📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইসরা’য় নবি ﷺ যা দেখলেন

📄 ইসরা’য় নবি ﷺ যা দেখলেন


[৩২১.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'নবি-কে ইসরা বা রাত্রিকালীন সফরে বাইতুল মাকদিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ওই রাতে ফিরে এসে তাঁর সফর, বাইতুল মাকদিসের নিদর্শন ও তাদের কাফেলা সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। এসব শুনে কিছু লোক বলে ওঠে, "মুহাম্মাদ (এসব) যা বলছে, তা আমরা সত্য বলে মেনে নেব? [৩]” এ-কথা বলে তারা কুফর বা অবাধ্যতার জীবনে ফিরে যায়। পরিশেষে (বদর যুদ্ধে) আল্লাহ তাদেরকে আবূ জাহলের সঙ্গে হত্যার ব্যবস্থা করেন।

আবূ জাহল বলেছিল, "মুহাম্মাদ আমাদের যাক্কুম গাছের ভয় দেখায়! তোমরা কিছু খেজুর ও মাখন এনে তা গপ করে গিলে ফেলো [৪]!"

নবি দাজ্জালকে তার নিজস্ব আকৃতিতে দেখেছেন; সেটা ছিল স্বচক্ষে দেখা, স্বপ্নের দেখা নয়। নবি ঈসা, মূসা ও ইবরাহীম-কেও দেখেছেন। দাজ্জাল সম্পর্কে নবি-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন-

أَقْمَرُ هِجَانُ (قَالَ حَسَنُ : قَالَ : رَأَيْتُهُ فَيْلَمَانِيًّا أَقْمَرَ هِجَانًا) إِحْدَى عَيْنَيْهِ قَائِمَةٌ ، كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ ، كَأَنَّ شَعْرَ رَأْسِهِ أَغْصَانُ شَجَرَةٍ ، وَرَأَيْتُ عِيسَى شَابًا أَبْيَضَ ، جَعْدَ الرَّأْسِ ، حَدِيدَ الْبَصَرِ ، مُبَطَّنَ الخَلْقِ ، وَرَأَيْتُ مُوسَى أَسْحَمَ آدَمَ ، كَثِيرَ الشَّعْرِ ، شَدِيدَ الخَلْقِ ، وَنَظَرْتُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ ، فَلَا أَنْظُرُ إِلى إِرْبٍ مِنْ آرَابِهِ ، إِلَّا نَظَرْتُ إِلَيْهِ مِنِّي ، كَأَنَّهُ صَاحِبُكُمْ ، فَقَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ : سَلَّمْ عَلَى مَالِكٍ ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ .

"গায়ের রঙ ফর্সা সাদা। [বর্ণনাকারী হাসান বলেন, নবি বলেছেন-"আমি তাকে দেখেছি এক বিশালদেহী ফর্সা সাদা ব্যক্তির মতো।"] তার দু চোখের একটি ছিল নজরে পড়ার মতো, ঠিক যেন একটি উজ্জ্বল তারকা; তার মাথার চুল ছিল গাছের ডালের মতো। ঈসা-কে দেখলাম-এক ফর্সা যুবক, মাথার চুল কোঁকড়ানো, প্রখর দৃষ্টিশক্তির অধিকারী [১] আর দেহের গড়ন মেদমুক্ত। মূসা-কে দেখলাম-কালো, মেটে রঙের, [৩] ঘনচুলবিশিষ্ট ও বলিষ্ঠদেহী। এরপর দেখলাম ইবরাহীম-কে। তাঁর বিভিন্ন অঙ্গের দিকে তাকানোর পর, আমার নিজের সেসব অঙ্গের দিকে তাকাই; মনে হলো, তিনি দেখতে তোমাদের এ সঙ্গীর মতোই! এরপর জিবরীল বলেন, "[৪] মালিককে সালাম দিন [৫]।" তখন আমি তাঁকে সালাম দিই।"'

আহমাদ ১/৩৭৪ (৩৫৪৬), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ১/২৪৫ (২১৯৭), ১/২৪৫ (২১৯৮), ১/২৫৯ (২৩৪৭), ১/২৯৬ (২৬৯৭), ১/৩৪২ (৩১৭৯) দ্বিতীয় অংশ, ১/৩৪২ (৩১৮০) দ্বিতীয় অংশ; আবু ইয়া'লা ৫/১০৮ (২৭২০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৬-৬৭ (২৩৫)।

টিকাঃ
[৩] "আমরা মুহাম্মাদের কথা সত্য মনে করি না" (আবূ ইয়ালা ৫/১০৮ (২৭২০))।
[৪] 'গপ করে গিলে ফেলা'র জন্য আবূ জাহল 'তাযাক্কুম' শব্দ ব্যবহার করেছে। এটি ছিল 'যাক্কুম' শব্দের সঙ্গে তার একধরনের তামাশা।
[১] "মাঝারি গড়ন, লালচে ফর্সা, মাথা পরিপাটি” (আহমাদ ১/২৪৫ (২১১৭))।
[৩] "দীর্ঘদেহী, মাথার চুল কোকঁড়ানো, অনেকটা শানুআ গোত্রের পুরুষদের মতো” (আহমাদ ১/২৪৫ (২১৯৭))।
[৪] "জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক” (আহমাদ ১/৩৪২ (৩১৭৯)) ।
[৫] "আপনার পূর্বপুরুষকে” (আবূ ইয়ালা ৫/১০৮ (২৭২০))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 বাইতুল মাকদিসে নবিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

📄 বাইতুল মাকদিসে নবিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ


[৩২০.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেন-

لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي وَضَعْتُ قَدَتَيَّ حَيْثُ تُوضَعُ أَقْدَامُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ، فَعُرِضَ عَلَيَّ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ ، فَإِذَا أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهَا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ ، وَعُرِضَ عَلَيَّ مُوسَى ، فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ مِنَ الرِّجَالِ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوْأَةَ ، وَعُرِضَ عَلَيَّ إِبْرَاهِيمُ ، فَإِذَا أَقْرَبُ النَّاسِ شَبَهَا بِصَاحِبِكُمْ .

"বাইতুল মাকদিসের যেখানে নবিগণ পা রাখতেন (অর্থাৎ চলাফেরা করতেন), ইসরা'র রাতে আমি সেখানে পা রাখি। তখন আমার সামনে ঈসা ইবনু মারইয়াম -কে হাজির করা হয় [২], (গড়নের দিক দিয়ে) তাঁর সঙ্গে উরওয়া ইবনু মাসঊদের মিল ছিল সবচেয়ে বেশি। এরপর মূসা-কে হাজির করা হলে দেখি, তিনি হালকা-পাতলা গড়নের এক পুরুষ [৩], অনেকটা শানূআ গোত্রের পুরুষদের মতো। এরপর হাজির করা হয় ইবরাহীম -কে, যার (গড়নের) সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল ছিল তোমাদের এ সঙ্গীর সাথে। [১]"

আহমাদ ২/৫২৮ (১০৮৩০), হাদীসটি সহীহ, তবে ইসনাদটি হাসান (আরনাউত), ২/২৮২ (৭৭৮৯), ২/৫১২ (১০৬৪৭), ৩/৩৩৪ (১৪৫৮৯); বুখারি ৩৩৯৪, ৩৪৩৭, ৪৭০৯, ৫৫৭৬, ৫৬০৩; মুসলিম ৪২৩/২৭১ (১৬৭), ৪২৪/২৭২ (১৬৮), ৫২৪০/১৬৮ (৯২), ৫২৪১ (...); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৬ (২৩৪)।

টিকাঃ
[২] هُوَ رَجُلٌ رَبْعَةٌ أَحْمَرُ كَأَنَّمَا خَرَجَ مِنْ دِيْمَاسٍ "তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার এক পুরুষ, গায়ের রঙ লালচে, ঠিক যেন গোসলখানা থেকে (সবেমাত্র গোসল সেরে) বেরিয়ে এসেছেন;” (বুখারি ৩৩৯৪)।
[৩] رجلٌ "পরিপাটি চুলবিশিষ্ট” (বুখারি ৩৩৯৪)।
[১] وَأَنَا أَشْبَهُ وَلَدِهِ بِهِ “তাঁর সন্তানদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার মিল ছিল সবচেয়ে বেশি” (মুসলিম ৪২৪/২৭২ (১৬৮)); وَرَأَيْتُ جِبْرِيلَ , فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهَا دِحْيَةُ بْنُ خَلِيفَةُ الله “আর জিবরীল-কে দেখলাম; আমার দেখা লোকদের মধ্যে দিহইয়া (ইবনু খলীফা)'র সঙ্গে তাঁর সাদৃশ্য সবচেয়ে কাছাকাছি।” (মুসলিম ৪২৩/২৭১ (১৬৭)) ।
[৩] ثُمَّ أُتِيتُ بِإِنَاءَيْنِ ، فِي أَحَدِهِمَا لَبَنُ وَفِي الْآخَرِ خَمْرُ ، فَقَالَ : اشْرَبْ أَيُّهُمَا شِئْتَ ، فَأَخَذْتُ اللَّبَنَ فَشَرِبْتُهُ ، فَقِيلَ : أَخَذْتَ الْفِطْرَةَ ، أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ "এরপর [বাইতুল মাকদিসে (বুখারি ৪৭০১)] আমার কাছে দুটি পাত্র আনা হয়: একটিতে ছিল দুধ, অপরটিতে শরাব। জিবরীল বলেন, 'দুটির মধ্যে আপনার যেটি মন চায়, পান করুন।' আমি দুধ (বেছে) নিয়ে তা পান করি। তখন বলা হলো, 'আপনি প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন! [প্রশংসা সবই আল্লাহর, যিনি আপনাকে সঠিক প্রকৃতির দিশা দিয়েছেন। (বুখারি ৪৭০৯)] যদি মদ (বেছে) নিতেন, তা হলে আপনার উম্মাহ পথভ্রষ্ট হতো।' ” (বুখারি ৩৩৯৪)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 সুনগোত্রের পরিণতি ও মহাকাশের ব্যাপারে মানুষের উদাসীনতার কারণ

📄 সুনগোত্রের পরিণতি ও মহাকাশের ব্যাপারে মানুষের উদাসীনতার কারণ


[৩২২.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي لَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ ، فَنَظَرْتُ فَوْقُ فَإِذَا أَنَا بِرَعْدٍ وَبَرْقٍ وَصَوَاعِقَ ، فَأَتَيْتُ عَلَى قَوْمٍ بُطُوْنُهُمْ كَالْبُيُوتِ ، فِيهَا الْحَيَّاتُ تُرى مِنْ خَارِج بُطُونِهِمْ ، قُلْتُ : مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ ؟ قَالَ : هَؤُلَاءِ أَكَلَةُ الرِّبَا . فَلَمَّا نَزَلْتُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ، نَظَرْتُ أَسْفَلَ مِنِّي ، فَإِذَا أَنَا برهج وَدُخَانٍ وَأَصْوَاتٍ ، فَقُلْتُ : مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ ؟ قَالَ : هَذِهِ الشَّيَاطِينُ يَحْرِفُوْنَ عَلَى أَعْيُنِ بَنِي آدَمَ أَنْ لَا يَتَفَكَّرُوا فِي مَلَكُوْتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ، وَلَوْلَا ذُلِكَ لَرَأَوُا الْعَجَائِبَ .

"ইসরা'র রাতে দেখেছি-আমরা যখন সপ্তম আকাশে গিয়ে পৌঁছুলাম, তখন ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানে বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎচমক ও বিকট আওয়াজ। এরপর আমরা কিছু লোকের কাছে হাজির হই, যাদের পেটগুলো ছিল ঘরের মতো, সেখানে অনেক সাপ, যা তাদের পেটের বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি বলি, 'জিবরীল! এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা হলো সুদখোর।'

তারপর নিকটতম আকাশে নামার পর, আমার নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানে ধুলা, ধোঁয়া ও বিচিত্র আওয়াজ। আমি বলি, 'জিবরীল! এগুলো কী?' তিনি বলেন, 'এসব শয়তান আদম-সন্তানদের দৃষ্টি (ভিন্নদিকে) সরিয়ে দিচ্ছে, যাতে তারা মহাকাশ ও পৃথিবীতে (আল্লাহর) কর্তৃত্ব ও রাজত্বের ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবতে না পারে। (শয়তানদের) এসব কাণ্ড না থাকলে, মানুষ (মহাকাশ ও পৃথিবীতে) নানা বিস্ময় দেখতে পেত।'

আহমাদ ২/৩৫৩ (৮৬৪০), বর্ণনাকারী আবুস সালুত অজ্ঞাতপরিচয়, আর তার কাছ থেকে আলি ইবনু যাইদ ছাড়া আর কেউ হাদীস বর্ণনা করেননি (হাইসামি), ২/৩৬৩ (৮৭৫৭); ইবনু আবী শাইবা ১৪/৩০৭ (৩৭৭২৯); ইবনু মাজাহ২২৭৩; কানযুল উম্মাল ১১/৩৯৯-৪০০; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/৬৬ (২৩৩)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ফিরআউনের মেয়ের সেবিকার সুঘ্রাণ

📄 ফিরআউনের মেয়ের সেবিকার সুঘ্রাণ


[৩২৩.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

لَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الَّتِي أُسْرِيَ بِي فِيهَا ، أَتَتْ عَلَيَّ رَائِحَةٌ طَيِّبَةٌ ، فَقُلْتُ : يَا جِبْرِيلُ ، مَا هَذِهِ الرَّائِحَةُ الطَّيِّبَةُ ؟ فَقَالَ : هَذِهِ رَائِحَةُ مَاشِطَةِ ابْنَةِ فِرْعَوْنَ وَأَوْلَادِهَا قُلْتُ : وَمَا شَأْنُهَا؟ قَالَ : بَيْنَا هِيَ تَمْشُطُ ابْنَةً فِرْعَوْنَ ذَاتَ يَوْمٍ ، إِذْ سَقَطَتْ الْمِدْرَى مِنْ يَدِهَا ، فَقَالَتْ : بِسْمِ اللهِ، فَقَالَتْ لَهَا ابْنَةُ فِرْعَوْنَ : أَبِي ؟ قَالَتْ : لَا ، وَلَكِنْ رَبِّي وَرَبُّ أَبِيكِ اللهُ. قَالَتْ أُخْبِرُهُ بِذلِكَ : قَالَتْ : نَعَمْ، فَأَخْبَرَتْهُ فَدَعَاهَا ، فَقَالَ : يَا فُلَانَهُ ، وَإِنَّ لَكِ رَبًّا غَيْرِي ؟ قَالَتْ : نَعَمْ ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُ فَأَمَرَ بِبَقَرَةٍ مِنْ نُحَاسٍ فَأُحْمِيَتْ ، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا أَنْ تُلْقَى هِيَ وَأَوْلَادُهَا فِيهَا ، قَالَتْ لَهُ : إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً، قَالَ : وَمَا حَاجَتُكِ ؟ قَالَتْ : أُحِبُّ أَنْ تَجْمَعَ عِظَامِي وَعِظَامَ وَلَدِي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ، وَتَدْفِنَّا قَالَ : ذَلِكَ لَكِ عَلَيْنَا مِنَ الْحَقِّ قَالَ : فَأَمَرَ بِأَوْلَادِهَا فَأُلْقُوْا بَيْنَ يَدَيْهَا ، وَاحِدًا وَاحِدًا إِلَى أَنِ انْتَهَى ذَلِكَ إِلَى صَبِيٌّ لَهَا مُرْضَعٍ ، كَأَنَّهَا تَقَاعَسَتْ مِنْ أَجْلِهِ ، قَالَ : يَا أُمَّهُ ، اقْتَحِيي ، فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ. فَاقْتَحَمَتْ.

“যে-রাতে আমাকে ইসরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে-রাতে একটি সুঘ্রাণ পেয়ে আমি বলি, 'জিবরীল, এটা কীসের সুঘ্রাণ?' তিনি বলেন, 'এটা ফিরআউনের মেয়ের কেশবিন্যাসকারিণী ও তার বাচ্চাদের সুঘ্রাণ।' আমি বলি, 'কী হয়েছিল তার?' জিবরীল বলেন-

'তিনি একদিন ফিরআউনের মেয়ের চুল আঁচড়াচ্ছিলেন। এমন সময় চুল পরিপাটি করার কাঠিটি [১] তার হাত থেকে পড়ে যায়। তখন তিনি (সেটা উঠাতে গিয়ে) বলেন, "বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে)।" ফিরআউনের মেয়ে তাকে বলে, "আমার পিতা (র কথা বলছো)?"

তিনি বলেন, "না; বরং আল্লাহ, যিনি আমার অধিপতি ও আপনার পিতার অধিপতি।" [২] সে বলে, "তাকে এ-কথা বলে দেবো [৩]!" তিনি বলেন, "ঠিক আছে।" সে এ-কথা ফিরআউনকে জানালে, ফিরআউন তাকে ডেকে এনে বলে, "অমুক! আমি ছাড়া তোমার কি আরও অধিপতি আছে?" তিনি বলেন, "হ্যাঁ, আমার ও আপনার অধিপতি আল্লাহ।" [৪] এ জবাব শুনে ফিরআউন তামার এক বিরাট পাত্র [৫] গরম করার আদেশ দেয়। এরপর তাকে ও তার সন্তানদের সেখানে নিক্ষেপ করার আদেশ জারি করে। কেশবিন্যাসকারিণী ফিরআউনকে বলেন, "আপনার কাছে আমার একটি আবদার আছে।" ফিরআউন বলে, "তোমার কী আবদার?" তিনি বলেন, "আমার একান্ত ইচ্ছা, আপনি আমার ও আমার সন্তানের হাড়গুলো একটি কাপড়ে জমা করে দাফন করবেন।" ফিরআউন বলে, "আমাদের কাছে এটুকু পাওয়া তো তোমার অধিকার [৬]।"

এরপর ফিরআউনের আদেশে তার সামনেই তার সন্তানদের একজন একজন করে (ওই পাত্রে) নিক্ষেপ করা হয়। তারপর তার দুধের শিশুটির পালা এলে, তিনি শিশুটির কথা ভেবে দ্বিধায় পড়ে যান। তখন শিশুটি বলে ওঠে [১], "মা! ঝাঁপ দাও [৭]; কারণ পরকালের শাস্তির তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি অনেক তুচ্ছ [৮]।" এরপর তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন [৯]।"

ইবনু আব্বাস বলেন; 'একেবারে ছোট্ট অবস্থায় কথা বলেছেন চারজন: ঈসা ইবনু মারইয়াম, জুরাইজ-এর (বিরুদ্ধে আনীত অপবাদ খণ্ডনকারী) সঙ্গী, ইউসুফ-এর সাক্ষী ও ফিরআউনের মেয়ের কেশবিন্যাসকারিণীর ছেলে।'

আহমাদ ১/৩০৯-৩১০ (২৮২১), সহীহ (দারানি), ১/৩১০ (২৮২২), ১/৩১০ (২৮২৩), ১/৩১০ (২৮২৪); তাবারানি, কাবীর ১১/৪৫০-৪৫১ (১২২৭৯), ১১/৪৫১ (১২২৮০); ইবনু হিব্বান ৭/১৬৩-১৬৪ (২৯০৩), ৭/১৬৪-১৬৫ (২৯০৪); বাযযার (কাশফ) ১/৩৭-৩৮ (৫৪); হাকিম ২/৪৯৬-৪৯৭ (৩৮৩৫); বাইহাকি, দালাইল ২/৩৮৯; বাইহাকি, শুআব ২/২৪৩ (১৬৩৬); কানযুল উম্মাল ১৫/১৬৪-১৬৫ (৪০৪৬৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৫ (২৩১)।

টিকাঃ
[১] المشط "চিরুনিটি” (তাবারানি, কাবীর ১১/৪৫০-৪৫১ (১২২৭৯))।
[২] وَرَبُّكِ "আপনার অধিপতি” (হাকিম ২/৪৯৬ (৩৮৩৫))।
[২] قَالَتْ : وَإِنَّ لَكِ رَبَّنَا غَيْرَ أَبِي ؟ قَالَتْ : نَعَمْ 'ফিরআউনের মেয়ে বলে, "আমার পিতা বাদে তোমার কি আরও অধিপতি আছে?" তিনি বলেন, "হ্যাঁ!"' (তাবারানি, কাবীর ১১/৪৫০-৪৫১ (১২২৭৯))।
[৩] تزلِي "বলতে পারেন" (ইবনু হিব্বান ২৯০৪)।
[৪] قَالَ مَنْ رَبُّكَ ؟ قَالَتْ : رَبِّي وَرَبُّكَ مَنْ فِي السَّمَاءِ (ফিরআউন) বলে, “তোমার অধিপতি কে?” তিনি বলেন, "আমার ও আপনার অধিপতি আল্লাহ, যিনি আকাশে আছেন।” (আহমাদ ১/৩১০ (২৮২৩))।
[৫] فِي مَوْضَعٍ “এক জায়গায়” (বাইহাকি, দালাইল ২/৩৮৯)।
[৬] ذَلِكَ لَكِ لِمَا لَكِ عَلَيْنَا مِنَ الْحَقِّ “এটুকু তুমি পাবে, কারণ আমাদের ওপরও তো তোমার কিছু অধিকার আছে!" (ইবনু হিববান ২৯০৪)।
[১] 'শিশু' (ইবনু হিব্বান ২৯০৪)।
[৭] اصْبِرِي يَا أُمَّهُ فَإِنَّكِ عَلَى الْحَقِّ "মা! ধৈর্য ধরে রাখো, ["সিদ্ধান্তে অটল থাকো” (ইবনু হিব্বান ২৯০০)] কারণ তুমিই সত্যের ওপর আছো।" (বাযযার (কাশফ) ১/৩৭-৩৮ (৫৪)।
[৮] وَلَا تَفَاعْسِي فَإِنَّا عَلَى الْحَقِّ "কোনও দ্বিধা রেখো না, কারণ আমরাই সত্যের ওপর আছি” (বাইহাকি, দালাইল ২/৩৮৯)।
[৯] ثُمَّ أُلْقِيَتْ مَعَ وَلَدِهَا “এরপর তাকে তার সন্তানসহ নিক্ষেপ করা হয়।” (হাকিম ২/৪৯৬ (৩৮৩৫))।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00