📄 শির্কের পরিণাম জাহান্নাম
[৪০৭.] জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একব্যক্তি নবি -এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করে, “হে আল্লাহর রাসূল! কোন দুটি কাজ (জান্নাত ও জাহান্নাম) অবধারিত করে দেয়?” নবি বলেন,
مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ
“যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোনোকিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত না করে মারা যায়, [১] সে জান্নাতে যাবে; আর যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোনোকিছুকে অংশীদার করে মারা যায়, সে জাহান্নামে যাবে।” [২]
মুসলিম ২৬৯/৫১ (৯৩); আহমাদ ৩/৩২৫ (১৪৪৮৮), ৩/৩৭৪ (১৫০১৬), ৩/৩৯১ (১৫২০০); তাবারানি, আওসাত ১/২৫১-২৫২ (৮৬৫, মাঝখানের অংশবিশেষ), ৪/১৬৫ (৫৫৮৫); বাইহাকি, শুআব ৩/২৯৮-২৯৯ (৩৫৮৯, মাঝখানের অংশবিশেষ); কানযুল উম্মাল ১/৮৩ (৩৪৩); ১/৮৪ (৩৫২); ৬/৩৭৯ (১৬১৪৩, মাঝখানের অংশবিশেষ), ৮/৪৫২-৪৫৩ (২৩৬২১, মাঝখানের অংশবিশেষ); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৯ (২৬), ১/২১ (৩০, ৩১), ১/২৩ (৪০); জামউল ফাওয়াইদ ১৬।
[৪০৮.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস বলেন, 'আমি এসে দেখি আল্লাহর রাসূল তাঁর কয়েকজন সাহাবির মাঝখানে বসে আছেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব। আমি গিয়ে কথার শেষাংশ নাগাল পাই। তখন আল্লাহর রাসূল বলছিলেন
مَنْ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الْعَصْرِ ، لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ
"যে-ব্যক্তি আসরের আগে চার রাকআত নামাজ আদায় করে, (জাহান্নামের) আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।" আমি হাতের ইশারায় বলি, "এমন!” তিনি হাত নেড়ে দেখান। "এ তো চমৎকার কথা!” তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন, "কথার শুরুর দিকের যে অংশটি আপনি শুনতে পাননি, তা তো আরও চমৎকার, আরও চমৎকার!” আমি বলি, "ইবনুল খাত্তাব! কী সেটি, বলুন!” উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন, "আল্লাহর রাসূল আমাদের বলেছেন যে,
مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، دَخَلَ الْجَنَّةَ
'যে-ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয়-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, সে জান্নাতে যাবে।'”
তাবারানি, আওসাত ২/৭৭ (২৫৮০), অধিকাংশের মতে এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী দুর্বল (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৭/৩৮৪ (১৯৪০১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২২ (৩৭)।
[৪০৯.] আনাস ইবনু মালিক আনসারি বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল -এর সঙ্গে সফরে আছি। এমন সময় হঠাৎ তাঁর বাহনটি একটি উপত্যকা থেকে নেমে নিচের দিকে যায়। তখন আল্লাহর রাসূল এর একা চলতে থাকেন। কিছুটা মসৃণ রাস্তায় পৌঁছুলে, নবি হাসি দিয়ে আল্লাহু আকবার বলেন। তাঁর তাকবীরের পরিপ্রেক্ষিতে আমরাও 'আল্লাহু আকবার' বলে ওঠি। এরপর কিছুদূর গিয়ে তিনি হাসি দিয়ে আল্লাহু আকবার বলেন। তাঁর তাকবীরের পরিপ্রেক্ষিতে আমরাও 'আল্লাহু আকবার' বলি। নবি-এর নাগাল পাওয়ার পর লোকজন জিজ্ঞেস করেন,
"আল্লাহর রাসূল! আপনি তাকবীর দিয়েছেন, তাই আমরাও তাকবীর দিয়েছি; কিন্তু হাসি দিলেন কেন, তা তো বুঝতে পারছি না।”
নবি বলেন,
قادَ النَّاقَةَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ ، فَلَمَّا أَسْهَلَتْ الْتَفَتَ إِلَيَّ ، فَقَالَ : أَبْشِرْ وَبَشِّرْ أُمَّتَكَ أَنَّهُ مَنْ قَالَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ النَّارَ ، فَضَحِكْتُ وَكَبَّرْتُ ، فَفَرِحْتُ بِذلِكَ لِأُمَّتِي
"জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমার উষ্ট্রীটিকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন। মসৃণ রাস্তায় পৌঁছার পর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'সুসংবাদ নিন এবং আপনার উম্মাহকে সুসংবাদ দিন-যে-ব্যক্তি বলবে "আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনও অংশীদার নেই", সে জান্নাতে যাবে এবং আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন [১] [২]। [৩]' এ কথা শুনে আমি হেসে দিই এবং তাকবীর পাঠ করি; আমার উম্মাহর জন্য এ কথা শুনে আমি খুশি হয়েছি [৪]।"'
তাবারানি, আওসাত ৫/৪২ (৬৫২২), ইসনাদের একজন বর্ণনাকারীকে কেউ কেউ দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন, আবার কারও কারও মতে তিনি বিশ্বস্ত (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/৫৪ (১৬৬), হাসান; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২২-২৩ (৩৮)।
টিকাঃ
[১] فَقَدْ حَلَّتْ لَهُ مَغْفِرَتُهُ "তার জন্য আল্লাহর ক্ষমা জরুরি হয়ে যায়” (তাবারানি, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ২৬); وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ “তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়” (তাবারানি, আওসাত ৮৬৫)।
[২] وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ “তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায়” (তাবারানি, আওসাত ৮৬৫)।
[১] لَقِيَ الله “আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে” (আহমাদ ৪/২৬০ (১৮২৮৪))।
[২] خَلَدَ فِي الْجَنَّةِ “সে জান্নাতে স্থায়ী হবে” (আহমাদ ৪/২৬০ (১৮২৮৪))।
[৩] حُرِّمَ عَلَى النَّارِ “তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেওয়া হবে” (আহমাদ ৪/২৬০ (১৮২৮৪))।
[৪] فَاسْتَبْشَرْتُ بِخَيْرٍ “আমি কল্যাণের সুসংবাদ পেয়ে খুশি হয়েছি” (তাবারানি, আওসাত ৫/৪২ (৬৫২২))।
📄 শির্ক-সহ আরও চারটি কাজের কোনও কাফফারা হয় না
[৪১০.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَأَدَّى زَكَاةَ مَالِهِ طَيِّبًا بِهَا نَفْسُهُ مُحْتَسِبًا، وَسَمِعَ وَأَطَاعَ، فَلَهُ الْجَنَّةُ أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَخَمْسٌ لَيْسَ لَهُنَّ كَفَارَةٌ : الشَّرْكُ بِاللهِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ بِغَيْرِ حَقٌّ، أَوْ بَهْتُ مُؤْمِنٍ، أَوِ الْفِرَارُ يَوْمَ الزَّحْفِ، أَوْ يَمِينُ صَابِرَةٌ يَقْتَطِعُ بِهَا مَالًا بِغَيْرِ حَقَّ
“যে-ব্যক্তি
> আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক না করে,
> খুশিমনে ও হিসাব করে নিজের সম্পদের যাকাত আদায় করে, এবং
> (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধিনিষেধ) শোনে ও মানে,
তার জন্য রয়েছে জান্নাত অথবা সে জান্নাতে যাবে। আর পাঁচটি বিষয়ের কোনও কাফফারা নেই:
> আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা,
> অন্যায়ভাবে প্রাণহরণ করা,
অথবা
> মুমিনকে অপবাদ দেওয়া,
অথবা
» যুদ্ধের সময় পালিয়ে যাওয়া,
অথবা
> জোরপূর্বক শপথ আদায় করে অন্যায়ভাবে কোনও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া।”'
আহমাদ ২/৩৬১-৩৬২ (৮৭৩৭), বর্ণনাসূত্রে বাকিয়্যা আছেন, যিনি মুদাল্লিস (হাইসামি); আত-তারগীব ২/৩০২-৩০৩ (৩), ৩/৫১৬ (৩৫); কানযুল উম্মাল ১/৮১ (৩৩১), ১৬/৭৯ (৪৪০০৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৩ (৩৮৩)।
📄 শির্ক থাকলে কোনও ভালো কাজ উপকারে আসবে না
[৪১১.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-কে বলতে শুনেছি-
مَنْ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا ، دَخَلَ الْجَنَّةَ ، وَلَمْ تَضُرَّ مَعَهُ خَطِيئَةٌ ، كَمَا لَوْ لَقِيَهُ وَهُوَ مُشْرِكْ بِهِ دَخَلَ النَّارَ ، وَلَمْ تَنْفَعُهُ مَعَهُ حَسَنَةٌ
“যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক না করে তাঁর সঙ্গে দেখা করবে, সে জান্নাতে যাবে, শির্ক না থাকলে অন্য কোনও ত্রুটি তার ক্ষতি করবে না; ঠিক যেভাবে কেউ আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করে দেখা করলে, সে জাহান্নামে যাবে, শির্ক থাকলে অন্য কোনও ভালো কাজ তার উপকারে আসবে না।"'
আহমাদ ২/১৭০ (৬৫৮৬), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত); কানযুল উম্মাল ১/৮১ (৩২৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৯ (২৪)।
📄 শির্ক, পিতামাতার অবাধ্যতা ও জিহাদ থেকে পলায়ন—এ তিনটির সঙ্গে কোনও আমল উপকারে আসবে না
[৪১২] সাওবান থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন-
ثَلَاثَةٌ لَا يَنْفَعُ مَعَهُنَّ عَمَلُ: الشَّرْكُ بِاللهِ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ، وَالْفِرَارُ مِنَ الزَّحْفِ
"তিনটির সঙ্গে কোনও আমল উপকারে আসবে না:
> আল্লাহর সঙ্গে শির্ক,
> পিতামাতার অবাধ্যতা, ও
> জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন।"'
তাবারানি, কাবীর ২/৯৫ (১৪২০), বর্ণনাসূত্রে ইয়াযীদ ইবনু রবীআ ভীষণ ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); আত-তারগীব ২/৩০২ (২); কানযুল উম্মাল ১৬/৩৫ (৪৩৮২৪), ১৬/৬০ (৪৩৯৩৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩০৪ (৩৯০)।