📄 প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া
[৪৩৭.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
لَا يَسْتَقِيمُ إِيْمَانُ عَبْدٍ حَتَّى يَسْتَقِيمَ قَلْبُهُ ، وَلَا يَسْتَقِيمُ قَلْبُهُ حَتَّى يَسْتَقِيمَ لِسَانُهُ ، وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ رَجُلٌ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
» “বান্দার ঈমান ঠিক হবে না, যতক্ষণ-না তার অন্তর ঠিক হচ্ছে;
» তার অন্তর ঠিক হবে না, যতক্ষণ-না তার জিহ্বা ঠিক হচ্ছে;
» আর এমন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশীরা নিরাপদ থাকে না।”
আহমাদ ৩/১৯৮ (১৩০৪৮), বর্ণনাকারী আলি ইবনু মাসআদা একদল বিশেষজ্ঞের মতে বিশ্বস্ত, অন্যদের মতে ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি), ২/৩৭২-৩৭৩ (৮৮৫৫); মুসলিম ১৭২/৭৩ (৪৬); মুসনাদুশ শিহাব ২/৬২-৬৩ (৮৮৭); বাইহাকি, শুআব ১/৪১ (৮), হাসান; আত-তারগীব ৩/৩৫৩ (১০), ৩/৫২৭-৫২৮ (২২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৩ (১৬৬), ১/৫৭ (১৮৭); কানযুল উম্মাল ৯/৫৬ (২৪৯২৫)।
[৪৩ google.] ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল বলেন,
إِنَّ الله عزّ وجلَّ قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ، وَإِنَّ اللَّهَ يُعْطِي الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ، وَلَا يُعْطِي الدِّينَ إِلَّا مَنْ أَحَبَّ، فَمَنْ أَعْطَاهُ الدِّينَ فَقَدْ أَحَبَّهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُسْلِمُ عَبْدٌ حَتَّى يَسْلَمَ قَلْبُهُ وَلِسَانُهُ، وَلَا يُؤْمِنُ عِبدُ حَتَّى يَأْمَنَ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
“আল্লাহ যেভাবে তোমাদের মধ্যে জীবনোপকরণ বণ্টন করেন, তেমনিভাবে তোমাদের মধ্যে স্বভাব-চরিত্র বণ্টন করে দেন। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন, আর যাকে পছন্দ করেন না— উভয়কে তিনি দুনিয়া দেন; তবে দ্বীন কেবল তাকেই দেন, যাকে তিনি পছন্দ করেন। সুতরাং (বুঝতে হবে,) যাকে তিনি দ্বীন দিয়েছেন, তাকে তিনি পছন্দ করেছেন। শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ, বান্দা মুসলিম হবে না, যতক্ষণ না তার অন্তর ও জিহ্বা ত্রুটিমুক্ত হচ্ছে। কোনও বান্দা ততক্ষণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না তার প্রতিবেশী তার উৎপাত থেকে নিরাপদ বোধ করছে।”
আমি জিজ্ঞেস করি, “আল্লাহর রাসূল! তার উৎপাত কী?” তিনি বলেন, غَشْمُهُ وَظُلْمُهُ “তার দুর্ব্যবহার ও জুলুম।” (এরপর নবি বলেন)
فَمَنْ ضَنَّ بِالْمَالِ أَنْ يُنْفِقَهُ وَهَابَ اللَّيْلَ أَنْ يُكَابِدَهُ وَخَافَ الْعَدُوَّ أَنْ يُجَاهِدَهُ فَلْيُكْثِرُ مِنْ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ فَإِنَّهُنَّ مُقَدِّمَاتٌ مُجَنِّبَاتٌ وَمُعَقِّبَاتٌ وَهُنَّ الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ
“অতএব, সম্পদ খরচ করতে গেলে যার মনে কৃপণতা জেগে ওঠে, রাত্রিজাগরণের কষ্ট যার কাছে ভীতিকর মনে হয় এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয় এলে যে-ব্যক্তি তটস্থ হয়ে পড়ে, সে যেন (এসব দুর্বলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশে) বেশি বেশি বলে—‘সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র)’, ‘আল-হামদু লিল্লাহ (প্রশংসা সবই আল্লাহর)’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই)’ এবং ‘আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)’। কারণ, এসব বাক্য (মানুষকে কল্যাণের পথে) এগিয়ে দেয়, (গোনাহ থেকে) দূরে সরিয়ে রাখে এবং উত্তম পরিণতি নিশ্চিত করে; আর এসব ভালো কথাই টিকে থাকবে।”
وَلَا يَكْسِبُ مَالًا مِنْ حَرَامٍ فَيُنْفِقَ مِنْهُ فَيُبَارَكَ لَهُ فِيهِ، وَلَا يَتَصَدَّقُ بِهِ فَيُقْبَلَ مِنْهُ، وَلَا يَتْرُكُه خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ، إِنَّ اللهَ لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّنِ، وَلَكِنْه يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ، إِنَّ الْخَبِيثَ لَا يَمْحُو الخبيث
“হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তা খরচ করলে, তাতে বরকত হবে না; দান করলে, তা গৃহীত হবে না; আর রেখে (মারা) গেলে, তা তার জাহান্নামের পাথেয় ছাড়া কিছুই হবে না। আল্লাহ মন্দকে মন্দ দিয়ে দূর করেন না, বরং মন্দকে দূর করেন উত্তম দিয়ে। ময়লা দিয়ে ময়লা দূর হয় না।”’
আহমাদ ১/৩৮৭ (৩৬৭২), ইসনাদটি দুর্বল (আরনাউত), ৩/১৫৪ (১২৫৬১) ইসনাদটি সহীহ, ৩/১৫৪ (১২৫৬২); ইবনু হিব্বান ২/২৬৪ (৫১০), ইসনাদটি মুসলিমের শর্তে সহীহ; হাকিম ১/৩৩-৩৪ (৯৪), ২/৪৪৭ (৩৬৭১); বাযযার (কাশফ) ৪/২১৬ (৩৫৬২); বুখারি, তারীখ ৪/৩১৩ (২৯৫৭); তাবারানি, কাবীর ৯/২২৯ (৮৯৯০); বাইহাকি, শুআব ১/৪২৫-৪২৬ (৬০৭), ৪/৩৯৫-৩৯৬ (৫৫২৪); হিল্ইয়া ৪/১৬৫; আত-তারগীব ২/৫৪৯-৫৫০ (১৫); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ২০৩০; ইবনু আসাকির ৫২/৩১৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৩ (১৬৫); কানযুল উম্মাল ১/১৪৭ (২০৩২), ১৫/৮৬২ (৪৩৪৩১); জামউল ফাওয়াইদ ১১২।
**টিকাঃ**
৪. “কারণ এগুলো আল্লাহর কাছে সোনা-রুপার দুটি পাহাড়ের চেয়েও বেশি প্রিয়।” (হিল্ইয়া ৪/১৬৫)।
৫. لَايَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَبْدٌ “কোনও বান্দা জান্নাতে যেতে পারবে না, ...” (ইবনু হিব্বান ৫১০)।
📄 মুসলিমকে গালি দেওয়া, তার সঙ্গে লড়াই করা, তার সম্পদ হরণ করা
[৪৩৯.] আবদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
سِبَابُ الْمُسْلِمِ أَخَاهُ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرُ، وَحُرْمَةُ مَالِهِ كَحُرْمَةِ دَمِهِ
“কোনও মুসলিমের জন্য তার ভাইকে গালি দেওয়া গোনাহ, তার সঙ্গে লড়াই করা কুফর, আর তার সম্পদহরণ হারাম, ঠিক যেভাবে তার প্রাণহরণ হারাম।”
আহমাদ ১/৪৪৬ (৪২৬২), হাদীসটি সহীহ, তবে এ ইসনাদটি ত্রুটিযুক্ত (আরনাউত), ১/৩৮৫ (৩৬৪৭), ১/৪১১ (৩৯০৩), ১/৪১৭ (৩৯৫৭), ১/৪৩৩ (৪১২৬), ১/৪৩৯ (৪১৭৮), ১/৪৫৪-৪৫৫ (৪৩৪৫), ১/৪৬০ (৪৩৯৪); বুখারি ৪৮, ৬০৪৪, ৭০৭৬; মুসলিম ২২১/১১৬ (৬৪), ২২২/১১৭ (...)।
**টিকাঃ**
২. “ইবনু মাসঊদ” (মুসলিম ২২১/১১৬ (৬৪))।
৩. ‘যুবাইদ বলেন, আমি আবূ ওয়াইলকে মুরজিআ সম্প্রদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “আবদুল্লাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে,”’ (বুখারি ৪৮)।
📄 আমানতের খেয়ানত করা ও কথা দিয়ে কথা না রাখা
[৪৪০.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, ‘আল্লাহর নবি আমাদের উদ্দেশে যে-ভাষণই দিয়েছেন, সেখানে তিনি বলেছেন—
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ
» “যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই;
» আর যে কথা দিয়ে কথা রাখে না, তার দ্বীন নেই।”’
আহমাদ ৩/১৩৫ (১২৩৮৩), হাদীসটি হাসান (আরনাউত), ৩/১৫৪ (১২৫৬৭), ৩/২১০ (১৩১৯৯), ৩/২৫১ (১৩৬৩৭); ইবনু আবী শাইবা ১১/১১ (৩০৯৫৬); ইবনু আদি ৬/২২২১; বাযযার (কাশফ) ১/৬৮ (১০০); আবূ ইয়া‘লা ৫/২৪৬-২৪৭ (২৮৬৩), ৬/১৬৪-১৬৫ (৩৪৪৫); তাবারানি, আওসাত ২/৮৫ (২৬০৬), ৪/২৬০ (৫৯২৩); তাবারানি, কাবীর ৮/২৩০ (৭৭৯৮), ৮/২৯৬ (৭৯৭২); ইবনু খুযাইমা ২৩৩৫; ইবনু হিব্বান ১/৪২২-৪২৩ (১৯৪); মুসনাদুশ শিহাব ২/৪৩ (৮৪৮), ২/৪৩ (৮৪৯), ২/৪৩ (৮৫০); বাইহাকি, কুবরা ৪/১৭ (৭৩৫৭), ৪/১৭ (৭৩৫৮), ৬/২৮৮ (১২৮১৫), ৯/২৩১ (১৮৮৮৪); বাইহাকি, শুআব ৪/৭৮ (৪৩৫৪); আবদ ইবনু হুমাইদ ১১৯৮; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৩৮; কানযুল উম্মাল ৩/৬৩ (৫৫০০), ৩/৬৪ (৫৫০১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৬ (৩৪১, ৩৪৪, ৩৪৫)।
[৪৪১.] ইবনু উমর বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ، وَلَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا طَهُورَ لَهُ ، وَلَا دِيْنَ لِمَنْ لَا صَلَاةَ لَهُ ، إِنَّمَا مَوْضِعُ الصَّلَاةِ مِنَ الدِّيْنِ كَمَوْضِعِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ
“যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই; যার মধ্যে পরিচ্ছন্নতা নেই, তার নামাজ নেই; আর যার নামাজ নেই, তার দ্বীন নেই। দেহের সঙ্গে মাথার সম্পর্ক যেমন, দ্বীনের সঙ্গে নামাজের সম্পর্ক তেমন।”’
তাবারানি, আওসাত ১/৬২৬ (২২৯২); তাবারানি, সগীর ১৬২।
[৪৪২.] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ، وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ . وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْتَقِيمُ دِينُ عَبْدٍ حَتَّى يَسْتَقِيمَ لِسَانُهُ ، وَلَا يَسْتَقِيمُ لِسَانُهُ حَتَّى يَسْتَقِيمَ قَلْبُهُ ، وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
» “যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই;
» আর যে কথা দিয়ে কথা রাখে না, তার দ্বীন নেই।
» শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে মুহাম্মাদ -এর প্রাণ! বান্দার দ্বীন ঠিক হবে না, যতক্ষণ-না তার জিহ্বা ঠিক হচ্ছে;
» আর তার জিহ্বা ঠিক হবে না, যতক্ষণ-না তার অন্তর ঠিক হচ্ছে।
» এমন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না, যার উৎপাত থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।”
জিজ্ঞেস করা হলো—“আল্লাহর রাসূল! তার উৎপাত কী?” তিনি বলেন, غَشْمُهُ وَظُلْمُهُ “তার দুর্ব্যবহার ও জুলুম।”
وَأَيُّمَا رَجُلٍ أَصَابَ مَالًا مِنْ حَرَامٍ وَأَنْفَقَ مِنْهُ ، لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ ، وَإِنْ تَصَدَّقَ لَمْ يُقْبَلْ مِنْهُ ، وَمَا بَقِيَ فَزَادُهُ إِلَى النَّارِ ، إِنَّ الْخَبِيْتَ لَا يُكَفِّرُ الْخَبِيْتَ ، وَلَكِنَّ الطَّيِّبَ يُكَفِّرُ
“যে-ব্যক্তি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে তা খরচ করে,
> তাতে কোনও বরকত থাকবে না,
> দান করলে তা কবুল হবে না,
> আর (তার মৃত্যুর পর) যা-কিছু থেকে যাবে, তা হবে তার জাহান্নামের সম্বল। ময়লা দিয়ে ময়লা দূর হয় না, বরং তা দূর হয় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন বস্তু দিয়ে।”’
তাবারানি, কাবীর ১০/২৮০ (১০৫৫৩), ইসনাদের দুজন বর্ণনাকারীর জীবনবৃত্তান্ত কাউকে আলোচনা করতে দেখিনি (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৬৪ (৫৫০৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৭ (১৮৮)।
**টিকাঃ**
১. “দ্বীন” (তাবারানি, কাবীর ৮/২৯৬ (৭৯৭২))।
২. وَالْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا “যে ব্যক্তি যাকাত (আদায়)-এর ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে, তার অবস্থান যাকাত-প্রতিরোধকারীর মতো” (ইবনু খুযাইমা ২৩৩৫)।
৩. وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا “শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ঈমানদার হওয়ার আগ পর্যন্ত তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না” (তাবারানি, কাবীর ৮/২৩০ (৭৭৯৮))।
📄 লোকদেখানো ভালো কাজ করা
[৪৪৮.] মাহমূদ ইবনু লাবীদ থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর রাসূল বলেন—
إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ
“তোমাদের ব্যাপারে আমি যেসব বিষয়ের আশঙ্কা করি, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো ছোটো শির্ক।”
তারা বললেন, “আল্লাহর রাসূল! ছোটো শির্ক কী?” নবি বলেন—
الرِّيَاءُ، يَقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا جُزِيَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ: اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاؤُوْنَ فِي الدُّنْيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُوْنَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً
“(ছোটো শির্ক হলো) রিয়া বা লোকদেখানো ভালো কাজ। কিয়ামাতের দিন মানুষকে নিজ নিজ কাজের বিনিময় দেওয়ার সময় মহামহিম আল্লাহ তাদের বলবেন— ‘দুনিয়ায় যাদের দেখানোর উদ্দেশ্যে কাজ করতে, তাদের কাছে যাও; তারপর দেখো, তাদের কাছে কোনও বিনিময় পাওয়া যায় কি না।”’
আহমাদ ৫/৪২৮ (২৩৬৩০), হাদীসটি হাসান (হাইসামি); ৫/৪২৮ (২৩৬৩১); তাবারানি, কাবীর ৪/২৫৩ (৪৩০১); বাইহাকি, শুআব ৫/৩৩৩ (৬৮৩১); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৪১৩৭; কানযুল উম্মাল ৩/৪৭৯ (৭৫১৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০২ (৩৭৮)।
**টিকাঃ**
২. يُقَالُ لِمَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ إِذَا جَاءَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاؤُوْنَ فَاطْلُبُوا ذَلِكَ عِنْدَهُمْ “মানুষ যখন নিজ নিজ আমল নিয়ে হাজির হবে, তখন যারা এ-ধরনের কাজ করেছে তাদের বলা হবে—যাদের দেখানোর জন্য কাজ করতে, তাদের কাছে যাও; তাদের কাছে বিনিময় চাও।” (তাবারানি, কাবীর ৪/২৫৩ (৪৩০১))।
২. أَوْ خَيْرًا “অথবা ভালো কিছু” (বাইহাকি, শুআব ৫/৩৩৩ (৬৮৩১))।