📄 আমানতের খেয়ানত করা ও কথা দিয়ে কথা না রাখা
[৪৪০.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, ‘আল্লাহর নবি আমাদের উদ্দেশে যে-ভাষণই দিয়েছেন, সেখানে তিনি বলেছেন—
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ
» “যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই;
» আর যে কথা দিয়ে কথা রাখে না, তার দ্বীন নেই।”’
আহমাদ ৩/১৩৫ (১২৩৮৩), হাদীসটি হাসান (আরনাউত), ৩/১৫৪ (১২৫৬৭), ৩/২১০ (১৩১৯৯), ৩/২৫১ (১৩৬৩৭); ইবনু আবী শাইবা ১১/১১ (৩০৯৫৬); ইবনু আদি ৬/২২২১; বাযযার (কাশফ) ১/৬৮ (১০০); আবূ ইয়া‘লা ৫/২৪৬-২৪৭ (২৮৬৩), ৬/১৬৪-১৬৫ (৩৪৪৫); তাবারানি, আওসাত ২/৮৫ (২৬০৬), ৪/২৬০ (৫৯২৩); তাবারানি, কাবীর ৮/২৩০ (৭৭৯৮), ৮/২৯৬ (৭৯৭২); ইবনু খুযাইমা ২৩৩৫; ইবনু হিব্বান ১/৪২২-৪২৩ (১৯৪); মুসনাদুশ শিহাব ২/৪৩ (৮৪৮), ২/৪৩ (৮৪৯), ২/৪৩ (৮৫০); বাইহাকি, কুবরা ৪/১৭ (৭৩৫৭), ৪/১৭ (৭৩৫৮), ৬/২৮৮ (১২৮১৫), ৯/২৩১ (১৮৮৮৪); বাইহাকি, শুআব ৪/৭৮ (৪৩৫৪); আবদ ইবনু হুমাইদ ১১৯৮; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৩৮; কানযুল উম্মাল ৩/৬৩ (৫৫০০), ৩/৬৪ (৫৫০১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৬ (৩৪১, ৩৪৪, ৩৪৫)।
[৪৪১.] ইবনু উমর বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ، وَلَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا طَهُورَ لَهُ ، وَلَا دِيْنَ لِمَنْ لَا صَلَاةَ لَهُ ، إِنَّمَا مَوْضِعُ الصَّلَاةِ مِنَ الدِّيْنِ كَمَوْضِعِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ
“যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই; যার মধ্যে পরিচ্ছন্নতা নেই, তার নামাজ নেই; আর যার নামাজ নেই, তার দ্বীন নেই। দেহের সঙ্গে মাথার সম্পর্ক যেমন, দ্বীনের সঙ্গে নামাজের সম্পর্ক তেমন।”’
তাবারানি, আওসাত ১/৬২৬ (২২৯২); তাবারানি, সগীর ১৬২।
[৪৪২.] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ . وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْتَقِيمُ دِينُ عَبْدٍ حَتَّى يَسْتَقِيمَ لِسَانُهُ ، وَلَا يَسْتَقِيمُ لِسَانُهُ حَتَّى يَسْتَقِيمَ قَلْبُهُ ، وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
» “যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই;
» আর যে কথা দিয়ে কথা রাখে না, তার দ্বীন নেই।
» শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে মুহাম্মাদ -এর প্রাণ! বান্দার দ্বীন ঠিক হবে না, যতক্ষণ-না তার জিহ্বা ঠিক হচ্ছে;
» আর তার জিহ্বা ঠিক হবে না, যতক্ষণ-না তার অন্তর ঠিক হচ্ছে।
» এমন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না, যার উৎপাত থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।”
জিজ্ঞেস করা হলো—“আল্লাহর রাসূল! তার উৎপাত কী?” তিনি বলেন, غَشْمُهُ وَظُلْمُهُ “তার দুর্ব্যবহার ও জুলুম।”
وَأَيُّمَا رَجُلٍ أَصَابَ مَالًا مِنْ حَرَامٍ وَأَنْفَقَ مِنْهُ ، لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ ، وَإِنْ تَصَدَّقَ لَمْ يُقْبَلْ مِنْهُ ، وَمَا بَقِيَ فَزَادُهُ إِلَى النَّارِ ، إِنَّ الْخَبِيْتَ لَا يُكَفِّرُ الْخَبِيْتَ ، وَلَكِنَّ الطَّيِّبَ يُكَفِّرُ
“যে-ব্যক্তি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে তা খরচ করে,
> তাতে কোনও বরকত থাকবে না,
> দান করলে তা কবুল হবে না,
> আর (তার মৃত্যুর পর) যা-কিছু থেকে যাবে, তা হবে তার জাহান্নামের সম্বল। ময়লা দিয়ে ময়লা দূর হয় না, বরং তা দূর হয় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন বস্তু দিয়ে।”’
তাবারানি, কাবীর ১০/২৮০ (১০৫৫৩), ইসনাদের দুজন বর্ণনাকারীর জীবনবৃত্তান্ত কাউকে আলোচনা করতে দেখিনি (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৬৪ (৫৫০৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৭ (১৮৮)।
**টিকাঃ**
১. “দ্বীন” (তাবারানি, কাবীর ৮/২৯৬ (৭৯৭২))।
২. وَالْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا “যে ব্যক্তি যাকাত (আদায়)-এর ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে, তার অবস্থান যাকাত-প্রতিরোধকারীর মতো” (ইবনু খুযাইমা ২৩৩৫)।
৩. وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا “শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ঈমানদার হওয়ার আগ পর্যন্ত তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না” (তাবারানি, কাবীর ৮/২৩০ (৭৭৯৮))।
📄 লোকদেখানো ভালো কাজ করা
[৪৪৮.] মাহমূদ ইবনু লাবীদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল বলেন—
إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ
“তোমাদের ব্যাপারে আমি যেসব বিষয়ের আশঙ্কা করি, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো ছোটো শির্ক।”
তারা বললেন, “আল্লাহর রাসূল! ছোটো শির্ক কী?” নবি বলেন—
الرِّيَاءُ، يَقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا جُزِيَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ: اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاؤُوْنَ فِي الدُّنْيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُوْنَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً
“(ছোটো শির্ক হলো) রিয়া বা লোকদেখানো ভালো কাজ। কিয়ামাতের দিন মানুষকে নিজ নিজ কাজের বিনিময় দেওয়ার সময় মহামহিম আল্লাহ তাদের বলবেন— ‘দুনিয়ায় যাদের দেখানোর উদ্দেশ্যে কাজ করতে, তাদের কাছে যাও; তারপর দেখো, তাদের কাছে কোনও বিনিময় পাওয়া যায় কি না।”’
আহমাদ ৫/৪২৮ (২৩৬৩০), হাদীসটি হাসান (হাইসামি); ৫/৪২৮ (২৩৬৩১); তাবারানি, কাবীর ৪/২৫৩ (৪৩০১); বাইহাকি, শুআব ৫/৩৩৩ (৬৮৩১); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৪১৩৭; কানযুল উম্মাল ৩/৪৭৯ (৭৫১৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০২ (৩৭৮)।
**টিকাঃ**
২. يُقَالُ لِمَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ إِذَا جَاءَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاؤُوْنَ فَاطْلُبُوا ذَلِكَ عِنْدَهُمْ “মানুষ যখন নিজ নিজ আমল নিয়ে হাজির হবে, তখন যারা এ-ধরনের কাজ করেছে তাদের বলা হবে—যাদের দেখানোর জন্য কাজ করতে, তাদের কাছে যাও; তাদের কাছে বিনিময় চাও।” (তাবারানি, কাবীর ৪/২৫৩ (৪৩০১))।
২. أَوْ خَيْرًا “অথবা ভালো কিছু” (বাইহাকি, শুআব ৫/৩৩৩ (৬৮৩১))।
📄 কৃপণতা
[৪৪৯.] আনাস বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
مَا تَحَقَ الْإِسْلَامَ تَحْقَ الشُّحَّ شَيْءٌ
“কৃপণতা ইসলামকে যেভাবে ধ্বংস করে, অন্য কোনোকিছু সেভাবে ধ্বংস করে না।”’
আবু ইয়া‘লা ৬/২০৯ (৩৪৮৮), বর্ণনাসূত্রে আলি ইবনু আবী সারা ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); তাবারানি, আওসাত ২/২৫১ (২৮৪৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০২ (৩৭৯)।
📄 কুৎসা রটানো ও হিংসা করা
[৪৫০.] ইবনু উমর বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
إِنَّ النَّمِيمَةَ وَالْحِقْدَ فِي النَّارِ، لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ مُسْلِمٍ
“কুৎসা রটানো ও হিংসার পরিণতি জাহান্নাম; এ দুটি মুসলিমের অন্তরে জড়ো হতে পারে না।”’
তাবারানি, আওসাত ৩/৩০১ (৪৬৫৩), বর্ণনাসূত্রে উফাইর ইবনু মি‘দানের ত্রুটিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত (হাইসামি); আত-তারগীব ৩/৪৯৮ (৫); কানযুল উম্মাল ১৬/২৩ (৪৩৭৬৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০২ (৩৮০)।