📄 এসব অপরাধ করার সময় ঈমান সঙ্গে থাকে না
[৪৪৩.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল বলেন,
لا يَسْرِقُ سَارِقُ حِيْنَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَزْنِي زَانٍ وَهُوَ حِيْنَ يَزْنِي مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الشَّارِبُ حِيْنَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَنْتَهِبُ أَحَدُكُمْ نُهْبَةٌ ذَاتَ شَرَفٍ يَرْفَعُ إِلَيْهِ الْمُؤْمِنُوْنَ أَعْيُنَهُمْ فِيْهَا وَهُوَ حِيْنَ يَنْتَهِبُهَا مُؤْمِنٌ، وَلَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ حِيْنَ يَغُلُّ وَهُوَ مُؤْمِنٌ
“চোর যখন চুরি করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় চুরি করে না; ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না; মদখোর যখন পান করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় পান করে না। শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! তোমাদের কেউ যখন মূল্যবান জিনিস ডাকাতি করে, আর মুমিনরা তার দিকে চোখ উঁচিয়ে তাকিয়ে থাকে, ওই ডাকাতির সময় সে মুমিন থাকে না; তোমাদের কেউ যখন খেয়ানত করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় খেয়ানত করে না।”
আবূ হুরায়রা বলেন, “অতএব, (এসব বিষয়ে) সাবধান! সাবধান!”
আহমাদ ২/৩১৭ (৮২০২) ইসনাদটি সহীহ, ২/২৪৩ (৭৩১৮), ২/৩৭৬ (৮৮৯৫), ২/৩৮৬ (৯০০৭), ২/৪৭৯ (১০২১৬), ৩/৩৪৬ (১৪৭৩১), ৪/৩৫২-৩৫৩ (১৯১০২), ৬/১৩৯ (২৫০৮৮); বুখারি ২৪৭৫, ৫৫৭৮, ৬৭৭২, ৬৭৮২, ৬৮০৯, ৬৮১০; মুসলিম ২০২/১০০ (৫৭), ২০৩/১০১ (...), ২০৪/১০২ (...), ২০৫/১০৩ (...); ২০৬ (...), ২০৭ (...), ২০৮/১০৪ (...), ২০৯/১০৫ (...); আবু দাউদ ৪৬৮৯; তিরমিযি ২৬২৫; নাসাঈ ৪৮৭০, ৪৮৭১, ৫৬৫৯, ৫৬৬০; ইবনু মাজাহ্ ২৯৩৬; দারিমি ২১৩৩; নাসাঈ, কুবরা ৫১৪৯, ৫১৫০, ৭০৯০, ৭০৯১, ৭০৯২, ৭০৯৩, ৭৩১৫; হুমাইদি ৩/১২৬ (১১২৮); বাযযার (কাশফ) ১/৭৩ (১১১), ১/৭৩ (১১২), ১/৭৪ (১১৪), ১/৭৪ (১১৫), ১/৭৫ (১১৬); আবদুর রাযযাক ৭/৪১৪-৪১৫ (১৩৬৮০, শেষের অংশ), ৭/৪১৫ (১৩৬৮১), ৭/৪১৫ (১৩৬৮২), ৭/৪১৫-৪১৬ (১৩৬৮৩), ৭/৪১৬ (১৩৬৮৪), ৭/৪১৬ (১৩৬৮৫), ৭/৪১৬ (১৩৬৮৬), ৭/৪১৭ (১৩৬৮৮); ইবনু আবী শাইবা ৪/২/৪০৪ (১৭৯৩০), ৪/২/৪০৫ (১৭৯৩৯), ৮/৬ (২৪৫৪৭), ৮/৭ (২৪৫৪৮), ১১/১৪ (৩০৯৬৭), ১১/৩২ (৩১০২৭), ১১/৩২ (৩১০২৮), ১১/৩৩ (৩১০২৯), ১১/৩৩ (৩১০৩০); আবূ ইয়া‘লা ১১/১৮৮ (৬২৯৯), ১১/১৯১ (৬৩০০), ১১/১৯১-১৯২ (৬৩০১), ১১/২৪৬-২৪৭ (৬৩৬৪), ১১/৩২৭ (৬৪৪৩); তাবারানি, আওসাত ১/৩৩৯ (১২৩১), ১/১৬৪ (৫৩৪), ২/১৫ (২৩৩২), ৩/২২৮ (৪৪১৮), ৩/৩২৫ (৪৭৩২), ৩/৩২৯ (৪৭৪৮), ৪/১৮১ (৫৬৪৭), ৫/৩২৪ (৭৪৮২); তাবারানি, কাবীর ১২/৩৪৬ (১৩৩০4); তাবারি, তাহযীবুল আসার ২/৬০৫-৬৫২ (২৪/৮৯৯-৯৬৭); ইবনু হিব্বান ১/৪১৪ (১৮৬), ১১/৫৭৫-৫৭৬ (৫১৭২); হিল্ইয়া ৩/১৬৪, ৩/৩২২, ৩/৩৬৯, ৬/২৫৬, ৮/২৫৭, ৯/২৪৮-২৪৯; বাইহাকি ১০/১৮৬ (২০৭৯০), ১০/১৮৬-১৮৭ (২০৭৯১); তারীখু বাগদাদ ২/১৪২, ৫/২২৩, ১০/৪৫৬; ইবনু হাযম, আল-মুহাল্লা ১১/১১৯-১২০; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৪৬, ৪৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০০ (৩৬৬, ৩৬৭, ৩৬৮, ৩৬৯), ১/১০০-১০১ (৩৭০), ১/১০১ (৩৭২, ৩৭৩, ৩৭৪), ১/১০১ (৩৭৬); জামউল ফাওয়াইদ ১০৬।
[৪৪৪.] সাহাবি শারীক থেকে বর্ণিত, ‘নবি বলেছেন—
مَنْ زَلَى خَرَجَ مِنْهُ الْإِيْمَانُ، وَمَنْ شَرِبَ الخَمْرَ غَيْرَ مُكْرَةٍ وَلَا مُضْطَرَّ خَرَجَ مِنْهُ الْإِيْمَانُ، وَمَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةٌ يَسْتَسْمِرُ فِيهَا النَّاسُ خَرَجَ مِنْهُ الْإِيْمَانُ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ
» “যে ব্যভিচার করে, তার কাছ থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়;
» জোর-জবরদস্তির শিকার না হয়ে স্বেচ্ছায় যে মদপান করে, তার কাছ থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়; আর
» আর যে মানুষের চোখের সামনে ডাকাতি করে, ঈমান তার কাছ থেকে বেরিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সে যদি তাওবা করে (অর্থাৎ, অনুশোচনা করে ফিরে আসে), আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।”’
তাবারানি, কাবীর ৭/৩৭১ (৭২২৪), বর্ণনাসূত্রের কয়েকজন আমার অজানা (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০১ (৩৭১)।
**টিকাঃ**
১. আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর বলেন, ‘আমি আয়িশা -এর কাছে ছিলাম। এমন সময় একব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হলো, যাকে আয়িশা -এর দরজার সামনে মদপান করার দরুন বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। লোকজনের হইচই শুনে তিনি বলেন, “এটা কী?” আমি বলি, “মদপানের দরুন মাতাল-হয়ে-থাকা একব্যক্তিকে ধরে বেত্রাঘাত করা হয়েছে।” তখন আয়িশা বলেন, “সুবহানাল্লাহ! আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি—”’ (আহমাদ ৬/১৩৯ (২৫০৮৮))।
২. الْخَمْرَ “মদ” (আহমাদ ৪/৩৫২-৩৫৩ (১৯১০২))।
৩. وَلَا يَغُلُّ حِيْنَ يَغُلُّ وَهُوَ مُؤْمِنٌ “আত্মসাৎকারী মুমিন অবস্থায় আত্মসাৎ করে না” (আবদুর রাযযাক, মুসান্নাফ ৭/৪১৫ (১৩৬৮২))।
১. النَّاسُ “লোকজন” (ইবনু আবী শাইবা ১১/৩২ (৩১০২৭))।
২. روُزْهُمْ “তাদের মাথা” (ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৩ (৩১০২৯))।
৩. الإِيْمَانُ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنْ ذَلِكَ “ঈমান আল্লাহর কাছে এর চেয়ে অনেক সম্মানিত” (বাযযার (কাশফ) ১/৭৫ (১১৬)); وَالتَّوْبَةُ مَعْرُوْضَةٌ بَعْدُ “তবে, পরবর্তী সময়ে তাওবার সুযোগ রাখা হয়” (বুখারি ৬৮১০; মুসলিম ৫৭ (২০৮)); وَلْكِنَّ بَابَ التَّوْبَةِ مَفْتُوْحُ “তবে, তাওবার দরজা খোলা রাখা হয়” (তাবারানি, আওসাত ৪/১৮১ (৫৬৪৭))। আতা বলেন, ‘(এসব অপরাধের সময়) তার কাছ থেকে ঈমান বের করে নেওয়া হয়, পরে সে যদি তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন’ (আহমাদ ৯০০৭)।
৪. ‘আমরা বললাম, “আল্লাহর রাসূল! সেটা কীভাবে?” তিনি বলেন, يَخْرُجُ الْإِيْمَانُ مِنْهُ، فَإِنْ تَابَ رَجَعَ إِلَيْهِ “(সে-সময়) তার কাছ থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়। এরপর সে তাওবা করলে, ঈমান তার কাছে ফিরে আসে।” (তাবারানি, আওসাত ১/১৬৪ (৫৩৪)) ; يُنْزَعُ مِنْهُ الْإِيْمَانُ وَلَا يَعُوْدُ حَتَّى يَتُوْبَ فَإِذَا تَابَ عَادَ إِلَيْهِ “তার কাছ থেকে ঈমান বের করে নেওয়া হয়। তাওবা করার আগে তা ফিরে আসে না; তাওবা করলে তার কাছে ফিরে আসে।” (হিল্ইয়া ৯/২৪৮-২৪৯) ; إِنَّمَا الْإِيْمَانُ كَالسِّرْبَالِ فَإِذَا وَقَعَ مِنَ الْعَبْدِ شَيْءٌ مِنْ هَذِهِ الْخَطَايَا خُلِعَ كَمَا يُخْلَعُ السِّرْبَالُ فَإِذَا تَابَ رَجَعَ إِلَيْهِ الْإِيْمَانُ كَمَا يَلْبِسُ هُوَ سِرْبَالَهُ “ঈমান হলো পোশাকের মতো। বান্দার কাছ থেকে এ-ধরনের গোনাহের কোনও একটি সংঘটিত হলে, কাপড় খুলে নেওয়ার মতো (তার কাছ থেকে) ঈমান খুলে নেওয়া হয়; এরপর তাওবা করলে ঈমান তার কাছে সেভাবে ফিরে আসে, ঠিক যেভাবে সে পোশাক গায়ে দেয়।” (হিল্ইয়া ৩/৩২২); ইকরিমা বলেন, ‘আমি ইবনু আব্বাস -কে বললাম, “তার কাছ থেকে ঈমান কীভাবে বের করা হয়?” তিনি নিজের আঙুলগুলো পরস্পরের ভেতর ঢুকিয়ে দেন, তারপর সেগুলো বের করে বলেন, “এভাবে।” তারপর আঙুলগুলো পরস্পরের ভেতর ঢুকিয়ে বলেন, “সে তাওবা করলে, ঈমান তার কাছে এভাবে ফিরে আসে।”’ (বুখারি ৬৮০৯); আওযায়ি বলেন, ‘আমি যুহরিকে বললাম, “এ কেমন কথা?” তিনি বলেন, “জ্ঞান আসে আল্লাহর কাছ থেকে, তাঁর রাসূল -এর কাজ হলো পৌঁছে দেওয়া, আর আমাদের কাজ হলো মেনে নেওয়া; আল্লাহর রাসূল -এর হাদীসগুলো যেভাবে এসেছে, সেভাবেই মেনে নাও।” (হিল্ইয়া ৩/৩৬৯; ইবনু হিব্বান ১/৪১৪ (১৮৬))।
📄 ব্যভিচারের সময় ঈমান মেঘমালার মতো ঘুরতে থাকে
[৪৪৫.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল বলেন,
إِذَا زَلَى الرَّجُلُ خَرَجَ مِنْهُ الْإِيمَانُ وكَانَ عَلَيْهِ كَالظُّلَّةِ فَإِذَا أَقْلَعَ رَجَعَ إِلَيْهِ الْإِيمَانُ
“কোনও ব্যক্তি যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তার কাছ থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং তার ওপর মেঘমালার মতো (ঝুলে) থাকে; যখন সে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন ঈমান তার কাছে ফিরে আসে।”
আবূ দাউদ ৪৬৯০, সহীহ; তিরমিযি ২৬২৫; হাকিম ১/২২ (৫৬); বাইহাকি, শুআব ৪/৩৫২ (৫৩৬৪); আবদুর রাযযাক ৭/৪১৪-৪১৫ (১৩৬৮০, শেষের অংশ); জামউল ফাওয়াইদ ১০৭, ১০৮।
**টিকাঃ**
১. الْعَبْدُ “বান্দা” (তিরমিযি ২৬২৫)।
২. فَوْقَ رَأْسِهِ “তার মাথার ওপর” (তিরমিযি ২৬২৫)।
৩. فَإِذَا خَرَجَ مِنْ ذَلِكَ الْعَمَلِ “এরপর যখন সে ওই কাজ থেকে বেরিয়ে আসে” (তিরমিযি ২৬২৫)।
৪. মুহাম্মাদ ইবনু আলি বলেন, ‘(অপরাধ সংঘটনের সময়) সে ঈমান থেকে বেরিয়ে ইসলামের দিকে যায়’ (তিরমিযি ২৬২৫)। অর্থাৎ ওই অবস্থায় ঈমান না থাকলেও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সে মুসলিমদের কাতারে থেকে যায়। ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য বোঝার জন্য দেখুন: আল-কুরআন, সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৪-১৭।
📄 এসব অপরাধ করার সময় ঈমান না-থাকার তাৎপর্য
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 আলি (রাঃ)-এর ব্যাখ্যা
[৪৪৬.] আলকামা ইবনু কাইস বলেন, ‘আমি আলি ইবনু আবী তালিব -কে কুফার মিম্বারে বলতে শুনেছি,
“আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি—
لَا يَزْنِي الزَّانِي حِيْنَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَنْتَهِبُ الرَّجُلُ نُهْبَةً يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهَا أَبْصَارَهُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الرَّجُلُ الْخَمْرَ وَهُوَ مُؤْمِنٌ
‘ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন সে মুমিন থাকে না; চোর মুমিন অবস্থায় চুরি করে না; মানুষের চোখের সামনে যখন কেউ ডাকাতি করে, তখন সে মুমিন থাকে না; আর মানুষ মদ্যপানের সময় মুমিন থাকে না।”’
তখন একব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে, “আমীরুল মুমিনীন, যে ব্যভিচার করে সে কাফির হয়ে যায়?” জবাবে আলি বলেন—
إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ تُبْهِمَ أَحَادِيثَ الرُّخْصِ ، لَا يَزْنِي الزَّانِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ بِذَلِكَ الزِّنَا أَنَّهُ لَهُ حَلَالٌ، فَإِنْ آمَنَ بِهِ أَنَّهُ لَهُ حَلَالٌ فَقَدْ كَفَرَ، وَلَا هُوَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنُ بِتِلْكَ السَّرِقَةِ أَنَّهَا لَهُ حَلَالُ، فَإِنْ آمَنَ بِهَا أَنَّهَا لَهُ حَلَالُ فَقَدْ كَفَرَ، وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ أَنَّهَا لَهُ حَلَالٌ، فَإِنْ شَرِبَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ أَنَّهَا لَهُ حَلَالٌ فَقَدْ كَفَرَ ، وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ حِيْنَ يَنْتَهِبُهَا يَرْفَعُ النَّاسُ فِيْهَا إِلَيْهِ أَبْصَارَهُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ أَنَّهَا لَهُ حَلَالٌ فَإِنْ انْتَهَبَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ أَنَّهَا لَهُ حَلَالٌ فَقَدْ كَفَرَ.
“আল্লাহর রাসূল আমাদের আদেশ দিতেন—যেসব হাদীসে শিথিলতা বা ছাড় দেওয়া হয়েছে সেগুলোকে আমরা যেন সেভাবেই থাকতে দিই। ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন এ বিশ্বাস নিয়ে করে না যে ব্যভিচার তার জন্য বৈধ; যদি সেটিকে তার জন্য বৈধ মনে করে, তা হলে সে কুফর করল। যখন সে চুরি করে, তখন এ বিশ্বাস নিয়ে করে না যে সেটি তার জন্য বৈধ; যদি সেটিকে তার জন্য বৈধ মনে করে, তা হলে সে কুফর করল। মদপান করার সময় সে এ বিশ্বাস নিয়ে করে না যে এটি তার জন্য বৈধ; যদি সে এ বিশ্বাস নিয়ে মদ পান করে যে এটি তার জন্য বৈধ, তা হলে সে কুফর করল। মানুষের চোখের সামনে যখন সে মূল্যবান জিনিস ডাকাতি করে, তখন এ বিশ্বাস নিয়ে ডাকাতি করে না যে এটি তার জন্য বৈধ; ডাকাতির সময় যদি এ বিশ্বাস নিয়ে করে যে এটি তার জন্য বৈধ, তা হলে সে কুফর করল।”’
তাবারানি, সগীর ৯০৬, বর্ণনাসূত্রে ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া তাইমি ত্রুটিযুক্ত, তার বিরুদ্ধে (মিথ্যা-রটনার) অভিযোগ রয়েছে (দারানি); ইবনু আদি ৭/২৭০৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০১ (৩৭৫)।
**টিকাঃ**
১. “তোমাদের কাছে শিথিলতার বিষয়গুলো বর্ণনা করার জন্য নবি আমাদের আদেশ দেননি।” (ইবনু আদি ৭/২৭০৭)।