📄 ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দেওয়া, আত্মহত্যা করা
[৩৮৯.] মুআয ইবনু জাবাল থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি বলল, "আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল শেখান, যা মেনে চললে আমি জান্নাতে যাব।” নবি বললেন [৬]
لا تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ حُرِّقْتَ، وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَخْرَجَاكَ مِنْ مَالِكَ، وَلَا تَشْرَبِ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرِّ ، لَا تَتْرُكَنَّ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللهِ، لَا تُنَازِعِ الْأَمْرَ أَهْلَهُ وَإِنْ رَأَيْتَ أَنَّ لَكَ، أَنْفِقْ عَلَى أَهْلِكَ مِنْ طَوْلِكَ، وَلَا تَرْفَعِ الْعَصَا عَنْهُمْ، أَخِفْهُمْ في اللهِ، لَا تَغْلُلْ، لَا تَفِرُّ مِنَ الرَّحْفِ
» "আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক কোরো না, তোমাকে যদি পুড়িয়ে ফেলা হয়, তবুও [৭];
» পিতামাতার অনুগত থেকো, তারা যদি তোমার ধনসম্পদ থেকে তোমাকে বের করে দেয়, তবুও [১] [২];
» মদপান কোরো না, কারণ তা হলো সকল অনিষ্টের চাবি [৩] [৪];
» ইচ্ছা করে নামাজ ছেড়ে দিয়ো না, কারণ যে ইচ্ছা করে নামাজ ছেড়ে দেয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়;
» নেতৃত্বের হকদারদের সঙ্গে (নেতৃত্ব নিয়ে) লড়াই কোরো না, তোমার যদি মনে হয় [৫] (নেতৃত্বদানে) তোমার অধিকার আছে, তবুও;
» সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের লোকদের পেছনে খরচ কোরো, তবে তাদের ওপর থেকে [৭] লাঠি তুলে নিয়ো না,
» পরিবারের লোকদের ভেতর আল্লাহর ভয় জাগিয়ো;
» আত্মসাৎ কোরো না;
» জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যেয়ো না [৬] [৮]।"
তাবারানি, কাবীর ২০/৮২ (১৫৬), বর্ণনাসূত্রে আমর ইবনু ওয়াকিদ আছেন, বুখারি ও একদল বিশেষজ্ঞের মতে তিনি 'ত্রুটিযুক্ত', তবে সূরি'র মতে তিনি 'সত্যনিষ্ঠ' (হাইসামি); তাবারানি, আওসাত ৬/৪৯-৫০ (৭৯৫৬); আহমাদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫); হিল্ইয়া ৯/৩০৬; কানযুল উম্মাল ১৬/৯৪ (৪৪০৪৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৫ (৩৯৯)।
টিকাঃ
[৫] 'একব্যক্তি আল্লাহর রাসূল-এর কাছে এসে বলল' (তাবারানি, আওসাত ৬/৪১-৫০ (৭৯৫৬))।
[৬] মুআয বলেন, 'আল্লাহর রাসূল আমাকে দশটি কাজের আদেশ দিয়েছেন-' (আহমদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[৭] وَإِنْ عُذَّبْتَ وَحُرِّقْتَ "তোমাকে যদি নির্যাতন করা হয়, পুড়িয়ে ফেলা হয়, তবুও” (তাবারানি, আওসাত ৬/৪১-৫০ (৭৯৫৬)); وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّفْتَ "তোমাকে যদি হত্যা করা হয়, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, তবুও” (আহমদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[১] وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ هُوَ لَكَ “এবং যা-কিছুতে তোমার অধিকার আছে, সেসবের প্রত্যেকটি থেকে” (তাবারানি, আওসাত ৬/৪৯-৫০ (৭১৫৬))।
[২] وَلَا تَعُقَّنَّ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ "পিতামাতার অবাধ্য হবে না, তারা যদি তোমাকে তোমার পরিবার ও সহায়সম্পদ থেকে বের হয়ে যেতে বলে, তবুও” (আহমাদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[৩] كُلِّ فَاحِشَةٍ “সকল অশ্লীলতার” (আহমাদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[৪] وَإِيَّاكَ وَالْمَعْصِيَةَ، فَإِنَّ بِالْمَعْصِيَةِ حَلَّ سَخَطُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ “গোনাহের ব্যাপারে সাবধান থেকো, কারণ গোনাহের ফলে মহান আল্লাহর ক্রোধের বাঁধ ভেঙে যায়” (আহমাদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[৫] وَإِنْ دَرَيْتَ “তোমার যদি বুঝে আসে” (হিলইয়া ৯/৩০৬)।
[৬] وَإِذَا أَصَابَ النَّاسَ مُوْتَانٌ وَأَنْتَ فِيهِمْ فَاثْبُتْ “কোনো এলাকার (লোকজন যদি মহামারিতে আক্রান্ত হয়, আর সে-সময় তুমি তাদের মধ্যে থাকো, তাহলে (সেখানেই) অবিচল থেকো” (আহমাদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[৭] اَدْبًا “আদবকায়দা শেখানোর জন্য” (আহমাদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[৮] وَإِيَّاكَ وَالْفِرَارَ مِنَ الرَّحْفِ وَإِنْ هَلَكَ النَّاسُ “জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যেয়ো না, যদি লোকজন ধ্বংস হয়ে যায়, তবুও” (আহমাদ ৫/২৩৮ (২২০৭৫))।
[৯] সাহল ইবনু আবী হাসমা তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি নবি -কে বলতে শুনেছি- اجْتَنِبُوا الْكَبَائِرَ السَّبْعَ "সাতটি বড়ো বড়ো গোনাহ থেকে বেঁচে থাকো।" এ-কথা শুনে লোকজন চুপ হয়ে যায়। কেউ কথা না বলায়, নবি বলেন- أَلَا تَسْأَلُوْنِي عَنْهُنَّ "তোমরা কি এগুলো সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চাইবে না?-" (তাবারানি, কাবীর ৬/১০৩ (৫৬৩৬))।
📄 হিজরত করার পর আবার বেদুইন-জীবনে ফিরে যাওয়া
[৩৯০.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন
الْكَبَائِرُ أَوَّلُهُنَّ الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ بِغَيْرِ حَقَّهَا، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَفِرَارُ يَوْمَ الزَّحْفِ، وَرَمْيُ الْمُحْصَنَاتِ، وَالانْتِقَالُ إِلَى الْأَعْرَابِ بَعْدَ هِجْرَتِهِ
"বড়ো বড়ো গোনাহগুলোর মধ্যে [১]
> প্রথমটি হলো আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা, (তারপর)
> অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা [২],
> সুদ খাওয়া,
> ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা,
> জিহাদের সময় পালিয়ে যাওয়া,
> সচ্চরিত্রের নারীদের অপবাদ দেওয়া, ও
> হিজরত করার পর আবার বেদুইন জীবনে ফিরে যাওয়া।"
বাযযার (কাশফ) ১/৭২ (১০৯), বর্ণনাসূত্রে উমর ইবনু আবী সালামা আছেন, শু'বা ও অন্যদের মতে তিনি 'ত্রুটিযুক্ত' আর আবু হাতিম, ইবনু হিব্বান ও অন্যদের মতে 'বিশ্বস্ত' (হাইসামি), ইসনাদটি হাসান (দারানি); তাবারানি, কাবীর ৬/১০৩ (৫৬৩৬); তাবারানি, আওসাত ৪/২০০ (৫৭০৯); কানযুল উম্মাল ৩/৫৪১ (৭৮০৫), ৩/৫৪৩ (৭৮১১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৩ (৩৮৫), ১/১০৩ (৩৮৮), ১/১০৪ (৩৯৩)।
টিকাঃ
[১] الْكَبَائِرُ سَبْعُ “বড়ো বড়ো গোনাহ সাতটি” (তাবারানি, আওসাত ৪/২০০ (৫৭০৯))।
[২] الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ “যা আল্লাহ হারাম করেছেন” (তাবারানি, আওসাত ৪/২০০ (৫৭০৯))।
📄 বংশক্ষমতা ব্যবহার করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা
[৩৯১.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
عَبْدُ لَا يُطْفَأُ نَارُهُ ، وَلَا تَمُوْتُ دِيْدَانُهُ، وَلَا يُخَفَّفُ عَذَابُهُ : الَّذِي يُشْرِكُ بِاللَّهِ، وَرَجُلٌ جَرَّ رَجُلًا إِلَى سُلْطَانٍ بِغَيْرِ ذَنْبٍ فَقَتَلَهُ، وَرَجُلٌ عَقَّ وَالِدَيْهِ
"সেই বান্দার
> আগুন নেভানো হবে না,
> তার (দেহের ওপর লেলিয়ে-দেওয়া) পোকামাকড় মারা যাবে না, আর
> তার শাস্তি কমানো হবে না,
যে
> আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করে,
> রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে, আর
> পিতামাতার অবাধ্য হয়।”'
তাবারানি, আওসাত ৪/২৮২ (৫৯৯৩), বর্ণনাসূত্রের আলা ইবনু সিনানকে ইমাম আহমাদ 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১৬/৪৩ (৪৩৮৫২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৫ (৩৯৭)।
📄 ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, চুরি করা
[৩৯২.] সালামা ইবনু কাইস বলেন, 'বিদায় হজের সময় আল্লাহর রাসূল বলেছেন-أَلَا إِنَّمَا هي أربع "মনে রাখবে, সেসব (বড়ো বড়ো গোনাহ) হলো চারটি।”
(সালামা বলেন,) আল্লাহর রাসূল -এর কাছ থেকে এগুলো শোনার দিন যতটা আগ্রহভরে এগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম, আজও সে আগ্রহে একটুও ভাটা পড়েনি। (নবি বলেছিলেন-)
لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَلَا تَزْنُوْا، وَلَا تَسْرِقُوا
» "আল্লাহর সঙ্গে কোনও শির্ক করো না,
» যে-প্রাণকে আল্লাহ সম্মান দিয়েছেন, অন্যায়ভাবে তা হত্যা করো না,
» ব্যভিচার করো না, আর
» চুরি করো না।"'
তাবারানি, কাবীর ৭/৩১ (৬৩১৭), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৪ (৩৯১)।