📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 কিছু লোক মুমিন না হয়েও আযান দেবে এবং নামাজ ক্বায়েম করবে

📄 কিছু লোক মুমিন না হয়েও আযান দেবে এবং নামাজ ক্বায়েম করবে


[৩০৪.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন—

يُؤَذِّنُ الْمُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ قَوْمٌ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ

"মুআযযিন আযান দেবে আর কিছু লোক নামাজ আদায় করবে, অথচ তারা মুমিন নয়।"'

তাবারানি, কাবীর ১৩/৫২৮ (১৪৪১৩), বর্ণনাসূত্রে একজন অজ্ঞাতপরিচয় (হাইসামি); হিইয়া ৪/১২৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৪৭)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 একটি গোত্রের ইসলাম-ত্যাগের ব্যাপারে উমর (রাঃ)-এর আশঙ্কা

📄 একটি গোত্রের ইসলাম-ত্যাগের ব্যাপারে উমর (রাঃ)-এর আশঙ্কা


[৩০৫.] আবদুর রহমান ইবনু আউফ বলেন, 'আমি উমর-এর কাছে গেলে তিনি বলেন— "আবদুর রহমান ইবনু আউফ, তোমার কি মনে হয় লোকজন ইসলাম ছেড়ে দেবে এবং তা থেকে বেরিয়ে যাবে?” আমি বললাম, "ইন শা আল্লাহ, না। তাদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূল -এর সুন্নাহ থাকার পরও তারা কীভাবে ইসলাম ছেড়ে দেবে?” তখন তিনি বলেন, "এরূপ কিছু ঘটলে, তা ঘটবে অমুক গোত্রের লোকদের দ্বারা।”'

তাবারানি, আওসাত ১/৫৫৬ (২০৪৮), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৪৮)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 মুনাফিকির ব্যাপারে আতঙ্ক থাকে মুমিন, আর নিশ্চিন্ত থাকে মুনাফিক

📄 মুনাফিকির ব্যাপারে আতঙ্ক থাকে মুমিন, আর নিশ্চিন্ত থাকে মুনাফিক


[৩০৬.] আউন বলেন, 'একব্যক্তি আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ)-কে বলেন, “আমার ভয় হয়, আমি মুনাফিক হয়ে গেলাম কিনা!” তিনি বলেন, “মুনাফিক হলে, তোমার মনে এ ভয় জাগত না।”'

তাবারানি, কাবীর ৯/২০১ (৮৮৯১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৪ (৪৫১)।

[৩০৭.] হাসান -এর ব্যাপারে বলা হয় যে (তিনি বলেছেন),

مَا خَافَهُ إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا أَمِنَهُ إِلَّا مُنَافِقُ

"(মুনাফিকি এমন একটি বিষয়) একমাত্র মুমিনই এর ভয়ে থাকে, আর কেবল মুনাফিকই এ-ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে।”

বুখারি, ৪৮ নং হাদীসের আগে।

[৩০৮.] ইবনু আবী মুলাইকা বলেন, 'আমি নবি-এর তিরিশজন সাহাবির সাক্ষাৎ পেয়েছি, তাদের প্রত্যেকে নিজের ব্যাপারে মুনাফিকির আশঙ্কা করতেন। তাদের কেউই এ-কথা বলতেন না যে, তিনি জিবরীল ও মীকাঈল-এর ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন।”

বুখারি, ৪৮ নং হাদীসের আগে; বুখারি, তারীখ ৫/১৩৭।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ঈমান বা কুফর—যে অবস্থায় মৃত্যু, সে-অবস্থায় পুনরুত্থান

📄 ঈমান বা কুফর—যে অবস্থায় মৃত্যু, সে-অবস্থায় পুনরুত্থান


[৩০৯.] জাবির বলেন, 'আমি নবি-কে বলতে শুনেছি-

يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا مَاتَ عَلَيْهِ

"প্রত্যেক বান্দা যে-অবস্থায় মারা যাবে, তাকে সেই অবস্থায় ওঠানো হবে।[১]"'

মুসলিম ৭২৩২/৮৩ (২৮৭৮), ৭২৩৩ (...); আহমাদ ৩/৩৩১ (১৪৫৪৩), ৩/৩১৪ (১৪৩৭৩); আবূ ইয়া'লা ৩/৪১৫ (১৯০১), ৪/১৮৪ (২২৬৯); তাবারানি, আওসাত ৬/৩৩৯ (৮৯৭৮); হাকিম ১/৩৪০ (১২৫৯), ৪/৩১৩ (৭৮৭২); কানযুল উম্মাল ৯/৪৪ (২৪৮৫২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৪৯)।

[৩১০.] ফাদালা ইবনু উবাইদ বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-

مَنْ مَاتَ عَلَى مَرْتَبَةٍ مِنْ هَذِهِ الْمَرَا تِبِ بُعِثَ عَلَيْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ رِبَاطٍ أَوْ حَجَّ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ

"যে-ব্যক্তি এসব সম্মানজনক কাজের কোনও একটি করার সময় মারা যায়, তাকে কিয়ামাতের দিন সেই অবস্থায় ওঠানো হবে; (কাজগুলো হলো) ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেওয়া অথবা হজ আদায় করা কিংবা অন্য কোনও কাজ।”'

ফাদালা বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-কে বলতে শুনেছি-

كُل مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلَّا الَّذِي مَاتَ مُرَابِطًا فِي سَبِيلِ اللهِ يَنْمُوْ لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيُؤْمَنُ فِتْنَةُ الْقَبْرِ

"প্রত্যেক মৃতব্যক্তির আমল বন্ধ করে দেওয়া হয়, ব্যতিক্রম শুধু সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারা দেয়, তার আমল কিয়ামাত পর্যন্ত বাড়তে থাকে, আর তাকে কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ রাখা হয়।”'

হাকিম ২/১৪৪ (২৬৩৭), বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, ১/৩৪০ (১২৬০ (ক)); আহমাদ ৬/২০ (২৩৯৫০), ৬/১৯ (২৩৯৪১), ৬/১৯ (২৩৯৪৫); তাবারানি, কাবীর ১৮/৩০৫ (৭৮৪), ১৮/৩০৫ (৭৮৫); তহাভি, শারহু মুশকিল ১/২৩২ (২৫২); কানযুল উম্মাল ৪/৩২৫ (১০৭২৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৫০)।

টিকাঃ
[১] مَنْ مَاتَ عَلَى شَيْءٍ، بَعَثَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ "কোনও ব্যক্তি যে-বিষয়ের ওপর মারা যাবে, আল্লাহ তাকে সে-বিষয়ের ওপর ওঠাবেন” (আহমাদ ৩/৩১৪ (১৪৩৭৩); كُلُّ نَفْسٍ تُحْشَرُ عَلَى هَوَاهَا، مَنْ هَوِيَ الْكُفْرَ فَهُوَ مَعَ الْكَفَرَةِ، وَلَا يَنْفَعُهُ عَمَلُهُ شَيْئًا "প্রত্যেক মানুষকে তার নিয়তের ভিত্তিতে (কিয়ামাতের দিন) ওঠানো হবে; যার কুফরের নিয়ত ছিল, সে থাকবে কাফিরদের সঙ্গে, তার আমল তার কোনও উপকারে আসবে না।” (তাবারানি, আওসাত ৬/৩৩১ (৮৯৭৮))।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00