📘 সফল মানব > 📄 প্রাণরক্ষার সফলতা

📄 প্রাণরক্ষার সফলতা


মহান সৃষ্টিকর্তা সারা সৃষ্টি রচনার পর মানব সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। তাঁর সেই উদ্দেশ্য সফল হতে হলে অবশ্যই মানবের প্রাণ রক্ষার অতি প্রয়োজন আছে, প্রয়োজন আছে তার বংশ রক্ষার।

প্রাণই তো আসল। তা না হলে ঈমান-জ্ঞান-মান-ধন কিসের ভিত্তিতে অবশিষ্ট থাকবে? সুতরাং প্রাণ রক্ষার তাকীদে বিধান এসেছে ইসলামে।

{مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ} (۳۲) سورة المائدة
"এ কারণেই বনী ইস্রাঈলের প্রতি এ বিধান দিলাম যে, যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দন্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণরক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। তাদের নিকট তো আমার রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণ এনেছিল, কিন্তু এর পরও অনেকে পৃথিবীতে সীমালংঘনকারীই রয়ে গেল।” (মায়িদাহঃ ৩২)

মহানবী বলেছেন, لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّى رَسُولُ اللَّهِ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ الثَّيِّبُ الزَّانِ وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ .. "তিন ব্যক্তি ছাড়া 'আল্লাহ ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল' এ কথায় সাক্ষ্যদাতা কোন মুসলিমের খুন (কারো জন্য) বৈধ নয়; বিবাহিত ব্যভিচারী, খুনের বদলে হত্যাযোগ্য খুনী এবং দ্বীন ও জামাআত ত্যাগী।” (বুখারী ৬৮-৭৮, মুসলিম ৪৪৬৮-৪৪৭০নং আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)

একান্ত অনিবার্য কারণ ব্যতীত মায়ের পেটে ভ্রূণ হত্যা করাও নিষিদ্ধ ইসলামে। প্রাণ ও দ্বীন বাঁচানোর তাকীদেই জিহাদ ফরয করা হয়েছে ইসলামে। যেমন খুনের বদলে খুন (কিস্বাস) এ রয়েছে মানুষের জীবন। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{ وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (۱۷۹) سورة البقرة "হে বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমাদের জন্য ক্বিস্বাসে (প্রতিশোধ গ্রহণের বিধানে) জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।” (বাক্বারাহঃ ১৭৯)

জীবনের ব্যথা-বেদনা যতই হোক, আত্মহত্যাকে ইসলাম বৈধ করেনি। যেহেতু প্রাণ দেওয়ার ক্ষমতা যার নেই, প্রাণ নষ্ট করার অধিকারও তার নেই।

মহানবী বলেছেন,

((مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَحَسَّى سُمَّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَجَأْ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا)).

“যে ব্যক্তি কোন পাহাড় হতে নিজেকে ফেলে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে ফেলে অনুরূপ শাস্তিভোগ করবে। যে ব্যক্তি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা চিরকালের জন্য বিষ পান করে যাতনা ভোগ করবে। আর যে ব্যক্তি কোন লৌহখন্ড (ছুরি ইত্যাদি) দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও ঐ লৌহখন্ড দ্বারা সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে আঘাত করে যাতনা ভোগ করতে থাকবে।” (বুখারী ৫৭৭৮, মুসলিম ৩/১৩নং প্রমুখ)

প্রাণ রক্ষার তাকীদেই এমন সকল জিনিস ভক্ষণ নিষিদ্ধ হয়েছে ইসলামে যার ফলে বিলম্বে বা অবিলম্বে মানুষকে মরণের দিকে টেনে নিয়ে যায়। মাদকদ্রব্যাদি সেবন নিষিদ্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হল প্রাণ বাঁচানোর পরোক্ষ তাকীদ। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} (২৯) سورة النساء "তোমরা আত্মহত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।" (নিসাঃ ২৯)

প্রাণকে হিফাযত করার তাকীদেই ইসলাম মুসলিমকে সংক্রামক ব্যধিগ্রস্ত রোগীর কাছে যেতে বারণ করে। মহানবী বলেছেন,

...... وَفِرَّ مِنْ الْمَجْدُّومِ كَمَا تَفِرُّ مِنْ الْأَسَدِ)). "তোমরা কুষ্ঠরোগী হতে দূরে থেকো; যেমন বাঘ হতে দূরে পলায়ন কর।” (বুখারী ৫৭০৭নং)

তিনি আরো বলেছেন,

((لَا يُورِدَنَّ مُمْرِضْ عَلَى مُصِح)). "চর্মরোগাক্রান্ত উটের মালিক যেন সুস্থ উট দলে তার উট না নিয়ে যায়।” (বুখারী ৫৭৭১, মুসলিম ৫৯২২নং)

আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} (১৯৫) سورة البقرة "তোমরা নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ করো না।” (বাক্বারাহঃ ১৯৫)

ব্যভিচার নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে যেমন রয়েছে সম্ভ্রম বাঁচানোর তাকীদ, তেমনিই তাতে রয়েছে প্রাণ বাঁচানোর তাকীদ। যেহেতু তাতে নানা সর্বনাশী রোগ হয়।

তালাক ও বৈধব্যের জন্য ইদ্দত পালনে রয়েছে তারই তাকীদ। নচেৎ সাথে সাথে বিবাহ ও স্বামী-সহবাস হলে নারীর ক্ষতির আশঙ্কা আছে।

মহিলার জন্য একাধিক স্বামী নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে রয়েছে তারই তাকীদ। অনেকটা যেন কম্পিউটারের মতো; তার ইউএসবিতে অপরিচিত ফ্লাশ দিলেই ভাইরাস-আক্রান্ত হয়!

প্রাণ রক্ষার তাকীদেই ইসলাম নিষিদ্ধ বস্তু ভক্ষণ করাকেও বৈধতা দান করেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

{وَمَا لَكُمْ أَلا تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِم بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ}
"তোমাদের কী হয়েছে যে, যার যবেহকালে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তোমরা তা ভক্ষণ করবে না? অথচ তোমরা নিরুপায় না হলে যা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তা তিনি বিশদভাবেই তোমাদের নিকট বিবৃত করেছেন। অনেকে অজ্ঞানতাবশতঃ নিজেদের খেয়াল-খুশী দ্বারা অবশ্যই অন্যকে বিপথগামী করে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সীমা লংঘনকারীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” (আনআমঃ ১১৯)

{إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغِ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (۱۷۳) سورة البقرة

"নিশ্চয় (আল্লাহ) তোমাদের জন্য শুধু মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যে সব জন্তুর উপরে (যবেহ কালে) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়ে থাকে তা তোমাদের জন্য অবৈধ করেছেন। কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ অন্যায়কারী কিংবা সীমালংঘনকারী নয়, তার কোন পাপ হবে না। আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” (বাক্বারাহঃ ১৭৩)

কেবল প্রাণ রক্ষাই বিরাট সাফল্য নয়। বরং সুস্থ ও নিরাপদ জীবন লাভ করাই বিরাট সাফল্য。

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبهِ مُعَافَى فِي جَسَدِهِ عِنْدَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيَا (بحذافيرها).

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ঘরে অথবা গোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদে ও সুস্থ শরীরে সকাল করেছে এবং তার কাছে প্রতি দিনের খাবার আছে, তাকে যেন পার্থিব সমস্ত সম্পদ দান করা হয়েছে।” (তিরমিযী ২৩৪৬, ইবনে মাজাহ ৪১৪১নং)

নিরাপদ জীবন না হলে, সে জীবনের সুখ কোথায়? নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, এমন জীবনের সাফল্য কোথায়? তাই প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যে অন্য মুসলিমকে নিরাপদে বাস করতে দেয়। মহানবী বলেছেন,

((أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ؟ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْخَطَايَا وَالذُّنُوبَ)).
"আমি কি তোমাদেরকে 'মুমিন' কে---তা বলে দেব না? (প্রকৃত মুমিন হল সেই), যার (অত্যাচার) থেকে লোকেরা নিজেদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুসলিম হল সেই ব্যক্তি, যার জিব ও হাত হতে লোকেরা শান্তি লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুজাহিদ হল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করতে নিজের মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। আর (প্রকৃত) মুহাজির (হিজরতকারী) হল সেই ব্যক্তি, যে সমস্ত পাপাচরণকে হিজরত (বর্জন) করে।” (আহমাদ ৬/২১, হাকেম ২৪, ত্বাবারানী ১৫১৯১, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান, সিলসিলাহ সহীহহাহ ৫৪৯নং)

প্রাণটা রক্ষা না পেলে ঈমানই বা থাকবে কোত্থেকে? জ্ঞান, মান, ধনই বা আসবে কোন কাজে?

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ জীবন লাভ করাই সাফল্য নয়। সাফল্য হল কল্যাণময় নিরাপদ দীর্ঘ জীবন লাভ করা। রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

(( خَيْرُ النَّاسِ مَنْ طَالَ عُمُرهُ ، وَحَسُنَ عَمَلُهُ )).
"সর্বোত্তম মানুষ সেই ব্যক্তি, যার বয়স দীর্ঘ হয় এবং আমল সুন্দর হয়।” (তিরমিযী ২৩২৯নং)

📘 সফল মানব > 📄 জ্ঞান-সাফল্য

📄 জ্ঞান-সাফল্য


বহু মানুষ বুদ্ধি ও জ্ঞানে সাফল্য লাভ ক’রে থাকে। তাছাড়া এই জ্ঞান-বুদ্ধির কারণেই তো মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। এই জন্যই ইসলামে জ্ঞানের লালন করতে বলা হয়েছে এবং জ্ঞানশূন্য ক’রে দেয় এমন সকল বস্তু ভক্ষণ করাকে হারাম করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেছেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (٩٠) سورة المائدة

"হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (মায়িদাহঃ ৯০)

আর মহানবী বলেছেন, ((الْخَمْرُ أُمُّ الْفَوَاحِشَ وَأَكْبَرُ الْكَبَائِرِ مَنْ شَرِبَهَا وَقَعَ عَلَى أُمِّهِ وَخَالَتِهِ وَعَمَّتِهِ)). "মদ হল যাবতীয় অশ্লীলতার প্রধান এবং সবচেয়ে বড় পাপ। যে ব্যক্তি তা পান করে, সে (নেশার ঘোরে) নিজ মা, খালা ও ফুফুর সাথে ব্যভিচার করে!” (ত্বাবারানী, সঃ জামে' ৩৩৪৫নং)

((الْخَمْرُ أُمُّ الْخَبَائِثِ ، فَمَنْ شَرِبَهَا لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ صَلَاتُهُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، فَإِنْ مَاتَ وَهِيَ فِي بَطْنِهِ مَاتَ مَيْتَةً جَاهِلِيَّةً)). "মদ যাবতীয় নোংরামির মূল। যে কেউ তা পান করবে, তার ৪০ দিনের নামায কবুল হবে না। (যে ব্যক্তি তার মূত্রথলিতে ঐ মদের কিছু পরিমাণ রাখা অবস্থায় মারা যাবে, তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে এবং) যে কেউ তা নিজ পেটে রেখে মারা যাবে, সে জাহেলী যুগের মরণ মরবে।” (ত্বাবারানী ১৫৪৩, দারাকুত্বনী ৪/২৪৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৬৯৫নং)

আবু দারদা বলেন, আমাকে আমার বন্ধু বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন যে, ((لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا ، وَإِنْ قُطَّعْتَ وَحُرِّقْتَ ، وَلَا تَتْرُكْ صَلَاةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا ، فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا ، فَقَدْ بَرئَتْ مِنْهُ الدَّمَّةُ ، وَلَا تَشْرَبِ الْخَمْرَ ، فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَ). "তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না---যদিও (এ ব্যাপারে) তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইচ্ছাকৃত ফরয নামায ত্যাগ করো না। কারণ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নামায ত্যাগ করে, তার উপর থেকে (আল্লাহর)
দায়িত্ব উঠে যায়। আর মদ পান করো না, কারণ মদ হল প্রত্যেক অমঙ্গলের (পাপাচারের) চাবিকাঠি।” (ইবনে মাজাহ ৪০৩৪, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩২৫৯নং)

হৃদয়ের দরজায় যখন ক্রোধ অথবা আবেগ প্রবেশ করে, তখন বিবেক-বুদ্ধি তার জানালা দিয়ে পলায়ন করে। ক্রোধ হল এমন ঝড়, যা জ্ঞানের বাতি নিভিয়ে ফেলে। এই জন্য মহানবী ﷺ-এর বিশেষ উপদেশ হল, "তুমি রাগ করো না।” (বুখারী ৬১১৬নং)

আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক'রে বিবেক প্রয়োগ করা জ্ঞানীর কাজ। যেহেতু বিবেক মানুষকে সত্যের পথ দেখায় আর আবেগ পথভ্রষ্ট করে।

খেয়ালখুশী মানুষকে হক পথ থেকে বিচ্যুত করে, হক গ্রহণে বাধাদান করে এবং ন্যায় বিচারে অন্তরায় সৃষ্টি করে। সেই জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা দাউদ কে বলেছিলেন,

{يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلُّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ} (٢٦) سورة ص

"হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার কর এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, করলে এ তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ পরিত্যাগ করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি, কারণ তারা বিচার দিনকে ভুলে থাকে।" (স্বাদঃ ২৬)

শেখ সা'দী বলেছেন, "বুদ্ধি প্রবৃত্তির হাতে সেই মতো বন্দী, যে মতো কোন পুরুষ থাকে বেশ্যার হাতে।"

ফিরিশ্তার জ্ঞান আছে, প্রবৃত্তি নেই। জন্তুর জ্ঞান নেই, প্রবৃত্তি আছে। মানুষের জ্ঞান আছে, প্রবৃত্তিও আছে। সুতরাং যার প্রবৃত্তি সংযত ও জ্ঞান আলোকিত, সে ফিরিশ্তার ন্যায়। পক্ষান্তরে যার জ্ঞান পরাভূত এবং প্রবৃত্তি উচ্ছৃঙ্খল, সে পশুর ন্যায়। (তাফসীর কুশাইরী ৫/৩৭৮)

ইবনে আত্বা বলেছেন, 'যে ব্যক্তির প্রবৃত্তি তার জ্ঞান-বুদ্ধিকে এবং অস্থিরতা ধৈর্যশীলতাকে পরাজিত করে, সে লাঞ্ছিত হয়।' (যাম্মুল হাওয়া ২৭পৃঃ)

অন্ধ ভালোবাসা ও অন্ধভক্তি মানুষকে ন্যায়-অন্যায় দেখার ও বেছে নেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। অনুরূপ কুপ্রবৃত্তি ও মনের খেয়ালখুশী মানুষকে অন্ধ ও গোঁড়া ক'রে তোলে। আর তা হলে সে নিজ জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা সাফল্যের পাহাড়-চূড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হয় না।
জ্ঞানিগণ বলেছেন, 'প্রবৃত্তি জ্ঞান-বুদ্ধিকে প্রবঞ্চিত করে, সঠিকতা থেকে দূরে রাখে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সুস্থতা থেকে পীড়া-দুর্বলতার দিকে এবং স্বচ্ছতা থেকে অস্বচ্ছতার দিকে বের ক'রে নিয়ে যায়। সুতরাং তখন সে অন্ধাবস্থায় দর্শন করে এবং বধিরাবস্থায় শ্রবণ করে।'

অনেকে বলেছেন, 'বুদ্ধিমত্তার আলোকে মানুষ সব কিছু দর্শন ক'রে থাকে। সুতরাং যার বুদ্ধিমত্তা খেয়ালখুশী থেকে নিরাপদ থাকে, সে প্রত্যেক জিনিসকে তার প্রকৃত অবস্থায় দর্শন করতে পারে। পক্ষান্তরে যার মন খেয়ালখুশীর অনুসারী, সে প্রত্যেক জিনিসকে নিজের মতো ক'রে দর্শন করে।'

ইবনে দুরাইদ বলেছেন, 'বুদ্ধিমত্তার আপদ হল কুপ্রবৃত্তি। সুতরাং যার বুদ্ধিমত্তা তার কুপ্রবৃত্তির উপর বিজয়ী হয়, সে পরিত্রাণ লাভ করে।' (সাবীলুল হুদা ৩/৩৪)

মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশী যখন তার জ্ঞানের মাথা খায়, তখন কোন দলীল-প্রমাণ কাজে আসে না, কোন যুক্তি তাকে প্রভাবিত করতে পারে না। আর তখন সে নিজেরটা ছাড়া অন্যেরটা ভালো মনে করে না, নিজের বুঝটাকেই সঠিক ধারণা করে এবং তার ফলে সে সত্য ও সরল পথ থেকে দূরে সরে যায়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

{فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} (৫০) سورة القصص

"অতঃপর ওরা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জানবে ওরা তো কেবল নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে। আল্লাহর পথনির্দেশ অমান্য ক'রে যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, তার অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে? নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ করেন না।” (কাসাস্ব :৫০)

প্রকৃত জ্ঞানী ও সফল বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যার বুদ্ধিমত্তা তার প্রবৃত্তির উপর এবং যার ধৈর্যশীলতা তার অস্থিরতার উপর বিজয়ী হয়। কোন অন্ধ প্রেম ও প্রলোভন তাকে প্রলুব্ধ করতে এবং তুচ্ছ কোন কাজ তাকে ব্যস্ত করতে পারে না।

📘 সফল মানব > 📄 সম্মান-সাফল্য

📄 সম্মান-সাফল্য


মানুষের ইজ্জত-সম্মান লাভে সফলতা একটি বড় সফলতা। এমনিতে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ জীব।

'শোনো মানুষের বাণী, জন্মের পর মানব জাতির থাকে না ক' কোন গ্লানি!'

কিন্তু মানুষ নিজ কর্মদোষে নিজের মধ্যে গ্লানি আনয়ন করে এবং নিজেকে কলুষিত করে। নিজের সম্মান নিজে নষ্ট করে।

তাই ইসলাম বিধান দিয়েছে আত্মশুদ্ধির। আত্মশুদ্ধির মাঝে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ ক'রে সম্মানের মহাসাফল্য লাভ করতে পারে।

তদনুরূপ বিবাহের মাধ্যমে নিজেকে চারিত্রিক অপবিত্রতা ও নোংরামি থেকে নির্মল রাখতে পারে।

মহানবী বলেছেন, (( مَنْ تَزَوَّجَ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الإِيمَانِ فَلْيَتَّقِ اللَّهُ فِي النَّصْفِ الْبَاقِي)). "যে ব্যক্তি বিবাহ করে, সে তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ করে, অতএব বাকী অর্ধেকে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৭৬৪৭, ৮৭৯৪, সঃ জামে' ৬১৪৮-নং)

এ ছাড়া অনৈতিক কোন কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লে মানুষ নিজের মান-সম্ভ্রম হারিয়ে বসে। চরিত্র হারিয়ে মানুষ নিম্নগামী হয়।

এই জন্য ইসলাম বলেছে, 'তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না।' কারণ তাতে মানুষের চরিত্রে দাগ পড়ে। তার শাস্তি ভোগ ক'রেও মানহারা হয়। জনগণের সামনে অবিবাহিত ব্যভিচারী যুবক-যুবতীকে ১০০ বেত্রাঘাত করা হয়। আর তাতে অপমানে তারা প্রচন্ড লাঞ্ছিত হয়। আর বিবাহিত হলে তো সরকার তাদেরকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে।

মান রক্ষার তাকীদেই ইসলাম মুসলিমকে ব্যভিচারের কোন ভূমিকায় পদক্ষেপ করতে নিষেধ করেছে।
* নারী-পুরুষ যেন নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।
* তারা যেন একে অপরের প্রতি সকাম দৃষ্টিপাত না করে।
* মহিলা যেন যথার্থ পর্দানশীন হয়। মাথায় খোঁপা না বাঁধে।
* গোপন অলঙ্কারের শব্দ যেন প্রকাশ না করে।
* মোহনীয় কণ্ঠে পরপুরুষের সাথে বাক্যালাপ না করে।
* বেগানা নারীপুরুষে যেন একাকিত্ব বা নির্জনতা অবলম্বন না করে।
* তারা যেন একে অন্যের দেহ স্পর্শ বা মুসাফাহাহ না করে।

মহিলা যেন স্বামী বা এগানা পুরুষ ছাড়া একাকিনী সফর না করে। বেগানা পুরুষদের মাঝে যেন নিজের দেহ বা পোশাকের সুবাস বিতরণ না করে। গোসলের আম জায়গায় (সমুদ্র, নদী বা পুকুর ঘাটে) যেন গোসল না করে। পরস্ত্রীর রূপ-সৌন্দর্য অথবা দেহাঙ্গ-সৌষ্ঠবের কথা যেন নিজ স্বামীর কাছে না বলে।

হ্যাঁ, ব্যভিচারের এ সকল ভূমিকা থেকে দূরে থাকতে পারলে মহিলা ইভটিজিং ও ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। ব্যভিচারের অবতরণিকায় পা না রাখলে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা-ঘটিত নানা মান-সম্মান নষ্টকারী কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পেয়ে প্রত্যেক নারী-পুরুষ চারিত্রিক সাফল্যলাভ করতে পারে।

যে বিকৃত যৌনাচারী সমকামিতা অথবা পশুগমনে অভ্যাসী, তারা এত নিকৃষ্ট যে, তাদের তো এ সুন্দর ধরাতে বেঁচে থাকার অধিকারই নেই। মহানবী বলেছেন,

مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ مَعَهُ ..

"যে ব্যক্তিকে কোন পশু-সঙ্গমে লিপ্ত পাবে, সে ব্যক্তি ও সে পশুকে তোমরা হত্যা করে ফেলবে।” (তিরমিযী ১৪৫৫, ইবনে মাজাহ ২৫৬৪, হাকেম ৮০৪৯, বাইহাক্বী ১৭৪৯১, ১৭৪৯২, সহীহুল জামে' ৬৫৮৮নং)

চরিত্রহীন সমকামীদের ব্যাপারে নির্দেশ হল,

مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمٍ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ ..

"তোমরা যে ব্যক্তিকে লুত নবীর উম্মতের মত সমকামে লিপ্ত পাবে, সে ব্যক্তি ও তার সহকর্মীকে হত্যা করে ফেলো।” (আহমদ ২৭৩২, আবু দাউদ ৪৪৬৪, তিরমিযী ১৪৫৬, ইবনে মাজাহ ২৫৬১, বাইহাকী ১৭৪৭৫, সহীহুল জামে' ৬৫৮৯নং)

লম্পট তো চরিত্রহীনই, তার আবার মান-সম্মান কিসের? তেমনি মান-সম্মান নেই মেড়া পুরুষের, যে পরকালে জান্নাতী হতেও পারবে না। মহানবী ﷺ বলেছেন, ((ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُ وَالِدَيْهِ وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِّلَةُ الْمُتَشَبِّهَةُ بِالرِّجَالِ وَالدَّيُّوتُ ...... "তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তাদের প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়েও দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং দাইয়ুস (মেড়া) পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।) (আহমাদ ৬১৮০, নাসাঈ ২৫৬২, সহীহুল জামে' ৩০৭১নং)

ইসলামে মান-সম্মানের গুরুত্ব আছে বলেই পর চরিত্রে মিথ্যা কলঙ্কের কালিমা লেপন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং ৮০ চাবুক তার শাস্তি নির্ধারণ করেছে।

মহান আল্লাহ বলেছেন, { وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاء فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (٤) سورة النور

"যারা সাধুী রমণীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর স্বপক্ষে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশি বার কশাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না; এরাই তো সত্যত্যাগী।” (নূরঃ ৪)

আর মহানবী বলেছেন, الربا) اثنان وَسَبْعُونَ بَاباً أَدْنَاهَا مِثْلُ إتيان الرَّجُل أُمَّهُ ، وَإِنَّ أَرْبَى الرِّبَا اسْتِطَالَةُ الرَّجُلِ فِي عَرْضِ أَخِيهِ)).

"সূদ (খাওয়ার পাপ হল) ৭২ প্রকার। যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাপ হল মায়ের সাথে ব্যভিচার করার মতো! আর সবচেয়ে বড় (পাপের) সূদ হল নিজ (মুসলিম) ভাইয়ের সম্ভ্রম নষ্ট করা।” (ত্বাবারানীর আউসাত্ব ৭১৫১, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৮৭১নং)

নিশ্চয়ই, এ সংসারে যার মান-সম্ভ্রম উচ্চ, যার চরিত্রে কলঙ্কের কোন দাগ নেই, সমাজের মানুষ যাকে সচ্চরিত্রতার কারণে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে, সে একজন সফল মানব।

📘 সফল মানব > 📄 ধন-সাফল্য

📄 ধন-সাফল্য


মানুষের অতি প্রয়োজনীয় জিনিস এই মাল। দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য ব্যয় করা হয় এই জিনিসকে। ইসলামে রয়েছে এই ধনরক্ষার নানা বিধান। বলা বাহুল্য ধন-সাফল্য বিশাল সাফল্য। তবে তাতে কিছু শর্ত আছে। যেমনঃ-

১। ধন হালাল পথে উপার্জিত হতে হবে।

যেহেতু মহানবী সাহাবী কা'ব-কে বলেছিলেন,

يا كعب بن عجرة ! إنه لن يدخل الجنة لحم نبت من سحت)).

"হে কা'ব বিন উজরাহ! সে মাংস কোন দিন বেহেশ্তে প্রবেশ করতে পারবে না, যার পুষ্টিসাধন হারাম খাদ্য দ্বারা করা হয়েছে।” (দারেমী ২৭৭৬নং)

"--- হে কা'ব বিন উজরাহ! যে মাংস হারাম খাদ্য দ্বারা প্রতিপালিত হবে, তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত।” (সহীহ তিরমিযী ৫০১নং)

অতএব যে ধনী হারাম উপায়ে ধনোপার্জন করেছে, চুরি-ডাকাতি ক'রে, সুদ-ঘুস খেয়ে, আমানতে খিয়ানত ক'রে, অবৈধ ব্যবসা ক'রে, মাদকদ্রব্য বা নারীদেহের ব্যবসা ক'রে ধনপতি হয়েছে অথবা অন্য কোন নিষিদ্ধ উপায়ে অর্থোপার্জন ক'রে বড়লোক হয়েছে, তাকে সফল ধনী বা ধন-সাফল্য বলা যায় না।

২। যথানিয়মে তার হক আদায় করতে হবে। অর্থাৎ, যেভাবে সেই ধন ব্যয় করতে ধনী আদিষ্ট, তা ব্যয় করতে হবে। পরিজনের যথাযথ হক আদায় করতে হবে। নিয়মিত ওশর-যাকাত আদায় করতে হবে। তা না করলে সে ধন অবৈধ ধনে পরিণত হয়ে যাবে।

৩। বিধেয় ও বৈধ পথে তা ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ, কোন অবৈধ পথে ব্যয় করা যাবে না এবং বৈধ পথেও তাতে অপচয় বা অপব্যয় করা যাবে না।

৪। ধনদাসে পরিণত হওয়া যাবে না। ডঃ মুস্তফা সিবাঈ বলেন, 'যার জীবন অপেক্ষা তার মালধন অধিক প্রাধান্যযোগ্য সে একজন আহাম্মক। যার মান-সম্মান অপেক্ষা তার মালধন অধিক প্রাধান্যযোগ্য সে একজন নিকৃষ্ট। যার জাতি ও দেশ অপেক্ষা তার মালধন অধিক প্রাধান্যযোগ্য সে একজন সমাজ-বিরোধী। আর যার ধর্ম অপেক্ষা তার মালধন অধিক প্রাধান্যযোগ্য সে একজন এমন লোক যার হৃদয়কে আকৃষ্ট করার জন্য যাকাত দেওয়া যাবে।'

মহানবী বলেছেন,

((تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَم وَعْبَدُ الْخَمِيصَةِ إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ تَعِسَ وَانْتَكَسَ وَإِذَا شِيكَ فَلَا انْتَقَشَ)).

"ধ্বংস হোক দীনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম ও উত্তম পোশাকের গোলাম (দুনিয়াদার)! যদি তাকে দেওয়া হয়, তাহলে সে সন্তুষ্ট হয়। আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। সে ধ্বংস হোক, লাঞ্ছিত হোক! তার পায়ে কাঁটা বিঁধলে তা বের করতে না পারুক।” (বুখারী ২৮৮৭, মিশকাত ৫১৬১নং)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00