📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 তাঁর আসন মহাকাশ ও পৃথিবী বেষ্টন করে রেখেছে

📄 তাঁর আসন মহাকাশ ও পৃথিবী বেষ্টন করে রেখেছে


[৩৪৩.] উমর থেকে বর্ণিত, 'এক মহিলা নবি-এর কাছে এসে বলে, "আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।" তখন তিনি বলেন—

إِنَّ كُرْسِيَّهُ وَسِعَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَإِنَّ لَهُ أَطِيطًا كَأَطِيطِ الرَّحْلِ الْجَدِيدِ إِذَا رُكِبَ مِنْ يُقَلِهِ

"তাঁর আসন মহাকাশ ও পৃথিবীকে বেষ্টন করে রেখেছো। [১] উটের নতুন পর্যাণে আরোহণ করা হলে ভারের দরুন যে (মড়মড়) আওয়াজ হয়, তা থেকে সে-ধরনের আওয়াজ আসে। [৩]"

বাযযার ১/৪৫৭ (৩২৫), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/২৯-৩০ (৩৯); ইবনু খুযাইমা, কিতাবুত তাওহীদ ১/২৪৪-২৪৫; ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৫৭৪; মাকদিসি ১/২৬৩-২৬৪ (১৫১); ইতহাফ ৮/৪৪৪ (৮৩৫৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৩-৮৪ (২৭৬)।

টিকাঃ
[১] 'আল্লাহ তাআলার মহিমা বর্ণনা করে' (মাকদিসি ১/২৬৩-২৬৪ (১৫১))।
[২] إِنَّ عَرْشَهُ فَوْقَ سَبْعِ سَمَوَاتٍ "তাঁর আরশ সাত আকাশের ওপর” (ইবনু আবী আসিম, কিতাবুস সুন্নাহ ৫৭৪)।
[৩] الْمَرْحَلِ الْجَدِيدِ "নতুন বাহনে” (ইতহাফ ৮৩৫৬)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 মহাকাশ ও পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয়

📄 মহাকাশ ও পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয়


[৩৪৪.] ইবনু উমর থেকে বর্ণিত, 'একদিন আল্লাহর রাসূল মিম্বারের ওপর অবস্থানকালে এ-আয়াত পাঠ করেন—

وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ

"তারা আল্লাহকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি, অথচ কিয়ামাতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর মুঠোয়, আর মহাকাশ থাকবে তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায়; তারা যে শির্ক করছে, তা থেকে আল্লাহ পবিত্র, সমুন্নত।” (সূরা আয-যুমার ৩৯:৬৭)

আল্লাহর রাসূল তাঁর হাত এভাবে নাড়িয়ে ও আগপাছ করে বলেন—

يُمَجَّدُ الرَّبُّ نَفْسَهُ ، أَنَا الْجَبَّارُ ، أَنَا الْمُتَكَبِّرُ ، أَنَا الْمَلِكُ ، أَنَا الْعَزِيزُ ، أَنَا الْكَرِيمُ

"রব (এভাবে) তাঁর মহিমা ঘোষণা করবেন—'আমিই পরাক্রমশালী, আমিই প্রভুত্বের অধিকারী, আমিই সম্রাট, [৪] আমিই প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী, আমিই মহানুভব।”

তখন মিম্বারটি আল্লাহর রাসূল -কে নিয়ে কেঁপে ওঠে। একপর্যায়ে আমরা বলে ওঠি, "মিম্বারটি তাঁকে নিয়ে নিশ্চিত পড়ে যাবে।”

আহমাদ ২/৭২ (৫৪১৪), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ২/৮৮ (৫৬০৮)।

[৩৪৫.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-কে বলতে শুনেছি-

يَأْخُذُ الْجَبَّارُ سَمَاوَاتِهِ وَأَرْضَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ يَقُولُ : أَنَا الجُبَّارُ، أَنَا الْمَلِكُ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟

“মহাপ্রতাপশালী [১] (আল্লাহ) তাঁর মহাকাশ ও পৃথিবীকে [২] তাঁর হাতে নেবেন [৩]।” এ-কথা বলে তিনি তাঁর হাত মুষ্টিবদ্ধ করেন। এরপর হাত মুষ্টিবদ্ধ ও মুষ্টিমুক্ত করতে থাকেন। "তারপর তিনি বলবেন- আমি মহাপ্রতাপশালী, আমি সম্রাট [৪]। প্রতাপশালীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়?' "

এ-কথা বলার সময় আল্লাহর রাসূল তাঁর ডান ও বাম দিক থেকে এতটা হেলে পড়ছিলেন যে, মিম্বারের দিকে তাকিয়ে দেখি-সেটা নিচ থেকে কাঁপছে। একপর্যায়ে আমি বলে ওঠি, "এটা কি আল্লাহর রাসূল-কে নিয়ে পড়ে যাবে!"'

তাবারানি, কাবীর ১৩/৪৬৯ (১৪৩৩৬), ইসনাদটি সহীহ (দারানি), ১২/৩৫৫ (১৩৩২৭), ১২/৩৮৯ (১৩৪৩৭); মুসলিম ৭০৫২/২৫ (...), ৭০৫৩/২৬ (...); ইবনু মাজাহ্ ১৯৮, ৪২৭৫; হিইয়া ৩/২৭৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৪ (২৭৭)।

[৩৪৬.] ইবনু উমর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

يطوي اللهُ - تَبَارَكَ وَتَعَالَى - السَّمَاوَاتِ فَيَأْخُذُهُنَّ بِيَمِينِهِ، وَيَطْوِي الْأَرْضَ فَيَأْخُذُهَا بِيَدِهِ الْأُخْرَى، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَيْنَ الْمُلُوكُ؟

"বরকতময় ও মহামহিম আল্লাহ মহাকাশকে ভাঁজ করে নিজের ডান হাতে আর পৃথিবীকে ভাঁজ করে অপর হাতে [৭] ধরে বলবেন [৫]- 'আমিই সম্রাট। (দুনিয়ার) সম্রাটরা কোথায়? [৮]"

বাযযার (কাশফ) ১/৩০ (৪১), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); মুসলিম ৭০৫১/২৪ (২৭৮৮); আবু দাউদ ৪৭৩২; আবু ইয়া'লা ৯/৪১০-৪১১ (৫৫৫৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৪ (২৭৮)।

টিকাঃ
[৪] أَنَا الْمُتَعَالِ "আমিই সমুন্নত” (আহমাদ ২/৮৮ (৫৬০৮))।
[১] الدَّيَّانُ "সবকিছু অবদমনকারী" (তাবাবানি, কাবীর ১২/৩৫৫ (১৩৩২৭))।
[২] أَرْضِيم "জমিনগুলোকে” (মুসলিম ৭০৫২/২৫ (...), ৭০৫৩/২৬ (...))
[৩] بِيَدَيْهِ “দু হাতে” (মুসলিম ৭০৫২/২৫ (...), ৭০৫৩/২৬ (...))
[৪] أنا الله "আমি আল্লাহ” (মুসলিম ৭০৫২/২৫ (...); أنا الرَّحْمنُ "আমি সীমাহীন দয়ালু” (তাবারানি, কাবীর ১২/৩৫৫ (১৩৩২৭))।
[৫] يَوْمَ الْقِيَامَةِ “কিয়ামাতের দিন” (মুসলিম ৭০৫১/২৪ (২৭৮৮))।
[৬] أَرْضِيهِ "জমিনগুলোকে” (মুসলিম ৭০৫১/২৪ (২৭৮৮))।
[৭] بِشِمَالِهِ "বাম” (মুসলিম ৭০৫১/২৪ (২৭৮৮))।
[৮] أَيْنَ الْجَبَّارُوْنَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ "পরাক্রমশালীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়?" (মুসলিম ৭০৫১/২৪ (২৭৮৮))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 জাতির উত্থান-পতন আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে

📄 জাতির উত্থান-পতন আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে


[৩৪৭.] নুআইম ইবনু হাম্মার থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেন-

الْمِيزَانُ بِيَدِ الرَّحْمَنِ يَرْفَعُ أَقْوَامًا وَيَضَعُ آخَرِينَ

“মানদণ্ড আছে করুণাময়ের হাতে; তিনি (সেই মানদণ্ড অনুযায়ী) বিভিন্ন জাতির উত্থান ঘটাবেন, আর অন্যদের পতন ঘটাবেন। [১]"'

বাযযার (কাশফ) ১/৩০ (৪০), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি), ইসনাদটি সহীহ (দারানি); তারীখু বাগদাদ ৮/৪০৭ (প্রথমাংশ); কানযুল উম্মাল ১৪/৩৮১ (৩৯০১৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৪ (২৭৯)।

[৩৪৮.] আয়িশা বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-কে বলতে শুনেছি-

إِنَّ اللَّهَ يَضْحَكُ مِنْ يَأْسِ عِبَادِهِ وَقُنُوطِهِمْ وَقُرْبِ الرَّحْمَةِ مِنْهُمْ

“আল্লাহর রহমত বান্দাদের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও তারা হতাশ ও নিরাশ হলে, আল্লাহ তাতে হাসেন।”

আমি বললাম, "আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! আমাদের রব কি হাসেন?” নবি বলেন-

نَعَمْ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّهُ لَيَضْحَكُ

“হ্যাঁ, শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তিনি অবশ্যই হাসেন।” আমি বলি, "তিনি যখন হাসেন, তখন আমাদের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রাখবেন না।"'

তাবারানি, আওসাত ৩/৩৭৮-৩৭৯ (৪৮৮৫), বর্ণনাসূত্রে খারিজা ইবনু মুসআব আছেন, যার বর্ণনা পরিত্যক্ত (হাইসামি), ৫/১৪৫ (৬৮৬৫); তারীখু বাগদাদ ১৩/৪৪; কানযুল উম্মাল ১/২৩৬ (১১৮৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৪ (২৮০)।

[৩৪৯.] মুআবিয়া ইবনু আবী সুফইয়ান থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন-

إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا يُغْلَبُ، وَلَا يُخْلَبُ، وَلَا يُنَبِّأُ بِمَا لَا يَعْلَمُ مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقَّهُهُ فِي الدِّيْنِ، وَمَنْ لَمْ يُفَقَّهُهُ لَمْ يُبَلْ بِهِ

"আল্লাহকে না পরাজিত করা যায়, না তাঁকে প্রতারিত করা যায়, আর না তাঁকে এমন কিছু জানানোর মতো আছে যা তিনি জানেন না; আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর উপলব্ধিবোধ দান করেন, আর যাকে (দ্বীনের) গভীর উপলব্ধিবোধ দান করেন না, তার কোনও গুরুত্ব নেই।"'

আবূ ইয়া'লা ১৩/৩৭১ (৭৩৮১), ইসনাদটি ত্রুটিযুক্ত (দারানি); তাবারানি, কাবীর ১৯/৩৬৯-৩৭০ (৮৬৮); হিইয়া ৫/১৬২-১৬৩; তাবারানি, মুসনাদুশ শামিয়‍্যীন ২৫৭, ৪২৮; কানযুল উম্মাল ৩/৫৪৬ (৭৮২৭), ১০/৩৬৩ (২৯৮২৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৪ (২৮১)।

টিকাঃ
[১] إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ “কিয়ামাত পর্যন্ত” (তারীখু বাগদাদ ৮/৪০৭)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহ সবকিছুর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন

📄 আল্লাহ সবকিছুর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন


[৩৫০.] উকবা ইবনু আমির বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-কে দেখেছি, তিনি সূরা আন-নূরের শেষের এ আয়াত পাঠ করে তাঁর আঙুলদুটি দু চোখের নিচে রেখে বলছেন-

بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ

"(আল্লাহ) সবকিছুর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। [১]"

তাবারানি, কাবীর ১৭/২৮২ (৭৭৬), বর্ণনাসূত্রে ইবনু লাহীআ আছেন (হাইসামি), ১৭/২৮২ (৭৭৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৪-৮৫ (২৮২)।

[৩৫১.] আবূ রযীনা [২] বলেন, 'আমি [৩] বললাম, “আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ কীভাবে মৃতদের জীবিত করবেন?" নবি বলেন-

أَوَمَا مَرَرْتَ بِوَادِي قَوْمِكَ تَحْلًا ، ثُمَّ تَمُرُّ بِهِ خَضِرًا، ثُمَّ تَمُرُّ بِهِ مَحْلًا، ثُمَّ تَمُرُّ بِهِ خَضِرًا كَذَلِكَ يُحْيِي اللهُ الْمَوْلى

"তুমি কি তোমার জনগোষ্ঠীর উপত্যকার পাশ দিয়ে গিয়েছ, যখন তা শুকিয়ে পড়ে থাকে? তারপর এর পাশ দিয়ে গিয়েছ, যখন তা সবুজে ভরে ওঠে? তারপর এর পাশ দিয়ে গিয়েছ, যখন তা (আবার) শুকিয়ে পড়ে থাকে? তারপর এর পাশ দিয়ে গিয়েছ, যখন তা (আবার) সবুজে ভরে ওঠে? আল্লাহ এভাবেই মৃতদের জীবিত করবেন।"

তাবারানি, কাবীর ১৯/২০৮ (৪৭০), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); আহমাদ ৪/১১-১২ (১৬১৯৪); ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৬৩৯; তায়ালিসি ১১৮৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৩-৫৪ (১৬৭), ১/৮৫ (২৮৩)।

টিকাঃ
[১] رَبُّنَا سَمِيعُ بَصِيرٌ “আমাদের রব সর্বশ্রোতা, সূক্ষদর্শী” (তাবারানি, কাবীর ১৭/২৮২ (৭৭৫)।
[২] উকাইলি (আহমাদ ৪/১১-১২ (১৬১৯৪))।
[৩] 'আল্লাহর রাসূল-এর কাছে এসে' (আহমাদ ৪/১১-১২ (১৬১৯৪))।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00