📄 মুসলিমদের জামাআত ত্যাগ করা, মনিবের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া, স্বামীর অনুপস্থিতিতে সৌন্দর্য-प्रदर्शन করা, অহংকার করা
[৪০২.] ফাদালা ইবনু উবাইদ থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
ثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ : رَجَلٌ فَارَقَ الْجَمَاعَةً وَعَصَى إِمَامَهُ وَمَاتَ عَاصِيًا، وَأَمَةٌ أَوْ عَبْدٌ أَبَقَ مِنْ سَيِّدِهِ فَمَاتَ، وَامْرَأَةٌ غَابَ زَوْجُهَا وَقَدْ كَفَاهَا مُؤْنَةَ الدُّنْيَا فَخَانَتْهُ بَعْدَهُ، وَثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ : رَجُلٌ يُنَازِعُ اللَّهَ رِدَاءَهُ فَإِنَّ رِدَاءَهُ الْكِبْرُ وَإِزَارَهُ الْعِزُّ، وَرَجُلٌ فِي شَكٍّ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ، وَالْقَائِطُ مِنْ رَحْمَةِ الله
"তিনজন [১] (-এর গোনাহের কঠোরতা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করারই দরকার নেই:
> যে-ব্যক্তি (মুসলিমদের) সঙ্ঘবদ্ধ অবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নেতার অবাধ্য হয়, আর অবাধ্যতার মধ্যেই মারা যায়;
> যে দাসী বা দাস তার মনিব থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর মারা যায়; এবং
> যে-মহিলাকে তার স্বামী জীবনধারণের পর্যাপ্ত সামগ্রী দিয়ে কোথাও গেলে, সে তার অনুপস্থিতিতে স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে [১] [২]
আর (এ) তিনজন সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করার দরকার নেই:
» যে-ব্যক্তি আল্লাহর চাদর নিয়ে টানাটানি করে-তাঁর চাদর হলো অহংকার, আর পোশাক হলো ক্ষমতা;
» যে আল্লাহর কোনও বিষয়ে সংশয়ে ভোগে; আর
» যে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়।”
ইবনু হিব্বান ১০/৪২২-৪২৩ (৪৫৫৯), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত); তাবারানি, কাবীর ১৮/৩০৬ (৭৮৮), ১৮/৩০৬ (৭৮৯), ১৮/৩০৬ (৭৯০); আহমাদ ৬/১৯ (২৩৯৪৩); বাযযার (কাশফ) ১/৬১ (৮৪); বুখারি, মুফরাদ ৫৯০; ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৮৯; হাকিম ১/১১৯ (৪১১); বাইহাকি, শুআব ৬/১৬৫ (৭৭৯৭); আত-তারগীব ৩/২৮ (৪); কানযুল উম্মাল ১৬/৩০ (৪৩৭৯৯, ৪৩৮০০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৯ (৩৬১), ১/১০৫ (৪০১)।
টিকাঃ
[১] لَاثَةٌ لَا تَسْأَلُ عَنْهُمْ "তিনজন (-এর গোনাহের কঠোরতা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না” (তাবারানি, কাবীর ১৮/৩০৬ (৭৮৮))।
[১] فَتَبَرَّجَتْ وَتَمَرَّجَتْ بَعْدَهُ “স্বামী (কোথাও) যাওয়ার পর সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে ঘুরে বেড়ায়” (বুখারি, মুফরাদ ৫৯০; তাবারানি, কাবীর ১৮/৩০৬ (৭৮৮))।
[২] فَلَا تَسْأَلُ عَنْهُمْ “এদের (গোনাহের কঠোরতা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না” (তাবারানি, কাবীর ১৮/৩০৬ (৭৮৮))।
📄 আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকা
[৪০৩.] মুআয ইবনু জাবাল বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
لَا تَزَالُ الْمَرْأَةُ تَلْعَنُهَا الْمَلَائِكَةُ أَوْ قَالَ: يَلْعَنُهَا اللهُ وَمَلَائِكَتُهُ وَخُزَّانُ الرَّحْمَةِ وَخُزَّانُ الْعَذَابِ مَا انْتَهَكَتْ مِنْ مَعَاصِي اللهِ شَيْئًا
"নারী যতক্ষণ সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহর কোনও অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন" অথবা তিনি বলেছিলেন "তাকে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, রহমতের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ও আযাবের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ অভিশাপ দিতে থাকেন।"'
বাযযার ৭/১০৭-১০৮ (২৬৬৪), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, তবে ইসনাদটি বিচ্ছিন্ন (দারানি); বাযযার (কাশফ) ১/৭৩ (১১০); কানযুল উম্মাল ১৬/৪০১ (৪৫১০৭), হাসান; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৫-১০৬ (৪০২)।
📄 কথা-কাজে ধোঁকাবাজি ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া
[৪০ ৪.] আয়িশা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন-
هَلَكَ الْمُتَقَدِّرُوْنَ
“ধ্বংস সেসব লোক, যারা কথা-কাজে নোংরামি ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়!"'
আবূ নুআইম, হিলয়াতুল আউলিয়া ৮/৩৭৯, ইসনাদটি জাইয়িদ (দারানি); বুখারি, তারীখ ১/২৯২ (৯৩৯); তাবারানি, আওসাত ৫/৮৮ (৬৬৭২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪০৩)।
📄 কৃপণতা, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, আত্মগৌরব ও আত্মতৃপ্তি
[৪০৫.] ইবনু উমর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
ثَلَاتٌ مُهْلِكَاتٌ، وَثَلَاتٌ مُنْجِيَاتٌ، وَثَلَاثُ كَفَّارَاتٌ، وَثَلَاثُ دَرَجَاتٌ ، فَأَمَّا الْمُهْلِكَاتُ: فَشُح مُطَاعُ، وَهَوَى مُتَّبَعُ، وَإِعْجَابُ الْمَرْءِ بِنَفْسِهِ. وَأَمَّا الْمُنْجِيَاتُ: فَالْعَدْلُ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَاء وَالْقَصْدُ في الفَقْرِ وَالْغِنَى، وَخَشْيَةُ اللهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ. وَأَمَّا الْكَفَّارَاتُ: فَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ وَإِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي السَّبَرَاتِ، وَنَقْلُ الْأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ. وَأَمَّا الدَّرَجَاتُ: فَإِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَإِفْشَاءُ السلام، وَصَلَاةُ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامُ
“তিনটি কাজ ধ্বংস ডেকে আনে, তিনটি কাজ মুক্তি দেয়, তিনটি কাজ গোনাহ-মাফের উপায় আর তিনটি কাজ মর্যাদা বাড়ায়।
ধ্বংস ডেকে আনার কাজগুলো হলো-
» কৃপণতার আনুগত্য [২],
» কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, আর
» [১] আত্মগৌরব ও আত্মতুষ্টিতে ভোগা।
নাজাত বা মুক্তি দেওয়ার কাজগুলো হলো-
> রাগ ও সন্তুষ্টি উভয়াবস্থায় ইনসাফ করা [৩],
> দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য উভয়াবস্থায় মধ্যমপন্থা অনুসরণ করা, আর
> গোপন ও প্রকাশ্য উভয়াবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা [৪]।
কাফফারা বা গোনাহ-মাফের উপায়গুলো হলো-
> এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষায় থাকা,
> কনকনে ঠান্ডার সময় পরিপূর্ণ ওজু করা, ও
> পায়ে হেঁটে জামাআতে অংশগ্রহণ করা [৫]।
মর্যাদা-বৃদ্ধির কাজগুলো হলো-
> খাবার খাওয়ানো,
> সালামের প্রসার ঘটানো, ও
>> রাতে যখন লোকজন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করা।"'
তাবারানি, আওসাত ৪/২১২-২১৩ (৫৭৫৪), বর্ণনাসূত্রে ইবনু লাহীআ ও অজ্ঞাত-পরিচয় একজন আছেন (হাইসানি), ৪/১২৯ (৫৪৫২); বাযযার (কাশফ) ১/৫৯-৬০ (৮০), ১/৬০ (৮১), ১/৬০ (৮২), ১/৬০ (৮৩); উকাইলি ৩/৪৪৭; ইবনু আদি ৫/১৮৮২; মুসনাদুশ শিহাব ১/২১৪-২১৫ (৩২৫), ১/২১৫ (৩২৬), ১/২১৫ (৩২৭); হিইয়া ২/৩৪৩, ৩/২১৯; বাইহাকি, শুআব ১/৪৭১ (৭৪৫), ৫/৪৫২-৪৫৩ (৭২৫২); কানযুল উম্মাল ১৬/৪৫ (৪৩৮৬৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯০-৯১ (৩১৪), ১/৯১ (৩১৫, ৩১৬, ৩১৭)।
টিকাঃ
[২] وَهِيَ أَشَدُّهُنَّ “আর এটি সবচেয়ে জঘন্য" (বাইহাকি, শুআব ৫/৪৫২-৪৫৩ (৭২৫২))।
[১] مِنَ الْخُيْلَاءِ “অহংকার-জনিত” (তাবারানি, আওসাত ৪/১২৯ (৫৪৫২)); بِرَأْيِه "নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও মতামত নিয়ে” (বাযযার (কাশফ) ১/৬০ (৮১); ইবনু আদি ৫/১৮৮২; ডিলুইয়া ৩/২১১)।
[৩] كَلِمَةُ الْحَقِّ “সত্যের কথা উচ্চারণ করা” (বাইহাকি, শুআব ১/৪৭1 (৭45))।
[৪] تَقْوَى اللَّهِ “আল্লাহর অবাধ্যতা এড়িয়ে চলা” (বাইহাকি, শুআব ৫/৪৫২-৪৫৩ (৭২৫২))।
[৫] إِلَى الْجُمُعَاتِ "জুমুআর নামাজে” (বাযযার (কাশফ) ১/৫১-৬০ (৮০))।