📄 সাহাবিদের মধ্যে বারোজন মুনাফিক
[৩০১.] কাইস বলেন, 'আমি আম্মার -কে বললাম, "আপনারা আলি -এর ব্যাপারে যা করছেন, সে-সম্পর্কে ভেবে দেখেছেন? এটা কি আপনাদের নিছক চিন্তাপ্রসূত মত, নাকি এ-ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল আপনাদের কাছ থেকে কোনও ওয়াদা নিয়েছিলেন?" [১] [২]
তিনি বলেন, "আল্লাহর রাসূল আমাদের কাছ থেকে এমন কোনও বিশেষ ওয়াদা নেননি, যা তিনি জনসাধারণের কাছ থেকে নেননি। তবে নবি সম্পর্কে হুযাইফা আমাকে জানিয়েছেন যে, নবি বলেছেন-
فِي أَصْحَابِي اثْنَا عَشَرَ مُنَافِقًا، فِيْهِمْ ثَمَانِيَةُ لَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْحَيَاطِ، ثَمَانِيَةً مِنْهُمْ تَكْفِيكَهُمُ الدُّبَيْلَةُ، وَأَرْبَعَةٌ
"আমার সাহাবিদের মধ্যে [৩] বারোজন মুনাফিক আছে। এদের মধ্যে আটজন জান্নাতে যাবে না [৪], যতক্ষণ-না সুইয়ের ছিদ্রের ভেতর দিয়ে উট ঢুকছে। এদের আটজনকে শায়েস্তা করার জন্য দুবাইলা যথেষ্ট [৫]। আর চারজন ..."
(বর্ণনাকারী) শু'বা এদের ব্যাপারে কী বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই।'
মুসলিম ৭০৩৫/৯ (২৭৭৯), ৭০৩৬/১০ (...); আহমাদ ৪/৩৬২-৩৬৩ (১৮৩১৩), ৪/৩১৯-৩২০ (১৮৮৮৫), ৫/৩৯০ (২৩৩১৯)।
টিকাঃ
[১] "আপনাদের লড়াই সম্পর্কে ভেবে দেখেছেন?" (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))
[২] "চিন্তাপ্রসূত মত তো সঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে।” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))।
[৩] فِي أُمَّتِي "আমার উম্মাহর মধ্যে” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))
[৪] وَلَا يَجِدُونَ رِيْحَهَا "এর সুঘ্রাণও পাবে না” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))
[৫] سِرَاجُ مِنَ النَّارِ يَظْهَرُ فِي أَكْتَافِهِمْ حَتَّى يَنْجُمَ مِنْ صُدُورِهِمْ "আগুনের একটি প্রদীপ, যা উদয় হবে এদের কাঁধের মধ্যে, আর শেষ হবে বুকের ভেতর গিয়ে” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))।
📄 এক সাহাবি সম্পর্কে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর মন্তব্য
[৩০২.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'তাদের কেউ একজন বলে, "আমার পিতা আল্লাহর রাসূল -এর সাহচর্য পেয়েছিলেন, তিনি আল্লাহর রাসূল-এর সঙ্গে ছিলেন।” অথচ একটি পুরাতন ছেঁড়া জুতাও তার পিতার চেয়ে উত্তম।'
বাযযার (কাশফ) ১/৬৩ (৮৮), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৪২)।
📄 সিফফীন যুদ্ধের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আমার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-এর মন্তব্য
[৩০৩.] সাদ ইবনু হুযাইফা থেকে বর্ণিত, 'সিফফীন যুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষ ও সন্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে আম্মার ইবনু ইয়াসির বলেন, "শপথ আল্লাহর! তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, বরং কুফর লুকিয়ে রেখে আত্মসমর্পণ করেছিল; এখন নিজেদের সহযোগী দেখতে পেয়ে কুফরের বিষয়টি প্রকাশ করে দিয়েছে।”'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র মাজমাউয যাওয়াইদ ৪৪৬, সাদ ইবনু হুযাইফা সম্পর্কে আলোচনা করতে কাউকে দেখিনি (হাইসামি), তারীখ গ্রন্থে (৪/৫৪) বুখারি তার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, কিন্তু ভালো-মন্দ কিছু উল্লেখ করেননি (দারানি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৪৬)।
📄 কিছু লোক মুমিন না হয়েও আযান দেবে এবং নামাজ ক্বায়েম করবে
[৩০৪.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন—
يُؤَذِّنُ الْمُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ قَوْمٌ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ
"মুআযযিন আযান দেবে আর কিছু লোক নামাজ আদায় করবে, অথচ তারা মুমিন নয়।"'
তাবারানি, কাবীর ১৩/৫২৮ (১৪৪১৩), বর্ণনাসূত্রে একজন অজ্ঞাতপরিচয় (হাইসামি); হিইয়া ৪/১২৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৪৭)।