📄 শির্ক ও ঘৃণারারির জন্য ইবলীস তার চেলাকে মুকুট পরিয়ে দেয়
[৩৬০.] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন-
إِذَا أَصْبَحَ إِبْلِيسُ بَعَثَ جُنُودَهُ فَيَقُولُ: مَنْ أَضَلَّ الْيَوْمَ مُسْلِمًا أَلْبَسْتُهُ التَّاجَ فَيَجِيْتُوْنَ فَيَقُوْلُ أَحَدُهُمْ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى طَلَّقَ امْرَأَتَهُ. فَيَقُولُ: يُوشِكُ أَنْ يَتَزَوَّجَ وَيَجِيءُ هُذَا فَيَقُولُ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى عَقَّ وَالِدَيْهِ، فَيَقُولُ: يُوْشِكُ أَنْ يَبِرَّ ، وَيَجِيءُ هُذَا فَيَقُولُ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى أَشْرَكَ. فَيَقُوْلُ أَنْتَ أَنتَ.
"সকাল হলে ইবলীস তার বাহিনীকে (অভিযানে) পাঠানোর সময় বলে, 'আজ যে একজন মুসলিমকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে, তাকে মুকুট পরিয়ে দেবো।' তারপর (অভিযান শেষে) ফিরে এসে-
একজন বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে!' ইবলীস বলে, 'অচিরেই সে আবার বিয়ে করে নেবে।' আরেকজন এসে বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে তার পিতামাতার অবাধ্য হয়েছে!' ইবলীস বলে, 'অচিরেই সে ভালো ব্যবহার করবে।' আরেকজন এসে বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে শির্কে লিপ্ত হয়েছে!' ইবলীস বলে, 'তুমিই, তুমিই (বিজয়ী)!'[১]”'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র মাজমাউয যাওয়াইদ ৪৫৩, বর্ণনাসূত্রে আতা ইবনুস সাইব আছেন, তবে অন্যান্য বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত (হাইসামি); হাকিম ৪/৩৫০ (৮০২৭), ইসনাদটি সহীহ (হাকিম); কানযুল উম্মাল ১/২৫৭ (১২৮৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৪ (৪৫৩)।
টিকাঃ
[১] وَيَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى قَتَلَ فَيَقُولُ: أَنْتَ أَنْتَ وَيُلْبِسُهُ التَّاجَ "আরেকজন এসে বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে খুন করেছে!' ইবলীস বলে, 'তুমিই, তুমিই (বিজয়ী)।' এরপর তাকে মুকুট পরিয়ে দেয়।” (হাকিম ৪/৩৫০ (৮০২৭))।
📄 আর পথভ্রষ্ট করতে ব্যর্থ হলে ইবলীস তার চেলাকে শুলিতে চড়ায়
[৩৬১.] আবু রাইহানা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْبَحْرِ، فَيَتَشَبَّهُ بِاللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَدُوْنَهُ الْحُجُبُ، فَيَنْدُبُ جُنُودَهُ فَيَقُولُ: مَنْ لِفُلَانٍ الْآدَمِيِّ؟ فَيَقُوْمُ اثْنَانِ، فَيَقُولُ : قَدْ أَجَلْتُكُمَا سَنَةً، فَإِنْ أَغْوَيْتُمَاهُ وَضَعْتُ عَنْكُمَا الْبَعْثَ وَإِلَّا صَلَبْتُكُمَا
"ইবলীস তার রাজকীয় আসন পাতে সাগরের ওপর; এভাবে সে আল্লাহ তাআলার সাদৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করে। তার সামনে থাকে কয়েকটি পর্দা। সে তার বাহিনীকে ডেকে বলে, 'অমুক মানুষের মোকাবিলা করার জন্য কে আছো?' দুজন দাঁড়িয়ে গেলে সে বলে, 'তোমাদের এক বছর সময় দিলাম; তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারলে, তোমাদের (মৃত্যুর পর) পুনরুত্থান মওকুফ করে দেবো, আর ব্যর্থ হলে তোমাদের শূলে চড়াব।'”'
আবু রাইহানা-কে বলা হতো, 'আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে গিয়ে বহু শয়তানকে শূলে চড়ানো হয়েছে।'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র মাজমাউয যাওয়াইদ ৪৫৪, বর্ণনাসূত্রের ইয়াহইয়া ইবনু তালহা ইয়ারবৃয়ি-কে নাসাঈ 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন, তবে ইবনু হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত'-এ উল্লেখ করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/২৫৭ (১২৯০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৪ (৪৫৪)।
📄 পরিবারে ভাঙন-ধরানো ইবলীসের প্রিয় কাজ
[৩৬২.] জাবির বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ [১]، ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ [২]، فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةٌ أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةٌ [৩] يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا، فَيَقُولُ: مَا صَنَعْتَ شَيْئًا، قَالَ : ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ [১] قَالَ: فَيُدْنِيْهِ مِنْهُ وَيَقُولُ: نِعْمَ أَنْتَ فَيَلْتَزِمُهُ
"ইবলীস তার রাজকীয় আসন পাতে পানির ওপর। তারপর সে তার বাহিনীকে বিভিন্ন অভিযানে পাঠায়। তাদের মধ্যে যে (মানুষকে) সবচেয়ে বেশি বিপথগামী করতে পারে, সে ইবলীসের সবচেয়ে কাছের বলে বিবেচিত হয়। (অভিযান শেষে) তাদের একজন এসে বলে, 'আমি এই এই কাজ করেছি।' ইবলীস বলে, 'তুমি (উল্লেখযোগ্য) কিছুই করোনি।' তারপর আরেকজন এসে বলে, 'আমি একলোকের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছি।' ইবলীস বলে, 'চমৎকার কাজ করেছ তুমি!' এ-কথা বলে সে তাকে জড়িয়ে ধরে [২]।”'
মুসলিম ৭১০৬/৬৭ (...), ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩), ৭১০৭/৬৮ (...); আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭), ৩/৩৩২ (১৪৫৫৪), ৩/৩৮৪ (১৫১১৯)।
টিকাঃ
[১] إِنَّ عَرْشَ إِبْلِيْسَ عَلَى الْبَحْرِ "ইবলীসের রাজকীয় আসন সাগরের ওপর।” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩))।
[২] فَيَفْتِنُوْنَ النَّاسَ "তারা গিয়ে লোকদের বিপথগামী করে” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩))।
[৩] أَعْظَمُهُمْ “সবচেয়ে মহান” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩)); أَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةٌ "তার কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান” (মুসলিম ৭১০৭/৬৮ (...))।
[১] أَهْلِهِ "তার পরিবারের” (আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭))।
[২] فَيُدْنِيهُ مِنْهُ “তাকে কাছে টেনে নেয়” (আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭))।
📄 কোনও কোনও অলৌকিক ঘটনা শয়তানের কারসাজি
[৩৬৩.] মুআবিয়া তার পিতা কুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'নবি-কে (নবি হিসেবে) পাঠানো হলে, আমি ইসলাম-গ্রহণের উদ্দেশে যাই। আমার ইচ্ছা ছিল, আমার সঙ্গে দু-তিনজন ব্যক্তিকেও ইসলাম গ্রহণ করাব। একপর্যায়ে [৩] একটি জলাধারের কাছে এসে দেখি, লোকজনের জটলা। ওখানে আমার সঙ্গে এক রাখালের দেখা হয়, যে ওই গ্রামের লোকদের ছাগল চরাত। সে বলে ওঠে, "আমি আর তোমাদের ছাগল চরাব না।" তারা বলে, “কেন?” সে বলে, "প্রতি রাতে নেকড়ে এসে বকরি নিয়ে যায়, আর তোমাদের এ-মূর্তিটি কেবল দাঁড়িয়ে থাকে, এটা না কোনও ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনও উপকারে আসে, এটা না অবস্থার কোনও পরিবর্তন ঘটায়, আর না পরিস্থিতির কোনও নিন্দা করে। [৫]"
এরপর তারা ফিরে যায়। এদিকে আমি চাচ্ছিলাম, তারা ইসলাম গ্রহণ করুক। সকালবেলা [৭] ওই রাখাল দৌড়ে এসে বলতে থাকে, "সুসংবাদ! সুসংবাদ! নেকড়েটি মূর্তির সামনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় [৮] পড়ে আছে।"
এ-কথা শুনে আমি তাদের সঙ্গে যাই। সেখানে গিয়ে তারা মূর্তিটাকে চুমু দেয় এবং একে সাজদা করে। এরা (মূর্তির উদ্দেশে) বলে, "এভাবেই (শায়েস্তা) কোরো।” এরপর আমি নবি -এর কাছে গিয়ে এ-ঘটনা বর্ণনা করি। [৩] তখন তিনি বলেন-
"শয়তান এদের বোকা বানিয়েছে। [৪]"' عَبَثَ بِهِمُ الشَّيْطَانُ
তাবারানি, কাবীর ১৯/৩১-৩২ (৬৭), বর্ণনাসূত্রের আযহার ইবনু সিনানকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন, তবে ইবনু আদি বলেছেন-তার বর্ণনা-করা হাদীসগুলো চলনসই, খুব বেশি মুনকার নয় (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮); হিলইয়া ২/৩০৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৫ (৪৫৬), ১/১১৪-১১৫ (৪৫৫)।
টিকাঃ
[৩] 'মদীনায়' (হিলইয়া ২/৩০৩)।
[৫] "মূর্তিটি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে; এটি না এ-কাজ অপছন্দ করে, আর না এ-অবস্থার পরিবর্তন করে।” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৭] 'ফজর নামাজের সময়' (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৮] "কোনও বাঁধন ছাড়াই হাত-পা একত্র অবস্থায়” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৩] 'আমরা আল্লাহর রাসূল-এর কাছে আসার পর, আমার পিতা তাঁকে এ ঘটনা শোনান।' (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।
[৪] لَعِبَ بِهِمُ الشَّيْطَانُ "শয়তান এদের সঙ্গে খেলা করেছে।” (হিলইয়া ২/৩০৩); يَتَلَعَّبُ بِهِمُ الشَّيْطَانُ "শয়তান এদের সঙ্গে খেল-তামাশা করছে।” (বাযযার (কাশফ) ১/৬৭ (৯৮))।