📘 সবার ওপরে ঈমান 📄 আয়িশা (রাঃ)-এর ভিন্ন মত

📄 আয়িশা (রাঃ)-এর ভিন্ন মত


[৩৩৫.] মাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি আয়িশা -এর মজলিসে হেলান দিয়ে বসে ছিলাম। তখন তিনি বলেন, "আবূ আয়িশা! তিনটি বিষয় এমন, যদি কেউ সেগুলোর একটিও বলে, তা হলে সে আল্লাহর ওপর বড়োসড়ো রকমের মিথ্যা আরোপ করে। [১]" আমি বলি, “কী সেগুলো?” তিনি বলেন, “যে-ব্যক্তি দাবি করে-মুহাম্মাদ তাঁর রবকে দেখেছেন, সে আল্লাহর ওপর বড়োসড়ো রকমের মিথ্যা আরোপ করে।” আমি ছিলাম হেলান দেওয়া অবস্থায়। এ-কথা শুনে উঠে বসি। তারপর বলি, “আমাকে একটু সময় দিন! তাড়াহুড়া করবেন না। আল্লাহ তাআলা কি বলেননি- وَلَقَدْ رَوَاهُ بِالْأُفُقِ الْمُبِيْنِ “তিনি তাঁকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছিলেন” (সূরা আত-তাকভীর ২৩); وَلَقَدْ رَوَاهُ نَزَّلَةٌ أُخْرَى "তিনি তাঁকে আরেকবার নামতে দেখেছিলেন” [২]। (সূরা আন-নাজম ১৩)? আয়িশা বলেন, "আমিই এ-উম্মাহর প্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাসূল -কে এ-সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল [৩]। জবাবে তিনি বলেছিলেন-

إِنَّمَا هُوَ جِبْرِيلُ، لَمْ أَرَهُ عَلَى صُورَتِهِ الَّتِي خُلِقَ عَلَيْهَا غَيْرَ هَاتَيْنِ الْمَرَّتَيْنِ، رَأَيْتُهُ مُنْهَبِطًا مِنَ السَّمَاءِ، سَادًا عِظَمُ خَلْقِهِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ

'তিনি ছিলেন জিবরীল। তাকে যে-আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে-আকৃতিতে এ-দুবার ছাড়া আর কখনও আমি তাকে দেখিনি। আমি দেখলাম-তিনি আকাশ থেকে নামছেন, তার বিশাল গড়ন আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের জায়গাটুকু বন্ধ করে দিয়েছে [৪]!' [৫]

আয়িশা বলেন, "তুমি কি আল্লাহ তাআলার এ-কথা শোননি-

لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ

'দৃষ্টিশক্তিগুলো তাঁকে নাগাল পায় না, কিন্তু সকল দৃষ্টিশক্তি তাঁর নাগালে; তিনি অতিসূক্ষ্ম, সব বিষয়ে সচেতন।' (সূরা আল-আনআম ১০৩)?"

তিনি বলেন, "তুমি কি আল্লাহ তাআলার এ-কথা শোননি-

وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللهُ إِلَّا وَحْيَا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُوْلًا فَيُوْحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ

'মানুষের জন্য এটা হতে পারে না যে, আল্লাহ তার সঙ্গে (সরাসরি) কথা বলবেন; তবে ব্যতিক্রম হলো ওহির মাধ্যমে, অথবা কোনও পর্দার আড়াল থেকে, অথবা তিনি কোনও রাসূল পাঠান; এভাবে তিনি যা চান তাঁর ইচ্ছায় সেটি ওহি আকারে পাঠান; তিনি সমুন্নত, মহাবিজ্ঞ।' (সূরা আশ-শূরা ৫১)?"

তিনি বলেন, “(দ্বিতীয় বিষয়টি হল) যে-ব্যক্তি মনে করে আল্লাহর রাসূল আল্লাহর কিতাবের কোনোকিছু গোপন করেছেন, সে আল্লাহর ওপর বড়োসড়ো রকমের মিথ্যা আরোপ করে। [১] কারণ, আল্লাহ বলেন-

يأَيُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ

'ও রাসূল! তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা-কিছু নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দাও; এ-কাজ না করলে তুমি যেন তাঁর বার্তা পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করলে না।' (সূরা মাইদাহ্ ৬৭)। [২]"

তিনি বলেন, “(তৃতীয় বিষয়টি হল) যে-ব্যক্তি দাবি করে-ভবিষ্যতে কী হবে তা সে বলে দিতে পারে [৩], সে আল্লাহর ওপর বড়োসড়ো রকমের মিথ্যা আরোপ করে। কারণ, আল্লাহ বলেন-

قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ

'বলে দাও-মহাকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তাদের কেউই অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না, একমাত্র ব্যতিক্রম হলেন আল্লাহ।' (সূরা আন-নামল ৬৫)।" [৪]'

মুসলিম ৪৩৯/২৮৭ (১৭৭), ৪৩৫/২৮৩ (১৭৫), ৪৪০/২৮৮ (...), ৪৪১/২৮৯ (...), ৪৪২/২৯০ (...); বুখারি ৩২৩৪, ৩২৩৫, ৪৬১২, ৪৮৫৫, ৭৩৮০, ৭৫৩১; আহমাদ ৬/৪৯-৫০ (২৪২২৭), ৬/১২০ (২৪৮৮৫), ৬/২৩৬ (২৫৯৯৩), ৬/২৪১ (২৬০৪০), ৬/২৪১ (২৬০৪১), ৬/২৬৬ (২৬২৯৫)।

টিকাঃ
[৩] 'আমি আয়িশা -কে জিজ্ঞেস করলাম, "মুহাম্মাদ কি তাঁর রবকে দেখেছেন?" তিনি বলেন, "সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র)! তোমার কথা শুনে আমার পশম খাড়া হয়ে ওঠেছে!"' (মুসলিম ৪৪১/২৮৯ (...))।
[১] "সে মিথ্যুক” (আহমাদ ৬/৪৯-৫০ (২৪২২৭))।
[২] 'এ-আয়াত সম্পর্কে আবূ হুরায়রা বলেন, "তিনি জিবরীল -কে দেখেছিলেন।” (মুসলিম ৪৩৫/২৮৩ (১৭৫))।
[৩] "এ দু আয়াত সম্পর্কে" (আহমাদ ৬/২৪১ (২৬০৪০)।
[৪] قَدْ مَلاً مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَعَلَيْهِ ثِيَابُ سُنْدُسٍ مُعَلَّقًا بِهِ اللُّؤْلُؤُ وَالْيَقُوْتُ "আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের জায়গাটুকু তিনি পূর্ণ করে ফেলেছেন, তাঁর গায়ে ছিল কারুকাজ-করা পোশাক, যেখানে ঝুলছিল লু'লু ও ইয়াকৃত পাথর।” (আহমাদ ৬/১২০ (২৪৮৮৫))।
[৫] মাসরুক বলেন, 'আমি আয়িশা -কে বললাম, "তা হলে আল্লাহ তাআলার এসব কথার তাৎপর্য কী- دَنَا فَتَدَلَّى فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى 'তিনি তাঁর কাছে-দুই ধনুক বা আরও কম দূরত্বে; তারপর যা ওহি পাঠানোর ছিল তা তিনি তাঁর বান্দার কাছে পাঠান।' (সূরা আন-নাজম ৮-১০)"? আয়িশা বলেন, "তিনি ছিলেন জিবরীল। তিনি নবি -এর কাছে মানুষের সুরতে আসতেন, আর সেবার এসেছিলেন তার আসল সুরতে। আর এভাবে তিনি আকাশের দিগন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন।"' (মুসলিম ৪৪২/২৯০ (...))।
[১] "যে-ব্যক্তি তোমাকে বলে যে, মুহাম্মাদ-এর ওপর যা নাযিল করা হয়েছে সেখান থেকে তিনি কোনোকিছু গোপন করেছেন, সে মিথ্যুক।” (বুখারি ৪৬১২); "তার কথাকে সত্য মনে করবে না” (বুখারি ৭৫৩১)।
[২] আয়িশা বলেন, 'মুহাম্মাদ-এর ওপর যা নাযিল করা হয়েছে, সেখান থেকে তিনি যদি কোনোকিছু লুকাতেন, তা হলে তিনি এ-আয়াতটি লুকাতেন- وَإِذْ تَقُوْلُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيْهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ "স্মরণ করো সে-সময়ের কথা, যখন তুমি আল্লাহর-করুণাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বললে-'তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও, আর আল্লাহকে ভয় করো', (সে-সময়) তুমি মনের ভেতর এমন বিষয় লুকিয়ে রাখছিলে, যা আল্লাহ প্রকাশ করে দেবেন, তুমি মানুষকে ভয় পাচ্ছিলে, অথচ আল্লাহ হলেন তোমার ভয় লাভের অধিক হকদার।” (সূরা আল-আহযাব ৩৭)।' (মুসলিম ৪৪০/২৮৮ (...)।
[৩] “যে-ব্যক্তি তোমাকে বলে যে সে অদৃশ্যের সংবাদ জানে, সে মিথ্যুক।” (বুখারি ৭৩৮০)।
[৪] 'এরপর তিনি পাঠ করেন - إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزَّلُ الْغَيْتَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ “চূড়ান্ত সময়ক্ষণের জ্ঞান আল্লাহর কাছে, তিনিই বৃষ্টি নামান, মাতৃগর্ভে কী আছে তা তিনিই জানেন"' (সূরা লুকমান ৩৪) (আহমাদ ৬/৪১-৫০ (২৪২২৭))। 'এরপর তিনি এ-আয়াত পাঠ করেন وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَا ذَا تَكْسِبُ غَدًا "কেউ জানে না, ভবিষ্যতে সে কী করবে।” (সূরা লুকমান ৩৪)' (বুখারি ৪৮৫৫)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية