📄 মুমিন, কাফির ও মুনাফিকের কলবের উদাহরণ
[২৮২] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
الْقُلُوبُ أَرْبَعَةٌ قَلْبٌ أَجْرَدُ فِيهِ مِثْلُ السِّراجِ يُزْهِرُ، وَقَلْبٌ أَغْلَفُ مَرْبُوطٌ عليه غِلَافُهُ، وَقَلْبٌ مَنْكُوسُ، وَقَلْبُ مُصْفَحُ، فَأَمَّا الْقَلْبُ الْأَجْرَدُ فَقَلْبُ الْمُؤْمِنِ، وَأَمَّا الْقَلْبُ الْمَنْكُوسُ فَقَلْبُ الْمُنَافِقِ عَرَفَ ثُمَّ أَنْكَرَ، وَأَمَّا الْمُصْفَحُ فَقَلْبٌ فِيهِ إِيمَانُ وَنِفَاقُ فَمَثَلُ الْإِيمَانِ فِيهِ كَمَثَلِ الْبَقْلَةِ يَمُدُّهَا الْمَاءُ الطَّيِّبُ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ فِيهِ كَمَثَلِ الْقُرْحَةِ يَمُدُّهَا الْقَيْحُ وَالدَّمُ فَأَيُّ الْمَدَّتَيْنِ غَلَبَتْ عَلَى الْأُخْرَى غَلَبَتْ عَلَيْهِ
“কলব বা অন্তর চার ধরনের:
» উন্মুক্ত অন্তর, যেখানে উজ্জ্বল প্রদীপ আলো বিকিরণ করে,
» পর্দায় ঢেকে-থাকা অন্তর,
» উলটো-হয়ে-থাকা অন্তর এবং
» প্রশস্ত অন্তর।
উন্মুক্ত অন্তর হলো মুমিনের অন্তর, সেখানকার প্রদীপটি হলো তার (ঈমানের) আলো; পর্দায় ঢেকে-থাকা অন্তর হলো কাফির বা অবাধ্য লোকের অন্তর; উলটো-হয়ে-থাকা অন্তর হলো মুনাফিক বা কপট লোকের অন্তর, সে সত্যকে চেনার পর প্রত্যাখ্যান করেছে; আর প্রশস্ত অন্তর হলো এমন অন্তর যেখানে ঈমান ও কপটতা উভয়টিই থাকে—সেখানকার ঈমান এমন তৃণলতার মতো, যা পরিচ্ছন্ন ও ভালো পানি পেলে লকলক করে বেড়ে ওঠে; আর সেখানকার কপটতা এমন ক্ষতস্থানের মতো, যা পুঁজ ও রক্তের ফলে আরও দগদগে হয়ে ওঠে; দুটির মধ্যে যেটি অপরটির ওপর জয়ী হয়, সেটির প্রভাব ওই ব্যক্তির ওপর পড়ে।”
আহমাদ ৩/১৭ (১১১২৯), বর্ণনাসূত্রে লাইস ইবনু আবী সুলাইম আছেন (হাইসামি); তাবারানি, সগীর ১০৭৫; হিল্ইয়া ১/২৭৬, ৪/৩৮৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬১ (২২৫); কানযুল উম্মাল ১/২৪৪ (১২২৬); জামউল ফাওয়াইদ ১১৬।
📄 মুনাফিক পিতার সঙ্গে ভালো আচরণ করার জন্য সাহাবির প্রতি নির্দেশ
[২৮৭.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল একটি ছায়াদার জায়গায় ছিল। এমন সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ তার পাশ দিয়ে গেলে সে বলে ওঠে, "আবূ কাবশার ছেলে তো আমাদের ওপর ধুলা ছড়িয়ে গেল!” এ-কথা শুনে তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, "শপথ সেই সত্তার, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন আর আপনার ওপর কুরআন নাযিল করেছেন। আপনি চাইলে, তার মাথা আপনার কাছে নিয়ে আসব।"
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
لَا ، وَلكِنْ بِرَّ أَبَاكَ وَأَحْسِنُ صُحْبَتَهُ
"না। বরং তোমার পিতার সঙ্গে ভালো আচরণ করো এবং তাকে উত্তম সাহচর্য দাও।"'
তাবারানি, আওসাত ১/৮১ (২২৯), এটি যাইদ ইবনু বিশর হাদরামি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (তাবারানি), ইবনু হিব্বান তাকে 'বিশ্বস্ত' আখ্যায়িত করেছেন, ইসনাদের অন্যান্য বর্ণনাকারীও বিশ্বস্ত (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৯ (৪২৭)।
📄 সাহাবিদের মধ্যে বারোজন মুনাফিক
[৩০১.] কাইস বলেন, 'আমি আম্মার -কে বললাম, "আপনারা আলি -এর ব্যাপারে যা করছেন, সে-সম্পর্কে ভেবে দেখেছেন? এটা কি আপনাদের নিছক চিন্তাপ্রসূত মত, নাকি এ-ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল আপনাদের কাছ থেকে কোনও ওয়াদা নিয়েছিলেন?" [১] [২]
তিনি বলেন, "আল্লাহর রাসূল আমাদের কাছ থেকে এমন কোনও বিশেষ ওয়াদা নেননি, যা তিনি জনসাধারণের কাছ থেকে নেননি। তবে নবি সম্পর্কে হুযাইফা আমাকে জানিয়েছেন যে, নবি বলেছেন-
فِي أَصْحَابِي اثْنَا عَشَرَ مُنَافِقًا، فِيْهِمْ ثَمَانِيَةُ لَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْحَيَاطِ، ثَمَانِيَةً مِنْهُمْ تَكْفِيكَهُمُ الدُّبَيْلَةُ، وَأَرْبَعَةٌ
"আমার সাহাবিদের মধ্যে [৩] বারোজন মুনাফিক আছে। এদের মধ্যে আটজন জান্নাতে যাবে না [৪], যতক্ষণ-না সুইয়ের ছিদ্রের ভেতর দিয়ে উট ঢুকছে। এদের আটজনকে শায়েস্তা করার জন্য দুবাইলা যথেষ্ট [৫]। আর চারজন ..."
(বর্ণনাকারী) শু'বা এদের ব্যাপারে কী বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই।'
মুসলিম ৭০৩৫/৯ (২৭৭৯), ৭০৩৬/১০ (...); আহমাদ ৪/৩৬২-৩৬৩ (১৮৩১৩), ৪/৩১৯-৩২০ (১৮৮৮৫), ৫/৩৯০ (২৩৩১৯)।
টিকাঃ
[১] "আপনাদের লড়াই সম্পর্কে ভেবে দেখেছেন?" (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))
[২] "চিন্তাপ্রসূত মত তো সঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে।” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))।
[৩] فِي أُمَّتِي "আমার উম্মাহর মধ্যে” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))
[৪] وَلَا يَجِدُونَ رِيْحَهَا "এর সুঘ্রাণও পাবে না” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))
[৫] سِرَاجُ مِنَ النَّارِ يَظْهَرُ فِي أَكْتَافِهِمْ حَتَّى يَنْجُمَ مِنْ صُدُورِهِمْ "আগুনের একটি প্রদীপ, যা উদয় হবে এদের কাঁধের মধ্যে, আর শেষ হবে বুকের ভেতর গিয়ে” (মুসলিম ৭০৩৬/১০ (...))।
📄 এক সাহাবি সম্পর্কে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর মন্তব্য
[৩০২.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'তাদের কেউ একজন বলে, "আমার পিতা আল্লাহর রাসূল -এর সাহচর্য পেয়েছিলেন, তিনি আল্লাহর রাসূল-এর সঙ্গে ছিলেন।” অথচ একটি পুরাতন ছেঁড়া জুতাও তার পিতার চেয়ে উত্তম।'
বাযযার (কাশফ) ১/৬৩ (৮৮), এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৩ (৪৪২)।