📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শির্ক থাকলে কোনও ভালো কাজ উপকারে আসবে না

📄 শির্ক থাকলে কোনও ভালো কাজ উপকারে আসবে না


[৪১১.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-কে বলতে শুনেছি-

مَنْ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا ، دَخَلَ الْجَنَّةَ ، وَلَمْ تَضُرَّ مَعَهُ خَطِيئَةٌ ، كَمَا لَوْ لَقِيَهُ وَهُوَ مُشْرِكْ بِهِ دَخَلَ النَّارَ ، وَلَمْ تَنْفَعُهُ مَعَهُ حَسَنَةٌ

“যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক না করে তাঁর সঙ্গে দেখা করবে, সে জান্নাতে যাবে, শির্ক না থাকলে অন্য কোনও ত্রুটি তার ক্ষতি করবে না; ঠিক যেভাবে কেউ আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করে দেখা করলে, সে জাহান্নামে যাবে, শির্ক থাকলে অন্য কোনও ভালো কাজ তার উপকারে আসবে না।"'

আহমাদ ২/১৭০ (৬৫৮৬), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত); কানযুল উম্মাল ১/৮১ (৩২৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৯ (২৪)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শির্ক, পিতামাতার অবাধ্যতা ও জিহাদ থেকে পলায়ন—এ তিনটির সঙ্গে কোনও আমল উপকারে আসবে না

📄 শির্ক, পিতামাতার অবাধ্যতা ও জিহাদ থেকে পলায়ন—এ তিনটির সঙ্গে কোনও আমল উপকারে আসবে না


[৪১২] সাওবান থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন-

ثَلَاثَةٌ لَا يَنْفَعُ مَعَهُنَّ عَمَلُ: الشَّرْكُ بِاللهِ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ، وَالْفِرَارُ مِنَ الزَّحْفِ

"তিনটির সঙ্গে কোনও আমল উপকারে আসবে না:
> আল্লাহর সঙ্গে শির্ক,
> পিতামাতার অবাধ্যতা, ও
> জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন।"'

তাবারানি, কাবীর ২/৯৫ (১৪২০), বর্ণনাসূত্রে ইয়াযীদ ইবনু রবীআ ভীষণ ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); আত-তারগীব ২/৩০২ (২); কানযুল উম্মাল ১৬/৩৫ (৪৩৮২৪), ১৬/৬০ (৪৩৯৩৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩০৪ (৩৯০)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শির্ক, নামাজ, যাকাত ও কুরআনের উপমা

📄 শির্ক, নামাজ, যাকাত ও কুরআনের উপমা


[৪১৩.] আলি থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেন,

بَعَثَ اللهُ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ، فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ عِيسَى قَالَ اللهُ - تَبَارَكَ وَتَعَالَى -: يَا عِيسَى، قُلْ لِيَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا إِمَّا أَنْ تُبَلِّغَ مَا أُرْسِلْتَ بِهِ إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَإِمَّا أَنْ أُبَلِّغَهُمْ، فَخَرَجَ يَحْيَى حَتَّى صَارَ إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ - تَبَارَكَ وَتَعَالَى - يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَمَثَلُ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَعْتَقَ رَجُلًا وَأَحْسَنَ إِلَيْهِ وَأَعْطَاهُ، فَانْطَلَقَ وَكَفَرَ نِعْمَتَهُ، وَوَالَى غَيْرَهُ. وَإِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَمَثَلُ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَسَرَهُ الْعَدُوُّ، فَأَرَادُوا قَتْلَهُ فَقَالَ: لَا تَقْتُلُونِي، فَإِنَّ لِي كَنزًا وَأَنَا أَفْدِي نَفْسِي، فَأَعْطَاهُمْ كَنْزَهُ وَنَجَا بِنَفْسِهِ. وَإِنَّ اللَّهَ - تَبَارَكَ وَتَعَالَى - يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَتَصَدَّقُوا، وَمَثَلُ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ مَشَى إِلَى عَدُوِّهِ وَقَدْ أَخَذَ لِلْقِتَالِ جُنَّةٌ، فَلَا يُبَالِي مِنْ حَيْثُ أُتِيَ. وَإِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَقْرَءُوا الْكِتَابَ، وَمَثَلُ ذلِكَ كَمَثَلِ قَوْمٍ فِي حِصْنِهِمْ صَارَ إِلَيْهِمْ عَدُوُّهُمْ وَقَدْ أَعَدُّوا فِي كُلِّ نَاحِيَةٍ مِنْ نَوَاحِيَ الْحِصْنِ قَوْمًا، فَلَيْسَ يَأْتِيهِمْ عَدُوُّهُمْ مِنْ نَاحِيَةٍ مِنْ نَوَاحِي الْحِصْنِ إِلَّا وَبَيْنَ أَيْدِيهِمْ مَنْ يَدْرَؤُهُمْ عَنْهُمْ عَنِ الْحِصْنِ، فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ لَا يَزَالُ فِي أَحْصَنِ حِصْنٍ

"আল্লাহ পাঁচটি নির্দেশ দিয়ে ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়্যা -কে বানু ইসরাঈলের কাছে পাঠিয়েছিলেন। ঈসা -কে পাঠানোর পর, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ঈসা! ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়্যাকে বলো-আপনাকে যেসব নির্দেশ দিয়ে বানু ইসরাঈলের কাছে পাঠানো হয়েছে, সেগুলো হয় আপনি পৌঁছে দেবেন, নতুবা সেগুলো আমি পৌঁছাব।’ এ কথা শুনে ইয়াহইয়া বেরিয়ে পড়েন। বানু ইসরাঈলের লোকদের কাছে এসে তিনি বলেন,

> 'আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন-তোমরা তাঁর গোলামি করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনোকিছুকে শরীক করবে না, (শরীক করার) উদাহরণ হলো-যেন একব্যক্তি অপর একব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিলো, তার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করল এবং তাকে ধনসম্পদ দিল; এরপর ওই লোকটি গিয়ে তার অনুগ্রহের কথা অস্বীকার করল এবং অন্য কারও সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলল!

> আল্লাহ তোমাদের নামাজ কায়েমের নির্দেশ দিচ্ছেন; (নামাজ কায়েমের) উদাহরণ হলো- যেন একব্যক্তিকে তার শত্রুপক্ষ বন্দি করে ফেলল, এরপর তাকে হত্যা করতে চাইলে সে বলল, “তোমরা আমাকে হত্যা করো না; আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ আছে, প্রাণরক্ষার বিনিময়ে আমি তা তোমাদের দিয়ে দিচ্ছি।” এরপর সে তা দিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাল।

> আল্লাহ তোমাদের যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিচ্ছেন; এর উদাহরণ হলো-যেন একব্যক্তি নিজের শত্রুর দিকে এগিয়ে গেল, লড়াইয়ের জন্য সঙ্গে নিয়ে গেল একটি ঢাল, এবার শত্রু যেদিক দিয়েই আসুক তাতে তার কোনও পরোয়া নেই।

> আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর গ্রন্থ পড়ার নির্দেশ দিচ্ছেন; এর উদাহরণ হলো-যেন একদল লোক নিজেদের দুর্গের ভেতর আশ্রয় নিয়েছে, এরপর তাদের শত্রুবাহিনী এসে দুর্গের চারদিকে লোক মোতায়েন করেছে, কিন্তু দুর্গের যেদিক দিয়েই শত্রুবাহিনী তাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে, সেদিক দিয়েই কেউ একজন তাদের প্রতিহত করছে এবং দুর্গকে সুরক্ষিত রাখছে। এ হলো কুরআন-পাঠকের উদাহরণ; সে সবসময় সবচেয়ে সুরক্ষিত দুর্গে অবস্থান করে।' "

বাযযার (দ্রষ্টব্য: কাশফুল আস্তার) ১/১৭০-১৭১ (৩৩৭), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, তবে একজন আমার কাছে অপরিচিত (হাইসামি), অবশ্য আবূ ইয়া'লা ৩/১৪০-১৪২ (১৫৭১) ও তিরমিযি (২৮৬৩)-তে এর 'শাহিদ' রয়েছে; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৪ (১২৫); জামউল ফাওয়াইদ ১২৩।

[৪১৪.] হারিস আশআরি থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন,

إِنَّ اللَّهَ أَمَرَ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا بِخَمْسٍ كَلِمَاتٍ أَنْ يَعْمَلَ بِهَا وَيَأْمُرَ بني إسرائيل أَنْ يَعْمَلُوا بِهَا، وَإِنَّهُ كَادَ أَنْ يُبْطِئَ بِهَا، فَقَالَ عِيسَى: إِنَّ اللَّهَ أَمَرَكَ بِخَمْسٍ كَلِمَاتٍ لِتَعْمَلَ بِهَا وَتَأْمُرَ بني إسرائيل أَنْ يَعْمَلُوا بِهَا، فَإِمَّا أَنْ تَأْمُرَهُمْ، وَإِمَّا أَنَا آمُرُهُمْ ، فَقَالَ يَحْيَى: أَخْشَى إِنْ سَبَقْتَنِي بِهَا أَنْ يُخْسَفَ بِي أَوْ أُعَذَّبَ، فَجَمَعَ النَّاسَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَامْتَلأَ الْمَسْجِدُ وَقَعَدُوا عَلَى الشُّرَفِ، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ أَنْ أَعْمَلَ بِهِنَّ، وَآمُرَكُمْ أَنْ تَعْمَلُوا بِهِنَّ : أَوَّلُهُنَّ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَإِنَّ مَثَلَ مَنْ أَشْرَكَ بِاللهِ كَمَثَلِ رَجُلٍ اشْتَرَى عَبْدًا مِنْ خَالِصِ مَالِهِ بِذَهَبٍ أَوْ وَرِقٍ، فَقَالَ: هَذِهِ دَارِي وَهَذَا عَمَلِي فَاعْمَلْ وَأَدَّ إِلَيَّ، فَكَانَ يَعْمَلُ وَيُؤَدِّي إِلَى غَيْرِ سَيِّدِهِ، فَأَيُّكُمْ يَرْضَى أَنْ يَكُونَ عَبْدُهُ كَذَلِكَ؟ وَإِنَّ اللهَ أَمَرَكُمْ بِالصَّلَاةِ، فَإِذَا صَلَّيْتُمْ فَلا تَلْتَفِتُوا فَإِنَّ اللَّهَ يَنْصِبُ وَجْهَهُ لِوَجْهِ عَبْدِهِ فِي صَلَاتِهِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ، وَآمُرُكُمْ بِالصِّيَامِ، فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ فِي عِصَابَةٍ مَعَهُ صُرَّةٌ فِيهَا مِسْكُ، فَكُلُّهُمْ يَعْجَبُ أَوْ يُعْجِبُهُ رِيحُهَا، وَإِنَّ رِيحَ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، وَآمُرُكُمْ بِالصَّدَقَةِ فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَسَرَهُ العَدُوُّ، فَأَوْثَقُوا يَدَهُ إِلَى عُنُقِهِ وَقَدَّمُوهُ لِيَضْرِبُوا عُنُقَهُ، فَقَالَ: أَنَا أَفْدِيهِ مِنْكُمْ بِالقَلِيلِ وَالكَثِيرِ ، فَفَدَى نَفْسَهُ مِنْهُمْ، وَآمُرُكُمْ أَنْ تَذْكُرُوا اللهَ فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ خَرَجَ العَدُوُّ فِي أَثَرِهِ سِرَاعًا حَتَّى إِذَا أَنَّى عَلَى حِصْنٍ حصِينٍ فَأَحْرَزَ نَفْسَهُ مِنْهُمْ، كَذَلِكَ العَبْدُ لَا يُحْرِزُ نَفْسَهُ مِنَ الشَّيْطَانِ إِلَّا بِذِكْرِ اللَّهِ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَأَنَا آمُرُكُمْ بِخَمْسٍ اللهُ أَمَرَنِي بِهِنَّ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ وَالجِهَادُ وَالهِجْرَةُ وَالجَمَاعَةُ، فَإِنَّهُ مَنْ فَارَقَ الجَمَاعَةَ قِيدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الإِسْلامِ مِنْ عُنُقِهِ إِلَّا أَنْ يَرْجِعَ، وَمَنِ ادَّعَى دَعْوَى الجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّهُ مِنْ جُنَا جَهَنَّمَ، فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ صَلَّى وَصَامَ؟ قَالَ: وَإِنْ صَلَّى وَصَامَ، فَادْعُوا بِدَعْوَى اللهِ الَّذِي سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ الْمُؤْمِنِينَ، عِبَادَ اللَّهِ

"আল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়‍্যা-কে পাঁচটি কাজের আদেশ দিয়েছিলেন, যেন তিনি নিজে সেগুলো মেনে চলেন এবং বানূ ইসরাঈলকে মেনে চলার আদেশ দেন। এসব নির্দেশ পৌঁছে দিতে তিনি কিছুটা দেরি করায়, ঈসা ইবনু মারইয়াম বলেন- 'আল্লাহ আপনাকে পাঁচটি কাজের আদেশ দিয়েছিলেন, যেন সেগুলো আপনি নিজে মেনে চলেন এবং বানু ইসরাঈলকে মেনে চলার আদেশ দেন। হয় আপনি তাদের আদেশ দেবেন, অথবা আমি দেবো [২]।' তখন ইয়াহইয়া বলেন- '(ভাই আমার!) [১] আমার আগে তুমি এ কাজ করলে, আমার আশঙ্কা হয়-আমাকে ধসিয়ে দেওয়া হবে অথবা (অন্য কোনও) শাস্তি দেওয়া হবে।' এরপর তিনি লোকদেরকে বাইতুল মাকদিসে জড়ো করলে, মাসজিদটি কানায় কানায় ভরে ওঠে। লোকজন উঁচু স্থানগুলোতে বসার পর, তিনি বলেন [২]—

'আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের আদেশ দিয়েছেন, যেন সেগুলো আমি নিজে মেনে চলি এবং তোমাদের মেনে চলার আদেশ দিই।

> প্রথম কাজটি হলো: তোমরা আল্লাহর গোলামি করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনোকিছুকে শরীক করবে না [৩]। যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করে, তার উদাহরণ হলো: একব্যক্তি নিজের একান্ত সম্পদ-স্বর্ণ বা রুপা-দিয়ে একটি গোলাম কিনে এনে বলল, "এ হলো আমার ঘর, আর এ হলো আমার ব্যাবসা-কর্ম; তুমি কাজ করতে থাকো আর মুনাফা আমাকে দিয়ো।” সে কাজ করে মুনাফা মনিবকে না দিয়ে অন্যকে দিতে থাকল। তোমার গোলাম এরূপ কাজ করুক-এটা তোমাদের কার কার পছন্দ?

> আল্লাহ তোমাদেরকে নামাজ আদায়ের আদেশ দিয়েছেন। নামাজ আদায়কালে তোমাদের চেহারা অন্যদিকে সরাবে না, কারণ, বান্দা তার নামাজের মধ্যে যতক্ষণ চেহারা না ঘুরায়, ততক্ষণ আল্লাহ তার চেহারার দিকে মনোনিবেশ করেন।

> তিনি তোমাদেরকে রোযা রাখার আদেশ দিয়েছেন। রোযার উদাহরণ হলো: একব্যক্তির কাছে মেঙ্ক-সমৃদ্ধ একটি থলে আছে। তার পাশে আছে একদল লোক। মেশকের ঘ্রাণে সবাই মুগ্ধ [৪]। রোযাদারের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশকের ঘ্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয়।

> তিনি তোমাদেরকে দান-সদাকার আদেশ দিয়েছেন। দানের উদাহরণ হলো: একব্যক্তিকে শত্রুবাহিনী বন্দি করে, তার হাত কাঁধের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে দিলো। এরপর তার গর্দানে আঘাত করার জন্য তাকে এগিয়ে নিয়ে গেল। তখন সে বলল, "আমার অল্প-বিস্তর সম্পদ যা আছে, তা মুক্তিপণ হিসেবে আপনাদের দিয়ে দিচ্ছি।” [১] এরপর মুক্তিপণ দিয়ে সে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল [২]।

> আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য তিনি তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। এর উদাহরণ হলো: একব্যক্তিকে শত্রুপক্ষ খুঁজে বেড়াচ্ছে। তারা তার পিছু ধাওয়া করলে, একপর্যায়ে সে একটা সুরক্ষিত দুর্গে এসে নিজেকে সুরক্ষিত করে নিল। তেমনিভাবে, বান্দা নিজেকে শয়তান থেকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে, তার একমাত্র মাধ্যম হলো আল্লাহর যিক্র।"

এরপর আল্লাহর রাসূল বলেন, “আর আমি তোমাদের আদেশ দিচ্ছি পাঁচটি কাজের, যার আদেশ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন: > জামাআত বা সংঘবদ্ধভাবে থাকা; > (আল্লাহ তাআলার বিধিনিষেধ) শোনা; > আনুগত্য করা; > হিজরত করা; এবং > আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ বা সংগ্রাম করা। যে-ব্যক্তি জামাআত বা সংঘ থেকে এক বিঘত পরিমাণ সরে যায়, সে যেন তার কাঁধ থেকে [৪] ইসলামের (আনুগত্যের) রশি খুলে ফেলল, তবে যদি সে ফিরে আসে তা হলে ভিন্ন কথা [৫]। আর যে-ব্যক্তি জাহিলিয়াতের দাবিতে দাবিদার হয় [৬], তাকে নির্ঘাত জাহান্নামের কয়লা হতে হবে।

একব্যক্তি বলল [৭], "হে আল্লাহর রাসূল! সে যদি নামাজ পড়ে আর রোযা রাখে, তার পরও?” নবি বলেন, "সে যদি নামাজ পড়ে আর রোযা রাখে, তার পরও [৮]। সুতরাং, তোমরা আল্লাহর দাওয়াত দিয়ে (লোকদের) ডাকো, যিনি তোমাদের নাম রেখেছেন- 'মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী), মুমিন (বিশ্বাসী), ইবাদুল্লাহ (আল্লাহর গোলাম) [১]।”'

তিরমিযি ২৮৬৩, সহীহ, ২৮৬৪; আহমাদ ৪/১৩০ (১৭১৭০), ৪/২০২ (১৭৮০০); তাবারানি, কাবীর ৩/৩২৩ (৩৪২৭); ইবনু হিব্বান ১৪/১২৪-১২৬ (৬২৩৩); মাওয়ারিদুষ যমআন ১৫৫০।

ইমাম ইবনু হিব্বানের মতে, জামাআত বা সংঘ দ্বারা সাহাবিদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। সাহাবিদের পর জামাআত দ্বারা সেসব লোক উদ্দেশ্য, যাদের মধ্যে দ্বীনদারি, বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের সমন্বয় ঘটে। গণমানুষের উচিত নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ বাদ দিয়ে তাদের অনুসরণ করা, সংখ্যায় তারা কম হলেও। সাধারণ গণমানুষ সংখ্যায় বেশি হলেও জামাআত বলতে তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বোঝানো হয়নি। (ইবনু হিব্বান ১৪/১২৬-১২৭।)।

টিকাঃ
[২] فَإِمَّا أَنْ تُبْلُلُّغَهُنَّ، وَإِمَّا أَنْ أُبَلُّغَهُنَّ "হয় সেসব বার্তা আপনি পৌঁছাবেন, নতুবা আমি পৌঁছে দেবো” (আহমাদ ১৭১৭০)।
[১] لَا تَفْعَلْ يَا أَخِي “ভাই আমার! তুমি এ কাজ কোরো না” (আহমাদ ১৭১৭০; তাবারানি, কাবীর ৩/৩২৩ (৩৪২৭))।
[২] فَوَعَظَهُمْ قَالَ “তাদের উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন” (আবু ইয়ালা ১৫৭২); فَحْمَدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ "আল্লাহ তাআলার প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করার পর তিনি বলেন” (আহমাদ ১৭১৭০)।
[৩] وَإِنَّ اللَّهَ خَلَقَكُمْ وَرَزَقَكُمْ فَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا “আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তোমাদের জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করেছেন, সুতরাং তাঁর সঙ্গে কোনোকিছুকে শরীক কোরো না।” (আবূ ইয়ালা ১৫৭২; ইবনু হিব্বান ৬২০০)।
[৪] وَإِنَّ الصِّيَامَ “রোযা” (আবু ইয়া'লা ১৫৭২; ইবনু হিব্বান ৬২০০); وَإِنَّ خُلُوْفَ فَمِ الصَّائِمِ "রোযাদারের মুখের ক্ষুধাজনিত ঘ্রাণ” (আহমাদ ১৭১৭০)।
[১] هَلْ لَكُمْ أَنْ أُفْدِيَ نَفْسِي مِنْكُمْ "আমি কি মুক্তিপণ দিয়ে আপনাদের হাত থেকে বাঁচতে পারি?” (আবু ইয়া'লা ১৫৭২; আহমাদ ১৭১৭০; ইবনু হিববান ৬২০০)।
[২] فَجَعَلَ يُعْطِيْهِمُ الْقَلِيْلَ وَالْكَثِيرَ لِيَفْتَكَ نَفْسَهُ مِنْهُمْ "এরপর সে নিজেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য, তার অল্প-বিস্তর সম্পদ তাদের দিতে লাগল।” (আবূ ইয়া'লা ১৫৭২)।
[৩] كثيرًا "বেশি বেশি” (আবু ইয়া'লা ১৫৭২; আহমাদ ১৭১৭০)।
[৪] مِنْ رَأْسِهِ "তার মাথা থেকে” (আবূ ইয়ালা ১৫৭২)।
[৫] إِلَى أَنْ يَرْجِعَ "যতক্ষণ-না সে ফিরে আসছে” (আহমদ ১৭৮০০)।
[৬] مَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ “যে ব্যক্তি জাহিলিয়াতের আহ্বান দিয়ে (লোকদের) ডাকে” (আবু ইয়া'লা ১৫৭২; আহমদ ১৭১৭০)।
[৭] "তারা বললেন” (আহমদ ১৭১৭০)।
[৮] وَإِنْ صَامَ وَإِنْ صَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ "সে যদি রোযা রাখে, নামাজ আদায় করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে, তার পরও” (আহমদ ১৭১৭০, ১৭৮০০; তাবারানি, কাবীর ৩/৩২৩ (৩৪২৭))।
[১] فَادْعُوا الْمُسْلِمِينَ بِأَسْمَائِهِمْ بِمَا سَمَّاهُمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الْمُسْلِمِينَ الْمُؤْمِنِينَ عِبَادَ اللَّهِ "মুসলিমদেরকে সেসব নামে ডাকো, যেসব নামে আল্লাহ তাআলা তাদের নামকরণ করেছেন-মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী), মুমিন (বিশ্বাসী), ইবাদুল্লাহ (আল্লাহর গোলাম)” (আহমদ ১৭১৭০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00