📄 আল্লাহর সত্তা বা ঈমানের কোনও বিষয়ে সংশয় দেখা দিলে
[৪৫৬.] আবূ হুরায়রা বলেন, ‘নবি -এর সাহাবিদের মধ্যে কয়েকজন এসে তাঁকে বলেন, “আমাদের মনে এমন কিছু বিষয়ের উদয় হয়, যা মুখে ব্যক্ত করার দুঃসাহস আমাদের কারও নেই।” নবি বলেন, وَقَدْ وَجَدْتُمُوهُ “বাস্তবে কি তোমরা এমনটা (টের) পেয়েছ?” তারা বলেন, “হ্যাঁ!” নবি বলেন,
ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيْمَانِ
“এ তো নিখাদ ঈমানের ফল!”’
মুসলিম ৩৪০/২০৯ (১৩২), ৩৪১/২১০ (...), ৩৪২/২১১ (১৩৩); আবূ দাউদ ৫১১১, ৫১১২; নাসাঈ, আল-কুবরা, ১০৪৩৫; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ৬৬২, ৬৭২; বাযযার (কাশফ) ১/৩৩-৩৪ (৪৯); তাবারানি, কাবীর ১০/১০১ (১০০২৪), ১০/৩৩৮ (১০৮৩৮), ২০/১৭২ (৩৬৭), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত; তাবারানি, আওসাত ৩/২২৯ (৪৪১৯), ৬/২১২ (৮৫৪২); তাবারানি, সগীর ১০৯০; ইবনু হিব্বান ১/৩৫৯ (১৪৬), আহমাদ ১/২৩৫ (২০৯৭), ১/৩৪০ (৩১৬১), ২/৩৯৭ (৯১৫৬), ২/৪৪১ (৯৬৯৪), ২/৪৫৬ (৯৮৭৬), ২/৪৫৬ (৯৮৭৭); ৬/১০৬ (২৪৭৫২); আবু ইয়া‘লা ৭/১৫৬ (৪১২৮); উসদুল গবাহ ৪/১৩৮; আল-ইসাবা ৭/৬৮; কানযুল উম্মাল ১/২৪৯ (১২৫৭, ১২৫৮); জামিউল উসূল ৩৩, ৩৪; জামউল ফাওয়াইদ ৮০, ৮১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৩ (৮৪ (প্রথমাংশ)), ১/৩৩-৩৪ (৮৬), ১/৩৪ (৮৮), ১/৩৪ (৮৯), ১/৩৪ (৯১, ৯২), ১/৩৪-৩৫ (৯৩)।
[৪৫৭.] শাহর ইবনু হাওশাব থেকে বর্ণিত, ‘একব্যক্তি আয়িশা -কে বলেন, “আমাদের কারও কারও মনে এমন চিন্তার উদয় হয়, যা মুখে বললে তার আখিরাত বরবাদ হয়ে যাবে, আবার তার (এ চিন্তার) বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হবে।” এ-কথা শুনে আয়িশা তিনবার তাকবীর-ধ্বনি (আল্লাহু আকবার) উচ্চারণ করে বলেন, “আল্লাহর রাসূল -কে এ-বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি তিনবার তাকবীর-ধ্বনি উচ্চারণ করে বলেছিলেন—
إِنَّمَا يُخْتَبَرُ بِهَذَا الْمُؤْمِنِ
‘মুমিনকে এভাবে পরীক্ষা করা হবে।’”’
আবূ ইয়া‘লা ৮/১০৯ (৪৬৪৯), ইসনাদে শাহর ইবনু হাওশাব রয়েছেন (হাইসামি), তবে মুসলিমের ১৩৩ নং হাদীসটি এর শাহিদ (অনুসমর্থক); কানযুল উম্মাল ১/৪০০ (১৭১৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৩ (৮৪ (শেষাংশ))।
[৪৫৮.] শাহর ইবনু হাওশাবা বলেন, ‘আমরা উম্মু সালামা -এর কাছে ছিলাম। তাকে কুরআনের (ভিন্ন ভিন্ন) পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিলাম। তখন একব্যক্তি বলল, “উম্মুল মুমিনীন! আমার মনে এমন চিন্তার উদয় হয়, যা মুখে প্রকাশ করলে আমার সাওয়াব বরবাদ হয়ে যাবে, আর তা জানাজানি হয়ে গেলে আমাকে হত্যা করা হবে।” উম্মু সালামা বলেন, “তুমি যে-বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সে বিষয়ে আল্লাহর রাসূল -কে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে শুনেছি। জবাবে নবি বলেছিলেন—
لَا يُلْقَى ذَلِكَ الْكَلَامَ إِلَّا مُؤْمِنُ
‘একমাত্র মুমিনকেই এ ধরনের কথার মুখোমুখি করা হয়।’”’
তাবারানি, আওসাত ২/৩২৪ (৩৪৩০); বর্ণনাকারী সাইফ ইবনু উমাইরা’র ব্যাপারে সমালোচনা আছে (হাইসামি); তাবারানি, সগীর ৩৫৬; কানযুল উম্মাল ১/২৫০ (১২৬০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৪ (৯০)।
[৪৫৯.] উসমান বলেন, ‘আমার একান্ত ইচ্ছা ছিল আল্লাহর রাসূল -কে জিজ্ঞেস করব— “শয়তান আমাদের ভেতর যে খটকা সৃষ্টি করে, তা থেকে মুক্তির উপায় কী?” আবূ বকর বলেন, “আমি নবি -কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। জবাবে তিনি বলেছিলেন—
يُنْجِيْكُمْ مِنْ ذُلِكَ أَنْ تَقُوْلُوْا مَا أَمَرْتُ بِهِ عَنِّي أَنْ يَقُوْلَهُ فَلَمْ يَقُلْهُ
‘আমার চাচাকে যে-কথা বলার আদেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা বলেননি—সে কথাই (শয়তানের) খটকা থেকে তোমাদের মুক্তি দেবে।’”’
আহমাদ ১/৭-৮ (৩৭), সহীহ লি-গাইরিহী; একজন বর্ণনাকারী ইবনু হিব্বানের মতে বিশ্বস্ত, তবে অধিকাংশের মতে ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); আবূ ইয়া‘লা ১/১২১-১২২ (১৩৩); কানযুল উম্মাল ১/২৯০ (১৪০৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩২ (৮১)।
[৪৬০.] আবূ হুরায়রা বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
لَا يَزَالُ النَّاسُ يَقُوْلُوْنَ كَانَ اللهُ قَبْلَ كُلِّ شَيْءٍ ، فَمَا كَانَ قَبْلَهُ
“লোকজন এ কথা বলতেই থাকবে—সবকিছুর আগে ছিলেন আল্লাহ, তা হলে তাঁর আগে কী ছিল?”’
বাযযার (কাশফ) ১/৩৪ (৫১), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); আহমাদ ২/৪৩১ (৯৫৬৬); মাজমাউয যাওয়াঈদ ১/৩৫ (৯৪)।
[৪৬১.] আনাস বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ لِي : إِنَّ أُمَّتَكَ لَا يَزَالُوْنَ يَتَسَاءَلُوْنَ فِيْمَا بَيْنَهُمْ حَتَّى يَقُوْلُوْا : هَذَا اللَّهُ خَلَقَ النَّاسَ ، فَمَنْ خَلَقَ الله؟
“আল্লাহ তাআলা আমাকে বলেছেন—তোমার উম্মাহর লোকজন পরস্পরকে প্রশ্ন করতে থাকবে, একপর্যায়ে এ-কথাও বলে ওঠবে—আল্লাহ তো মানুষ সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আল্লাহকে সৃষ্টি করল কে?”’
আহমাদ ৩/১০২ (১১৯৯৫), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত)।
[৪৬২.] ইবনু উমর বলেন, ‘আমরা আল্লাহ রাসূল -এর কাছে ছিলাম। এমন সময় একব্যক্তির আগমন ঘটে—যার চেহারা ছিল অত্যন্ত বিশ্রী, পোশাক ভীষণ নোংরা, শরীরের গন্ধ খুবই বাজে, আচরণ অভদ্র ও রুক্ষ প্রকৃতির। লোকজনের ঘাড় ডিঙিয়ে সে আল্লাহর রাসূল -এর সামনে গিয়ে বসে পড়ে। এরপর বলে, “আপনাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” নবি বলেন, “আল্লাহ”। সে বলে, “আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন?” তিনি বলেন, “আল্লাহ”। সে বলে, “পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?” নবি বলেন, “আল্লাহ”। সে বলে, “তা হলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন?” জবাবে আল্লাহর রাসূল দু’বার “সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র)!” বলে নিজের কপাল ধরে রাখেন। এরপর লোকটি উঠে চলে যায়। তারপর আল্লাহর রাসূল বলেন,
عَلَى بِالرَّجُلِ
“লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে আসো।”
আমরা তার খোঁজে বেরিয়ে পড়ি, কিন্তু ততক্ষণে সে পুরোপুরি উধাও হয়ে গিয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল বলেন,
هُذَا إِبْلِيسُ جَاءَ يُشَكِّكَكُمْ فِي دِينِكُمْ
“এ হলো ইবলীস; তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহে ফেলার জন্য এসেছিল!”’
তাবারানি, আওসাত ৪/২৭৩ (৫৯৬৬); ইসনাদে আবদুল্লাহ ইবনু জাফর মাদীনী রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে অনেকে জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৫ (৯৫)।
[৪৬৩.] উমারা ইবনু খুযাইমা আনসারি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
يأْتِي الشَّيْطَانُ الْإِنْسَانَ فَيَقُوْلُ : مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ ؟ فَيَقُولُ : اللهُ ، ثُمَّ يَقُوْلُ : مَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ فَيَقُولُ : اللهُ ، حَتَّى يَقُولَ : مَنْ خَلَقَ الله؟ فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَقُلْ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرَسُوْلِهِ
“শয়তান মানুষের কাছে এসে বলে, ‘মহাকাশ কে সৃষ্টি করেছেন?’ সে বলে, ‘আল্লাহ’। এরপর বলে, ‘পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?’ সে বলে, ‘আল্লাহ’। একপর্যায়ে বলে, ‘আল্লাহকে সৃষ্টি করেছেন কে?’ তোমাদের কারও মনে এ ধরনের প্রশ্ন জাগলে, সে যেন বলে—‘আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি।’”’
আহমাদ ৫/২১৪ (২১৮৬৭), হাদীসের মূলপাঠটি সহীহ, তবে এ সনদে ইবনু লাহীআ আছেন যার স্মৃতিশক্তি ভালো ছিল না (হাইসামী), ৬/২৫৭ (২৬২০৩); বাযযার (কাশফ) ১/৩৪ (৫০), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামী); আবূ ইয়া‘লা ৮/১৬০-১৬১ (৪৭০৪), ইসনাদটি সহীহ; ইবনু হিব্বান ১/৩৬২ (১৫০), ইসনাদটি সহীহ; তাবারানি, কাবীর ৪/৮৫ (৩৭১৯); তাবারানি, আওসাত ১/৫১৪ (১৮৯৬); আবদ ইবনু হুমাইদ ২১৫; ইতহাফ ১/১৭১ (২২৯), ১/১৭১ (২৩০); ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৬৫০; আত-তারগীব ২/৪৬১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩২ (৮২), ১/৩২-৩৩ (৮৩), ১/৩৪ (৮৮)।
**টিকাঃ**
১. ‘আল্লাহর সত্তার বিষয়ে’ (তাবারানি, আওসাত ৮৫৪২); ‘ঈমানের ব্যাপারে’ (মুসলিম, ৩৪০/২০৯ (১৩২) নং হাদীসের শিরোনাম)।
২. “যা মুখে প্রকাশ করার চেয়ে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়া তার কাছে অধিক পছন্দের” (তাবারানি, আওসাত ৮৫৪২); “যা ব্যক্ত করার চেয়ে আকাশ থেকে পড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া তার কাছে অধিক পছন্দের” (আবূ ইয়া‘লা ৭/১৫৬ (৪১২৮)); “পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া তার কাছে অধিক পছন্দের” (ইবনু হিব্বান ১৪৬; আবু দাউদ ৫১১২); “যা-কিছুর ওপর সূর্য উদিত হয় তা সব আমাদের দেওয়া হলেও, সেই কথা মুখে ব্যক্ত করা আমাদের মনঃপূত নয়” (আহমাদ ১৬৯৪; তাবারানি, আওসাত ৪৪১৯); “পৃথিবীর সবকিছু তাকে দিলেও, সেই কথা মুখে উচ্চারণ করা সে পছন্দ করবে না” (আহমাদ ৯৮৭৬); মুআয ইবনু জাবাল বলেন, ‘আমি বললাম, “আল্লাহর রাসূল! শপথ সেই সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন! আমার মনে এমন চিন্তার উদয় হয়, যা মুখে প্রকাশ করার চেয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া আমার কাছে অধিক পছন্দের।” ’ (তাবারানি, কাবীর ২০/১৭২ (৩৬৭)); ‘লোকজন নিজেদের মনে যে কুমন্ত্রণা অনুভব করে, সে-বিষয়ে তারা আল্লাহর রাসূল -কে জিজ্ঞেস করেছিল। যা মুখে প্রকাশ করার চেয়ে সুরাইয়া তারকার কাছ থেকে পড়ে যাওয়া তাদের কাছে অধিক পছন্দের।’ (বাযযার ১/৩৩-৩৪ (৪৯))।
৩. শাহর ইবনু হাওশাব বলেন, ‘আমরা উম্মু সালামা -এর কাছে ছিলাম। তাকে কুরআনের (ভিন্ন ভিন্ন) পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিলাম। তখন একব্যক্তি বলল, “উম্মুল মুমিনীন! আমার মনে এমন চিন্তার উদয় হয়, যা মুখে প্রকাশ করলে আমার সাওয়াব বরবাদ হয়ে যাবে, আর তা জানাজানি হয়ে গেলে আমাকে হত্যা করা হবে।” উম্মু সালামা বলেন, “তুমি যে-বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সে বিষয়ে আল্লাহর রাসূল -কে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে শুনেছি। জবাবে নবি বলেছিলেন— لَا يُلَقَّى ذَلِكَ الْكَلَامَ إِنَّا مُؤْمِنُ “একমাত্র মুমিনকেই এ ধরনের কথার মুখোমুখি করা হয়।” (তাবারানি, আওসাত ৩৪৩০; বর্ণনাকারী সাইফ ইবনু উমাইরা’র ব্যাপারে সমালোচনা আছে (হাইসামি); তাবারানি, সগীর ১/১২৯ (৩৫৬))।
১. يَسْأَلُوْنَ حَتَّى يَقُوْلُوْا “প্রশ্ন করতেই থাকবে; একপর্যায়ে তারা বলবে...” (আহমাদ ২/৪৩১ (৯৫৬৬))।
১. أَحَدَكُمْ “তোমাদের কারও কাছে” (আবূ ইয়া‘লা ৮/১৬০ (৪৭০৪))।
২. لَنْ يَدَعَ الشَّيْطَانُ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمْ فَيَقُولَ “শয়তান তোমাদের কারও কাছে এসে এ কথা বলতে ছাড়বে না—” (ইবনু হিব্বান ১৫০)।
৩. رُسُلِهِ “তাঁর রাসূলগণের” (আবূ ইয়া‘লা ৮/১৬১ (৪৭০৪); ইবনু হিব্বান ১৫০)।
৪. فَإِنَّ ذَلِكَ يُذْهِبُهُ “কারণ, তা এ ধরনের সংশয় দূর করে দেয়” (আহমাদ ২/২৫৭ (২৬২০৩); বাযযার (কাশফ) ৫০)।
📄 গুরাবা বা অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ!
[৪৬৮.] সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি—
إِنَّ الْإِيْمَانَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى يَوْمَئِذٍ لِلْغُرَبَاءِ إِذَا فَسَدَ النَّاسُ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي الْقَاسِمِ بِيَدِهِ لَيَأْرِزَنَّ الْإِيْمَانُ بَيْنَ هَذَيْنِ الْمَسْجِدَيْنِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ فِي جُحْرِهَا
“ঈমান অচেনা অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছে; আর অচিরেই (অচেনা অবস্থায়) ফিরে আসবে, যেভাবে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। লোকজন যখন বিকৃতির পথে চলবে, তখন যারা গুরাবা বা অচেনা হয়ে থাকবে, তাদের জন্য সুসংবাদ।
শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আবুল কাসিম (অর্থাৎ মুহাম্মাদ) -এর প্রাণ! (একপর্যায়ে) ঈমান এ দু মাসজিদের মধ্যবর্তী (হিজায) এলাকায় নিজেকে গুটিয়ে নেবে, ঠিক যেভাবে সাপ নিজেকে গর্তের ভেতর গুটিয়ে নেয়।”’
আহমাদ ১/১৮৪ (১৬০৪) ইসনাদটি জাইয়িদ (আরনাউত), ১/৩৯৮ (৩৭৮৪), ২/১৭৭ (৬৬৫০), ২/২৮৬ (৭৮৪৬), ২/৩৮৯ (৯০৫৪), ২/৪২২ (৯৪৭১), ২/৪৯৬ (১০৪৪০), ৪/৭৩-৭৪ (১৬৬৯০); বুখারি ১৮৭৬; মুসলিম ৩৭২/২৩২ (১৪৫), ৩৭৩/১৪৬, ৩৭৪/২৩৩ (১৪৭); তিরমিযি ২৬২৯, ২৬৩০; ইবনু মাজাহ ৩৯৮৬, ৩৯৮৭, ৩৯৮৮; দারিমি ২৭৮৫; আবূ ইয়া‘লা ২/৯৯ (৭৫৬); বাযযার ৩/২২৩ (১১১৯); তাবারানি, কাবীর ৬/১৬৪ (৫৮৬৭), ৬/২৫৬ (৬১৪৭), ৮/১৭৮ (৭৬৫৯, শেষাংশ), বর্ণনাসূত্রের কাসীর ইবনু মারওয়ানকে ইয়াহইয়া ও দারাকুতনি মিথ্যুক আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি), ১১/৭০ (১১০৭৪); তাবারানি, আওসাত ১/৫২২ (১৯২৫), ২/১৩৫ (২৭৭৭), ২/২১৪ (৩০৫৬), ৩/৩৯১ (৪৯১৫), ৪/২২৮ (৫৮০৬), ৫/২৬৬-২৬৭ (৭২৮৩), ৬/২৬২ (৮৭১৬), ৬/৩৩৯ (৮৯৭৭), ৬/৩৪০ (৮৯৮৬); তাবারানি, সগীর ২৯০; তাহাবি, শারহু মুশকিল ২/১৬৯-১৭২ (৬৮৬, ৬৮৭, ৬৮৮, ৬৮৯, ৬৯০, ৬৯১); মুসনাদুশ শিহাব ২/১৩৯ (১০৫৫); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৬৪, ৬৫; কানযুল উম্মাল ৩/৬৪৪-৬৪৫ (৮৩১২); উসদুল গবা ৩৩২৭; জামিউল উসূল ৬২, ৬৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪০৬, ৪০৭, ৪০৮, ৪০৯); জামউল ফাওয়াইদ ১০৯।
[৪৬৯.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল -এর কাছে ছিলাম। ততক্ষণে সূর্য উঠে গিয়েছিল। তখন তিনি বললেন—
يَأْتِي اللَّهَ قَوْمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، نُوْرُهُمْ كَنُوْرِ الشَّمْسِ
“কিয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে একদল লোক হাজির হবে, যাদের জ্যোতি হবে সূর্যের জ্যোতির মতো।”
এ-কথা শুনে আবূ বকর বলেন, “আল্লাহর রাসূল! আমরাই কি হব সেসব লোক?” নবি বলেন—
لَا ، وَلَكُمْ خَيْرٌ كَثِيرٌ ، وَلَكِنَّهُمُ الْفُقَرَاءُ وَالْمُهَاجِرُوْنَ الَّذِينَ يُحْشَرُوْنَ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ
“না, তোমরা তো বিপুল কল্যাণের অধিকারী। তারা হলো নিঃস্ব ও মুহাজির (ত্যাগী) লোকজন; (কিয়ামাতের দিন) পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের জমা করা হবে।”
এরপর নবি বলেন—
طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ، طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ، طُوْلِي لِلْغُرَبَاءِ
“গুরাবা বা অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ! অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ! অচিন লোকদের জন্য সুসংবাদ!”
জিজ্ঞেস করা হলো, “আল্লাহর রাসূল! অচিন লোক কারা?” নবি বলেন—
نَاسُ صَالِحُوْنَ فِي نَاسٍ سُوْءٍ كَثِيرٍ ، مَنْ يَعْصِيْهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيْعُهُمْ
“বিপুলসংখ্যক খারাপ লোকের মধ্যে কিছু ভালো লোক, যাদের অনুসারীর চেয়ে বিরোধিতাকারীর সংখ্যা বেশি (তারাই গুরাবা বা অচিন লোক)।”’
আহমাদ ২/২২২ (৭০৭২), হাসান লি-গাইরিহী (আরনাউত)।
**টিকাঃ**
১. ‘একদিন আমরা আল্লাহর রাসূল -এর পাশে ছিলাম। তখন তিনি বলেন,...’ (আহমদ ৬৬৫০)।
২. إِنَّ الْإِسْلَامَ “ইসলাম” (মুসলিম ৩৭৩ (১৪৬)); إِنَّ الدِّيْنَ “দ্বীন” (আহমাদ ৯০৫৪)।
৩. لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُرَوَّى الْأَرْضُ دَمًا وَيَكُوْنَ الْإِسْلَامُ غَرِيْبًا “কিয়ামাত হবে না, যতক্ষণ-না রক্ত দিয়ে পৃথিবীর পিপাসা মিটছে এবং ইসলাম অচেনা হয়ে যাচ্ছে” (তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১২২৩৭)।
৪. ‘জিজ্ঞেস করা হলো, “গুরাবা বা অচেনা লোক কারা?” নবি বলেন, النُّزَّاعُ مِنَ الْقَبَائِلِ “বিভিন্ন গোত্রের সেসব লোক যারা (সমাজে প্রচলিত মন্দ কাজ থেকে) বেরিয়ে আসে”’ (ইবনু মাজাহ ৩৯৮৮; আহমাদ ৩৭৮৪; দারিমি ২৭৮৫); الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ مَا أَفْسَدَ النَّاسُ مِنْ سُنَّتِي “আমার সুন্নাহর যেসব রীতিনীতি লোকজন বিকৃত করে ফেলবে, সেই রীতিনীতিকে যারা সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসবে” (তিরমিযি ২৬৩০); الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ مَا أَفْسَدَ النَّاسُ مِنْ بَعْدِي مِنْ سُنَّتِي “আমার পরে লোকজন আমার সুন্নাহর যা বিকৃত করবে, যারা তা সংশোধন করবে” (তাবারানি, কাবীর ৭৬৫৯); الَّذِيْنَ يُحْيُونَ مَا أَمَاتَ النَّاسُ مِنْ سُنَّتِي “লোকেরা আমার সুন্নাহর যেসব বিষয় মেরে ফেলবে, যারা জীবিত করবে” (শাতিবি, আল-ইতিসাম, ভূমিকা); الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ إِذَا فَسَدَ النَّاسُ “লোকজন যখন বিকৃতির পথে চলবে, তখন যারা সংশোধনের কাজ করবে/সঠিক পথে চলবে” (আহমাদ ১৬৬৯০; তাবারানি, কাবীর ৫৮৬৭; মুসনাদুশ শিহাব ১০৫৫); الَّذِينَ يُصْلِحُوْنَ إِذَا فَسَدَ النَّاسُ، وَلَا يُمَارُونَ فِي دِينِ اللهِ، وَلَا يُكَفِّرُوْنَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيْدِ بِذَنْبٍ “লোকজন যখন বিকৃতির পথে চলবে, তখন যারা সংশোধনের কাজ করবে/ সঠিক পথে চলবে, আল্লাহর দ্বীন নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে না, এবং তাওহীদের অনুসারীদের গোনাহের দরুন কাফির আখ্যায়িত করবে না” (তাবারানি, কাবীর ৭৬৫১); أُنَاسٌ صَالِحُوْنَ فِي أُنَاسٍ سُوْءٍ كَثِيرٍ، مَنْ يَعْصِيْهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيْعُهُمْ “বিপুলসংখ্যক খারাপ লোকের মধ্যে কিছুসংখ্যক ভালো লোক, যাদের অনুসারীর চেয়ে বিরোধিতাকারীর সংখ্যা বেশি” (আহমদ ৬৬৫০; তাবারানি, আওসাত ৪৯১৫, ৮৯৮৬); الَّذِيْنَ يُمَسِّكُوْنَ بِكِتَابِ اللهِ حِيْنَ يُتْرَكُ وَيَعْمَلُوْنَ بِالسُّنَّةِ حِينَ تُطْفَى “আল্লাহর কিতাব যখন পরিত্যক্ত হবে, তখন যারা তা আঁকড়ে ধরে থাকবে এবং সুন্নাহ (র আলো) যখন নিভিয়ে দেওয়া হবে, তখন যারা তা মেনে চলবে” (ইবনু ওয়াদ্দাহ, আল-বিদা‘ ১৮৯১; শাতিবি, আল-ইতিসাম, ভূমিকা)।
৫. وَلَيَعْقِلَنَّ الدِّينُ مِنَ الْحِجَازِ مَعْقِلَ الْأُرْوِيَّةِ مِنْ رَأْسِ الْجَبَلِ “দ্বীন হিজাযে এমনভাবে আশ্রয় নেবে এবং সুরক্ষিত থাকবে, ঠিক যেমন পাহাড়ি ভেড়ি পাহাড়ের চূড়া আঁকড়ে ধরে থাকে” (তিরমিযি ২৬৩০; তিরমিযির মতে ‘হাসান’, ইবনু আদির মতে দুর্বল); لَيَنْحَازَنَّ الْإِيْمَانُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا يَحُوْزُ السَّيْلُ “ঈমান মদীনায় ফিরে আসবে, যেভাবে প্লাবন (বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত করার পর) ফিরে আসে” (আহমদ ১৬৬৯০)।
২. নবি -এর এ ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবায়ন হয়েছিল তাঁর ইন্তেকালের অল্প কিছুদিন পর আবু বকর -এর শাসনামলে, যখন হিজায এলাকার বাইরে আরবের বিশাল জনগোষ্ঠী মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। (বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ৬৫ নং হাদীসের টীকা)।
১. وَإِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنَا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُمْسِي الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، وَيُصْبِحُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، يَبِيعُ أَقْوَامٌ دِيْنَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا “কিয়ামাতের আগে অন্ধকার রাতের খণ্ড খণ্ড টুকরোর মতো কিছু ফিতনা দেখা দেবে, তখন একজন ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলা মুমিন থাকবে, কিন্তু সকালে হবে কাফির, আর সকালে মুমিন তো সন্ধ্যায় কাফির; দুনিয়ার একটু স্বার্থের জন্য লোকজন নিজেদের দ্বীন বিক্রি করে দেবে” (তাবারানি, আওসাত ৫৮০৬)।