📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইবলীসের বার্তাবাহক, খাবার, ফাঁদ, মোহক, মাসজিদ ও অন্যান্য বিষয়

📄 ইবলীসের বার্তাবাহক, খাবার, ফাঁদ, মোহক, মাসজিদ ও অন্যান্য বিষয়


[৩৫৯.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

قَالَ إِبْلِيسُ لِرَبِّهِ : يَا رَبِّ قَدْ أُهْبِطَ آدَمُ وَقَدْ عَلِمْتُ أَنَّهُ سَيَكُونُ كِتَابٌ وَرُسُلٌ، فَمَا كِتَابُهُمْ وَرُسُلُهُمْ؟ قَالَ: رُسُلُهُمْ الْمَلَائِكَةُ وَالنَّبِيُّوْنَ مِنْهُمْ، وَكُتُبُهُمْ التَّوْرَاةُ وَالزَّبُوْرُ وَالْإِنْجِيلُ وَالْفُرْقَانُ قَالَ: فَمَا كِتَابِي؟ قَالَ: كِتَابُكَ : الوَشْمُ، وَقُرْآنُكَ الشَّعْرُ، وَرُسُلُكَ الْكَهَنَةُ، وَطَعَامُكَ: مَا لَا يُذْكَرُ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ، وَشَرَابُكَ : كُلُّ مُسْكِرٍ، وَصِدْقُكَ الْكَذِبُ، وَبَيْتُكَ الْحَمَّامُ، وَمَصَائِدُكَ : النِّسَاءُ، وَمُؤَذِّنُكَ الْمِزْمَارُ، وَمَسْجِدُكَ الْأَسْوَاقُ.

"ইবলীস তার রবকে বলল-
'রব আমার! আদমকে তো নামিয়ে দেওয়া হলো। আর আমি জানতে পেরেছি, অচিরেই (আদম-সন্তানদের কাছে) কিতাব ও রাসূল পাঠানো হবে। তাদের কিতাব কী? আর তাদের বার্তাবাহক কারা?' তিনি বলেন-
'তাদের বার্তাবাহক হবে ফেরেশতারা আর তাদের মধ্যকার নবিগণ। তাদের কিতাবগুলো হলো তাওরাত, যাবুর, ইনজীল ও ফুরকান।'
ইবলীস বলে, 'তা হলে আমার কিতাব কী?' তিনি বলেন, 'তোমার কিতাব উল্কি, তোমার পঠিত বিষয় কবিতা, তোমার বার্তাবাহক গণকরা, তোমার খাবার সেসব জিনিস যা খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া হবে না, তোমার পানীয় নেশাজাতীয় দ্রব্য, তোমার জন্য সত্য সেটি যা মিথ্যা, তোমার ঘর গোসলখানা, তোমার ফাঁদ নারী, তোমার ঘোষক বাদ্যযন্ত্র, আর তোমার মাসজিদ হলো বাজার।'”'

তাবারানি, কাবীর ১১/১০৩-১০৪ (১১১৮১), বর্ণনাসূত্রের ইয়াহইয়া ইবনু সালিহ আইলিকে উকাইলি 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১৬/৯৮ (৪৪০৫৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৪ (৪৫২)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শির্ক ও ঘৃণারারির জন্য ইবলীস তার চেলাকে মুকুট পরিয়ে দেয়

📄 শির্ক ও ঘৃণারারির জন্য ইবলীস তার চেলাকে মুকুট পরিয়ে দেয়


[৩৬০.] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন-

إِذَا أَصْبَحَ إِبْلِيسُ بَعَثَ جُنُودَهُ فَيَقُولُ: مَنْ أَضَلَّ الْيَوْمَ مُسْلِمًا أَلْبَسْتُهُ التَّاجَ فَيَجِيْتُوْنَ فَيَقُوْلُ أَحَدُهُمْ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى طَلَّقَ امْرَأَتَهُ. فَيَقُولُ: يُوشِكُ أَنْ يَتَزَوَّجَ وَيَجِيءُ هُذَا فَيَقُولُ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى عَقَّ وَالِدَيْهِ، فَيَقُولُ: يُوْشِكُ أَنْ يَبِرَّ ، وَيَجِيءُ هُذَا فَيَقُولُ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى أَشْرَكَ. فَيَقُوْلُ أَنْتَ أَنتَ.

"সকাল হলে ইবলীস তার বাহিনীকে (অভিযানে) পাঠানোর সময় বলে, 'আজ যে একজন মুসলিমকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে, তাকে মুকুট পরিয়ে দেবো।' তারপর (অভিযান শেষে) ফিরে এসে-
একজন বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে!' ইবলীস বলে, 'অচিরেই সে আবার বিয়ে করে নেবে।' আরেকজন এসে বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে তার পিতামাতার অবাধ্য হয়েছে!' ইবলীস বলে, 'অচিরেই সে ভালো ব্যবহার করবে।' আরেকজন এসে বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে শির্কে লিপ্ত হয়েছে!' ইবলীস বলে, 'তুমিই, তুমিই (বিজয়ী)!'[১]”'

তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র মাজমাউয যাওয়াইদ ৪৫৩, বর্ণনাসূত্রে আতা ইবনুস সাইব আছেন, তবে অন্যান্য বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত (হাইসামি); হাকিম ৪/৩৫০ (৮০২৭), ইসনাদটি সহীহ (হাকিম); কানযুল উম্মাল ১/২৫৭ (১২৮৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৪ (৪৫৩)।

টিকাঃ
[১] وَيَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: لَمْ أَزَلْ بِهِ حَتَّى قَتَلَ فَيَقُولُ: أَنْتَ أَنْتَ وَيُلْبِسُهُ التَّاجَ "আরেকজন এসে বলে, 'আমি একজনের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত সে খুন করেছে!' ইবলীস বলে, 'তুমিই, তুমিই (বিজয়ী)।' এরপর তাকে মুকুট পরিয়ে দেয়।” (হাকিম ৪/৩৫০ (৮০২৭))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আর পথভ্রষ্ট করতে ব্যর্থ হলে ইবলীস তার চেলাকে শুলিতে চড়ায়

📄 আর পথভ্রষ্ট করতে ব্যর্থ হলে ইবলীস তার চেলাকে শুলিতে চড়ায়


[৩৬১.] আবু রাইহানা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْبَحْرِ، فَيَتَشَبَّهُ بِاللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَدُوْنَهُ الْحُجُبُ، فَيَنْدُبُ جُنُودَهُ فَيَقُولُ: مَنْ لِفُلَانٍ الْآدَمِيِّ؟ فَيَقُوْمُ اثْنَانِ، فَيَقُولُ : قَدْ أَجَلْتُكُمَا سَنَةً، فَإِنْ أَغْوَيْتُمَاهُ وَضَعْتُ عَنْكُمَا الْبَعْثَ وَإِلَّا صَلَبْتُكُمَا

"ইবলীস তার রাজকীয় আসন পাতে সাগরের ওপর; এভাবে সে আল্লাহ তাআলার সাদৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করে। তার সামনে থাকে কয়েকটি পর্দা। সে তার বাহিনীকে ডেকে বলে, 'অমুক মানুষের মোকাবিলা করার জন্য কে আছো?' দুজন দাঁড়িয়ে গেলে সে বলে, 'তোমাদের এক বছর সময় দিলাম; তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারলে, তোমাদের (মৃত্যুর পর) পুনরুত্থান মওকুফ করে দেবো, আর ব্যর্থ হলে তোমাদের শূলে চড়াব।'”'

আবু রাইহানা-কে বলা হতো, 'আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে গিয়ে বহু শয়তানকে শূলে চড়ানো হয়েছে।'

তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র মাজমাউয যাওয়াইদ ৪৫৪, বর্ণনাসূত্রের ইয়াহইয়া ইবনু তালহা ইয়ারবৃয়ি-কে নাসাঈ 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন, তবে ইবনু হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত'-এ উল্লেখ করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/২৫৭ (১২৯০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৪ (৪৫৪)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 পরিবারে ভাঙন-ধরানো ইবলীসের প্রিয় কাজ

📄 পরিবারে ভাঙন-ধরানো ইবলীসের প্রিয় কাজ


[৩৬২.] জাবির বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ [১]، ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ [২]، فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةٌ أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةٌ [৩] يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا، فَيَقُولُ: مَا صَنَعْتَ شَيْئًا، قَالَ : ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ [১] قَالَ: فَيُدْنِيْهِ مِنْهُ وَيَقُولُ: نِعْمَ أَنْتَ فَيَلْتَزِمُهُ

"ইবলীস তার রাজকীয় আসন পাতে পানির ওপর। তারপর সে তার বাহিনীকে বিভিন্ন অভিযানে পাঠায়। তাদের মধ্যে যে (মানুষকে) সবচেয়ে বেশি বিপথগামী করতে পারে, সে ইবলীসের সবচেয়ে কাছের বলে বিবেচিত হয়। (অভিযান শেষে) তাদের একজন এসে বলে, 'আমি এই এই কাজ করেছি।' ইবলীস বলে, 'তুমি (উল্লেখযোগ্য) কিছুই করোনি।' তারপর আরেকজন এসে বলে, 'আমি একলোকের পেছনে লেগে ছিলাম, শেষ-পর্যন্ত তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছি।' ইবলীস বলে, 'চমৎকার কাজ করেছ তুমি!' এ-কথা বলে সে তাকে জড়িয়ে ধরে [২]।”'

মুসলিম ৭১০৬/৬৭ (...), ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩), ৭১০৭/৬৮ (...); আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭), ৩/৩৩২ (১৪৫৫৪), ৩/৩৮৪ (১৫১১৯)।

টিকাঃ
[১] إِنَّ عَرْشَ إِبْلِيْسَ عَلَى الْبَحْرِ "ইবলীসের রাজকীয় আসন সাগরের ওপর।” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩))।
[২] فَيَفْتِنُوْنَ النَّاسَ "তারা গিয়ে লোকদের বিপথগামী করে” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩))।
[৩] أَعْظَمُهُمْ “সবচেয়ে মহান” (মুসলিম ৭১০৫/৬৬ (২৮১৩)); أَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةٌ "তার কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান” (মুসলিম ৭১০৭/৬৮ (...))।
[১] أَهْلِهِ "তার পরিবারের” (আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭))।
[২] فَيُدْنِيهُ مِنْهُ “তাকে কাছে টেনে নেয়” (আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৭))।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00