📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 বংশক্ষমতা ব্যবহার করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা

📄 বংশক্ষমতা ব্যবহার করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা


[৩৯১.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

عَبْدُ لَا يُطْفَأُ نَارُهُ ، وَلَا تَمُوْتُ دِيْدَانُهُ، وَلَا يُخَفَّفُ عَذَابُهُ : الَّذِي يُشْرِكُ بِاللَّهِ، وَرَجُلٌ جَرَّ رَجُلًا إِلَى سُلْطَانٍ بِغَيْرِ ذَنْبٍ فَقَتَلَهُ، وَرَجُلٌ عَقَّ وَالِدَيْهِ

"সেই বান্দার
> আগুন নেভানো হবে না,
> তার (দেহের ওপর লেলিয়ে-দেওয়া) পোকামাকড় মারা যাবে না, আর
> তার শাস্তি কমানো হবে না,
যে
> আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করে,
> রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে, আর
> পিতামাতার অবাধ্য হয়।”'

তাবারানি, আওসাত ৪/২৮২ (৫৯৯৩), বর্ণনাসূত্রের আলা ইবনু সিনানকে ইমাম আহমাদ 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১৬/৪৩ (৪৩৮৫২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৫ (৩৯৭)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, চুরি করা

📄 ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, চুরি করা


[৩৯২.] সালামা ইবনু কাইস বলেন, 'বিদায় হজের সময় আল্লাহর রাসূল বলেছেন-أَلَا إِنَّمَا هي أربع "মনে রাখবে, সেসব (বড়ো বড়ো গোনাহ) হলো চারটি।”

(সালামা বলেন,) আল্লাহর রাসূল -এর কাছ থেকে এগুলো শোনার দিন যতটা আগ্রহভরে এগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম, আজও সে আগ্রহে একটুও ভাটা পড়েনি। (নবি বলেছিলেন-)

لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَلَا تَزْنُوْا، وَلَا تَسْرِقُوا

» "আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক করো না,
» যে-প্রাণকে আল্লাহ সম্মান দিয়েছেন, অন্যায়ভাবে তা হত্যা করো না,
» ব্যভিচার করো না, আর
» চুরি করো না।"'

তাবারানি, কাবীর ৭/৩১ (৬৩১৭), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৪ (৩৯১)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 মদপান করা

📄 মদপান করা


[৩৯৩.] আমর ইবনু শুআইব তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, 'আল্লাহর রাসূল তাঁর সাহাবিদের বলেছেন-

أُبَايِعُكُمْ عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللهِ شَيْئًا، وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَلَا تَزْنُوْا، وَلَا تَسْرِقُوْا، وَلَا تَشْرَبُوا، فَمَنْ فَعَلَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَأُقِيمَ عَلَيْهِ حَدُّهُ فَهُوَ كَفَّارَةٌ، وَمَنْ سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ ضَمِنْتُ لَهُ الْجَنَّةَ

"আমি তোমাদের কাছ থেকে এ-মর্মে শপথ নিচ্ছি যে-তোমরা
» আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক করবে না,
» আল্লাহ যে প্রাণকে সম্মানিত করেছেন, অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করবে না,
» ব্যভিচার করবে না,
» চুরি করবে না, এবং
» মদপান করবে না। [৫]

যে-ব্যক্তি এগুলোর কোনও একটি করে, আর তার ওপর হদ (শারীআ'র নির্ধারিত শাস্তি) কার্যকর করা হয়, তা হলে সেটি হবে কাফফারা-স্বরূপ। আর আল্লাহ যার অপরাধ গোপন রাখবেন, তার হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব মহান আল্লাহর ওপর। আর যে এগুলোর কোনও একটিও করবে না, আমি তার জান্নাতের দায়িত্ব নেব।"'

তাবারানি, আওসাত ১/২৬৭ (৯২৩), ইসনাদটি হাসান (দারানি); ইবনু আদি ৬/২২০০-২২০১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৪-১০৫ (৩৯৬)।

টিকাঃ
[৫] وَلَا تَشْرَبُوْا مُسْكِرًا "নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করবে না” (তাবারানি'র আওসাত-এর বরাতে মাজমাউয যাওয়াইদ ৩৯৬)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 মিথ্যা কথা বলা

📄 মিথ্যা কথা বলা


[৩৯৪.] আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ

"আমি কি তোমাদের বলব না, সবচেয়ে বড়ো গোনাহ কী? (তা হলো-)
> আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা, ও
> পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।”

নবি সে-সময় হাতের দু বাহু দিয়ে দু রান ও দু পায়ের নলি পেটের সঙ্গে মিলিয়ে রেখে নিতম্বের ওপর বসে ছিলেন। এ-কথা বলার পর, বসার অবস্থা পরিবর্তন করে নবি নিজের জিহ্বার এক কোনা ধরে বলেন-

"সাবধান! আরেকটি (বড়ো গোনাহ) হলো মিথ্যা কথা বলা।"' أَلَا وَقَوْلُ الزُّوْرِ

তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড (সূত্র মাজমাউয যাওয়াইদ ৩৮৬), বর্ণনাসূত্রে আমর ইবনুল মুসাবির মুনকারুল হাদীস (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৩ (৩৮৬)।

[৩৯৫.] ইমরান ইবনু হুছাইন থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর নবি বলেন-

أَرَأَيْتُمُ الزَّانِي وَالسَّارِقَ وَشَارِبَ الْخَمْرِ مَا تَقُوْلُوْنَ فِيْهِمْ؟

"তোমরা কি ব্যভিচারী, চোর ও মদখোর-এদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ? এদের সম্পর্কে তোমাদের কী মত?"

তারা বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" নবি বলেন-

هُنَّ فَوَاحِشُ وَفِيهِنَّ عُقُوْبَةٌ ، أَلَا أُنَبِّئُكُمْ مَا أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ

"এগুলো খুবই খারাপ কাজ, এগুলোর জন্য শাস্তিও হবে। (তবে) আমি কি তোমাদের জানাব না, কবীরা গোনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো কোনটি? (সবচেয়ে বড়ো গোনাহ হলো-) আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা।"

এরপর নবি পাঠ করেন-

وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا )

“যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করল, সে এক বিশাল গোনাহের পথ রচনা করল।” (সূরা আন-নিসা ৪৮)

আর (আরেকটি বড়ো গোনাহ হলো) عُفُوْقُ الْوَالِدَيْنِ "পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।” এরপর তিনি পাঠ করেন-

(اشْكُرْ لِي وَلِوَلِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ)

"কৃতজ্ঞ হও আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি; আমার কাছেই (সবাইকে) ফিরে আসতে হবে।” (সূরা লুকমান ১৪)

নবি এতক্ষণ হেলান দিয়ে ছিলেন। তারপর সে-অবস্থা থেকে সরে এসে বলেন-

أَلَا وَقَوْلُ الزُّوْرِ

"সাবধান! (আরেকটি বড়ো গোনাহ হলো) মিথ্যা কথা বলা।"'

তাবারানি, কাবীর ১৮/১৪০ (২৯৩), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, তবে হাসান মুদাল্লিস (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৮৩২ (৮৮৮৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৩ (৩৮৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00