📄 নবি ﷺ-এর মায়ের অবস্থান
[৩৬৫.] আবূ রযীন [১] বলেন, 'আমি বললাম, "আল্লাহর রাসূল! আমার মা কোথায় আছেন?" নবি বললেন, أُمَّكَ فِي النَّارِ "তোমার মা জাহান্নামে।” আমি বললাম, “তা হলে, আপনার পরিবারের যারা গত হয়ে গিয়েছেন, তারা কোথায়?” নবি বলেন, أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُوْنَ أُمُّكَ مَعَ أَبِّي "তোমার মা আমার মায়ের সঙ্গে আছেন, এতে কি তুমি সন্তুষ্ট নও?”'
আহমাদ ৪/১১ (১৬১৮৯), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি), ওয়াকী' ইবনু হুদুস অজ্ঞাত হওয়ায় ইসনাদটি ত্রুটিযুক্ত (আরনাউত); তাবারানি, কাবীর ১৯/২০৮ (৪৭১); ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৬৩৮; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৬ (৪৬৩)।
[৩৬৬.] ইবনু বুরাইদা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, 'আমরা নবি-এর সঙ্গে ছিলাম [২]। একপর্যায়ে তিনি আমাদের নিয়ে যাত্রাবিরতি দেন। সে-সময় তাঁর সঙ্গে আমাদের অশ্বারোহীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার। তখন নবি দু রাকআত নামাজ আদায় করে, আমাদের দিকে চেহারা ঘুরান; তাঁর দু চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত। এ-দৃশ্য দেখে উমর ইবনুল খাত্তাব গিয়ে নবি-এর জন্য তার পিতামাতাকে উৎসর্গ করে বলেন, "আল্লাহর রাসূল! আপনার কী হয়েছে?" [৫] নবি বলেন-
إِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي فِي اسْتِغْفَارٍ لِأُثِّي، فَلَمْ يَأْذَنْ لِي فَدَمَعَتْ عَيْنَايَ رَحْمَةً لَهَا مِنَ النَّارِ، وَإِنِّي كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ ثَلَاثٍ: عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا لِتُذَكَّرَكُمْ زِيَارَتُهَا خَيْرًا، وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُوْمِ الْأَضَاحِي بَعْدَ ثَلَاثٍ، فَكُلُوْا وَأَمْسِكُوْا مَا شِئْتُمْ، وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ الْأَشْرِبَةِ فِي الْأَوْعِيَةِ، فَاشْرَبُوا فِي أَي وعاءٍ شِئْتُمْ، وَلَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا
“আমার মায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার ব্যাপারে আমার রবের কাছে (অনুমতি) চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। জাহান্নামের ব্যাপারে তার প্রতি মায়াস্বরূপ আমার দু চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছে [১]। তিনটি কাজ করতে আমি তোমাদের নিষেধ করেছিলাম:
» কবর যিয়ারত করা [২]। এখন থেকে তোমরা কবরগুলো যিয়ারত কোরো, কারণ কবর যিয়ারত তোমাদের ভালো কিছু স্মরণ করিয়ে দেবে [৩]।
» তিনদিনের পর কুরবানির মাংস রাখার ব্যাপারে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম [৪]। এখন থেকে (কুরবানির মাংস) খাও আর যতদিন ইচ্ছা সংরক্ষণ করো [৬] [৭] [৯]।
» কিছু পাত্রে কিছু পানীয়ের ব্যাপারে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম। এখন থেকে যে-পাত্রে মন চায় পান করো, তবে কোনও নেশাজাতীয় দ্রব্য পান কোরো না। [২]"
আহমাদ ৫/৩৫৫ (২৩০০৩), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ২/৪৪১ (১৬৮৮), ৫/৩৫০ (২২৯৫৮), ৫/৩৫৫ (২৩০০৫), ৫/৩৫৬ (২৩০১৬), ৫/৩৫৬-৩৫৭ (২৩০১৭), ৫/৩৫৯ (২৩০৩৮); মুসলিম ২২৫৮/১০৫ (৯৭৬), ২২৫৯ (...), ২২৬০/১০৬ (৯৭৭), ২২৬১ (...), ৫১১৪/৩৭ (১৯৭৭), ৫২০৭/৬৩ (১৭৭), ৫২০৮/৬৪ (...), ৫২০৯/৬৫ (...); ইবনু হিব্বান ১২/২১২-২১৩ (৫৩৯০), ১২/২১৩-২১৪ (৫৩৯১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৬-১১৭ (৪৬৪)।
[৩৬৭.] ইবনু বুরাইদা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূল -এর সঙ্গে ছিলাম। ওয়াদ্দান এলাকায় অথবা কবরস্থানে পৌঁছে নবি তাঁর মায়ের জন্য সুপারিশ করতে চান। তখন জিবরীল তাঁর বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, “যে-ব্যক্তি মুশরিক অবস্থায় মারা গিয়েছে, তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন না।" এরপর তিনি পেরেশানি নিয়ে ফিরে আসেন।'
বাযযার (কাশফ) ১/৬৬ (৯৬), বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল (দারানি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৭ (৪৬৫)।
[৩৬৮.] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল তাবুক যুদ্ধ থেকে এসে উমরা আদায় করেন। তারপর উসফান উপত্যকা থেকে নেমে তাঁর সাহাবিদের আদেশ দেন, তারা যেন নবি -এর ফিরে আসা পর্যন্ত গিরিপথে অবস্থান করেন। এরপর তিনি গিয়ে তাঁর মায়ের কবরের কাছে নামেন। এরপর তাঁর রবের কাছে দীর্ঘ মোনাজাত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নবি-এর কান্না দেখে তারাও কাঁদেন। তারা (নিজেদের মধ্যে) বলেন, "আল্লাহর নবি এখানে কাঁদছেন। নিশ্চয়ই তাঁর উম্মাহর মধ্যে এমন কিছু ঘটেছে, যা তিনি সহ্য করতে পারছেন না।" তাদের কান্না শুনে নবি উঠে তাদের কাছে এসে বলেন, مَا يُبْكِيْكُمْ "তোমরা কাঁদছো কেন’? তারা বলেন, "আল্লাহর নবি! আপনার কান্না শুনে আমরা কাঁদছি। আমরা বলেছিলাম, সম্ভবত আপনার উম্মাহর মধ্যে অসহনীয় কিছু একটা ঘটেছে।” নবি বলেন-
لَا ، وَقَدْ كَانَ بَعْضُهُ، وَلَكِنْ نَزَلْتُ عَلَى قَبْرِ أُنِّي فَدَعَوْتُ اللهَ أَنْ يَأْذَنَ لِي فِي شَفَاعَتِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَأَبَى اللَّهُ أَنْ يَأْذَنَ لِي فَرَحِمْتُهَا وَهِيَ أُتَيْ فَبَكَيْتُ، ثُمَّ جَاءَنِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: ﴿وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيْهِ إِلَّا عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ﴾ [الأنعام ٧٤) فَتَبَرَّأُ أَنْتَ مِنْ أُمِّكَ كَمَا تَبَرَّأَ إِبْرَاهِيمُ مِنْ أَبِيهِ، فَرَحِمْتُهَا وَهِيَ أُتِي وَدَعَوْتُ رَبِّي أَنْ يَرْفَعَ عَنْ أُمَّتِي أَرْبَعًا فَرَفَعَ عَنْهُمْ اثْنَتَيْنِ وَأَبَى أَنْ يَرْفَعَ عَنْهُمُ اثْنَتَيْنِ، دَعَوْتُ رَبِّي أَنْ يَرْفَعَ عَنْهُمُ الرَّجْمَ مِنَ السَّمَاءِ، وَالْغَرِقَ مِنَ الْأَرْضِ، وَأَنْ لَا يَلْبِسَهُمْ شِيَعًا وَأَنْ لَا يُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ، فَرَفَعَ اللهُ عَنْهُمُ الرَّجْمَ مِنَ السَّمَاءِ، وَالْغَرِقَ مِنَ الْأَرْضِ، وَأَبَى اللَّهُ أَنْ يَرْفَعَ عَنْهُمُ اثْنَتَيْنِ الْقَتْلَ وَالْهَرْجَ
"না। কিছু একটা হয়েছে বটে। তবে আমি নেমেছিলাম আমার মায়ের কবরের উদ্দেশে। আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলাম, তিনি যেন আমাকে কিয়ামাতের দিন তার ব্যাপারে সুপারিশ করার অনুমতি দেন। আল্লাহ আমাকে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার প্রতি মায়ার ফলে আমি কেঁদেছি, কারণ তিনি আমার মা। তারপর জিবরীল আমার কাছে এসে বললেন, ইবরাহীম যে তার পিতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিলেন, সেটি ছিল নিছক একটি ওয়াদার ফল, যে-ওয়াদা তিনি তার পিতাকে দিয়েছিলেন। পরে যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল-সে আল্লাহর শত্রু, তখন তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। (সূরা আল-আনআম ৭৪)। সুতরাং আপনার মায়ের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করুন, যেভাবে ইবরাহীম তার পিতার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলেন। তখন তার জন্য আমার মায়া লাগে, তিনি তো আমার মা।
আমার রবের কাছে দুআ করলাম, তিনি যেন আমার উম্মাহ থেকে চারটি জিনিস তুলে নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তাদের কাছ থেকে দুটি জিনিস তুলে নেন, আর দুটি তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানান। আমার রবের কাছে দুআ করেছিলাম, তিনি যেন তাদের কাছ থেকে
> আকাশ-থেকে-আসা প্রস্তরবর্ষণের শাস্তি তুলে নিন,
> মাটিতে নিমজ্জিত হওয়ার শাস্তি তুলে নেন,
> তাদেরকে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত না করেন, এবং
> তাদের একদলকে অপরদলের রণশক্তির মজা না দেখান।
আকাশ-থেকে-আসা পাথর-বর্ষণের শাস্তি ও মাটিতে দেবে যাওয়ার শাস্তি-এ দুটি আল্লাহ তাদের কাছ থেকে তুলে নেন, কিন্তু দুটি জিনিস তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানান: খুনখারাবি ও গোলযোগ।"
নবি মূল রাস্তা থেকে সরে তাঁর মায়ের কবরের কাছে গিয়েছিলেন, কারণ তাকে অমুক অমুকের নিচে দাফন করা হয়েছিল। সে-সময় তারা উসফান উপত্যকায় অবস্থান নিয়েছিলেন।'
তাবারানি, কাবীর ১১/৩৭৪-৩৭৫ (১২০৪৯), বর্ণনাসূত্রে এমন কয়েকজন আছেন যারা আমার অচেনা, তাছাড়া তাদের সম্পর্কে আলোচনা করতেও কাউকে দেখিনি (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৭ (৪৬৬)।
টিকাঃ
[১] উকাইলি (ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৬৩৮)।
[২] 'এক সফরে' (ইবনু হিব্বান ১২/২১২-২১৩ (৫৩৯০))।
[৩] 'আমাদের নিয়ে' (ইবনু হিব্বান ১২/২১২-২১৩ (৫৩৯০))।
[৪] বুরাইদা বলেন, 'আমি নবি -এর সঙ্গে (এক অভিযানে) বের হই। আমরা ওয়াদ্দান এলাকায় পৌঁছার পর, নবি বলেন- مَكَائِكُمْ حَتَّى آتِيَكُمْ “আমি আসার আগ-পর্যন্ত তোমরা যার যার জায়গায় থাকো।” এ-কথা বলে তিনি চলে যান। কিছুক্ষণ পর মলিন চেহারা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন।' (আহমাদ ৫/৩৫৬-৩৫৭ (২৩০১৭)); 'আল্লাহর রাসূল (মক্কা) বিজয়ের অভিযান শেষে কবরস্থানের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন। সবচেয়ে কাছের কবরটির কাছে গিয়ে এমনভাবে বসে পড়েন, যেন তিনি একজন বসে-থাকা লোকের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপর কাঁদতে থাকেন।' (আহমাদ ৫/৩৫৯ (২৩০৩৮))।
[৫] 'তখন উমর এগিয়ে গিয়ে বলেন, "আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! আপনি কাঁদছেন কেন?" (আহমাদ ৫/৩৫৯ (২৩০৩৮))।
[১] إِنِّي أَتَيْتُ قَبْرَ أُمَّ مُحَمَّدٍ فَسَأَلْتُ رَبِّي الشَّفَاعَةَ فَمَنَعَنِيْهَا "আমি মুহাম্মাদের মায়ের কবরের কাছে গিয়েছিলাম। আমার রবের কাছে সুপারিশের অনুমতি চাইলে, তিনি আমাকে তা নাকচ করে দেন।” (আহমাদ ৫/৩৫৯-৩৬০ (২৩০৩৯)); سَأَلْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَأْذَنَ لِي فِي زِيَارَةِ قَبْرِ أُمَّ مُحَمَّدٍ فَأَذِنَ لِي، فَسَأَلْتُهُ أَنْ يَأْذَنَ لِيْ فَأَسْتَغْفِرْ لَهَا فَأَبِي "আমার মহামহিম রবের কাছে মুহাম্মাদের মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে, তিনি আমাকে অনুমতি দেন; তারপর তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি নাকচ করে দেন।” (আহমদ ৫/৩৫৯ (২৩০৩৮))।
[২] نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، وَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ أُذِنَ لَهُ فِي زِيَارَةٍ قَبْرِ أُمِّهِ "আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, ইতোমধ্যে মুহাম্মাদকে তার মায়ের কবর যিয়ারত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে” (আহমদ ৫/৩৫৬ (২৩০১৬))।
[৩] فَمَنْ شَاءَ فَلْيَزُرْ، فَقَدْ أُذِنَ لِي فِي زِيَارَةِ قَبْرٍ أُمَّ مُحَمَّدٍ، وَمَنْ شَاءَ فَلْيَدَعْ “যার মন চায়, সে কবর যিয়ারত করুক, আমাকে মুহাম্মাদের মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আর যার মন চায়, সে বাদ দিক।” (আহমদ ৫/৩৫৯ (২৩০৩৮)); আবূ হুরায়রা বলেন, ‘নবি তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করে কেঁদে ফেলেন। তাঁর আশেপাশের লোকজনও কাঁদেন। তখন আল্লাহর রাসূল বলেন- اسْتَأْذَنْتُ رَبِّيْ فِي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا، فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي، وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِي، فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكَّرُ الْمَوْتَ "আমার মায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার ব্যাপারে আমার রবের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে, তার কবর যিয়ারত করার জন্য তাঁর কাছে অনুমতি চাইলে, তিনি আমাকে অনুমতি দেন। সুতরাং তোমরা কবরগুলো যিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।” (আহমাদ ২/৪৪১ (১৬৮৮)); تُذَكَّرُ الْآخِرَةَ "তা আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়” (আহমদ ৫/৩৫৫ (২৩০০৫))।
[৪] أَنْ تُنْكِرْهَا فَوْقَ ثَلَاثٍ “তিনদিনের বেশি রাখতে” (আহমদ ৫/৩৫০ (২২৯৫৮))।
[৬] لِيُوْسِعَ ذُو السَّعَةِ عَلَى مَنْ لَا سَعَةَ لَهُ "যাতে সচ্ছল ব্যক্তিরা অসচ্ছল ব্যক্তিদের দান করতে পারে” (আহমদ ৫/৩৫৬ (২৩০১৬))।
[৭] مَا بَدًا لَكُمْ “যতদিন তোমাদের মনে ধরে” (আহমদ ৫/৩৫৬-৩৫৭ (২৩০১৭))।
[৯] فَكُلُوا وَتَزَوَّدُوْا وَاتَّخِرُوْا “(কুরবানির মাংস) খাও, সফরের সম্বল হিসেবে নিয়ে যাও, আর জমা করে রাখো” (আহমদ ৫/৩৫৫ (২৩০০৫))।
[২] نَهَيْتُكُمْ عَنْ هَذِهِ الْأَشْرِبَةِ فِي هَذِهِ الْأَوْعِيَةِ “এই এই পাত্রে এই এই পানীয়ের ব্যাপারে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম” (আহমাদ ৫/৩৫৬-৩৫৭ (২৩০১৭)); كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنِ الْأَشْرِبَةِ فِي ظُرُوْفِ الْأَدَمِ، فَاشْرَبُوا فِي كُلِّ وِعَاءٍ غَيْرَ أَنْ لَا تَشْرَبُوْا مُسْكِرًا "চামড়ার পাত্রে-রাখা পানীয়ের ব্যাপারে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম; এখন থেকে যে-কোনও পাত্রে পান করতে পারো, তবে তাতে মাদকতা চলে এলে তা পান কোরো না” (মুসলিম ৫২০৯/১৫(...); نَهَيْتُكُمْ عَنِ النَّبِيْدِ إِلَّا فِي سِقَاءٍ، فَاشْرَبُوا فِي الْأَسْقِيَّةِ كُلِّهَا، وَلَا تَشْرَبُوا مُسْكِرًا “পানপাত্র ছাড়া অন্য কোথাও রেখে নাবীয পান করতে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম। এখন থেকে সবধরনের পাত্রে রেখে পান করতে পারো, তবে তাতে মাদকতা সৃষ্টি হলে পান কোরো না” (আহমাদ ২/৩৫০ (২২৯৫৮)); نَهَيْتُكُمْ عَنْ نَبِيْدِ الْجَرَّ، فَانْتَبِذُوْا فِي كُلِّ وِعَاءِ، وَاجْتَنِبُوْا كُلَّ مُسْكِرٍ "মাটির পাত্রে (তৈরি) নাবীযের ব্যাপারে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম; এখন থেকে সব ধরনের পাত্রে নাবীয তৈরি করতে পারো, তবে নেশা-সৃষ্টি-করে এমন প্রত্যেকটি বস্তু থেকে দূরে থেকো।” (আহমদ ৫/৩৫৯ (২৩০৩৮)); وَعَنِ الظُّرُوفِ تَشْرَبُونَ فِيهَا الدُّبَّاءَ وَالْحَنْتَمَ وَالْمُزَفَّتَ، وَأَمَرْتُكُمْ بِظُرُوفٍ، وَإِنَّ الْوِعَاءَ لَا يُحِلُّ شَيْئًا وَلَا يُحَرِّمُهُ، فَاجْتَنِبُوْا كُلَّ مُسْكِرٍ "দুব্বা, হানতাম, মুযাফ্ফাত-এসব পাত্র থেকে পান করতে নিষেধ করেছিলাম আর (ভিন্ন) কিছু পাত্র থেকে পান করতে বলেছিলাম। মনে রাখবে-পাত্র নিজে থেকে কোনও বস্তুকে হালালও করে না, হারামও করে না। (হালাল-হারাম নির্ধারিত হয় বস্তুর প্রকৃতি অনুযায়ী)। সুতরাং নেশা-সৃষ্টি-করে এমন প্রত্যেকটি বস্তু থেকে দূরে থেকো।” (আহমাদ ৫/৩৫৯ (২৩০৩৮))।
📄 নবি ﷺ-এর পিতার অবস্থান
[৩৬৯.] আনাস থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি বলল, "আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায় আছেন?” নবি বলেন, فِي النَّارِ "জাহান্নামে।” লোকটি চলে যাওয়ার সময় নবি তাকে ডেকে বলেন-
"আমার পিতা ও তোমার পিতা উভয়ে জাহান্নামে [১]।"
মুসলিম ৫০০/৩৪৭ (২০৩); আহমাদ ৩/১১৯ (১২১৯২), ৩/২৬৮ (১৩৮৩৪)।
টিকাঃ
[১] 'লোকটির চেহারার অবস্থা দেখে নবি বলেন' (আহমাদ ৩/১১৯ (১২১৯২))।
📄 অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যারা মারা যায় তাদের পরিণতি
[৩৮০.] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, 'নবি-কে জিজ্ঞেস করা হলো, "জান্নাতী কারা?” জবাবে তিনি বলেন—
النَّبِيُّ فِي الْجَنَّةِ، وَالشَّهِيدُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْمَوْلُودُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْمَوْءُ وْدَةُ فِي الْجَنَّةِ
>> "নবিরা জান্নাতী,
>> শহীদরা জান্নাতী,
>> যারা শিশু (অবস্থায় মারা গিয়েছে) তারা জান্নাতী, এবং
>> যাদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হয়েছে তারা জান্নাতী।"'
বাযযার (কাশফ) ৩/৩০-৩১ (২১৬৮), মুহাম্মাদ ইবনু মুআবিয়া ইবনি মালিজ বাদে বর্ণনাসূত্রের অন্যরা বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি), ইসনাদটি জাইয়িদ (দারানি), ৩/৩১ (২১৬৯); আহমাদ ৫/৫৮ (২০৫৮৩), ৫/৫৮ (২০৫৮৫), ৫/৪০৯ (২৩৪৭৬); ইবনু আবী শাইবা ৫/৩৩৯ (১৯৮৫২); আবু দাউদ ২৫২১; তাবারানি, কাবীর ১/২৮৬ (৮৩৮); বাইহাকি, কুবরা ৯/১৬৩ (১৮৫৬১); আত-তামহীদ ১৮/১১৬; মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/২১৯ (১১৯৯৬, ১১৯৯৭, ১১৯৯৮)।
📄 নেককার সন্তান মুশরিক পিতার কোনও উপকারে আসবে না
[৩৮১.] আবূ সাঈদ [১] থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
لَيَأْخُذَنَّ رَجُلٌ بِيَدِ أَبِيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَيُقَطِّعَنَّهُ نَارًا يُرِيدُ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ فَيُنَادَى أَنَّ الْجَنَّةَ لَا يَدْخُلُهَا مُشْرِكٌ إِنَّ اللهَ قَدْ حَرَّمَ الْجَنَّةَ عَلَى كُلِّ مُشْرِكٍ فَيَقُوْلُ أَي رَبِّ أَبِي فَيُحَوَّلُ فِي صُورَةٍ قَبِيحَةٍ وَرِيحٍ مُنْتِنَةٍ فَيَتْرُكُهُ
"কিয়ামাতের দিন একব্যক্তি তার পিতার হাত ধরে আগুন অতিক্রম করে তাকে জান্নাতে নিতে চাইবে। [২] তখন তাকে ডেকে বলা হবে [৩] [৪]—জান্নাতে কোনও মুশরিক প্রবেশ করতে পারবে না, আল্লাহ প্রত্যেক মুশরিকের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। সে বলবে—রব আমার! ইনি তো আমার পিতা! তখন তার পিতাকে বিশ্রী আকৃতি ও দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুতে বদলে দেওয়া হলো [৫], সে তাকে ছেড়ে দেবে।"
আল্লাহর রাসূল -এর সাহাবিগণ মনে করতেন, সেই ব্যক্তিটি হবেন ইবরাহীম [৬]। অবশ্য আল্লাহর রাসূল উপরিউক্ত বর্ণনার চেয়ে বেশি কিছু বলেননি।'
আবু ইয়া'লা ২/৩১৫ (১০৪৯), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/৬৫ (৯৪); ইবনু হিব্বান ১/৪৮৬-৪৮৭ (২৫২); হাকিম ৪/৫৮৭-৫৮৮ (৮৭৪৬); কানযুল উম্মাল ১১/৪৮৮ (৩২৩০৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৮ (৪৬৯)।
[৩৮২.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন-
يَلْقَى رَجُلٌ أَبَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُوْلُ لَهُ: يَا أَبَتِ أَيَّ ابْنِ كُنْتُ لَكَ؟ فَيَقُولُ: خَيْرَ ابْنٍ فَيَقُولُ: هَلْ أَنْتَ مُطِيعِي الْيَوْمَ فَيَقُولُ: نَعَمْ فَيَقُولُ: خُذْ بِإِزْرَنِي فَيَأْخُذُ بِإِزْرَتِهِ ثُمَّ يَنْطَلِقُ حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَهُوَ يَعْرِضُ الخَلْقَ فَيَقُولُ يَا عَبْدِي ادْخُلْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شِئْتَ، فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ وَأَبِي مَعِي فَإِنَّكَ وَعَدْتَنِي أَنْ لَا تُخْرِيَنِي قَالَ: فَيَمْسَخُ اللَّهُ أَبَاهُ ضَبُعًا فَيُعْرِضُ عَنْهُ فَيَهْوِي فِي النَّارِ فَيَأْخُذُ بِأَنْفِهِ فَيَقُوْلُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَا عَبْدِي أَبُوكَ هُوَ؟ فَيَقُولُ: لَا وَعِزَّتِكَ
“একব্যক্তি কিয়ামাতের দিন তার পিতার সঙ্গে দেখা করে বলবে, 'আব্বা! আমি আপনার কেমন ছেলে ছিলাম?' সে বলবে, 'সবচেয়ে ভালো ছেলে।' ছেলে বলবে, 'আজকে আমার কথা শুনবেন?' পিতা বলবে, 'হ্যাঁ!' ছেলে বলবে, 'আমার কোমরবন্ধনী ধরুন।' সে তার কোমরবন্ধনী ধরবে [১]। তখন সে তাকে নিয়ে চলতে চলতে আল্লাহ তাআলার কাছে যাবে, তিনি তখন সৃষ্টিকুলের সামনে দৃশ্যমান থাকবেন। আল্লাহ বলবেন, 'বান্দা আমার! জান্নাতের যে-দরজা দিয়ে তোমার মন চায়, ঢুকো।' সে বলবে, 'রব আমার! আমার পিতা আমার সঙ্গে আছেন। তুমি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিলে-তুমি আমাকে অপদস্থ করবে না।' [২] আল্লাহ তাআলার তার পিতাকে বিকৃত করে হায়েনা বানিয়ে তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এরপর সে জাহান্নামে পড়বে। তার নাক ধরে আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'বান্দা আমার! এ কি তোমার পিতা?' সে বলবে, 'আপনার শক্তিমত্তার কসম, না [৩]।'”'
হাকিম ৪/৫৮৯ (৮৭৫০), মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ (হাকিম ও যাহাবি); বাযযার (কাশফ) ১/৬৬ (৯৭), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১১/৪৮৯ (৩২৩০৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৮ (৪৭০)।
টিকাঃ
[১] খুদরি (ইবনু হিব্বান ১/৪৮৬-৪৮৭ (২৫২))।
[২] فَلَتُقَطَّعَنَّهُ النَّارُ "আগুন তাকে (তার পিতার কাছ থেকে) বিচ্ছিন্ন করে দেবে” (হাকিম ৪/৫৮৭-৫৮৮ (৮৭৪৬))।
[৩] يُنَادِي مُنَادٍ "এক ঘোষক ডেকে বলবে” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৫ (৯৪))।
[৪] أَلَا "সাবধান!” (হাকিম ৪/৫৮৭-৫৮৮ (৮৭৪৬))।
[৫] فَيَتَحَوَّلُ فِي غَيْرِ صُوْرَتِهِ "তার চেহারা ভিন্ন রূপে বদলে গেলে” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৫ (৯৪))।
[৬] 'আল্লাহর রাসূল তাদের এ ধারণাকে নাকচ করে দেননি' (বাযযার (কাশফ) ১/৬৫ (৯৪))।
[১] فَيَأْخُذُ بِيَدِهِ “তার হাত ধরে” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৬ (৯৭))।
[২] ثُمَّ يَقُوْلُ مِثْلَ ذَلِكَ "এরপর সে (আবার) অনুরূপ কথা বলবে।” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৬ (৯৭))।
[৩] فَيَقُولُ: أَبُرُكَ فَيَقُوْلُ: لَا أَعْرِفُكَ ")জাহান্নামে পড়ার সময়) পিতা বলবে, 'আমি তোমার পিতা!' ছেলে বলবে, 'আমি তোমাকে চিনি না।' (বাযযার (কাশফ) ১/৬৬ (৯৭))।