📄 অহংকার লালন করা কিংবা দম্ভ প্রকাশ করে চলাফেরা করা
[৪৩২.] ইবনু উমর বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি—
مَنْ تَعَظَّمَ فِي نَفْسِهِ، أَوِ اخْتَالَ فِي مِشْيَتِهِ، لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ
“যে-ব্যক্তি মনের ভেতর অহংকার লালন করে অথবা দম্ভভরে চলাফেরা করে, সে যখন আল্লাহর সঙ্গে দেখা করবে তখন আল্লাহ তার ওপর প্রচণ্ড রাগান্বিত থাকবেন।”’
আহমাদ ২/১১৮ (৫৯৯৫), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত); বুখারি, মুফরাদ ৫৪৯; হাকিম ১/৬০ (২০১); বাইহাকি, শুআব ৬/২৮৩ (৮১৬৭); আত-তারগীব ৩/৫৬৯ (৩৮); কানযুল উম্মাল ৩/৫২৭ (৭৭৪৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৮ (৩৫৭)।
**টিকাঃ**
১. ইকরিমা ইবনু খালিদ ইবনি সাঈদ ইবনিল আস মাখযূমি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমর ইবনিল খাত্তাব -এর সঙ্গে দেখা করে বলেন, ‘আবূ আবদির রহমান! আমাদের মধ্যে বানুল মুগীরার লোকজন ভীষণ অহংকারী। আপনি কি আল্লাহর রাসূল -কে এ-বিষয়ে কিছু বলতে শুনেছেন?’ তখন (হাকিম ১/৬০ (২০১))।
২. وَ “আর” (হাকিম ১/৬০ (২০১))।
📄 দুর্বল ব্যক্তিও মনের ভেতর অহংকার লালন করতে পারে
[৪৩৩.] আবূ মূসা থেকে বর্ণিত, ‘আল্লাহর নবি আবূ মূসার হাত ধরে মদীনার কোনও এক পথে হাঁটছিলেন। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় এক ভিক্ষুক মহিলার কাছে আসেন, বায়ুপ্রবাহের দরুন যার চেহারায় ধুলাবালি পড়ছিল। আবূ মূসা তাকে বলেন, “আল্লাহর রাসূল -এর পথ থেকে সরে দাঁড়াও।” মহিলাটি তাকে বলে, “এ রাস্তা তো তার জন্য অনেক প্রশস্ত; যেখান দিয়ে মন চায়, সেখান দিয়ে সে যাক।” এ-কথা শুনে আবূ মূসা এতটা কষ্ট পান যে, এতে তার চেহারার রঙ বদলে যায়। আল্লাহর রাসূল তার চেহারার দিকে তাকিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। তখন তিনি বলেন—
يَا أَبَا مُوسَى اشْتَدَّ عَلَيْكَ مَا قَالَتْ هَذِهِ السَّائِلَةُ
“আবূ মূসা, তুমি কি এ ভিক্ষুক মহিলার কথায় কষ্ট পেয়েছ?”
আমি বলি, “হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! আমি মহিলাটিকে আল্লাহর রাসূল -এর কথা বললাম, আর সে কিনা বিষয়টিকে পাত্তাই দিলো না! এতে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।” নবি বলেন—
لَا تُكَلِّمُهَا فَإِنَّهَا جَبَّارَةٌ
“তার সঙ্গে কথা বোলো না, সে ভীষণ অহংকারী।”
তিনি বলেন, “আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! এ মহিলার অহংকারী হওয়ার মতো কী আছে?” নবি বলেন—
إِنْ لَا يَكُنْ ذَلِكَ فِي قُدْرَتِهَا، فَإِنَّهُ فِي قَلْبِهَا
“তার ক্ষমতায় সেটি না থাকলেও, অন্তরে ঠিকই আছে।”
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৩৬৩, বর্ণনাসূত্রে বিলাল ইবনু আবী বুরদা আছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১৬/৪০০ (৪৫১০৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৯ (৩৬৩)।
[৪৩৪.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, ‘নবি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। সে-সময় এক কৃষ্ণাঙ্গ নারীও (ওই রাস্তা দিয়ে) যাচ্ছিল। তখন একলোক মহিলাকে বলে, “রাস্তা (খালি করো)।” মহিলা বলে, “রাস্তা তো আছেই।” তখন নবি বলেন—
دَعُوهَا، فَإِنَّهَا جَبَّارَةٌ
“বাদ দাও! সে একজন অহংকারী”’
তাবারানি, আওসাত ৬/১৪০ (৮১৬০), ইসনাদটি হাসান (দারানি); তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৩৬৫; আবূ ইয়া'লা ৬/৩৪ (৩২৭৬); বাযযার (কাশফ) ৪/২২২ (৩৫৭৯); হিল্ইয়া ৬/২৯১; মাতালিব ৩/১৮৯ (৩২১৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৯ (৩৬৪), ১/৯৯-১০০ (৩৬৫)।
**টিকাঃ**
১. ‘সে-সময় তাঁর সামনে একব্যক্তি নজর রাখছিলেন—রাস্তায় এমন কিছু আছে কি না, যা আল্লাহর রাসূল -এর অপছন্দ, থাকলে তিনি তা সরিয়ে দেবেন। এমন সময় এক বৃদ্ধা মহিলা সামনে পড়ল।’ (তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৩৬৫)।
২. “রাস্তা? কীসের রাস্তা?” (আবূ ইয়া'লা ৬/৩৪ (৩২৭৬)); “রাস্তা? রাস্তা তো ডানে।” (হিলইয়া ৬/২৯১); “তার জন্য তো যথেষ্ট প্রশস্ত রাস্তা আছে!” (বাযযার (কাশফ) ৪/২২২ (৩৫৭৯))।
📄 অহংকার থেকে বাঁচার উপায়
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 পশমি কাপড় পরিধান, দুধ দোহন ও অধীনস্থদের সঙ্গে খাবার গ্রহণ
[৪৩৫.] সাইব ইবনু ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, ‘নবি বলেছেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
“যার অন্তরে দানা পরিমাণ অহংকার থাকে, সে জান্নাতে যাবে না।”
তারা বললেন, “আল্লাহর রাসূল, (তা হলে) আমাদের ধ্বংস অনিবার্য! আমরা কীভাবে জানব— আমাদের অন্তরে সেই অহংকার আছে কি না? আর সেটা থাকে কীসে?” এর জবাবে নবি বলেন—
مَنْ لَبِسَ الصُّوْفَ أَوْ حَلَبَ الشَّاةَ أَوْ أَكَلَ مَعَ مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ، فَلَيْسَ فِي قَلْبِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ كِبْرُ
“যে-ব্যক্তি পশমি কাপড় পরে, অথবা ভেড়ার দুধ দোহন করে, অথবা অধীনস্থ লোকদের সঙ্গে খাবার খায়—ইন শা আল্লাহ তার অন্তরে অহংকার থাকে না।”’
তাবারানি, কাবীর ৭/১৫৩ (৬৬৬৮), বর্ণনাসূত্রে ইয়াযীদ ইবনু আবদিল মালিক নাওফিলি ভীষণ পর্যায়ের মুনকারুল হাদীস (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৫৩৪ (৭৭৭২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৮-৯৯ (৩৫৯)।