📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 রাসূল ﷺ-এর মজলিসে এক অভিশপ্ত ব্যক্তির প্রবেশ

📄 রাসূল ﷺ-এর মজলিসে এক অভিশপ্ত ব্যক্তির প্রবেশ


[২৯৭.] আবদুল্লাহ ইবনু আমরা বলেন, 'আমরা নবি ﷺ-এর কাছে বসে আছি। আমর ইবনুল আস গিয়েছেন জামা গায়ে দেওয়ার জন্য। তার উদ্দেশ্য ছিল, তিনি পরে এসে আমার সঙ্গে যোগ দেবেন। [৩] নবি ﷺ-এর কাছে থাকাবস্থায় তিনি বলেন-
لَيَدْخُلَنَّ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ لَعِينٌ
"[৪] তোমাদের কাছে এক অভিশপ্ত লোক আসবে।"[৫]
[৬] শপথ আল্লাহর! আমি আতঙ্কিত অবস্থায় একবার (মজলিসের) ভেতরে আর আরেকবার বাইরে যেতে থাকি। [৭] একপর্যায়ে অমুক (অর্থাৎ হাকাম) [৮] প্রবেশ করেন।'
আহমাদ ২/১৬৩ (৬৫২০), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত); বাযযার (কাশফ) ২/২৪৭ (১৬২৫); তাবারানি, আওসات ৫/২২৮ (৭১৫৫); তাবারানি, কাবীর ১৩/৪৮৫ (১৪৩৫৫), ১৩/৪৮৬ (১৪৩৫৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১২ (৪৩৮, ৪৩৯, ৪৪০, ৪৪১)।

টিকাঃ
[১] 'ইবনিল আস' (তাবারানি, আওসات ৫/২২৮ (৭১৫৫))。
[২] 'আমার পিতা' (তাবারানি, আওসাত ৫/২২৮ (৭১৫৫))。
[৩] 'আমি আমর ইবনুল আসি-কে রেখে এসেছিলাম, যাতে তিনি জামা গায়ে দিয়ে এসে আমার সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।' (বাযযার (কাশফ) ২/২৪৭ (১৬২৫)); 'আমি আমার পিতাকে ঘরে রেখে এসেছিলাম। তিনি ওজু করছিলেন।' (তাবারানি, কাবীর ১৩/৪৮৫ (১৪৩৫৫), ১৩/৪৮৬ (১৪৩৫৬))。
[৪] الآن "এখন” (তাবারানি, আওসات ৫/২২৮ (৭১৫৫))。
[৫] يَطَّلِعُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ مِنْ هَذَا الْفَجِّ مِنْ أَهْلِ النَّارِ “এদিক দিয়ে এক জাহান্নামী তোমাদের কাছে আসবে” (তাবারানি, কাবীর ১৩/৪৮৫ (১৪৩৫৫)); لَيَطَّلِعُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى غَيْرِ سُنَّتِيْ أَوْ غَيْرِ مِلَّتِي “তোমাদের কাছে একলোক আসবে, যাকে কিয়ামাতের দিন উঠানো হবে আমার রীতিনীতির বাইরের অথবা আমার আদর্শের বাইরের লোক হিসেবে” (তাবারানি, কাবীর ১৩/৪৮৬ (১৪৩৫৬))。
[৬] 'সেই ব্যক্তিটি আমার পিতা হতে পারেন, এ-ভেবে আমি ভয় পেয়ে যাই' (তাবারানি, আওসات ৫/২২৮ (৭১৫৫))。
[৭] 'আমি আতঙ্ক নিয়ে তাকিয়ে থাকি' (বাযযার (কাশফ) ২/২৪৭ (১৬২৫))。
[৮] 'হাকাম ইবনু আবিল আসি' (বাযযার (কাশফ) ২/২৪৭ (১৬২৫)); 'হাকাম ইবনু আবিল আস' (তাবারানি, আওসাত ৫/২২৮ (৭১৫৫))。
[৯] 'এরপর (অন্য) একব্যক্তি তাঁর কাছে এলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন- مُوَهَدًا "এ হলো সেই (ব্যক্তি)।” (তাবারানি, কাবীর ১৩/৪৮৫ (১৪৩৫৫), ১৩/৪৮৬ (১৪৩৫৬))。

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 রাসূল ﷺ কোনও মুমিনকে বদদোয়া দিলে, সেটি তার জন্য পরিশুদ্ধি-স্বরূপ

📄 রাসূল ﷺ কোনও মুমিনকে বদদোয়া দিলে, সেটি তার জন্য পরিশুদ্ধি-স্বরূপ


[২৯৮.] আবদুল্লাহ ইবনু উসমান ইবনি খুসাইম বলেন, 'আমি আবুত তুফাইল -এর কাছে গিয়ে দেখি, তিনি বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। আমি (মনে মনে) বলি, তার কাছ থেকে জ্ঞানার্জনের জন্য এ-অবস্থাকে কাজে লাগাতে পারি! তখন আমি বলি, "আবুত তুফাইল! আল্লাহর রাসূল ﷺ যাদের অভিশাপ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কারা আছে? তারা কারা?” তিনি আমাকে তাদের ব্যাপারে বলতে চাইলে, তার স্ত্রী সাওদা তাকে বলেন, "আবুত তুফাইল, থামুন। আপনার কাছে কি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর এ-কথা পৌঁছয়নি?-
اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، فَأَيُّمَا عَبْدٍ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ دَعَوْتُ عَلَيْهِ بِدَعْوَةٍ، فَاجْعَلْهَا لَهُ زَكَاةً وَرَحْمَةً
“হে আল্লাহ! আমি তো একজন মানুষ; আমি কোনও মুমিন বান্দাকে বদ-দুআ দিলে(১), সেটিকে তার জন্য পরিশুদ্ধি ও করুণা-লাভের মাধ্যম বানিয়ে দাও。[২]”,
আহমাদ ৫/৪৫৪ (২৩৭৯৩), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); বুখারি ৬৩৬১; মুসলিম ৬৬১৬/৮৯ (২৬০১); তাবারানি, আওসات ২/৮ (২৩০৯); উসদুল গবাহ ৭/১৫৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১১-১১২ (৪৩৫)।

টিকাঃ
[১] فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ سَبَبْتُهُ أَوْ لَعَنَتُهُ أَوْ جَلَدْتُهُ فَاجْعَلْهَا لَهُ زَكَاةً وَرَحْمَةً মুসলিমকে রুক্ষ কথা বললে অথবা তাকে অভিশাপ দিলে কিংবা তাকে (অপরাধের শাস্তি হিসেবে) চাবুক মারলে” (মুসলিম ৬৬১৬/৮৯ (২৬০১))|
[২] اجْعَلْ ذَلِكَ لَهُ قُرْبَةً إِلَيْكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِو "তার জন্য সেটিকে কিয়ামাতের দিন তোমার নৈকট্য- লাভের মাধ্যম বানিয়ে দিয়ো।” (বুখারি ৬৩৬১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00