📄 সন্তান ও জীবিকা তাঁর নিয়ন্ত্রণে
[৩৫২.] আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ বলেন-
"তোমাদের মহান রবের কাছে দিনরাত বলে কিছু নেই। তাঁর চেহারার আলোতেই মহাকাশ ও পৃথিবী আলোকময়। তোমাদের এক দিন তাঁর কাছে বারো ঘণ্টা। তোমাদের গতকালের কাজকর্ম আজকের দিনের প্রথমভাগে তাঁর সামনে পেশ করা হয়। তিনি তা তিন ঘণ্টা দেখেন। সেখানে তাঁর অপছন্দের বিষয়গুলো দেখলে রেগে যান। তাঁর এ রাগের কথা সর্বপ্রথম জানতে পারেন আরশ-বহনকারীগণ। তারা বুঝতে পারেন, আরশ তাদের জন্য ভারী হয়ে ওঠেছে। তখন আরশ-বহনকারীগণ, আরশের ছাউনিগুলো এবং নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ-সহ সকল ফেরেশতা সাজদায় পড়ে যান। এরপর জিবরীল শিঙায় ফুঁ দিলে সবকিছুই এর আওয়াজ শুনতে পায়। তখন তারা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত করুণাময়ের প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করেন। একপর্যায়ে করুণাময়ের করুণা পূর্ণ রূপ লাভ করে। এ হলো ছয় ঘণ্টা। এরপর মাতৃগর্ভগুলোকে আনা হলে তিনি সেগুলো তিন ঘণ্টা দেখেন। এ-প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন-
هُوَ الَّذِي يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ
“তিনিই তোমাদের মাতৃগর্ভে আকৃতি দেন, যেভাবে তিনি চান।” (সূরা আল ইমরান ৩:৬)।
يَهَبُ لِمَن يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاءُ الذُّكُورَ (٤٩) أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَن يَشَاءُ عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
“তিনি যাকে চান কন্যাসন্তান দেন, যাকে চান পুত্রসন্তান দেন, অথবা তাদের পুত্র- ও কন্যাসন্তান মিলিয়ে দেন, আর যাকে চান বন্ধ্যা করে রাখেন; তিনি মহাজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান।” (সূরা আশ-শূরা ৪২:৪৯-৫০)।
এ হলো নয় ঘণ্টা। এরপর জীবিকার উপকরণগুলো আনা হলে তিনি সেগুলো তিন ঘণ্টা দেখেন। এ-প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন-
اللهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقْدِرُ
“আল্লাহ যাকে চান তার জীবনোপকরণে প্রশস্ততা দেন, আর (যাকে চান তার জীবনোপকরণ) সংকীর্ণ করে দেন।” (সূরা আর-রা'দ ১৩:২৬)। এ হলো তোমাদের ও তোমাদের মহান রবের অবস্থার অংশবিশেষ।”
তাবারানি, কাবীর ৯/২০০ (৮৮৮৬), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, তবে বর্ণনাসূত্রটি বিচ্ছিন্ন (দারানি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৫ (২৮৪)।
📄 মহাবিশ্বের বিশালতা
[৩৫৩.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূল-এর কাছে থাকাকালে, একখণ্ড মেঘ [১] অতিক্রম করে যায়। নবি বলেন, أَتَدْرُوْنَ مَا هَذِهِ؟ "জানো, এটা কী?” আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বলেন-
الْعَنَانُ، وَرَوَايَا الْأَرْضِ، يَسُوقُهُ اللهُ إِلَى مَنْ لَا يَشْكُرُهُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَا يَدْعُونَهُ، أَتَدْرُونَ مَا هَذِهِ فَوْقَكُمْ؟
"মেঘমালা-জমিনে বর্ষণের জন্য পানির ভান্ডার; আল্লাহ একে সেসব বান্দার উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছেন, যারা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, তাঁকে ডাকে না। জানো, তোমাদের ওপর এটা কী?"
আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বলেন-
الرَّقِيعُ، مَوْجُ مَكْفُوفُ، وَسَقْفُ مَحْفُوظٌ، أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهَا؟
"আকাশ-সুরক্ষিত তরঙ্গ ও নিরাপদ ছাদ। তোমরা কি জানো, তোমাদের ও এর মধ্যে ব্যবধান কতটুকু? [১]"
আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বলেন-
مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ أَتَدْرُونَ مَا الَّتِي فَوْقَهَا؟ سَمَاءُ أُخْرَى أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهَا؟
"পাঁচশ বছরের পথ। এর ওপর কী আছে, জানো?" আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বলেন-
مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ أَتَدْرُونَ مَا فَوْقَ ذَلِكَ الْعَرْشُ أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ؟
"পাঁচশ বছরের পথ।" এভাবে তিনি গুনে গুনে সাত আকাশের কথা উল্লেখ করে বলেন-
"তার ওপর কী আছে জানো?" আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বলেন-
"আরশ। এর ও সপ্তম আকাশের মধ্যে ব্যবধান কতটুকু, জানো?" আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বলেন-
"পাঁচশ বছরের পথ।" এরপর তিনি বলেন-
مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ أَتَدْرُونَ مَا هَذِهِ تَحْتَكُمْ؟ أَرْضُ، أَتَدْرُونَ مَا تَحْتَهَا؟
"তোমাদের নিচে কী আছে, জানো?" আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বলেন-
"জমিন। এর নিচে কী আছে, জানো?" আমরা বলি, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বলেন-
أَرْضُ أُخْرَى، أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَهُمَا؟
"আরেক জমিন। তোমরা কি জানো, দুটির মাঝখানে ব্যবধান কত?”
আমরা বলি, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তিনি বলেন-
"পাঁচশ বছরের পথ।" مَسِيرَةُ خَمْسٍ مِائَةِ عَامٍ
এভাবে তিনি গুনে গুনে সাত জমিনের কথা উল্লেখ করে বলেন-
وَايْمُ اللَّهِ، لَوْ دَلَّيْتُمْ أَحَدَكُمْ بِحَبْلٍ إِلَى الْأَرْضِ السُّفْلَى السَّابِعَةِ لَهَبَطَ
"শপথ আল্লাহর! যদি তোমাদের কাউকে একটি রশি দিয়ে সপ্তম জমিনের উদ্দেশে নামিয়ে দাও, সে গিয়ে পড়বে [১]"
এ-কথা বলার পর তিনি পাঠ করেন-
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
"তিনি প্রথম ও শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন; তিনি সব বিষয়ে জ্ঞানী।"'
আহমাদ ২/৩৭০ (৮৮২৮), বর্ণনাসূত্রটি ত্রুটিযুক্ত (আরনাউত); তিরমিযি ৩২৯৮; কানযুল উম্মাল ৬/১৪৮-১৪৯ (৫১৯০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৫-৮৬ (২৮৫)।
[৩৫৪.] ইবনু মাসউদ বলেন, 'নিকটতম আকাশ ও তার পরবর্তী আকাশের মাঝখানে ব্যবধান পাঁচশ বছরের পথ; প্রতি (দু) আকাশের মাঝখানে ব্যবধান পাঁচশ বছরের পথ; সপ্তম আকাশ ও কুরসির মাঝখানে ব্যবধান পাঁচশ বছরের পথ; কুরসি ও পানির মাঝখানে ব্যবধান পাঁচশ বছরের পথ; আরশ পানির ওপরে; আর আল্লাহ আরশের ওপরে; তিনি তোমাদের সকল বিষয়ের জ্ঞান রাখেন।'
তাবারানি, কাবীর ১/২২৮ (৮৯৮৭), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৬ (২৮৬)।
টিকাঃ
[১] 'তাদের ওপর দিয়ে' (তিরমিযি ৩২৯৮)।
[১] مَا بَيْنَهُمَا “উভয়ের মাঝখানে” (তিরমিযি ৩২৯৮)।
[১] عَلَى اللَّهِ “আল্লাহর ওপর” (তিরমিযি ৩২৯৮)।