📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 তবে, নবি ﷺ-এর সঙ্গে সুসম্পর্কের ওসিলায় তার শাস্তি কিছুটা কমানো হয়েছে

📄 তবে, নবি ﷺ-এর সঙ্গে সুসম্পর্কের ওসিলায় তার শাস্তি কিছুটা কমানো হয়েছে


[৩৭২,] [উম্মু সালামা থেকে বর্ণিত, 'বিদায় হজের বছর হারিস ইবনু হিশাম নবি -এর কাছে এসে বলেন,

"আল্লাহর রাসূল! আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো আচরণ করা, ইয়াতীমকে আশ্রয় দেওয়া, মেহমানকে আপ্যায়ন করা, অভাবী লোকদের খাবার খাওয়ানো-এসব কাজ আমি করে চলেছি [১]। আর এ সবগুলোই করতেন হিশাম ইবনুল মুগীরা। [৪] আল্লাহর রাসূল, তার (পরিণতি) সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?"

নবি বলেন-

(كُلُّ قَبْرٍ لَا يَشْهَدُ صَاحِبُهُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ فَهُوَ حَذْوَةٌ مِنَ النَّارِ، وَقَدْ وَجَدْتُ عَنِّي أَبَا طَالِبٍ فِي طَمُطَامٍ مِنَ النَّارِ فَأَخْرَجَهُ اللهُ بِمَكَانِهِ مِنِّي وَإِحْسَانِهِ إِلَيَّ فَجَعَلَهُ فِي ضَحْضَاحِ مِنَ النَّارِ

"যে-কবরের বাসিন্দা এ-সাক্ষ্য দেয়নি যে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, সে জাহান্নামের একটি জ্বলন্ত লাকড়ি। আমার চাচা আবূ তালিবকে দেখেছিলাম জাহান্নামের মাঝখানে; আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক ও আমার প্রতি তার সদাচরণ-এসবের ভিত্তিতে আল্লাহ তাকে সেখান থেকে বের করে এনে, জাহান্নামের অগভীর অংশে রেখেছেন।"'

তাবারানি, কাবীর ২৩/৪০৫ (৯৭২), বর্ণনাসূত্রের আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি আকীলের হাদীস মুনকার, মুহাদ্দিসগণ তার হাদীস দিয়ে প্রমাণ পেশ করেন না, তবে (কারও কারও পক্ষ থেকে) তাকে বিশ্বস্ত আখ্যায়িত করা হয়েছে (হাইসামি), হাইসামি একাধিকবার তার হাদীসকে হাসান বলেছেন (দারানি); তাবারানি, আওসাত ৫/২১৭ (৭৩৮৯); কানযুল উম্মাল ১২/১৫১ (৩৪৪৩৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৮ (৪৭১)।

টিকাঃ
[১] 'বিদায় হজের বছর হারিস ইবনু হিশাম নবি -এর কাছে এসে বলেন' (তাবারানি, আওসাত ৫/২৯৭ (৭৩৮৯))।
[২] নবি -এর স্ত্রী (তাবারানি, আওসাত ৫/২১৭ (৭৩৮৯))।
[৩] 'একবার' (তাবারানি, আওসাত ৫/২৯৭ (৭৩৮৯))।
[৪] "আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো আচরণ করা, ইয়াতীমকে আশ্রয় দেওয়া, মেহমানকে আপ্যায়ন করা, অভাবী লোকদের খাবার খাওয়ানো-এসব কাজে আপনি উৎসাহ দিয়ে থাকেন। এ সবগুলোই হিশাম ইবনুল মুগীরা পালন করতেন।” (তাবারানি, আওসাত ৫/২৯৭ (৭৩৮৯))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 হাতিম তাই

📄 হাতিম তাই


[৩৭৩.] সাহল ইবনু সাদ সাইদি বলেন, 'আদি ইবনু হাতিম আল্লাহর রাসূল-এর কাছে এসে বলেন, "আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন, অসহায় লোকদের বোঝা কাঁধে তুলে নিতেন, (মানুষকে) খাবার খাওয়াতেন [১]।” নবি বলেন, هَلْ أَدْرَكَ الْإِسْلَامَ "তিনি কি ইসলামের নাগাল পেয়েছিলেন?" আদি বলেন, “না।” নবি বলেন-

إِنَّ أَبَاكَ كَانَ يُحِبُّ أَنْ يُذْكَرَ فَذُكِرَ

"তোমার পিতা (লোকমুখে) আলোচিত হতে চেয়েছিলেন, ইতোমধ্যে তিনি আলোচিত হয়ে গিয়েছেন [২]।”

তাবারানি, কাবীর ৬/১৯৭ (৫৬৮৭), বর্ণনাসূত্রে রিশদীন ইবনু সাদ পরিত্যাজ্য (হাইসামি), ১৭/১০৪ (২৫০); আহমাদ ৪/২৫৮ (১৮২৬২, প্রথম অংশ), হাসান (আরনাউত); বাযযার (কাশফ) ১/৬৪ (৯২); কানযুল উম্মাল ৬/৪৫১ (১৬৪৯৫, ১৬৪৯৬), ১৪/৩৫ (৩৭৮৬৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৯ (৪৭৪, ৪৭৫, ৪৭৬)।

টিকাঃ
[১] "আর এই এই কাজ করতেন” (তাবারানি, কাবীর ১৭/১০৪ (২৫০))।
[২] إِنَّ أَبَاكَ أَرَادَ أَمْرًا، فَأَدْرَكَهُ "তোমার পিতা একটি জিনিস চেয়েছিলেন, আর তিনি তা পেয়ে গিয়েছেন।” অর্থাৎ তিনি আলোচিত হতে চেয়েছিলেন। (তাবারানি, কাবীর ১৭/১০৪ (২৫০)); ذَاكَ رَجُلٌ أَرَادَ أَمْرًا فَأَدْرَكَهُ "তিনি এমন এক ব্যক্তি, যিনি যা চেয়েছিলেন তা পেয়ে গিয়েছেন।” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৪ (৯২))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আমির দব্বি

📄 আমির দব্বি


[৩৭৪.] সালমান ইবনু আমির দব্বি বলেন, 'আমি নবি -এর কাছে এসে বলি, "আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করতেন, এবং কোনোকিছুর দায়িত্ব পেলে তা সুন্দরভাবে পালন করতেন।” নবি বলেন, وَلَمْ يُدْرِكِ الْإِسْلَامَ "তবে তিনি ইসলামের (যুগ) নাগাল পাননি [১]?” তিনি বলেন, “না।” আমি ফেরার জন্য রওয়ানা হলে, তিনি বলেন عَلَيَّ بِالشَّيْخِ "বয়স্ক লোকটিকে ডাকো।” (এরপর) তিনি বলেন-

يَكُوْنُ ذَلِكَ فِي عَقِبِكَ، فَلَنْ يَذِلُّوا أَبَدًا، وَلَنْ يَفْقُرُوْا أَبَدًا

"তিনি তোমার পেছনে থাকবেন, ফলে তারা কখনও অপদস্থ হবে না, নিঃস্বও হবে না।"

তাবারানি, কাবীর ৬/২৭৬ (৬২১৩), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি), ইসনাদটি হাসান (দারানি); বুখারি, তারীখ ৪/১৩৬; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৯ (৪৭৭)।

টিকাঃ
[১] "তিনি ইসলামের (যুগ শুরু হওয়ার) আগে মারা গিয়েছেন।” (বুখারি, তারীখ ৪/১৩৬)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 কবি ইমরুউল কাইস

📄 কবি ইমরুউল কাইস


[৩৭৫.] সাঈদ ইবনু ফারওয়া ইবনি আফীফ ইবনি মা'দীকারিব তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূল-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় ইয়ামান থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসে (কবি) ইমরাউল কাইস ইবনু হুজর কিনদি'র কথা আলোচনা করে। একপর্যায়ে তারা তার কবিতার দুটি পঙ্ক্তি উল্লেখ করে, যেখানে আরবের সারি জলাধারের উল্লেখ ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল বলেন-

ذَاكَ رَجُلٌ مَذْكُورٌ فِي الدُّنْيَا، مَنْسِي فِي الْآخِرَةِ، شَرِيفٌ فِي الدُّنْيَا، خَامِلٌ فِي الْآخِرَةِ، يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَهُ لِوَاءُ الشُّعَرَاءِ يَقُوْدُهُمْ إِلَى النَّارِ

"সে এমন এক লোক-যে দুনিয়ায় আলোচিত, কিন্তু পরকালে বিস্মৃত, দুনিয়ায় সম্মানিত, তবে পরকালে গুরুত্বহীন; সে কিয়ামাতের দিন কবিদের পতাকা নিয়ে হাজির হবে, (আর) তাদের নেতৃত্ব দিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।”'

তাবারানি, কাবীর ১৮/১০০ (১৮০), সাঈদ ইবনু ফারওয়া ইবনি আফীফ ইবনি মা'দীকারিবের আলোচনা করতে কাউকে দেখিনি (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৯ (৪৭৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00