۳) وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ (٤) وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (٥) إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (٦) فَمَنْ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمْ الْعَادُونَ (۷) وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ (۸) وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ (۹) أُوْلَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ (۱۰) الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} (۱۱) المؤمنون
"অবশ্যই বিশ্বাসিগণ সফলকাম হয়েছে। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র। যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে। যারা যাকাত দানে সক্রিয়। যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। আর যারা নিজেদের নামাযে যত্নবান থাকে। তারাই হবে উত্তরাধিকারী। উত্তরাধিকারী হবে ফিরদাউসের; যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে।" (মু'মিনুনঃ ১-১১)

الم (১) ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ (২) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ (۳) وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ (٤) أُوْلَئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (৫) البقرة
"আলিফ লা-ম মী-ম। এ গ্রন্থ; (কুরআন) এতে কোন সন্দেহ নেই, সাবধানীদের জন্য এ (গ্রন্থ) পথ-নির্দেশক। যারা অদেখা বিষয়ে বিশ্বাস করে, যথাযথভাবে নামায পড়ে ও তাদেরকে যা প্রদান করেছি, তা হতে দান করে। এবং তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তাতে যারা বিশ্বাস করে ও পরলোকে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।” (বাক্বারাহঃ ১-৫)

الم (১) تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ (۲) هُدًى وَرَحْمَةً لِلْمُحْسِنِينَ (۳) الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ (٤) أُوْلَئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (৫) سورة لقمان
"আলিফ, লাম, মীম; এগুলি জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থের বাক্য, সৎকর্মপরায়ণদের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা স্বরূপ; যারা যথাযথভাবে নামায পড়ে, যাকাত দেয় ও পরলোকে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে। ওরাই ওদের প্রতিপালক কর্তৃক নির্দেশিত পথে আছে এবং ওরাই সফলকাম।” (লুকমানঃ ১-৫)

{وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ (٦٥) فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنْبَاءُ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ (٦٦) فَأَمَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَن يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ} (٦٧)
"সেদিন আল্লাহ ওদেরকে ডেকে বলবেন, 'তোমরা রসূলগণকে কী জবাব দিয়েছিলে?' সেদিন তাদের সকল দলীল বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনয়ন করে ও সৎকাজ করে, সে অবশ্যই সফলকাম হবে।” (ক্বাস্বাস্বঃ ৬৫-৬৭)

যারা আত্মশুদ্ধি করবে: মহান আল্লাহ বলেছেন,
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَاهَا (۹) وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا } (۱۰) سورة الشمس
"সে সফলকাম হবে, যে তা (আত্মা) কে পরিশুদ্ধ করবে এবং সে ব্যর্থ হবে, যে তাকে কলুষিত করবে।” (শাম্স: ৯-১০)

যারা (লোককে) কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকার্যের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কার্য থেকে নিষেধ করবে: মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (١٠٤) سورة آل عمران
"তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (লোককে) কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকার্যের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কার্য থেকে নিষেধ করবে। আর এ সকল লোকই হবে সফলকাম।" (আলে ইমরানঃ ১০৪)

যারা সর্বশেষ নবী ও সর্বশেষ গ্রন্থ কুরআনের অনুসারী হবেঃ মহান আল্লাহ বলেছেন,
{الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُواْ بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنزِلَ مَعَهُ أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (١٥٧) سورة الأعراف
"যারা নিরক্ষর রসূল ও নবীর অনুসরণ করে, যার উল্লেখ তওরাত ও ইঞ্জীল যা তাদের নিকট আছে তাতে লিপিবদ্ধ পায়, যে তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে, যে তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে বৈধ করে ও অপবিত্র বস্তুসমূহকে অবৈধ করে এবং যে তাদের ভার ও বন্ধন যা তাদের উপর ছিল (তা হতে) তাদেরকে মুক্ত করে। সুতরাং যারা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং যে আলো তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করে, তারাই হবে সফলকাম।” (আ'রাফঃ ১৫৭)

যারা আল্লাহর রাস্তায় হিজরত ও জিহাদ করবে: মহান আল্লাহ বলেছেন,
{الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللَّهِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} (٢٠) سورة التوبة
"যারা ঈমান এনেছে, (দ্বীনের জন্য স্বদেশত্যাগ) হিজরত করেছে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় বড়। আর তারাই হল সফলকাম।” (তাওবাহঃ ২০)

{لَكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ وَأُوْلَئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (৮৮) سورة التوبة
"কিন্তু রসূল ও তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল, তারা নিজেদের ধন ও প্রাণ দ্বারা জিহাদ করল; তাদেরই জন্য রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই হচ্ছে সফলকাম।” (তাওবাহঃ ৮৮)

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে: মহান আল্লাহ বলেছেন,
{إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (٥١) وَمَن يُطِيعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ } (৫২) سورة النور
"যখন বিশ্বাসীদেরকে তাদের মধ্যে মীমাংসা ক'রে দেওয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা তো কেবল এ কথাই বলে, 'আমরা শ্রবণ করলাম ও মান্য করলাম।' আর ওরাই হল সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি হতে সাবধান থাকে, তারাই হল কৃতকার্য।” (নূরঃ ৫১-৫২)

যারা আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরের অধিকার আদায় করবেঃ মহান আল্লাহ বলেছেন,
{فَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ ذَلِكَ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (৩৮) سورة الروم
"অতএব আত্মীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরকে তাদের প্রাপ্য দান কর। এ যারা আল্লাহর মুখমন্ডল (দর্শন বা সন্তুষ্টি) কামনা করে, তাদের জন্য শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম।” (রুমঃ ৩৮)

যারা ঈমানী বন্ধনের উপর আত্মীয়তার বন্ধনকে প্রাধান্য দেবে নাঃ মহান আল্লাহ বলেছেন,
{لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُوْلَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍ مِّنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُوْلَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (২২) سورة المجادلة
"তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় পাবে না, যারা ভালবাসে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচারীদেরকে; হোক না এই বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা তাদের জাতি-গোত্র। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ হতে রূহ (জ্যোতি ও বিজয়) দ্বারা। তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে; যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো যে, আল্লাহর দলই সফলকাম।” (মুজাদালাহঃ ২২)

যারা মহান আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করবে: মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَيُنَجِّي اللَّهُ الَّذِينَ اتَّقَوْا بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ السُّوءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} (٦١) الزمر "আল্লাহ সাবধানীদেরকে তাদের সাফল্য সহ উদ্ধার করবেন; অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তারা দুঃখও পাবে না।" (যুমারঃ ৬১)

{إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا } (۳۱) سورة النبأ "নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্যই রয়েছে সফলতা।” (নাবাঃ ৩১)

যারা কার্পণ্যমুক্ত হবেঃ মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (9) سورة الحشر
"(মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদীনা) তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না, বরং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তারা (তাদেরকে) নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়। আর যাদেরকে নিজ আত্মর কার্পণ্য হতে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।” (হাশ্রঃ ৯)

{فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنفِقُوا خَيْرًا لِّأَنفُسِكُمْ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (١٦) سورة التغابن
"তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর এবং শোনো, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর, তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণ হবে। আর যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত, তারাই সফলকাম।” (তাগাবুনঃ ১৬)

কিয়ামতে যাদের নেকীর পাল্লা ভারী হবে : মহান আল্লাহ বলেছেন,

{فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (৮) সূরা আল-আ’রাফ
“সেদিন ওজন ঠিকঠাক করা হবে, সুতরাং যাদের ওজন ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে।” (আল আ’রাফ: ৮)

{فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلا أَنسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلا يَتَسَاءلُونَ (১০১) فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (১০২) وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ} (১০৩) সূরা মু’মিনুন
“যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, সেদিন পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরের খোঁজ-খবর নেবে না। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম। আর যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে।” (মু’মিনুনঃ ১০১-১০৩)

যারা কিয়ামতে হাশরে কাওসারের পানি পান করতে পারবে : যারা ২শ’ হ’তে কাওসারের পানি পান করতে পারবে, তারা অবশ্যই সফল হবে। এ কথা বলেছেন মহানবী ﷺ । (সিহাহ সিত্তাহঃ ৩০৬-৩০৭)

যারা কিয়ামতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে : মহান আল্লাহ বলেছেন,

{كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلاَّ مَتَاعُ الْغُرُورِ} (১৮৫) সূরা আলে ইমরান
“জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের কর্মফল পূর্নমাত্রায় প্রদান করা হবে। সুতরাং যাকে আগুন (দোযখ) থেকে দূরে রাখা হবে এবং (যা) বেহেস্তে প্রবেশলাভ করবে, সেই হবে সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়।” (আলে ইমরানঃ ১৮৫)

{تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيهَا كَالِحُونَ (১০৪) أَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَكُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ (১০৫) قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ (১০৬) رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ (১০৭) قَالَ اخْسَؤُوا فِيهَا وَلا تُكَلِّمُونِ (১০৮) إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ (১০৯) فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيًّا حَتَّى أَنسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنتُم مِّنْهُمْ تَضْحَكُونَ (১১০) إِنِّي جَزَيْتُهُمُ الْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوا أَنَّهُمْ هُمُ الْفَائِزُونَ} (১১১) সূরা মু’মিনুন

"আগুন তাদের মুখমন্ডলকে দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়। তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হতো না? অথচ তোমরা সেগুলিকে মিথ্যা মনে করতে। তারা বলবে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়। হে আমাদের প্রতিপালক! এই আগুন হতে আমাদেরকে উদ্ধার কর; অতঃপর আমরা যদি পুনরায় অবিশ্বাস করি, তাহলে অবশ্যই আমরা সীমালংঘনকারী হব।' আল্লাহ বলবেন, 'তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না। আমার বান্দাদের মধ্যে একদল ছিল যারা বলত, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিশ্বাস করেছি; সুতরাং তুমি আমাদেরকে ক্ষমা ক'রে দাও ও আমাদের উপর দয়া কর, তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা এতো ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে যে, তা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল; তোমরা তো তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাই করতে। আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম।' (মু'মিনুনঃ ১০৪-১১১)

{لَا يَسْتَوِي أَصْحَابُ النَّارِ وَأَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمُ الْفَائِزُونَ} (২০) "জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান নয়। জান্নাতের অধিবাসীরাই সফলকাম।” (হাশ্রঃ ২০)

প্রকৃত সাফল্য লাভের কারণ রয়েছে বহু। তার মধ্যে কতিপয় কারণ নিম্নরূপঃ
১। তাক্বওয়া, পরহেযগারি বা আল্লাহর ভয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

{يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَن اتَّقَى وَأْتُواْ الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} "লোকে তোমাকে নতুন চাঁদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে, (কেন তা বাড়ে এবং কমে) বল, তা লোকেদের (কাজ-কারবারের) এবং হজ্জের জন্য সময় নির্দেশক। পিছন দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করা পুণ্যের কাজ নয়; কিন্তু পুণ্যের কাজ হল সংযম অবলম্বন করে চলা। অতএব তোমরা দরজাসমূহ দিয়েই ঘরে প্রবেশ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, তবেই তোমরা সফলতা পাবে।” (বাক্বারাহঃ ১৮৯)

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} "হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ক্রমবর্ধমান হারে (দ্বিগুণ-চতুর্গুণ বা চক্রবৃদ্ধি হারে) সুদ খেয়ো না, এবং আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে।” (আলে ইমরানঃ ১৩০)

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (۲۰۰)

“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর। ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর এবং (শত্রুর বিপক্ষে) সদা প্রস্তুত থাক; আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (আলে ইমরানঃ ২০০)

{قُل لَّا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (১০০) সূরা আল-মায়েদা

“বল, ‘অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়; যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং হে বুদ্ধিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (মায়েদাহঃ ১০০)

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (৩৫) সূরা আল-মায়েদা

“হে বিশ্বাসিগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ কর ও তাঁর পথে সংগ্রাম কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (মায়েদাহঃ ৩৫)

২। শয়তানের কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকা। মহান আল্লাহ বলেছেন,

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (৯০) সূরা আল-মায়েদা

“হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (মায়েদাহঃ ৯০)

৩। মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামতরাশি স্মরণ করা (তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা)। তিনি তাঁর নবী -এর কথা উল্লেখ ক'রে বলেছেন,

{أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاء مِن بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءِ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}

“তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের নিকট উপদেশ এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে? স্মরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে নূহের সম্প্রদায়ের পরে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদেরকে অবয়ব ও শক্তিতে (অন্য লোক অপেক্ষা অধিকতর) সমৃদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, হয়তো তোমরা সফলকাম হবে।" (আ'রাফঃ ৬৯)

৪। বেশি বেশি মহান আল্লাহর যিক্র করা। তিনি বলেছেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (٤٥)
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচল থাক এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (আনফালঃ ৪৫)

{فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ } (١٠) سورة الجمعة "অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (জুমুআহঃ ১০)

৫। ভালো কাজ করা, কল্যাণময় কাজ করা। মহান আল্লাহ বলেছেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} "হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা রুকু কর, সিজদা কর এবং তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর ও সৎকর্ম কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (হাজ্জঃ ৭৭)

৬। মহান আল্লাহর দিকে রুজু ও তওবা করা। {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (۳۱) سورة النور "হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (নূর: ৩১)

📘 সফল মানব > 📄 ইহ-পরকালের সফলতা

📄 ইহ-পরকালের সফলতা


নিশ্চয় মু'মিনের প্রধান লক্ষ্য হল পরকাল ও তার সাফল্য। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সে ইহকাল মোটেই চায় না। সে দুনিয়ার সাফল্য চায়, তবে দুনিয়াকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দেয় না এবং ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার যে সাফল্য চিরস্থায়ী আখেরাতের সাফল্যকে প্রভাবান্বিত করে অথবা নষ্ট করে, সে সাফল্য অবশ্যই সে চায় না।

এ দুনিয়ায় বহু মানুষ আছে, যারা কেবল বর্তমান জীবনে বিশ্বাস রাখে এবং পার্থিব জীবনের সাফল্য ও কল্যাণকেই সকল চাওয়া-পাওয়া ধারণা করে। মহান আল্লাহ তাদের অবস্থা ও পরিণতি বর্ণনা ক'রে বলেছেন, {فَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاق (۲۰۰)
"এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পৃথিবীতে (সওয়াব) দান কর।' বস্তুতঃ তাদের জন্য পরকালে কোন অংশ নেই।” (বাক্বারাহঃ ২০০)

কিন্তু পরপরই তাঁর প্রতি বিশ্বাসী ও পরকালের প্রতি ঈমানদার মানুষের অবস্থার বর্ণনা ও তার পরিণতির কথা উল্লেখ ক'রে বলেছেন,
((وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (۲۰۱) أُولَئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ} (۲۰۲) سورة البقرة
"পক্ষান্তরে তাদের মধ্যে (এমন কিছু লোক আছে) যারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দান কর এবং পরকালেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে দোযখ-যন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর।' তারা যা অর্জন করেছে, তার প্রাপ্ত অংশ তাদেরই। বস্তুতঃ আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।” (বাক্বারাহঃ ২০১-২০২)

বিশাল ধনবান কারুনকেও উপদেশ দিয়ে তার জাতির সৎ লোকেরা বলেছিল, {لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ (٧٦) وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِن كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْعُ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ) (۷۷) سورة القصص
'দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তার মাধ্যমে পরলোকের কল্যাণ অনুসন্ধান কর। আর তুমি তোমার ইহলোকের অংশ ভুলে যেয়ো না। তুমি (পরের প্রতি) অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না।
আল্লাহ অবশ্যই বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না।' (কাস্বাস্বঃ ৭৬-৭৭)

পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য মু'মিনদের জন্য ত্যাজ্য ও নিষিদ্ধ নয়। নিষিদ্ধ হল, তাতে মুগ্ধ ও আসক্ত হয়ে পড়া এবং পরকালের জীবনের উপর ইহকালের ক্ষণস্থায়ী জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া অথবা পরকালের জীবন বিস্মৃত হওয়া। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِي لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} (৩২)
"বল, 'আল্লাহ স্বীয় দাসদের জন্য যে সব সুশোভন বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে নিষিদ্ধ করেছে?' বল, 'পার্থিব জীবনে বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে এ সমস্ত তাদের জন্য, যারা বিশ্বাস করে।' এরূপে আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করি।” (আ'রাফঃ ৩২)

এই পার্থিব সৌন্দর্য এবং হালাল ও পবিত্র জিনিসগুলো আসলে আল্লাহ ঈমানদারদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, যদিও কাফেররাও তার দ্বারা উপকারিতা এবং পরিতৃপ্তি লাভ ক'রে থাকে। বরং অনেক সময় পার্থিব সম্পদ এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করার ব্যাপারে তাদেরকে মুসলিমদের চেয়েও বেশী সফল দেখা যায়। তবে তা সাধারণ রীতিধারায় এবং সাময়িকভাবে। (অর্থাৎ, তারা তার হকদার বলে নয় এবং চিরস্থায়ীভাবে নয়।) এতে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিগত ইচ্ছা ও হিকমতও আছে। কিন্তু কিয়ামতের দিন এ নিয়ামতসমূহ কেবল ঈমানদারদের জন্য হবে। কেননা, কাফেরদের উপর যেভাবে জান্নাত হারাম হবে, অনুরূপভাবে জান্নাতের যাবতীয় খাদ্য-পানিও তাদের জন্য হারাম হবে। (আহসানুল বায়ান)

আর প্রকৃত প্রস্তাবে মহান আল্লাহর কাছে পার্থিব জীবনের কোন মূল্য নেই। তাছাড়া এ পৃথিবী হল পরীক্ষাগার। তার জন্যই কাফেররা অস্বীকার ও অমান্য করেও এ জীবনে সাফল্য লাভ ক'রে থাকে। মহানবী বলেছেন,

(( لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ الله جَنَاحَ بَعُوضَةٍ ، مَا سَقَى كَافِراً مِنْهَا شَرْبَةً مَاءٍ )).

"যদি আল্লাহর নিকট মশার ডানার সমান দুনিয়ার (মূল্য বা ওজন) থাকত, তাহলে তিনি কোন কাফেরকে তার (দুনিয়ার) এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।” (তিরমিযী ২৩২০, ইবনে মাজাহ ৪১১০, মিশকাত ৫১৭৭ নং)

সুতরাং পার্থিব সাফল্য মুসলিমের কাম্য, তবে তা প্রধান কাম্য নয়। পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে সুন্দরভাবে জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সামগ্রী পাওয়া গেলে, সেটাই বিরাট সাফল্য। সাময়িকভাবে বসবাস ক'রে ছেড়ে যেতে হবে এমন মুসাফিরখানায় পরিমিত সুখসামগ্রী লাভে ধন্য হওয়াটাই সব কিছু পাওয়া। এই জন্য মহানবী -এর মানবের পার্থিব সাফল্য হল, যথেষ্ট পরিমাণের সামগ্রী লাভ ও তাতে মনের তুষ্টি। তিনি বলেছেন,

(( قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ ، وَكَانَ رِزْقُهُ كَفَافاً ، وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ )).

"সে ব্যক্তি সফলকাম, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাকে পরিমিত রুযী দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন, তাতে তাকে তুষ্ট করেছেন।” (মুসলিম ২৪৭৩নং)

পার্থিব সাফল্য হল, সার্বিক নিরাপত্তা, শারীরিক সুস্থতা এবং পরিমিত পানাহারের ব্যবস্থা। এ সাফল্য যার লাভ হয়, সে হয় দুনিয়ার রাজা। মহানবী বলেছেন,

((مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبِهِ مُعَافَى فِي جَسَدِهِ عِنْدَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيا بحذافيرها)).

"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ঘরে অথবা গোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদে ও সুস্থ শরীরে সকাল করেছে এবং তার কাছে প্রতি দিনের খাবার আছে, তাকে যেন পার্থিব সমস্ত সম্পদ দান করা হয়েছে।” (তিরমিযী ২৩৪৬, ইবনে মাজাহ ৪১৪১নং)

শরীয়ত মুসলিমকে বারবার সতর্ক করে, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃত সাফল্য চিরস্থায়ী সাফল্য, আখেরাতের সাফল্য। তবে পার্থিব সাফল্যকে দৃষ্টিচ্যুত করা যাবে না এবং তাতে পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে পারলৌকিক সাফল্যকে অবজ্ঞা করা যাবে না।

উভয় সাফল্য লাভ হলে তো সোনায় সোহাগা বটেই। কিন্তু দুই সাফল্যের মাঝে সংঘর্ষ বাধলে পারলৌকিক সাফল্য যেন প্রাধান্য পায় মু'মিনের কাছে।

দুনিয়ার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হল একটি পুণ্যময়ী জীবন-সঙ্গিনী। এমন সঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশ হল,

تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعِ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرُ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ».
"মহিলার চারটি জিনিস দেখে বিবাহ করা হয়; তার সম্পদ, উচ্চ বংশ, রূপ ও দ্বীন দেখে। তুমি দ্বীনদার মহিলা পেতে সফল হও, তোমার হাত ধূলিধূসরিত হোক।” (বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ৩৭০৮-নং)

((إِذَا أَتَاكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ خُلُقَهُ وَدِينَهُ فَزَوِّجُوهُ ، إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عريض)).
"তোমাদের নিকট যখন এমন ব্যক্তি (বিবাহের পয়গাম নিয়ে) আসে; যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা মুগ্ধ, তখন তার সাথে (মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিৎনা ও মহাফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যাবে।” (তিরমিযী ১০৮৪, ইবনে মাজাহ ১৯৬৭, মিশকাত ৩০৯০, সিঃ সহীহাহ ১০২২নং)

এ হল দ্বীনদারীর পছন্দ। কিন্তু দুনিয়াদারী পছন্দ হল, দ্বীন থাক, বংশ দেখ, রূপ-সৌন্দর্য দেখ এবং কত কী পাওয়া যাবে দেখ। নামায, চরিত্র, পর্দা, দ্বীনদারী দেখা অপ্রয়োজন।

অনুরূপ জামাই পছন্দের সময়ও দুনিয়াদারীর দৃষ্টিভঙ্গি। দ্বীনদারী বা নামাযাদি দেখার প্রয়োজন নেই। ধনী হলেই হবে। এই ধরনের কনের মন বলে, 'রসের নাগর, রূপের সাগর, যদি ধন পাই, আদর ক'রে করি তারে বাপের জামাই।'

বাচ্চাদেরকে পড়াশোনা করতে দেওয়ার সময়েও লক্ষ্য করতে পারেন। অধিকাংশ বাপ-মা তার পশ্চাতে কী চায়? দ্বীন না দুনিয়া? নাকি উভয়ই? অধিকাংশ চায় দুনিয়া, চাকরি, অর্থোপার্জন।

অনেকে উভয়টাই চায়।

খাঁটিভাবে দ্বীন চায় কয় জন?

অনেকে দুনিয়ার মাথায় পা রেখে দ্বীন শিক্ষা করে। আর এমন কাজের কাজী নেহাতই কম। অধিকাংশ মানুষ দ্বীনের মাথায় পা রেখে দুনিয়া কামাতে চায়, মাদ্রাসায় থেকে-খেয়ে স্কুলের পড়া পড়ে ও পরীক্ষা দেয়। যাকাত-ফিতরা খেয়ে দ্বীনের খাদেম না হয়ে দুনিয়ার খাদেম হয়।

কিন্তু যারা দুনিয়ার সাফল্যের জন্য দ্বীনকে ব্যবহার করে, তাদের পরিণাম স্পষ্ট। মহানবী বলেছেন,

(( مَنْ تَعَلَّمَ عِلْماً مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ - عَزَّ وَجَلَّ - لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضاً مِنَ الدُّنْيَا ، لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الجَنَّةِ يَوْمَ القِيَامَةِ )).

"যে বিদ্যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, তা যদি একমাত্র সামান্য পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে কেউ শিক্ষা করে, তাহলে সে কিয়ামতের দিনে জান্নাতের সুগন্ধটুকুও পাবে না।” (আবু দাউদ ৩৬৬৬নং)

তিনি আরো বলেছেন,

بَشِّرْ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِالسَّنَاءِ وَالتَّمْكِينِ فِي الْبَلَادِ وَالنَّصْرِ وَالرِّفْعَةِ فِي الدِّينِ وَمَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ بِعَمَلِ الْآخِرَةِ لِلدُّنْيَا فَلَيْسَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ نَصِيبٌ)).
"এই উম্মতকে স্বাচ্ছন্দ্য, সমুন্নতি, দ্বীন সহ সুউচ্চ মর্যাদা, দেশসমূহে তাদের ক্ষমতা বিস্তার এবং বিজয়ের সুসংবাদ দাও। কিন্তু যে ব্যক্তি পার্থিব কোন স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে পরকালের কর্ম করবে তার জন্য পরকালে প্রাপ্য কোন অংশ নেই।” (আহমদ ২১২২৪, ইবনে মাজাহ, হাকেম, বাইহাকীর শুআবুল ঈমান ৬৮-৩৩ ইবনে হিব্বান ৪০৫,, সহীহ তারগীব ২ ১নং)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00