📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহ তাআলার পর্দা

📄 আল্লাহ তাআলার পর্দা


[৩৩৮.] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল আমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে পাঁচটি কথা বলেন:

إِنَّ اللهَ لَا يَنَامُ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ عَمَلٍ النَّهَارِ وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ عَمَلِ اللَّيْلِ حِجَابُهُ النُّورُ وَفِي رِوَايَةٍ : النَّارُ لَوْ كَشَفَهُ لَأَحْرَقَتْ سُبْحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ

» "আল্লাহ ঘুমান না; » ঘুম তাঁর জন্য মানানসইও নয়। » [১] তিনি দাঁড়িপাল্লা নামান ও ওঠান। » তাঁর কাছে রাতের-বেলা-সংঘটিত কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয় দিনের কর্মকাণ্ডের আগে; আর দিনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয় রাতের কর্মকাণ্ডের আগে। » তাঁর পর্দা হলো আলো (অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে "আগুন"); এ পর্দা তুলে দিলে, তাঁর সত্তার উজ্জ্বলদীপ্তি তাঁর দৃষ্টিসীমার ভেতরকার সকল সৃষ্টি পুড়ে ফেলবে।"

মুসলিম ৪৪৫/২৯৩ (১৭৯); আহমাদ ৪/৩৯৫ (১৯৫৩০), ৪/৪০১ (১৯৫৮৭), ৪/৪০৫ (১৯৬৩২); জামউল ফাওয়াইদ ১২৪।

টিকাঃ
[১] وَلَكِنَّهُ “তবে” (আহমদ ১৯৬৩২)।
[২] এরপর বর্ণনাকারী আবু উবাইদা এ আয়াতটি পাঠ করেন: فَلَمَّا جَاءَهَا نُودِيَ أَن بُورِكَ مَن فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ “যখন (মূসা) সেখানে এল, তখন তাকে বলা হলো-বরকতময় সেই সত্তা যিনি আগুনের মধ্যে আছেন আর যিনি আছেন এর চারপাশে; মহিমা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজাহানের অধিপতি।” (সূরা আন-নামল ২৭:৮) । (আহমাদ ১৯৫৮৭)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহ তাআলার নূর বা আলোকরশ্মির প্রখরতা

📄 আল্লাহ তাআলার নূর বা আলোকরশ্মির প্রখরতা


[৩৩৯.] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন-

سَأَلْتُ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ : هَلْ تَرَى رَبَّكَ ؟ قَالَ : إِنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهُ سَبْعِينَ حِجَابًا مِنْ نُوْرٍ، لَوْ رَأَيْتُ أَدْنَاهَا لَاحْتَرَفْتُ

"আমি জিবরীল-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আপনি কি আপনার রবকে দেখেন?' তিনি বলেন, 'আমার ও তাঁর মাঝখানে সত্তরটি আলোকরশ্মির পর্দা আছে, সবচেয়ে কাছের পর্দাটির দিকে তাকালেও আমি পুড়ে যাব।”

তাবারানি, আওসাত ৫/৬ (৬৪০৭), বর্ণনাকারী কাইদ আ'মাশ সম্পর্কে আবু দাউদ বলেন, 'তার কাছে কিছু বানোয়াট হাদীস আছে', আর ইবনু হিব্বান তাকে আস-সিকাতে উল্লেখ করে বলেন, 'মাঝেমধ্যে তার বিভ্রম ঘটে' (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১৪/৪৪৮ (৩৯২১০); মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/৭৯ (২৫২)।

[৩৪০.] সাহল ইবনু সাদ বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

دُونَ اللَّهِ سَبْعُوْنَ أَلْفَ حِجَابٍ مِنْ نُوْرٍ وَظُلْمَةٍ، مَا تَسْمَعُ نَفْسٌ شَيْئًا مِنْ حِسٌ تِلْكَ الْحُجُبِ إِلَّا زَهَقَتْ نَفْسُهَا

"আল্লাহর সামনে সত্তর হাজার আলোকরশ্মি ও অন্ধকারের পর্দা আছে; সেসব পর্দার আওয়াজের অংশবিশেষও যদি কারও কানে আসে, তার প্রাণবায়ু নির্ঘাত বেরিয়ে যাবে।”

আবূ ইয়া'লা ১৩/৫২০ (৭৫২৫), বর্ণনাকারী মূসা ইবনু উবাইদা রবাযি ত্রুটিযুক্ত, ইসনাদের অন্যান্য বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত (দারানি); তাবারানি, কাবীর ৬/১৪৮ (৫৮০২); ইবনু আবী আসিম ৭৮৮; উকাইলি ৩/১৫২ (১১৩৮); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/১০০ (২১৯৪); ইতহাফুল বিয়ারা ১/২৩৩ (৩৬৭), ১/২৩৩ (৩৬৮), ৮/২১ (৭৫৪১); কানযুল উম্মাল ১০/৩৬৯ (২৯৮৪৬, ২৯৮৪৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৭৯ (২৫৩, ২৫৪)।

[৩৪১.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি নবি -এর কাছে এসে বলে, "মুহাম্মাদ! আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মাঝখানে মহাকাশ ও পৃথিবী ছাড়া আর কোনও পর্দা আছে কি?” নবি বলেন-

نَعَمْ، بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَلَائِكَةِ الَّذِينَ حَوْلَ الْعَرْشِ سَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ نُورٍ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ نَارٍ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ ظُلْمَةٍ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ رَفَارِفِ الْإِسْتَبْرَقِ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ رَفَارِفِ السُّنْدُسٍ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرِّ أَبْيَضَ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرِّ أَخْضَرَ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرِّ أَصْفَرَ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ دُرِّ أَخْضَرَ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ ضِيَاءٍ اسْتَضَاءَهَا مِنْ ضَوْءِ النَّارِ وَالنُّورِ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ ثَلْجِ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ مَاءٍ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ غَمَامٍ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ بَرَدٍ، وَسَبْعُونَ حِجَابًا مِنْ عَظَمَةِ اللَّهِ الَّتِي لَا تُوصَفُ

"হ্যাঁ, তাঁর ও আরশের আশেপাশে অবস্থানরত ফেরেশতাদের মাঝখানে আছে-
» সত্তরটি আলোকরশ্মির পর্দা,
» সত্তরটি আগুনের পর্দা,
» সত্তরটি অন্ধকারের পর্দা,
» সত্তরটি মোটা রেশমের গালিচার পর্দা,
» সত্তরটি পাতলা রেশমের গালিচার পর্দা,
» সত্তরটি সাদা মুক্তার পর্দা,
» সত্তরটি লাল মুক্তার পর্দা,
» সত্তরটি হলুদ মুক্তার পর্দা,
» সত্তরটি সবুজ মুক্তার পর্দা,
» সত্তরটি জ্যোতির পর্দা, যা তিনি আগুন ও আলোকরশ্মি থেকে আলোকিত করেন,
» সত্তরটি বরফের পর্দা,
» সত্তরটি পানির পর্দা,
» সত্তরটি মেঘমালার পর্দা,
» সত্তরটি ঠান্ডার পর্দা, আর
» আল্লাহর মহত্ত্বের এমন সত্তরটি পর্দা, যার বর্ণনা দেওয়া অসম্ভব।"

লোকটি বলে, "এবার আমাকে আল্লাহর কাছের ফেরেশতাদের সম্পর্কে কিছু বলুন।" নবি বলেন-

أَصْدَقْتُ فِيمَا أَخْبَرْتُكَ يَا يَهُودِيُّ؟

"ওহে ইহুদি! তোমাকে যা জানালাম, তা সত্য কি না?"

সে বলে, "হ্যাঁ।” নবি বলেন-

فَإِنَّ الْمَلَكَ الَّذِي يَلِيهِ إِسْرَافِيلُ، ثُمَّ جِبْرِيلُ ، ثُمَّ مِيكَاثِيلُ، ثُمَّ مَلَكُ الْمَوْتِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ

"তাঁর কাছের ফেরেশতারা হলেন-ইসরাফীল, তারপর জিবরীল, তারপর মীকাঈল, তারপর মৃত্যুর ফেরেশতা (আযরাঈল)। আল্লাহ তাদের সবার ওপর শান্তি বর্ষণ করুন।"

তাবারানি, আওসাত ৬/৩২৯-৩৩০ (৮৯৪২), বর্ণনাসূত্রে আবদুল মুনইম ইবনু ইদরীস আছেন, যাকে আহমাদ মিথ্যুক বলেছেন আর ইবনু হিব্বান বলেছেন 'সে হাদীস জাল করত' (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৭৯-৮০ (২৫৫)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহ তাআলা ঘুমান না

📄 আল্লাহ তাআলা ঘুমান না


[৩৪২.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-কে মিম্বারের ওপর (বসে) মূসা সম্পর্কে বলতে শুনেছি-

وَقَعَ فِي نَفْسِهِ : هَلْ يَنَامُ اللهُ - عَزَّ وَجَلَّ - ؟ فَأَرْسَلَ اللهُ إِلَيْهِ مَلَكًا، فَأَرَّقَهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ أَعْطَاهُ قَارُورَتَيْنِ، فِي كُلِّ يَدٍ قَارُورَةٌ، وَأَمَرَهُ أَنْ يَحْتَفِظَ بِهِمَا، قَالَ: فَجَعَلَ يَنَامُ وَتَكَادُ يَدَاهُ تَلْتَقِيَانِ، ثُمَّ يَسْتَيْقِظُ فَيَحْبِسُ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى، حَتَّى نَامَ نَوْمَةً، فَاصْطَفَقَتْ يَدَاهُ فَانْكَسَرَتِ الْقَارُورَتَانِ. قَالَ: فَضَرَبَ اللهُ لَهُ مَثَلَهُ : أَنَّ اللهَ - عَزَّ وَجَلَّ - لَوْ كَانَ يَنَامُ لَمْ تَسْتَمْسِكِ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ

"তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল-আল্লাহ তাআলা কি ঘুমান? এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাঁর কাছে এক ফেরেশতা পাঠান। তিনি তাকে তিনদিন ঘুম থেকে বিরত রাখেন। তারপর প্রত্যেক হাতে একটি করে (মোট) দুটি বোতল দিয়ে সেগুলো সুরক্ষিত রাখতে বলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ঘুমাতে শুরু করলে, তাঁর হাতদুটি একসঙ্গে লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়; তিনি জেগে উঠে একটিকে আরেকটির ওপর রেখে তা আঁকড়ে ধরেন। একপর্যায়ে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে, তাঁর হাতদুটি টলে যায় আর বোতলদুটি ভেঙে যায়। (এর দ্বারা) আল্লাহ তাঁকে এ উদাহরণ দিলেন—আল্লাহ তাআলা ঘুমালে মহাকাশ ও পৃথিবী অটল থাকত না।”

আবূ ইয়া'লা ১২/২১ (৬৬৬৯), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (দারানি); কানযুল উম্মাল ১০/৩৭১ (২৯৮৫২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৩ (২৭৫)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 তাঁর আসন মহাকাশ ও পৃথিবী বেষ্টন করে রেখেছে

📄 তাঁর আসন মহাকাশ ও পৃথিবী বেষ্টন করে রেখেছে


[৩৪৩.] উমর থেকে বর্ণিত, 'এক মহিলা নবি-এর কাছে এসে বলে, "আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।" তখন তিনি বলেন—

إِنَّ كُرْسِيَّهُ وَسِعَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَإِنَّ لَهُ أَطِيطًا كَأَطِيطِ الرَّحْلِ الْجَدِيدِ إِذَا رُكِبَ مِنْ يُقَلِهِ

"তাঁর আসন মহাকাশ ও পৃথিবীকে বেষ্টন করে রেখেছো। [১] উটের নতুন পর্যাণে আরোহণ করা হলে ভারের দরুন যে (মড়মড়) আওয়াজ হয়, তা থেকে সে-ধরনের আওয়াজ আসে। [৩]"

বাযযার ১/৪৫৭ (৩২৫), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/২৯-৩০ (৩৯); ইবনু খুযাইমা, কিতাবুত তাওহীদ ১/২৪৪-২৪৫; ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৫৭৪; মাকদিসি ১/২৬৩-২৬৪ (১৫১); ইতহাফ ৮/৪৪৪ (৮৩৫৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৩-৮৪ (২৭৬)।

টিকাঃ
[১] 'আল্লাহ তাআলার মহিমা বর্ণনা করে' (মাকদিসি ১/২৬৩-২৬৪ (১৫১))।
[২] إِنَّ عَرْشَهُ فَوْقَ سَبْعِ سَمَوَاتٍ "তাঁর আরশ সাত আকাশের ওপর” (ইবনু আবী আসিম, কিতাবুস সুন্নাহ ৫৭৪)।
[৩] الْمَرْحَلِ الْجَدِيدِ "নতুন বাহনে” (ইতহাফ ৮৩৫৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00