📄 পরিবারে ভাঙন-ধরানো ইবলীসের প্রিয় কাজ
[৩৬২.] জাবির বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ [১]، ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ [২]، فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةٌ أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةٌ [৩] يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا، فَيَقُولُ: مَا صَنَعْتَ شَيْئًا، قَالَ : ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ [১] قَالَ: فَيُدْنِيْهِ مِنْهُ وَيَقُولُ: نِعْمَ أَنْتَ فَيَلْتَزِمُهُ
"ইবলীস তার রাজকীয় আসন পাতে পানির ওপর। তারপর সে তার বাহিনীকে বিভিন্ন অভিযানে পাঠায়। তাদের মধ্যে যে (মানুষকে) সবচেয়ে বেশি বিপথগামী করতে পারে, সে ইবলীসের সবচেয়ে কাছের বলে বিবেচিত হয়। (অভিযান শেষে) তাদের একজন এসে বলে, 'আমি এই এই কাজ করেছি।' ইবলীস বলে, 'তুমি (উল্লেখযোগ্য) কিছুই করোনি।' তারপর আরেকজন এসে বলে, 'আমি একলোকের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছি।' ইবলীস বলে, 'চমৎকার কাজ করেছ তুমি!' এ-কথা বলে সে তাকে জড়িয়ে ধরে [২]।”'
মুসলিম ৭১০৬/৬৭ (...), ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩), ৭১০৭/৬৮ (...); আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭), ৩/৩৩২ (১৪৫৫৪), ৩/৩৮৪ (১৫১১৯)।
টিকাঃ
[১] إِنَّ عَرْشَ إِبْلِيْسَ عَلَى الْبَحْرِ "ইবলীসের রাজকীয় আসন সাগরের ওপর।” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩))।
[২] فَيَفْتِنُوْنَ النَّاسَ "তারা গিয়ে লোকদের বিপথগামী করে” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩))।
[৩] أَعْظَمُهُمْ “সবচেয়ে মহান” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩)); أَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةٌ "তার কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান” (মুসলিম ৭১০৭/৬৮ (...))।
[১] أَهْلِهِ "তার পরিবারের” (আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭))।
[২] فَيُدْنِيهُ مِنْهُ “তাকে কাছে টেনে নেয়” (আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭))।
📄 কোনও কোনও অলৌকিক ঘটনা শয়তানের কারসাজি
[৩৬৩.] মুআবিয়া তার পিতা কুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'নবি-কে (নবি হিসেবে) পাঠানো হলে, আমি ইসলাম-গ্রহণের উদ্দেশে যাই। আমার ইচ্ছা ছিল, আমার সঙ্গে দু-তিনজন ব্যক্তিকেও ইসলাম গ্রহণ করাব। একপর্যায়ে [৩] একটি জলাধারের কাছে এসে দেখি, লোকজনের জটলা। ওখানে আমার সঙ্গে এক রাখালের দেখা হয়, যে ওই গ্রামের লোকদের ছাগল চরাত। সে বলে ওঠে, "আমি আর তোমাদের ছাগল চরাব না।" তারা বলে, “কেন?” সে বলে, "প্রতি রাতে নেকড়ে এসে বকরি নিয়ে যায়, আর তোমাদের এ-মূর্তিটি কেবল দাঁড়িয়ে থাকে, এটা না কোনও ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনও উপকারে আসে, এটা না অবস্থার কোনও পরিবর্তন ঘটায়, আর না পরিস্থিতির কোনও নিন্দা করে। [৫]"
এরপর তারা ফিরে যায়। এদিকে আমি চাচ্ছিলাম, তারা ইসলাম গ্রহণ করুক। সকালবেলা [৭] ওই রাখাল দৌড়ে এসে বলতে থাকে, "সুসংবাদ! সুসংবাদ! নেকড়েটি মূর্তির সামনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় [৮] পড়ে আছে।"
এ-কথা শুনে আমি তাদের সঙ্গে যাই। সেখানে গিয়ে তারা মূর্তিটাকে চুমু দেয় এবং একে সাজদা করে। এরা (মূর্তির উদ্দেশে) বলে, "এভাবেই (শায়েস্তা) কোরো।” এরপর আমি নবি -এর কাছে গিয়ে এ-ঘটনা বর্ণনা করি। [৩] তখন তিনি বলেন-
"শয়তান এদের বোকা বানিয়েছে। [৪]"' عَبَثَ بِهِمُ الشَّيْطَانُ
তাবারানি, কাবীর ১৯/৩১-৩২ (৬৭), বর্ণনাসূত্রের আযহার ইবনু সিনানকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন, তবে ইবনু আদি বলেছেন-তার বর্ণনা-করা হাদীসগুলো চলনসই, খুব বেশি মুনকার নয় (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮); হিলইয়া ২/৩০৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৫ (৪৫৬), ১/১১৪-১১৫ (৪৫৫)।
টিকাঃ
[৩] 'মদীনায়' (হিলইয়া ২/৩০৩)।
[৫] "মূর্তিটি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে; এটি না এ-কাজ অপছন্দ করে, আর না এ-অবস্থার পরিবর্তন করে।” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৭] 'ফজর নামাজের সময়' (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৮] "কোনও বাঁধন ছাড়াই হাত-পা একত্র অবস্থায়” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৩] 'আমরা আল্লাহর রাসূল-এর কাছে আসার পর, আমার পিতা তাঁকে এ ঘটনা শোনান।' (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৪] لَعِبَ بِهِمُ الشَّيْطَانُ "শয়তান এদের সঙ্গে খেলা করেছে।” (হিলইয়া ২/৩০৩); يَتَلَعَّبُ بِهِمُ الشَّيْطَانُ "শয়তান এদের সঙ্গে খেল-তামাশা করছে।” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
📄 মুমিনের পেছনে লেগে থেকে শয়তান ক্লান্ত হয়ে পড়ে
[৩৬৪.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَيُنْضِيْ شَيَاطِينَهُ كَمَا يُنْضِي أَحَدُكُمْ بَعِيْرَهُ فِي السَّفَرِ
"মুমিন তার (পেছনে নিযুক্ত) শয়তানদের ক্লান্ত করে তোলে, ঠিক যেমন সফর চলাকালে তোমরা তোমাদের উটকে ক্লান্ত করে তোলো।"'
আহমাদ ২/৩৮০ (৮৯৪০), বর্ণনাসূত্রে ইবনু লাহীআ আছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/১৪৫ (৭০৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৬ (৪৫৯)।