📄 গুরাবা বা অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ!
[৪৬৮.] সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি—
إِنَّ الْإِيْمَانَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى يَوْمَئِذٍ لِلْغُرَبَاءِ إِذَا فَسَدَ النَّاسُ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي الْقَاسِمِ بِيَدِهِ لَيَأْرِزَنَّ الْإِيْمَانُ بَيْنَ هَذَيْنِ الْمَسْجِدَيْنِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ فِي جُحْرِهَا
“ঈমান অচেনা অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছে; আর অচিরেই (অচেনা অবস্থায়) ফিরে আসবে, যেভাবে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। লোকজন যখন বিকৃতির পথে চলবে, তখন যারা গুরাবা বা অচেনা হয়ে থাকবে, তাদের জন্য সুসংবাদ।
শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আবুল কাসিম (অর্থাৎ মুহাম্মাদ) -এর প্রাণ! (একপর্যায়ে) ঈমান এ দু মাসজিদের মধ্যবর্তী (হিজায) এলাকায় নিজেকে গুটিয়ে নেবে, ঠিক যেভাবে সাপ নিজেকে গর্তের ভেতর গুটিয়ে নেয়।”’
আহমাদ ১/১৮৪ (১৬০৪) ইসনাদটি জাইয়িদ (আরনাউত), ১/৩৯৮ (৩৭৮৪), ২/১৭৭ (৬৬৫০), ২/২৮৬ (৭৮৪৬), ২/৩৮৯ (৯০৫৪), ২/৪২২ (৯৪৭১), ২/৪৯৬ (১০৪৪০), ৪/৭৩-৭৪ (১৬৬৯০); বুখারি ১৮৭৬; মুসলিম ৩৭২/২৩২ (১৪৫), ৩৭৩/১৪৬, ৩৭৪/২৩৩ (১৪৭); তিরমিযি ২৬২৯, ২৬৩০; ইবনু মাজাহ ৩৯৮৬, ৩৯৮৭, ৩৯৮৮; দারিমি ২৭৮৫; আবূ ইয়া‘লা ২/৯৯ (৭৫৬); বাযযার ৩/২২৩ (১১১৯); তাবারানি, কাবীর ৬/১৬৪ (৫৮৬৭), ৬/২৫৬ (৬১৪৭), ৮/১৭৮ (৭৬৫৯, শেষাংশ), বর্ণনাসূত্রের কাসীর ইবনু মারওয়ানকে ইয়াহইয়া ও দারাকুতনি মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি), ১১/৭০ (১১০৭৪); তাবারানি, আওসাত ১/৫২২ (১৯২৫), ২/১৩৫ (২৭৭৭), ২/২১৪ (৩০৫৬), ৩/৩৯১ (৪৯১৫), ৪/২২৮ (৫৮০৬), ৫/২৬৬-২৬৭ (৭২৮৩), ৬/২৬২ (৮৭১৬), ৬/৩৩৯ (৮৯৭৭), ৬/৩৪০ (৮৯৮৬); তাবারানি, সগীর ২৯০; তাহাবি, শারহু মুশকিল ২/১৬৯-১৭২ (৬৮৬, ৬৮৭, ৬৮৮, ৬৮৯, ৬৯০, ৬৯১); মুসনাদুশ শিহাব ২/১৩৯ (১০৫৫); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৬৪, ৬৫; কানযুল উম্মাল ৩/৬৪৪-৬৪৫ (৮৩১২); উসদুল গবা ৩৩২৭; জামিউল উসূল ৬২, ৬৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪০৬, ৪০৭, ৪০৮, ৪০৯); জামউল ফাওয়াইদ ১০৯।
[৪৬৯.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল -এর কাছে ছিলাম। ততক্ষণে সূর্য উঠে গিয়েছিল। তখন তিনি বললেন—
يَأْتِي اللَّهَ قَوْمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، نُوْرُهُمْ كَنُوْرِ الشَّمْسِ
“কিয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে একদল লোক হাজির হবে, যাদের জ্যোতি হবে সূর্যের জ্যোতির মতো।”
এ-কথা শুনে আবূ বকর বলেন, “আল্লাহর রাসূল! আমরাই কি হব সেসব লোক?” নবি বলেন—
لَا ، وَلَكُمْ خَيْرٌ كَثِيرٌ ، وَلَكِنَّهُمُ الْفُقَرَاءُ وَالْمُهَاجِرُوْنَ الَّذِينَ يُحْشَرُوْنَ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ
“না, তোমরা তো বিপুল কল্যাণের অধিকারী। তারা হলো নিঃস্ব ও মুহাজির (ত্যাগী) লোকজন; (কিয়ামাতের দিন) পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের জমা করা হবে।”
এরপর নবি বলেন—
طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ، طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ، طُوْلِي لِلْغُرَبَاءِ
“গুরাবা বা অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ! অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ! অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ!”
জিজ্ঞেস করা হলো, “আল্লাহর রাসূল! অচিন লোক কারা?” নবি বলেন—
نَاسُ صَالِحُوْنَ فِي نَاسٍ سُوْءٍ كَثِيرٍ ، مَنْ يَعْصِيْهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيْعُهُمْ
“বিপুলসংখ্যক খারাপ লোকের মধ্যে কিছু ভালো লোক, যাদের অনুসারীর চেয়ে বিরোধিতাকারীর সংখ্যা বেশি (তারাই গুরাবা বা অচিন লোক)।”’
আহমাদ ২/২২২ (৭০৭২), হাসান লি-গাইরিহী (আরনাউত)।
**টিকাঃ**
১. ‘একদিন আমরা আল্লাহর রাসূল -এর পাশে ছিলাম। তখন তিনি বলেন,...’ (আহমদ ৬৬৫০)।
২. إِنَّ الْإِسْلَامَ “ইসলাম” (মুসলিম ৩৭৩ (১৪৬)); إِنَّ الدِّيْنَ “দ্বীন” (আহমাদ ৯০৫৪)।
৩. لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُرَوَّى الْأَرْضُ دَمًا وَيَكُوْنَ الْإِسْلَامُ غَرِيْبًا “কিয়ামাত হবে না, যতক্ষণ-না রক্ত দিয়ে পৃথিবীর পিপাসা মিটছে এবং ইসলাম অচেনা হয়ে যাচ্ছে” (তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১২২৩৭)।
৪. ‘জিজ্ঞেস করা হলো, “গুরাবা বা অচেনা লোক কারা?” নবি বলেন, النُّزَّاعُ مِنَ الْقَبَائِلِ “বিভিন্ন গোত্রের সেসব লোক যারা (সমাজে প্রচলিত মন্দ কাজ থেকে) বেরিয়ে আসে”’ (ইবনু মাজাহ ৩৯৮৮; আহমাদ ৩৭৮৪; দারিমি ২৭৮৫); الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ مَا أَفْسَدَ النَّاسُ مِنْ سُنَّتِي “আমার সুন্নাহর যেসব রীতিনীতি লোকজন বিকৃত করে ফেলবে, সেই রীতিনীতিকে যারা সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসবে” (তিরমিযি ২৬৩০); الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ مَا أَفْسَدَ النَّاسُ مِنْ بَعْدِي مِنْ سُنَّتِي “আমার পরে লোকজন আমার সুন্নাহর যা বিকৃত করবে, যারা তা সংশোধন করবে” (তাবারানি, কাবীর ৭৬৫৯); الَّذِيْنَ يُحْيُونَ مَا أَمَاتَ النَّاسُ مِنْ سُنَّتِي “লোকেরা আমার সুন্নাহর যেসব বিষয় মেরে ফেলবে, যারা জীবিত করবে” (শাতিবি, আল-ইতিসাম, ভূমিকা); الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ إِذَا فَسَدَ النَّاسُ “লোকজন যখন বিকৃতির পথে চলবে, তখন যারা সংশোধনের কাজ করবে/সঠিক পথে চলবে” (আহমাদ ১৬৬৯০; তাবারানি, কাবীর ৫৮৬৭; মুসনাদুশ শিহাব ১০৫৫); الَّذِينَ يُصْلِحُوْنَ إِذَا فَسَدَ النَّاسُ، وَلَا يُمَارُونَ فِي دِينِ اللهِ، وَلَا يُكَفِّرُوْنَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيْدِ بِذَنْبٍ “লোকজন যখন বিকৃতির পথে চলবে, তখন যারা সংশোধনের কাজ করবে/ সঠিক পথে চলবে, আল্লাহর দ্বীন নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে না, এবং তাওহীদের অনুসারীদের গোনাহের দরুন কাফির আখ্যায়িত করবে না” (তাবারানি, কাবীর ৭৬৫১); أُنَاسٌ صَالِحُوْنَ فِي أُنَاسٍ سُوْءٍ كَثِيرٍ، مَنْ يَعْصِيْهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيْعُهُمْ “বিপুলসংখ্যক খারাপ লোকের মধ্যে কিছুসংখ্যক ভালো লোক, যাদের অনুসারীর চেয়ে বিরোধিতাকারীর সংখ্যা বেশি” (আহমদ ৬৬৫০; তাবারানি, আওসাত ৪৯১৫, ৮৯৮৬); الَّذِيْنَ يُمَسِّكُوْنَ بِكِتَابِ اللهِ حِيْنَ يُتْرَكُ وَيَعْمَلُوْنَ بِالسُّنَّةِ حِينَ تُطْفَى “আল্লাহর কিতাব যখন পরিত্যক্ত হবে, তখন যারা তা আঁকড়ে ধরে থাকবে এবং সুন্নাহ (র আলো) যখন নিভিয়ে দেওয়া হবে, তখন যারা তা মেনে চলবে” (ইবনু ওয়াদ্দাহ, আল-বিদা‘ ১৮৯১; শাতিবি, আল-ইতিসাম, ভূমিকা)।
৫. وَلَيَعْقِلَنَّ الدِّينُ مِنَ الْحِجَازِ مَعْقِلَ الْأُرْوِيَّةِ مِنْ رَأْسِ الْجَبَلِ “দ্বীন হিজাযে এমনভাবে আশ্রয় নেবে এবং সুরক্ষিত থাকবে, ঠিক যেমন পাহাড়ি ভেড়ি পাহাড়ের চূড়া আঁকড়ে ধরে থাকে” (তিরমিযি ২৬৩০; তিরমিযির মতে ‘হাসান’, ইবনু আদির মতে দুর্বল); لَيَنْحَازَنَّ الْإِيْمَانُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا يَحُوْزُ السَّيْلُ “ঈমান মদীনায় ফিরে আসবে, যেভাবে প্লাবন (বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত করার পর) ফিরে আসে” (আহমদ ১৬৬৯০)।
২. নবি -এর এ ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবায়ন হয়েছিল তাঁর ইন্তেকালের অল্প কিছুদিন পর আবু বকর -এর শাসনামলে, যখন হিজায এলাকার বাইরে আরবের বিশাল জনগোষ্ঠী মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। (বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ৬৫ নং হাদীসের টীকা)।
১. وَإِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنَا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُمْسِي الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، وَيُصْبِحُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، يَبِيعُ أَقْوَامٌ دِيْنَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا “কিয়ামাতের আগে অন্ধকার রাতের খণ্ড খণ্ড টুকরোর মতো কিছু ফিতনা দেখা দেবে, তখন একজন ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলা মুমিন থাকবে, কিন্তু সকালে হবে কাফির, আর সকালে মুমিন তো সন্ধ্যায় কাফির; দুনিয়ার একটু স্বার্থের জন্য লোকজন নিজেদের দ্বীন বিক্রি করে দেবে” (তাবারানি, আওসাত ৫৮০৬)।