📄 অন্তরে মুনাফিকি মূলত ওয়াদা-ভঙ্গ ও মিথ্যাবাদিতার শাস্তি
[২৮৫.] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, 'তিনটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে মুনাফিকদের চিনবে: কথা বলার সময় মিথ্যা বলবে, ওয়াদা দিলে ভেঙে ফেলবে, আর চুক্তিবদ্ধ হলে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। বিষয়টি সত্যায়ন করে আল্লাহ তাঁর কিতাবে নাযিল করেছেন-
وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللهِ لَئِنْ آتَانَا مِنْ فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَكُوْنَنَّ مِنَ الصَّالِحِيْنَ ﴿٧٥﴾ فَلَمَّا آتَاهُمْ منْ فَضْلِهِ بَخِلُوا بِهِ وَتَوَلَّوْا وَهُمْ مُعْرِضُوْنَ ﴿٧٦﴾ فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوْبِهِمْ إِلَى يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُوا اللهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُوا يَكْذِبُوْنَ ﴿۷۷﴾ أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَأَنَّ اللَّهَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ (۷۸)
"তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা করেছে-আল্লাহ যদি নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাদের কিছু দেন, তা হলে আমরা অনেক বেশি বেশি দান-সদাকা করব আর ভালো মানুষ হয়ে যাব। এরপর আল্লাহ যখন নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের কিছু দিলেন, তখন তারা কৃপণ হয়ে গেল এবং অনীহা-ভরে মুখ ফিরিয়ে নিল। এর পরিণতিতে আল্লাহ তাদের অন্তরে মুনাফিকির শাস্তি দিলেন, যা চলতে থাকবে আল্লাহর সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের সময় পর্যন্ত, কারণ তারা আল্লাহর সঙ্গে যা ওয়াদা করেছিল তা রাখেনি, আর একের পর এক মিথ্যা বলে গিয়েছে। তারা কি জানে না-তাদের গোপন রহস্য ও চুপিচুপি আলাপ আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন? আল্লাহ তো সকল অদৃশ্য বিষয়ের মহাজ্ঞানী।” (সূরা আত-তাওবা ৯:৭৫-৭৮)।
টিকাঃ
]১[ آيَاتُ الْنَّفَاقِ “মুনাফিকির চিহ্নগুলো হলো:” (তাবারানি, আওসাত ৬/১১২ (৮১৮৭)); مِنْ أَعْلَامِ الْمُنَافِق "মুনাফিকের বড়ো বড়ো নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে:" (তাবারানি, আওসাত ২/১৮২ (২৯৫০))|
]2[ إِذَا ائْتُمِنَ خَانَ “তার কাছে আমানত রাখা হলে, সে খেয়ানত করে" (বুখারি ৩৪); وَإِذَا الْتَمَنْتَهُ خَانَكَ "তুমি তার কাছে আমানত রাখলে, সে খেয়ানত করবে” (তাবারানি, আওসাত ২/১৮২ (২৯৫০))|
📄 মুনাফিক যেভাবে মিথ্যাবাদিতা, খেয়ানত ও ওয়াদা-ভঙ্গ করে
[২৮৬.] সালমান ফারিসি বলেন, 'আবূ বকর ও উমর আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে গেলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
مِنْ خِلَالِ الْمُنَافِقِ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا ائْتُمِنَ خَانَ
"মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে আছে: সে কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভেঙে ফেলে, আর আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।"
এ-কথা শুনে তারা অত্যন্ত গম্ভীর চেহারা নিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে বেরিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে দেখা হলে আমি বলি, "ব্যাপার কী? আপনাদের ভীষণ গম্ভীর দেখাচ্ছে যে।” তারা বলেন, “আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে একটি কথা শুনলাম। তিনি বললেন, 'মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে আছে: সে কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভেঙে ফেলে, আর আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।'" সালমান বলেন, "আপনারা কি (এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে) নবি-কে জিজ্ঞেস করেননি?” তিনি বলেন, "আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে (এ-বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে) আমাদের ভয় হচ্ছিল।” আমি বলি, "তবে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করব।”
এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে গিয়ে বলি, "আবূ বকর ও উমর-এর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তাদের ভীষণ গম্ভীর দেখাচ্ছিল।” তারপর তারা যা বলেছিলেন তা উল্লেখ করি। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাসূল ﷺ বলেন-
قَدْ حَدَّثْتُهُمَا وَلَمْ أَضَعُهُ عَلَى الْمَوْضَعِ الَّذِي يَضَعَانِهِ، وَلَكِنَّ الْمُنَافِقَ إِذَا حَدَّثَ وَهُوَ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ أَنَّهُ يَكْذِبُ، وَإِذَا وَعَدَ وَهُوَ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ أَنَّهُ يُخْلِفُ، وَإِذَا ائْتُمِنَ وَهُوَ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ أَنَّهُ يَخُوْنُ
"আমি তাদের এ-কথা বলেছি; তবে তারা বিষয়টি যেভাবে বুঝছে, আমি সেভাবে বুঝাইনি; বরং (বুঝাতে চেয়েছি)-
» মুনাফিক যখন কথা বলে, তখন মনে মনে বলে যে সে মিথ্যা বলবে;
» যখন সে ওয়াদা দেয়, তখন মনে মনে বলে যে, সে তা ভেঙে ফেলবে; আর
> তার কাছে যখন আমানত রাখা হয়, তখন সে মনে মনে বলে যে, সে খেয়ানত করবে।"'
তাবারানি, কাবীর ৬/২৭০ (৬১৮৬), আবু ওয়াক্কাসের সূত্রে আবুন নুমান বর্ণনা করেছেন, দুজনই অজ্ঞাতপরিচয়, তবে এর অন্যান্য বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত (হাইসামি); ইসনাদটিতে কোনও সমস্যা নেই, বর্ণনাকারীদের এমন কেউ নেই যার পরিত্যাজ্য হওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত (আসকালানি, ফাতহুল বারী ১/৯০); কানযুল উম্মাল ১/১৭১ (৮৬৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৮ (৪২২)।