📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 মিথ্যা কথা বলা

📄 মিথ্যা কথা বলা


[৩৯৪.] আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ

"আমি কি তোমাদের বলব না, সবচেয়ে বড়ো গোনাহ কী? (তা হলো-)
> আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা, ও
> পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।”

নবি সে-সময় হাতের দু বাহু দিয়ে দু রান ও দু পায়ের নলি পেটের সঙ্গে মিলিয়ে রেখে নিতম্বের ওপর বসে ছিলেন। এ-কথা বলার পর, বসার অবস্থা পরিবর্তন করে নবি নিজের জিহ্বার এক কোনা ধরে বলেন-

"সাবধান! আরেকটি (বড়ো গোনাহ) হলো মিথ্যা কথা বলা।"' أَلَا وَقَوْلُ الزُّوْرِ

তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড (সূত্র মাজমাউয যাওয়াইদ ৩৮৬), বর্ণনাসূত্রে আমর ইবনুল মুসাবির মুনকারুল হাদীস (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৩ (৩৮৬)।

[৩৯৫.] ইমরান ইবনু হুছাইন থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর নবি বলেন-

أَرَأَيْتُمُ الزَّانِي وَالسَّارِقَ وَشَارِبَ الْخَمْرِ مَا تَقُوْلُوْنَ فِيْهِمْ؟

"তোমরা কি ব্যভিচারী, চোর ও মদখোর-এদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ? এদের সম্পর্কে তোমাদের কী মত?"

তারা বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" নবি বলেন-

هُنَّ فَوَاحِشُ وَفِيهِنَّ عُقُوْبَةٌ ، أَلَا أُنَبِّئُكُمْ مَا أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ

"এগুলো খুবই খারাপ কাজ, এগুলোর জন্য শাস্তিও হবে। (তবে) আমি কি তোমাদের জানাব না, কবীরা গোনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো কোনটি? (সবচেয়ে বড়ো গোনাহ হলো-) আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা।"

এরপর নবি পাঠ করেন-

وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا )

“যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করল, সে এক বিশাল গোনাহের পথ রচনা করল।” (সূরা আন-নিসা ৪৮)

আর (আরেকটি বড়ো গোনাহ হলো) عُفُوْقُ الْوَالِدَيْنِ "পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।” এরপর তিনি পাঠ করেন-

(اشْكُرْ لِي وَلِوَلِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ)

"কৃতজ্ঞ হও আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি; আমার কাছেই (সবাইকে) ফিরে আসতে হবে।” (সূরা লুকমান ১৪)

নবি এতক্ষণ হেলান দিয়ে ছিলেন। তারপর সে-অবস্থা থেকে সরে এসে বলেন-

أَلَا وَقَوْلُ الزُّوْرِ

"সাবধান! (আরেকটি বড়ো গোনাহ হলো) মিথ্যা কথা বলা।"'

তাবারানি, কাবীর ১৮/১৪০ (২৯৩), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, তবে হাসান মুদাল্লিস (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৮৩২ (৮৮৮৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৩ (৩৮৭)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 জমির সীমানা পরিবর্তন, অশ্রুকে ভুলপথে চালানো, সমকামিতা

📄 জমির সীমানা পরিবর্তন, অশ্রুকে ভুলপথে চালানো, সমকামিতা


[৩৯৬.] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন-

لَعَنَ اللهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللهِ، لَعَنَ اللهُ مَنْ غَيَّرَ تُخُوْمَ الْأَرْضِ، وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمَهَ الْأَعْمَى عَنِ السَّبِيلِ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ سَبَّ وَالِدَهُ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيْهِ ، وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمٍ لُوطٍ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ

» [১] "যে-ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশে প্রাণী জবাই করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন
» যে-ব্যক্তি জমির চিহ্নাথ [২] বদলে ফেলে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন [৩],
» যে-ব্যক্তি অন্ধকে ভুলপথে পরিচালিত করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন,
» যে-ব্যক্তি তার জন্মদাতাকে [৪] গালি দেয়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন [৫],
» যে-ব্যক্তি তার আযাদকারী গোত্র ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন, [৫] আর
» আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন, যে সমকামিতায় লিপ্ত হয়,
» আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন, যে সমকামিতায় লিপ্ত হয়,
» আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন, যে সমকামিতায় লিপ্ত হয় [২] [০]।”

আহমাদ ১/৩০৯ (২৮১৬), ইসনাদটি জাইয়িদ (আরনাউত), ১/২১৭ (১৮৭৫), ১/৩১৭ (২৯১৩), ১/৩১৭ (২৯১৪), ১/৩১৭ (২৯১৫); আবূ ইয়া'লা ৪/৪০০ (২৫২১), ৪/৪১৪-৪১৫ (২৫৩৯); তাবারানি, কাবীর ১১/২১৮ (১১৫৪৬); ইবনু হিব্বান ১০/২৬৫-২৬৬ (৪৪১৭); হাকিম ৪/৩৫৬ (৮০৫২), ৪/৩৫৬ (৮০৫৩); বাইহাকি, কুবরা ৮/২৩১ (১৭০৯৯), ৮/২৩১ (১৭১০০); বাইহাকি, শুআব ৪/৩৫৪ (৫৩৭৩); কানযুল উম্মাল ১৬/৯১ (৫৪২), ১৬/৯১ (৫৪৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৩ (৩৮৪)।

টিকাঃ
[১] لَعَنَ اللَّهُ سَبْعَةٌ مِنْ خَلْقِهِ "আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সাতটি শ্রেণিকে অভিশাপ দিয়েছেন।" এরপর আল্লাহর রাসূল প্রত্যেক শ্রেণির কথা তিনবার উল্লেখ করে বলেন-' (হাকিম ৪/৩৫৬ (৮০৫৩))।
[২] حُدُودَ الْأَرْضِ "জমির সীমানা” (হ্যাকিন ৪/৩৫৬ (৮০৫৩))।
[৩] مَلْعُوْنُ مَنِ انْتَقَصَ شَيْئًا مِنْ تُخُوْمِ الْأَرْضِ بِغَيْرِ حَقَّهِ "অভিশপ্ত সে, যে অন্যায়ভাবে জমির চিহ্ন কমিয়ে ফেলে” (আবূ ইয়া'লা ৪/৪০০ ২৫২১)) ।
[৪] أَب "তার পিতাকে” (আহমাদ ১/২১৭ (১৮৭৫)); أُمَّهُ "তার মাকে” (আহমাদ ১/২১৭ (১৮৭৫)); وَالِدَيْهِ "তার পিতামাতাকে” (আহমাদ ১/৩১৭ (২১১৩))।
[৫] لَعَنَ "অভিশাপ দেয়” (বাইহাকি, কুবরা ৮/২৩১ (১৭০৯৯)); عَقَّ وَالِدَيْهِ "পিতামাতার অবাধ্য হয়” (আহমাদ ১/৩১৭ (২৯১৫))।
[৫] مَلْعُوْنُ مَنْ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ "অভিশপ্ত সে, যে পশুর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয়” (আহমাদ ১/২১৭ (১৮৭৫))।
[২] مَلْعُوْنُ مَلْعُوْنُ مَلْعُوْنُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمٍ لُوْطٍ "সমকামিতায় লিপ্ত ব্যক্তি অভিশপ্ত, অভিশপ্ত, অভিশপ্ত” (হাকিম ৪/৩৫৬ (৮০৫৩))।
[০] مَلْعُوْنُ مَنْ جَمَعَ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَابْنَتِهَا "অভিশপ্ত সে, যে মা-মেয়ে দুজনকে বিয়ে করে” (হাকিম ৪/৩৫৬ (৮০৫৩))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 জাদুবಿದ্যা, মুমিনদের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা

📄 জাদুবಿದ্যা, মুমিনদের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা


[৩৯৭.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন—

ثَلَاثُ مَنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ وَاحِدَةً مِنْهُنَّ، فَإِنَّ اللهَ يَغْفِرُ لَهُ مَا سِوَى ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ : مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا، وَلَمْ يَكُنْ سَاحِرًا يَتْبَعُ السَّحَرَةَ، وَلَمْ يَحْقِدْ عَلَى أَخِيهِ

"যার মধ্যে তিনটির কোনও একটিও থাকবে না, (তাকে মাফ করে দেওয়া হবে); কারণ, এসব বাদে অন্যগুলো আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেবেন [৮]। (যাদের মাফ করে দেওয়া হবে, তারা হলো-)

» যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক না-করে মারা যায়;
» যে-ব্যক্তি নিজে জাদুকর নয়, জাদুকরদের পেছনেও ছুটে না; আর
» যে-ব্যক্তি তার ভাইকে ঘৃণা করে না [৫]।"

তাবারানি, কাবীর ১২/২৪৩-২৪৪ (১৩০০৪), বর্ণনাসূত্রে লাইস ইবনু আবী সুলাইম রয়েছেন (হাইসামি); তাবারানি, আওসাত ১/২৬৫-২৬৬ (১১৭), ৪/৬৬ (৫২৩০); আত-তারগীব ৩/৪৬১ (২৩); কানযুল উম্মাল ১৫/৮৩৯-৮৪০ (৪৩৩৩৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৪ (৩৯২)।

টিকাঃ
[৮] فَإِنَّهُ يُغْفَرُ لَهُ مَا سِوَى ذَلِكَ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ "কারণ, আল্লাহ চাইলে তার অন্য অপরাধগুলো মাফ করে দেওয়া হবে” (তাবারানি, আওসাত ৪/৬৬ (৫২৩০))।
[৫] ; "আর” (তাবারানি, আওসাত ১/২৬৫-২৬৬ (১১৭))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া

📄 আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া


[৩৯৮.] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, ‘একব্যক্তি বলল, “আল্লাহর রাসূল! কবীরা গোনাহ কোনগুলো?” নবি বললেন—

» “আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা,
الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَالْإِيَاسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ وَالْقُنُوْطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ
> আল্লাহর দয়ার ব্যাপারে হতাশ হওয়া ও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া।”

বাযযার (কাশফ) ১/৭১ (১০৬), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৮৩২ (৮৮৮৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৪ (৩৯৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00