📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 বক্ষ বিদীরকরণ ও আকাশে আরোহণ

📄 বক্ষ বিদীরকরণ ও আকাশে আরোহণ


[৩১৭.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, 'আবূ যার বর্ণনা করতেন যে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

فُرِجَ عَنْ سَقْفِ بَيْتِي وَأَنَا بِمَكَّةَ ، فَنَزَلَ جِبْرِيلُ فَفَرَجَ صَدْرِي ، ثُمَّ غَسَلَهُ بِمَاءِ زَمْزَمَ ، ثُمَّ جَاءَ بِطَةٍ مِنْ ذَهَبٍ مُمْتَلِي حِكْمَةٌ وَإِيْمَاناً ، فَأَفْرَغَهُ فِي صَدْرِي ثُمَّ أَطْبَقَهُ ، ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِي فَعَرَجَ بي إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ، فَلَمَّا جِئْتُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا قَالَ جِبْرِيلُ لِحَازِنِ السَّمَاءِ : افْتَحْ . قَالَ : مَنْ هُذَا ؟ قَالَ : هُذَا جِبْرِيلُ ، قَالَ : هَلْ مَعَكَ أَحَدٌ؟ قَالَ : نَعَمْ ، مَعِي مُحَمَّدُ ، فَقَالَ : أُرْسِلَ إِلَيْهِ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، فَلَمَّا فَتَحَ عَلَوْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا ، فَإِذَا رَجُلٌ قَاعِدٌ ، عَلَى يَمِينِهِ أَسْوِدَةٌ وَعَلَى يَسَارِهِ أَسْوِدَةٌ ، إِذَا نَظَرَ قِبَلَ يَمِينِهِ ضَحِكَ ، وَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ يَسَارِهِ بَكى ، فَقَالَ : مَرْحَباً بِالنَّبِيِّ الصَّالِحِ وَالْابْنِ الصَّالِحِ . قُلْتُ : الجِبْرِيلَ : مَنْ هَذَا ؟ قَالَ : هَذَا آدَمُ ، وَهُذِهِ الْأَسْوِدَةُ عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ نَسْمُ بَنِيْهِ ، فَأَهْلُ الْيَمِيْنِ مِنْهُمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ ، وَالْأَسْوِدَةُ الَّتِي عَنْ شِمَالِهِ أَهْلُ النَّارِ ، فَإِذَا نَظَرَ عَنْ يَمِينِهِ ضَحِكَ ، وَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ شِمَالِهِ بَكَى حَتَّى عَرَجَ بِي إِلَى السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ فَقَالَ لِخَازِنِهَا : افْتَحْ ، فَقَالَ لَهُ خَازِنُهَا مِثْلَ مَا قَالَ الْأَوَّلُ ، فَفَتَحَ .

"মক্কায় থাকাকালে আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর জিবরীল নেমে এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করেন। জমজমের পানি দিয়ে তা ধৌত করার পর, ঈমান ও প্রজ্ঞায় ভরপুর একটি স্বর্ণের পাত্র নিয়ে আসেন। সেগুলো আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে তা বন্ধ করে দেন। এরপর আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে নিকটতম আকাশে ওঠেন।

নিকটতম আকাশে আসার পর জিবরীল আকাশের তত্ত্বাবধায়ককে বলেন, '(দরজা) খুলুন।' তত্ত্বাবধায়ক বলেন, 'কে?' তিনি বলেন, 'জিবরীল।' তত্ত্বাবধায়ক বলেন, 'আপনার সঙ্গে আর কেউ আছে?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আমার সঙ্গে মুহাম্মাদ আছেন।' তত্ত্বাবধায়ক বলেন, 'তাঁকে (এখানে আসার) বার্তা দেওয়া হয়েছে?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ।' তিনি (দরজা) খুলে দিলে আমরা নিকটতম আকাশের ওপর উঠে দেখি-একব্যক্তি বসে আছেন, তাঁর ডানে বিপুল সংখ্যক লোক, আবার বামেও বিপুল সংখ্যক লোক; তিনি ডানদিকে তাকিয়ে হাসেন [১], আর বামদিকে তাকিয়ে কাঁদেন। (আমাকে দেখে) তিনি বলে ওঠেন, 'স্বাগতম নেক নবি ও নেক ছেলে!' আমি জিবরীল-কে জিজ্ঞেস করি, 'তিনি কে?' জিবরীল বলেন, 'তিনি আদম । তাঁর ডানে ও বামে বিপুলসংখ্যক লোক হলো তাঁর সন্তানদের আত্মা; তাদের মধ্যে ডানদিকের লোকজন জান্নাতী, আর বামদিকের বিপুলসংখ্যক লোক জাহান্নামী। তিনি ডানদিকে তাকিয়ে হাসেন, আর বামদিকে তাকিয়ে কাঁদেন।' এরপর তিনি আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশে উঠে, সেখানকার তত্ত্বাবধায়ককে বলেন, '(দরজা) খুলুন।' তখন সেখানকার তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে সেসব কথা বলেন, যা প্রথম তত্ত্বাবধায়ক বলেছিলেন [২]। এরপর (দরজা) খুলে দেন।"

আনাস বলেন, 'তিনি (অর্থাৎ, আবূ যার) উল্লেখ করেছেন যে, নবি মহাকাশে আদম, ইদরীস, মূসা, ঈসা ও ইবরাহীম-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন, তবে তাঁদের কার অবস্থান কোথায় ছিল তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে তিনি এটুকু উল্লেখ করেছেন যে, নবি প্রথম আকাশে আদম-এর আর ষষ্ঠ আকাশে ইবরাহীম-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।'

আনাস বলেন, 'জিবরীল নবি-কে নিয়ে ইদরীস-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন-

مَرْحَبًا بِالنَّبِيِّ الصَّالِحِ وَالْآخِ الصَّالِحِ . فَقُلْتُ : مَنْ هَذَا ؟ قَالَ : هَذَا إِدْرِيسُ . ثُمَّ مَرَرْتُ بِمُوسَى فَقَالَ : مَرْحَباً بِالنَّبِيِّ الصَّالِحِ وَالْآخِ الصَّالِحِ . قُلْتُ : مَنْ هَذَا ؟ قَالَ : هُذَا مُوسَى ثُمَّ مَرَرْتُ بِعِيسَى فَقَالَ : مَرْحَباً بِالْأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ . قُلْتُ : مَنْ هَذَا ؟ قَالَ : هَذَا عِيسَى ثُمَّ مَرَرْتُ بِإِبْرَاهِيمَ فَقَالَ : مَرْحَباً بِالنَّبِيِّ الصَّالِحِ وَالْإِبْنِ الصَّالِحِ . قُلْتُ : مَنْ هَذَا ؟ قَالَ : هَذَا إِبْرَاهِيمُ .

"স্বাগতম নেক নবি ও নেক ভাই!' আমি বলি, 'তিনি কে?' জিবরীল বলেন, 'তিনি ইদরীস'। এরপর মূসা-এর পাশ দিয়ে গেলে তিনি বলেন, 'স্বাগতম নেক নবি ও নেক ভাই!' আমি বলি, 'তিনি কে?' জিবরীল বলেন, 'তিনি মূসা'। এরপর ঈসা-এর পাশ দিয়ে গেলে তিনি বলেন, 'স্বাগতম নেক ভাই ও নেক নবি!' আমি বলি, 'তিনি কে?' জিবরীল বলেন, 'তিনি ঈসা'। এরপর ইবরাহীম-এর পাশ দিয়ে গেলে তিনি বলেন, 'স্বাগতম নেক নবি ও নেক ছেলে!' আমি বলি, 'তিনি কে?' জিবরীল বলেন, 'তিনি ইবরাহীম' ."

ইবনু শিহাব বলেন, ইবনু হাযম আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাব্বা আনসারি বলতেন, 'নবি বলেছেন-

ثُمَّ عُرِجَ بِي حَتَّى ظَهَرْتُ لِمُسْتَوَى أَسْمَعُ فِيْهِ صَرِيفَ الْأَقْلَامِ

"এরপর আমাকে (আরও) ওপরে ওঠানো হয়; একপর্যায়ে এমন এক স্তরে ওঠি, যেখানে (আল্লাহ তাআলার ফায়সালা লিপিবদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত) কলমের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।"

ইবনু হাযম ও আনাস ইবনু মালিক বলেন, 'নবি বলেছেন-

فَفَرَضَ اللهُ عَلَى أُمَّتِي خَمْسِينَ صَلَاةٌ ، فَرَجَعْتُ بِذَلِكَ حَتَّى مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى فَقَالَ : مَا فَرَضَ اللَّهُ لكَ عَلَى أُمَّتِكَ ؟ قُلْتُ فَرَضَ خَمْسِينَ صَلَاةٌ ، قَالَ : فَارْجِعْ إِلى رَبِّكَ ، فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ذَلِكَ . فَرَاجَعَنِي فَوَضَعَ شَطْرَهَا . فَرَجَعْتُ إِلى مُوسَى قُلْتُ : وَضَعَ شَطْرَهَا ، فَقَالَ : رَاجِعْ رَبَّكَ ، فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ ، فَرَاجَعْتُ ، فَوَضَعَ شَطْرَهَا . فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ : ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَإِنَّ أُمَّتَكَ لَا تُطِيقُ . فَرَاجَعْتُهُ فَقَالَ : هِيَ خَمْسٌ وَهِيَ خَمْسُونَ ، لَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ . فَرَجَعْتُ إِلَى مُوسَى فَقَالَ : رَاجِعُ رَبِّكَ ، فَقُلْتُ : اسْتَحْيَيْتُ مِنْ رَبِّي . ثُمَّ انْطَلَقَ بِي حَتَّى انْتَهَى بِي إِلى سِدْرَةِ الْمُنْتَهى ، وَغَشِيَهَا أَلْوَانُ لَا أَدْرِي مَا هِيَ ، ثُمَّ أُدْخِلْتُ الْجَنَّةَ ، فَإِذَا فِيهَا حَبَايِلُ اللُّؤْلُوْ وَإِذَا تُرَابُهَا الْمِسْكُ .

"এরপর আল্লাহ আমার উম্মাহর জন্য পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) নামাজ ফরজ করে দেন। তা নিয়ে ফেরার পথে মূসা-এর পাশ দিয়ে গেলে তিনি বলেন, 'আল্লাহ আপনার উম্মাহর জন্য কী ফরজ করলেন?' আমি বলি, 'পঞ্চাশ (ওয়াক্ত) নামাজ।' তিনি বলেন, 'আপনার রবের কাছে ফিরে যান, কারণ আপনার উম্মাহ তা আদায় করতে পারবে না।' তিনি আমাকে ফেরত পাঠালে, আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দেন। মূসা-এর কাছে ফিরে এসে বলি, 'আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছেন।' তিনি বলেন, 'আপনার রবের কাছে ফিরে যান, কারণ আপনার উম্মাহ তা আদায় করতে পারবে না।' আমি ফিরে গেলে আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দেন। তাঁর কাছে ফিরে এলে তিনি বলেন, 'আপনার রবের কাছে ফিরে যান, কারণ আপনার উম্মাহ তা আদায় করতে পারবে না।' এরপর ফিরে গেলে আল্লাহ বলেন, 'এ হলো পাঁচ (ওয়াক্ত), আর এ হলো (মর্যাদার বিচারে) পঞ্চাশ (ওয়াক্তের সমান)। আমার কাছে কথার কোনও রদবদল হয় না।' মূসা -এর কাছে ফিরে এলে তিনি বলেন, 'আপনার রবের কাছে ফিরে যান।' তখন আমি বলি, 'আমার রবের কাছে (ফিরে যেতে) লজ্জাবোধ করছি।'

এরপর তিনি আমাকে নিয়ে চলতে চলতে সিদরাতুল মুনতাহায় (প্রান্তসীমার বৃক্ষ এলাকায়) পৌঁছে যান। রকমারি রঙ জায়গাটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল; সেগুলো কী ছিল তা (প্রকাশ করার ভাষা) আমার জানা নেই।

তারপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে গিয়ে দেখি মুক্তোর তৈরি অনেকগুলো ছোটো ছোটো দেওয়াল [২], আর এর মাটি ছিল মেস্ক (এর সুগন্ধিযুক্ত)।"

বুখারি ৩৪৯, ১৬৩৬, ৩৩৪২; মুসলিম ৪১৫/২৬৩ (১৬৩); আহমাদ ৫/১২২ (২১১৩৫), ৫/১৪৩-১৪৪ (২১২৮৮); আবূ ইয়া'লা ৪/৪১১-৪১২ (২৫৩৫), ৬/২৯৫ (৩৬১৪), ৬/২৯৭-২৯৮ (৩৬১৬); ইবনু হাযম্, আল-মুহাল্লা ১/২৪-২৫; শারহুস সুন্নাহ ৩৭৫৪; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৫-৬৬ (২৩২)।

[৩১৮.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

بَيْنَا أَنَا قَاعِدُ إِذْ جَاءَ جِبْرِيلُ فَوَكَزَ بَيْنَ كَتِفَيَّ ، فَقُمْتُ إِلى شَجَرَةٍ فِيهَا كَوَكْرَى الطَّيْرِ ، فَقَعَدَ فِي أَحَدِهِمَا وَقَعَدْتُ فِي الْآخَرِ ، فَسَمَتْ وَارْتَفَعَتْ حَتَّى سَدَّتِ الْخَافِقَيْنِ ، وَأَنَا أُقَلِّبُ طَرْفِي وَلَوْ شِئْتُ أَنْ أَمَسَّ السَّمَاءَ لَمَسَسْتُ . فَالْتَفَتُ إِلَى جِبْرِيلَ كَأَنَّهُ حِلْسٌ لَاطِيءٌ ، فَعَرَفْتُ فَضْلَ عِلْمِهِ بِاللَّهِ عَلَيَّ ، وَفُتِحَ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ السَّمَاءِ ، وَرَأَيْتُ النُّوْرَ الْأَعْظَمَ ، وَإِذَا دُونَ الْحِجَابِ رَفْرَفَةُ الدُّرِّ وَالْيَاقُوْتِ ، فَأَوْحَى إِلَيَّ مَا شَاءَ أَنْ يُوْحِيَ

"আমি বসে আছি। এমন সময় জিবরীল এসে আমার দু কাঁধের মাঝখানে (মৃদু) আঘাত করলে, আমি উঠে একটি গাছের কাছে যাই। তাতে পাখির বাসার মতো কিছু বাসা ছিল। একটিতে জিবরীল বসেন, আর অপরটিতে বসি আমি। এরপর সেটি ওপরের দিকে উঠতে থাকে। একপর্যায়ে তা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তকে আড়াল করে দেয়। দৃষ্টি পরিবর্তন করার পর মনে হলো, আমি আকাশ স্পর্শ করতে চাইলে তা করতে পারব। জিবরীল-এর দিকে তাকিয়ে দেখি, (বিনয়ের দরুন) তিনি ঘোড়ার-পিঠে-বিছিয়ে-রাখা কম্বলের মতো নুয়ে আছেন।

আল্লাহর বিষয়ে তাঁর জ্ঞান যে আমার চেয়ে বেশি, তখন সেটি বুঝতে পারি। [১] আকাশের একটি দরজা খুলে দেওয়া হলে, আমি মহা জ্যোতি দেখতে পাই। তখন পর্দার একপাশে ছিল মুক্তা ও লালমণি-খচিত রফরফ (গালিচা)। এরপর তিনি আমার কাছে তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী ওহি পাঠান।"

বাযযার (কাশফ) ১/৪৭ (৫৮), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); তাবারানি, আওসাত ৪/৩৫১-৩৫২ (৬২১৪); বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়া ২/৩৬৮-৩৬৯; বাইহাকি, শুআব ১/১৭৫-১৭৬ (১৫৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৭৫ (২৩৯)।

[৩১৯.] জাবির বলেন, 'নবি বলেছেন-

مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي بِالْمَلَأُ الْأَعْلَى وَجِبْرِيلُ كَالْحِلْسِ الْبَالِي مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ

"যে-রাতে আমাকে ইসরায় নিয়ে যাওয়া হলো, সে-রাতে আমি সর্বোচ্চ (মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ফেরেশতাদের) দলটির পাশ দিয়ে গিয়েছি; তখন জিবরীল আল্লাহর ভয়ে ঘোড়ার-পিঠে-বিছিয়ে-রাখা জরাজীর্ণ কম্বলের মতো (নত) হয়ে ছিলেন।"

তাবারানি, আওসাত ৩/৩০৯-৩১০ (৪৬৭৯), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৬/১৩৮ (১৫১৬৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৭৮ (২৪৭)।

টিকাঃ
[১] تَبَسَّمَ “মুচকি হাসেন” (আহমাদ ৫/১৪৩-১৪৪ (২১২৮৮))।
[২] خَازِنُ السَّمَاءِ الدُّنْيَا "নিকটতম আকাশের তত্ত্বাবধায়ক” (মুসলিম ৪১৫/২৬৩ (১৬৩))।
[১] জিবরীল “জিবরীল” (মুসলিম ৪১৫/২৬৩ (১৬৩))।
[২] جنابِذُ "অনেক গম্বুজ” (বুখারি ৩৩৪২)।
[১] لِي "আমার জন্য” (তাবারানি, আওসাত ৬২১৪)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইসরা’য় নবি ﷺ যা দেখলেন

📄 ইসরা’য় নবি ﷺ যা দেখলেন


[৩২১.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'নবি-কে ইসরা বা রাত্রিকালীন সফরে বাইতুল মাকদিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ওই রাতে ফিরে এসে তাঁর সফর, বাইতুল মাকদিসের নিদর্শন ও তাদের কাফেলা সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। এসব শুনে কিছু লোক বলে ওঠে, "মুহাম্মাদ (এসব) যা বলছে, তা আমরা সত্য বলে মেনে নেব? [৩]” এ-কথা বলে তারা কুফর বা অবাধ্যতার জীবনে ফিরে যায়। পরিশেষে (বদর যুদ্ধে) আল্লাহ তাদেরকে আবূ জাহলের সঙ্গে হত্যার ব্যবস্থা করেন।

আবূ জাহল বলেছিল, "মুহাম্মাদ আমাদের যাক্কুম গাছের ভয় দেখায়! তোমরা কিছু খেজুর ও মাখন এনে তা গপ করে গিলে ফেলো [৪]!"

নবি দাজ্জালকে তার নিজস্ব আকৃতিতে দেখেছেন; সেটা ছিল স্বচক্ষে দেখা, স্বপ্নের দেখা নয়। নবি ঈসা, মূসা ও ইবরাহীম-কেও দেখেছেন। দাজ্জাল সম্পর্কে নবি-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন-

أَقْمَرُ هِجَانُ (قَالَ حَسَنُ : قَالَ : رَأَيْتُهُ فَيْلَمَانِيًّا أَقْمَرَ هِجَانًا) إِحْدَى عَيْنَيْهِ قَائِمَةٌ ، كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ ، كَأَنَّ شَعْرَ رَأْسِهِ أَغْصَانُ شَجَرَةٍ ، وَرَأَيْتُ عِيسَى شَابًا أَبْيَضَ ، جَعْدَ الرَّأْسِ ، حَدِيدَ الْبَصَرِ ، مُبَطَّنَ الخَلْقِ ، وَرَأَيْتُ مُوسَى أَسْحَمَ آدَمَ ، كَثِيرَ الشَّعْرِ ، شَدِيدَ الخَلْقِ ، وَنَظَرْتُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ ، فَلَا أَنْظُرُ إِلى إِرْبٍ مِنْ آرَابِهِ ، إِلَّا نَظَرْتُ إِلَيْهِ مِنِّي ، كَأَنَّهُ صَاحِبُكُمْ ، فَقَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ : سَلَّمْ عَلَى مَالِكٍ ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ .

"গায়ের রঙ ফর্সা সাদা। [বর্ণনাকারী হাসান বলেন, নবি বলেছেন-"আমি তাকে দেখেছি এক বিশালদেহী ফর্সা সাদা ব্যক্তির মতো।"] তার দু চোখের একটি ছিল নজরে পড়ার মতো, ঠিক যেন একটি উজ্জ্বল তারকা; তার মাথার চুল ছিল গাছের ডালের মতো। ঈসা-কে দেখলাম-এক ফর্সা যুবক, মাথার চুল কোঁকড়ানো, প্রখর দৃষ্টিশক্তির অধিকারী [১] আর দেহের গড়ন মেদমুক্ত। মূসা-কে দেখলাম-কালো, মেটে রঙের, [৩] ঘনচুলবিশিষ্ট ও বলিষ্ঠদেহী। এরপর দেখলাম ইবরাহীম-কে। তাঁর বিভিন্ন অঙ্গের দিকে তাকানোর পর, আমার নিজের সেসব অঙ্গের দিকে তাকাই; মনে হলো, তিনি দেখতে তোমাদের এ সঙ্গীর মতোই! এরপর জিবরীল বলেন, "[৪] মালিককে সালাম দিন [৫]।" তখন আমি তাঁকে সালাম দিই।"'

আহমাদ ১/৩৭৪ (৩৫৪৬), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ১/২৪৫ (২১৯৭), ১/২৪৫ (২১৯৮), ১/২৫৯ (২৩৪৭), ১/২৯৬ (২৬৯৭), ১/৩৪২ (৩১৭৯) দ্বিতীয় অংশ, ১/৩৪২ (৩১৮০) দ্বিতীয় অংশ; আবু ইয়া'লা ৫/১০৮ (২৭২০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৬-৬৭ (২৩৫)।

টিকাঃ
[৩] "আমরা মুহাম্মাদের কথা সত্য মনে করি না" (আবূ ইয়ালা ৫/১০৮ (২৭২০))।
[৪] 'গপ করে গিলে ফেলা'র জন্য আবূ জাহল 'তাযাক্কুম' শব্দ ব্যবহার করেছে। এটি ছিল 'যাক্কুম' শব্দের সঙ্গে তার একধরনের তামাশা।
[১] "মাঝারি গড়ন, লালচে ফর্সা, মাথা পরিপাটি” (আহমাদ ১/২৪৫ (২১১৭))।
[৩] "দীর্ঘদেহী, মাথার চুল কোকঁড়ানো, অনেকটা শানুআ গোত্রের পুরুষদের মতো” (আহমাদ ১/২৪৫ (২১৯৭))।
[৪] "জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক” (আহমাদ ১/৩৪২ (৩১৭৯)) ।
[৫] "আপনার পূর্বপুরুষকে” (আবূ ইয়ালা ৫/১০৮ (২৭২০))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 বাইতুল মাকদিসে নবিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

📄 বাইতুল মাকদিসে নবিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ


[৩২০.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেন-

لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي وَضَعْتُ قَدَتَيَّ حَيْثُ تُوضَعُ أَقْدَامُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ، فَعُرِضَ عَلَيَّ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ ، فَإِذَا أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهَا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ ، وَعُرِضَ عَلَيَّ مُوسَى ، فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ مِنَ الرِّجَالِ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوْأَةَ ، وَعُرِضَ عَلَيَّ إِبْرَاهِيمُ ، فَإِذَا أَقْرَبُ النَّاسِ شَبَهَا بِصَاحِبِكُمْ .

"বাইতুল মাকদিসের যেখানে নবিগণ পা রাখতেন (অর্থাৎ চলাফেরা করতেন), ইসরা'র রাতে আমি সেখানে পা রাখি। তখন আমার সামনে ঈসা ইবনু মারইয়াম -কে হাজির করা হয় [২], (গড়নের দিক দিয়ে) তাঁর সঙ্গে উরওয়া ইবনু মাসঊদের মিল ছিল সবচেয়ে বেশি। এরপর মূসা-কে হাজির করা হলে দেখি, তিনি হালকা-পাতলা গড়নের এক পুরুষ [৩], অনেকটা শানূআ গোত্রের পুরুষদের মতো। এরপর হাজির করা হয় ইবরাহীম -কে, যার (গড়নের) সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল ছিল তোমাদের এ সঙ্গীর সাথে। [১]"

আহমাদ ২/৫২৮ (১০৮৩০), হাদীসটি সহীহ, তবে ইসনাদটি হাসান (আরনাউত), ২/২৮২ (৭৭৮৯), ২/৫১২ (১০৬৪৭), ৩/৩৩৪ (১৪৫৮৯); বুখারি ৩৩৯৪, ৩৪৩৭, ৪৭০৯, ৫৫৭৬, ৫৬০৩; মুসলিম ৪২৩/২৭১ (১৬৭), ৪২৪/২৭২ (১৬৮), ৫২৪০/১৬৮ (৯২), ৫২৪১ (...); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৬ (২৩৪)।

টিকাঃ
[২] هُوَ رَجُلٌ رَبْعَةٌ أَحْمَرُ كَأَنَّمَا خَرَجَ مِنْ دِيْمَاسٍ "তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার এক পুরুষ, গায়ের রঙ লালচে, ঠিক যেন গোসলখানা থেকে (সবেমাত্র গোসল সেরে) বেরিয়ে এসেছেন;” (বুখারি ৩৩৯৪)।
[৩] رجلٌ "পরিপাটি চুলবিশিষ্ট” (বুখারি ৩৩৯৪)।
[১] وَأَنَا أَشْبَهُ وَلَدِهِ بِهِ “তাঁর সন্তানদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার মিল ছিল সবচেয়ে বেশি” (মুসলিম ৪২৪/২৭২ (১৬৮)); وَرَأَيْتُ جِبْرِيلَ , فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهَا دِحْيَةُ بْنُ خَلِيفَةُ الله “আর জিবরীল-কে দেখলাম; আমার দেখা লোকদের মধ্যে দিহইয়া (ইবনু খলীফা)'র সঙ্গে তাঁর সাদৃশ্য সবচেয়ে কাছাকাছি।” (মুসলিম ৪২৩/২৭১ (১৬৭)) ।
[৩] ثُمَّ أُتِيتُ بِإِنَاءَيْنِ ، فِي أَحَدِهِمَا لَبَنُ وَفِي الْآخَرِ خَمْرُ ، فَقَالَ : اشْرَبْ أَيُّهُمَا شِئْتَ ، فَأَخَذْتُ اللَّبَنَ فَشَرِبْتُهُ ، فَقِيلَ : أَخَذْتَ الْفِطْرَةَ ، أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ "এরপর [বাইতুল মাকদিসে (বুখারি ৪৭০১)] আমার কাছে দুটি পাত্র আনা হয়: একটিতে ছিল দুধ, অপরটিতে শরাব। জিবরীল বলেন, 'দুটির মধ্যে আপনার যেটি মন চায়, পান করুন।' আমি দুধ (বেছে) নিয়ে তা পান করি। তখন বলা হলো, 'আপনি প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন! [প্রশংসা সবই আল্লাহর, যিনি আপনাকে সঠিক প্রকৃতির দিশা দিয়েছেন। (বুখারি ৪৭০৯)] যদি মদ (বেছে) নিতেন, তা হলে আপনার উম্মাহ পথভ্রষ্ট হতো।' ” (বুখারি ৩৩৯৪)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 সুনগোত্রের পরিণতি ও মহাকাশের ব্যাপারে মানুষের উদাসীনতার কারণ

📄 সুনগোত্রের পরিণতি ও মহাকাশের ব্যাপারে মানুষের উদাসীনতার কারণ


[৩২২.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي لَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ ، فَنَظَرْتُ فَوْقُ فَإِذَا أَنَا بِرَعْدٍ وَبَرْقٍ وَصَوَاعِقَ ، فَأَتَيْتُ عَلَى قَوْمٍ بُطُوْنُهُمْ كَالْبُيُوتِ ، فِيهَا الْحَيَّاتُ تُرى مِنْ خَارِج بُطُونِهِمْ ، قُلْتُ : مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ ؟ قَالَ : هَؤُلَاءِ أَكَلَةُ الرِّبَا . فَلَمَّا نَزَلْتُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ، نَظَرْتُ أَسْفَلَ مِنِّي ، فَإِذَا أَنَا برهج وَدُخَانٍ وَأَصْوَاتٍ ، فَقُلْتُ : مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ ؟ قَالَ : هَذِهِ الشَّيَاطِينُ يَحْرِفُوْنَ عَلَى أَعْيُنِ بَنِي آدَمَ أَنْ لَا يَتَفَكَّرُوا فِي مَلَكُوْتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ، وَلَوْلَا ذُلِكَ لَرَأَوُا الْعَجَائِبَ .

"ইসরা'র রাতে দেখেছি-আমরা যখন সপ্তম আকাশে গিয়ে পৌঁছুলাম, তখন ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানে বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎচমক ও বিকট আওয়াজ। এরপর আমরা কিছু লোকের কাছে হাজির হই, যাদের পেটগুলো ছিল ঘরের মতো, সেখানে অনেক সাপ, যা তাদের পেটের বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি বলি, 'জিবরীল! এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা হলো সুদখোর।'

তারপর নিকটতম আকাশে নামার পর, আমার নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানে ধুলা, ধোঁয়া ও বিচিত্র আওয়াজ। আমি বলি, 'জিবরীল! এগুলো কী?' তিনি বলেন, 'এসব শয়তান আদম-সন্তানদের দৃষ্টি (ভিন্নদিকে) সরিয়ে দিচ্ছে, যাতে তারা মহাকাশ ও পৃথিবীতে (আল্লাহর) কর্তৃত্ব ও রাজত্বের ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবতে না পারে। (শয়তানদের) এসব কাণ্ড না থাকলে, মানুষ (মহাকাশ ও পৃথিবীতে) নানা বিস্ময় দেখতে পেত।'

আহমাদ ২/৩৫৩ (৮৬৪০), বর্ণনাকারী আবুস সালুত অজ্ঞাতপরিচয়, আর তার কাছ থেকে আলি ইবনু যাইদ ছাড়া আর কেউ হাদীস বর্ণনা করেননি (হাইসামি), ২/৩৬৩ (৮৭৫৭); ইবনু আবী শাইবা ১৪/৩০৭ (৩৭৭২৯); ইবনু মাজাহ২২৭৩; কানযুল উম্মাল ১১/৩৯৯-৪০০; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/৬৬ (২৩৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00