📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 অনর্থক কঠোরতা নিন্দনীয়

📄 অনর্থক কঠোরতা নিন্দনীয়


[২৫৭.] জাবির বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِنَّ هَذَا الدِّينَ مَتِينٌ ، فَأَوْغِلْ فِيْهِ بِرِفْقٍ ، فَإِنَّ الْمُنْبَتْ لَا أَرْضًا قَطَعَ ، وَلَا ظَهْراً أَبْقَى
“এ দ্বীন অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী, তাই এখানে কোমলভাবে চলতে থাকো; কারণ, মাঝপথে যার বাহন ধ্বংস হয়ে যায়, তার না পথ পাড়ি দেওয়া হয়, আর না তার কাছে পথ পাড়ি দেওয়ার মতো কোনও বাহন অবশিষ্ট থাকে。[১]”,
বাযযার (কাশফ) ১/৫৭ (৭৪), বর্ণনাসূত্রটি ত্রুটিযুক্ত (দারানি); আহমাদ ৩/১৯৮-১৯৯ (১৩০৫২), হাসান বিশ-শাওয়াহিদ ((আরনাউত); বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৬), ৩/১৯ (৪৮০৭); বাইহাকি, শুআব ৩/৪০২ (৩৮৮৫), ৩/৪০২ (৩৮৮৬); কানযুল উম্মাল ৩/৪২ (৫৩৭৭, ৫৩৭৮, ৫৩৭৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২১৭, ২১৮); আলবানি, আদ-দঈফা ৮।

অর্থাৎ, দ্বীনের পথে চলতে হবে কোমলভাবে, যাতে ধীরে ধীরে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। দ্বীন মানার ক্ষেত্রে শিশুসুলভ আচরণ, ক্ষণস্থায়ী উৎসাহ বা হুজুগ-এসবের কোনও স্থান নেই। নিজের ওপর এমন বোঝা নেওয়াও উচিত নয়, যা বহন করার ক্ষমতা নেই। অসহনীয় বোঝা নিজের মাথায় তুলে নিলে, একপর্যায়ে মানুষ অপারগ হয়ে দ্বীন ও আমল দুটোই ছেড়ে দেয়। (ইবনুল আসীর, আন-নিহায়া ফী গরীবিল হাদীস, পৃ. ১২৮০)।

[২৫৮.] বুরাইদা আসলামি বলেন, 'একদিন এক প্রয়োজনে বের হয়ে দেখি, নবি ﷺ আমার সামনে হাঁটছেন। তিনি আমার হাত ধরলে, আমরা একসঙ্গে হাঁটতে থাকি। একপর্যায়ে আমাদের সামনে একব্যক্তিকে দেখি,[৪] সে নামাজে প্রচুর রুকূ ও সাজদা করছে। তখন নবি ﷺ বলেন-أَث يُرَائِي؟ "তোমার কি মনে হয়, সে (নিজের আমল মানুষকে) দেখাতে চাচ্ছে?” আমি বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তখন নবি ﷺ আমার হাত থেকে তাঁর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে, নিজের হাতদুটি একত্র করেন।[৫] তারপর উভয় হাত নিচে নামিয়ে আবার ওপরে উঠাতে থাকেন।[৬] আর বলতে থাকেন-
عَلَيْكُمْ هَدْياً قَاصِداً ، عَلَيْكُمْ هَدْياً قَاصِداً ، عَلَيْكُمْ هَدْياً قَاصِداً ، فَإِنَّهُ مَنْ يُشَادَّ هُذَا الدِّيْنَ يَغْلِبُهُ
“তোমাদের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ পথ আঁকড়ে ধরা, তোমাদের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ পথ আঁকড়ে ধরা, তোমাদের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ পথ আঁকড়ে ধরা; কারণ, যে-ব্যক্তি এ দ্বীনের বিপরীতে নিজের শক্তি দেখাতে আসবে, এ দ্বীন তাকে পরাজিত করে ছাড়বে।”'
আহমাদ ৫/৩৫০ (২২৯৬৩), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ৪/৪২২ (১৯৭৮৬), ৫/৩৬১ (২৩০৫৩); ইবনু খুযাইমা ১১৭৯; তহাভি, মুশকিল ২/৮৬; তহাভি, শারহু মুশকিল ৩/২৬২ (১২৩৫); ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৯৫, ৯৬, ৯৭; মুসনাদুশ শিহাব ১/২৪৭ (৩৯৮); হাকিম ১/৩১২ (১১৭৬); বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৫); বাইহাকি, শুআব ৩/৪০১ (৩৮৮২), ৩/৪০১ (৩৮৮৩); তারীখু বাগদাদ ৮/৯১; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৯৩৬; ইতহাফ ১/১২১ (১৪৩), ১/১২১-১২২ (১৪৪), ১/১২২ (১৪৫); কানযুল উম্মাল ৩/৩১ (৫৩০৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২১৯)।
[২৫৯.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন-
إِنَّ الدِّينَ يُسْرُ ، وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ ، فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا ، وَأَبْشِرُوا ، وَاسْتَعِينُوا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَيْءٍ مِنَ الدُّلْجَةِ
"(এই) দ্বীন সহজ; দ্বীনের বিপরীতে কেউ শক্তি দেখাতে এলে, দ্বীন তাকে পরাজিত করে ছাড়বে। সুতরাং ভারসাম্য বজায় রাখো, (ভারসাম্যের) কাছাকাছি থাকো, (ক্ষমার) সুসংবাদ লও, আর সকাল, বিকাল ও রাতের একাংশে (আল্লাহর কাছে) সাহায্য চাও।"'
বুখারি ৩৯; নাসাঈ ৫০৩৪; ইবনু হিব্বان ২/৬৩-৬৮ (৩৫১); বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৪); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৯৩৫।
[২৬০.] সাহল ইবনু হুনাইফ থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَا تُشَدِّدُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِتَشْدِيدِهِمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ ، وَسَتَجِدُوْنَ بَقَايَاهُمْ فِي الصَّوَامِعِ وَالدَّيَارَاتِ
"তোমরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করো না, কারণ তোমাদের আগের লোকেরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপের দরুন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে; আর ক'দিন পরেই তোমরা সন্ন্যাসীদের নির্জনকক্ষ ও মঠগুলোতে তাদের অবশিষ্ট লোকদের দেখতে পাবে।"'
তাবারানি, কাবীর ৬/৭৩ (৫৫৫১), হাদীসটি হাসান (দারানি); তাবারানি, আওসাত ২/২২২ (৩০৭৮); বাইহাকি, শুআব ৩/৪০১ (৩৮৮৪); বুখারি, তারীখ ৪/৯৭ (২০৯০); কানযুল উম্মাল ৩/৪৮ (৫৪১২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২২১)।
[২৬১.] সামুরা ইবনু জুনদুব থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ ، فَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَدْ غَلَا كَثِيرٌ مِنْهُمْ حَتَّى كَانَتِ الْمَرْأَةُ الْقَصِيرَةُ تَتَّخِذُ خُفَّيْنِ مِنْ خَشَبٍ فَتَحْشُوْهُمَا ، ثُمَّ تُولِجُ فِيهِمَا رِجْلَيْهَا ، ثُمَّ تَقُوْمُ إِلى جَنْبِ الْمَرْأَةِ الطَّوِيلَةِ فَتَمْشِي مَعَهَا ، فَإِذَا هِيَ قَدْ تَسَاوَتْ بِهَا وَكَانَتْ أَطْوَلَ مِنْهَا
"বাড়াবাড়ির ব্যাপারে সাবধান! বানু ইসরাঈলের অনেকে ইতঃপূর্বে বাড়াবাড়ি করেছিল। (তাদের বাড়াবাড়ির একটা উদাহরণ হল-) তাদের খাটো নারীরা কাঠের জুতার ভেতর (বিভিন্ন বস্তু) ভর্তি করে, তাতে পা ঢুকিয়ে দিত, এরপর লম্বা-গড়নের মহিলাদের কাছে গিয়ে একসঙ্গে হাঁটত; এভাবে খাটোরা দীর্ঘদেহীদের সমান হতো, আর১ (কখনও কখনও) উচ্চতায় তাদের ছাড়িয়ে যেত।”
বাযযার (কাশফ) ১/৫৮ (৭৬), ইয়াহইয়া ইবনু মাঈনের মতে বর্ণনাসূত্রের ইউসুফ ইবনু খালিদ নিকৃষ্ট মিথ্যুক (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ৭/৩২২ (৭০৯৪); কানযুল উম্মাল ৩/৫৩৭ (৭৭৯০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২-৬৩ (২২২)।
[২৬২.] আবদুল্লাহ ইবনু বুসর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—
سَدِّدُوا وَأَبْشِرُوا ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيْسَ إِلَى عَذَابِكُمْ بِسَرِيعٍ ، وَسَيَأْتِي قَوْمٌ لَا حُجَّةً لَهُمْ
"ভারসাম্যপূর্ণ পথে চলো আর সুসংবাদ লও; কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাদের দ্রুত শাস্তি দিতে চান না। আর অচিরেই কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের কাছে (আল্লাহর সামনে পেশ করার মতো) কোনও প্রমাণ থাকবে না।"
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ২২৩, বর্ণনাসূত্রে বাকিয়্যা রয়েছেন, তবে তিনি 'হাদ্দাসা' শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৪৬ (৫৩৯৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৩ (২২৩)।

টিকাঃ
[২] وَلَا تُبَغْضُ إِلى نَفْسِكَ عِبَادَةَ اللهِ "আর তোমার নিজের কাছে আল্লাহর গোলামিকে ঘৃণ্য করে তোলো না;" (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৬); وَلَا تُكَرِّهُوْا عِبَادَةَ اللهِ إِلَى عِبَادِهِ "আল্লাহর বান্দাদের কাছে আল্লাহর গোলামিকে অপছন্দনীয় করে তোলো না;" (বাইহাকি, শুআব ৩/৪০২ (৩৮৮৫))|
[২] لَا سَفَراً قَطَعَ “না তার সফর শেষ হয়” (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৯ (৪৮০৭))|
[৩] " فَاعْمَلْ عَمَلَ امْرِئٍ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَمُوْتَ أَبَداً ، وَاحْذَرُ حَذَرًا تَخْشَى أَنْ تَمُوْتَ غَدًا আমল কোরো, যার ধারণা সে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে; আর (মন্দের ব্যাপারে) এমনভাবে সতর্ক থেকো, যেন আগামীকালই তোমার মৃত্যু হবে।" (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৯ (৪৮০৭)) |
[৪] 'একদিন বের হয়ে হাঁটছি। এমন সময় নবি ﷺ-এর মুখোমুখি হয়ে যাই। তখন আমার মনে হলো-তিনি কোনও কাজে যাচ্ছেন, তাই তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য পিছু হটতে থাকি। আমাকে দেখে তিনি ইশারা দেন। তাঁর কাছে যাওয়ার পর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর আমরা একসঙ্গে চলতে থাকি। একপর্যায়ে এমন একব্যক্তির দেখা পাই...' (আহমাদ ৪/৪২২ (১৯৭৮৬)) |
[৫] 'নিজের দু হাতের তালু ভাঁজ করে একত্র করেন' (আহমাদ ৪/৪২২ (১৯৭৮৬)) |
[৬] 'দু হাতের তালু নিজের দু কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে আবার নামাতে থাকেন।' (আহমাদ ৪/৪২২ (১৯৭৮৬))。
[১] 'এ-কথা বলে তিনি এক হাত দিয়ে আরেক হাতের ওপর আঘাত করেন' (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৫)) |
[২] 'দ্বীনের বিপরীতে নিজের শক্তি দেখানো' মানে অর্থাৎ, দ্বীনের কোনও বিধান এমনভাবে পালন করার চেষ্টা করা, যা তার সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে। (ইবনুল আসীর, আন-নিহায়া ফী গরীবিল হাদীস, পৃ. ৬৩২)。
[৩] “তাদের) ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে” (বাইহাকি, শুআব ৩/৪০১ (৩৮৮৪))。
[১] ; “অথবা” (তাবারানি, কাবীর ৭/৩২২ (৭০৯৪))。

[২৫৭.] জাবির বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِنَّ هَذَا الدِّينَ مَتِينٌ ، فَأَوْغِلْ فِيْهِ بِرِفْقٍ ، فَإِنَّ الْمُنْبَتْ لَا أَرْضًا قَطَعَ ، وَلَا ظَهْراً أَبْقَى
“এ দ্বীন অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী, তাই এখানে কোমলভাবে চলতে থাকো; কারণ, মাঝপথে যার বাহন ধ্বংস হয়ে যায়, তার না পথ পাড়ি দেওয়া হয়, আর না তার কাছে পথ পাড়ি দেওয়ার মতো কোনও বাহন অবশিষ্ট থাকে。[১]”,
বাযযার (কাশফ) ১/৫৭ (৭৪), বর্ণনাসূত্রটি ত্রুটিযুক্ত (দারানি); আহমাদ ৩/১৯৮-১৯৯ (১৩০৫২), হাসান বিশ-শাওয়াহিদ ((আরনাউত); বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৬), ৩/১৯ (৪৮০৭); বাইহাকি, শুআব ৩/৪০২ (৩৮৮৫), ৩/৪০২ (৩৮৮৬); কানযুল উম্মাল ৩/৪২ (৫৩৭৭, ৫৩৭৮, ৫৩৭৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২১৭, ২১৮); আলবানি, আদ-দঈফা ৮।

অর্থাৎ, দ্বীনের পথে চলতে হবে কোমলভাবে, যাতে ধীরে ধীরে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। দ্বীন মানার ক্ষেত্রে শিশুসুলভ আচরণ, ক্ষণস্থায়ী উৎসাহ বা হুজুগ-এসবের কোনও স্থান নেই। নিজের ওপর এমন বোঝা নেওয়াও উচিত নয়, যা বহন করার ক্ষমতা নেই। অসহনীয় বোঝা নিজের মাথায় তুলে নিলে, একপর্যায়ে মানুষ অপারগ হয়ে দ্বীন ও আমল দুটোই ছেড়ে দেয়। (ইবনুল আসীর, আন-নিহায়া ফী গরীবিল হাদীস, পৃ. ১২৮০)।

[২৫৮.] বুরাইদা আসলামি বলেন, 'একদিন এক প্রয়োজনে বের হয়ে দেখি, নবি ﷺ আমার সামনে হাঁটছেন। তিনি আমার হাত ধরলে, আমরা একসঙ্গে হাঁটতে থাকি। একপর্যায়ে আমাদের সামনে একব্যক্তিকে দেখি,[৪] সে নামাজে প্রচুর রুকূ ও সাজদা করছে। তখন নবি ﷺ বলেন-أَث يُرَائِي؟ "তোমার কি মনে হয়, সে (নিজের আমল মানুষকে) দেখাতে চাচ্ছে?” আমি বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” তখন নবি ﷺ আমার হাত থেকে তাঁর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে, নিজের হাতদুটি একত্র করেন।[৫] তারপর উভয় হাত নিচে নামিয়ে আবার ওপরে উঠাতে থাকেন।[৬] আর বলতে থাকেন-
عَلَيْكُمْ هَدْياً قَاصِداً ، عَلَيْكُمْ هَدْياً قَاصِداً ، عَلَيْكُمْ هَدْياً قَاصِداً ، فَإِنَّهُ مَنْ يُشَادَّ هُذَا الدِّيْنَ يَغْلِبُهُ
“তোমাদের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ পথ আঁকড়ে ধরা, তোমাদের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ পথ আঁকড়ে ধরা, তোমাদের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ পথ আঁকড়ে ধরা; কারণ, যে-ব্যক্তি এ দ্বীনের বিপরীতে নিজের শক্তি দেখাতে আসবে, এ দ্বীন তাকে পরাজিত করে ছাড়বে।”'
আহমাদ ৫/৩৫০ (২২৯৬৩), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ৪/৪২২ (১৯৭৮৬), ৫/৩৬১ (২৩০৫৩); ইবনু খুযাইমা ১১৭৯; তহাভি, মুশকিল ২/৮৬; তহাভি, শারহু মুশকিল ৩/২৬২ (১২৩৫); ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৯৫, ৯৬, ৯৭; মুসনাদুশ শিহাব ১/২৪৭ (৩৯৮); হাকিম ১/৩১২ (১১৭৬); বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৫); বাইহাকি, শুআব ৩/৪০১ (৩৮৮২), ৩/৪০১ (৩৮৮৩); তারীখু বাগদাদ ৮/৯১; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৯৩৬; ইতহাফ ১/১২১ (১৪৩), ১/১২১-১২২ (১৪৪), ১/১২২ (১৪৫); কানযুল উম্মাল ৩/৩১ (৫৩০৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২১৯)।
[২৫৯.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন-
إِنَّ الدِّينَ يُسْرُ ، وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ ، فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا ، وَأَبْشِرُوا ، وَاسْتَعِينُوا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَيْءٍ مِنَ الدُّلْجَةِ
"(এই) দ্বীন সহজ; দ্বীনের বিপরীতে কেউ শক্তি দেখাতে এলে, দ্বীন তাকে পরাজিত করে ছাড়বে। সুতরাং ভারসাম্য বজায় রাখো, (ভারসাম্যের) কাছাকাছি থাকো, (ক্ষমার) সুসংবাদ লও, আর সকাল, বিকাল ও রাতের একাংশে (আল্লাহর কাছে) সাহায্য চাও।"'
বুখারি ৩৯; নাসাঈ ৫০৩৪; ইবনু হিব্বان ২/৬৩-৬৮ (৩৫১); বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৪); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৯৩৫।
[২৬০.] সাহল ইবনু হুনাইফ থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَا تُشَدِّدُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِتَشْدِيدِهِمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ ، وَسَتَجِدُوْنَ بَقَايَاهُمْ فِي الصَّوَامِعِ وَالدَّيَارَاتِ
"তোমরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপ করো না, কারণ তোমাদের আগের লোকেরা নিজেদের ওপর কঠোরতা আরোপের দরুন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে; আর ক'দিন পরেই তোমরা সন্ন্যাসীদের নির্জনকক্ষ ও মঠগুলোতে তাদের অবশিষ্ট লোকদের দেখতে পাবে।"'
তাবারানি, কাবীর ৬/৭৩ (৫৫৫১), হাদীসটি হাসান (দারানি); তাবারানি, আওসাত ২/২২২ (৩০৭৮); বাইহাকি, শুআব ৩/৪০১ (৩৮৮৪); বুখারি, তারীখ ৪/৯৭ (২০৯০); কানযুল উম্মাল ৩/৪৮ (৫৪১২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২২১)।
[২৬১.] সামুরা ইবনু জুনদুব থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ ، فَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَدْ غَلَا كَثِيرٌ مِنْهُمْ حَتَّى كَانَتِ الْمَرْأَةُ الْقَصِيرَةُ تَتَّخِذُ خُفَّيْنِ مِنْ خَشَبٍ فَتَحْشُوْهُمَا ، ثُمَّ تُولِجُ فِيهِمَا رِجْلَيْهَا ، ثُمَّ تَقُوْمُ إِلى جَنْبِ الْمَرْأَةِ الطَّوِيلَةِ فَتَمْشِي مَعَهَا ، فَإِذَا هِيَ قَدْ تَسَاوَتْ بِهَا وَكَانَتْ أَطْوَلَ مِنْهَا
"বাড়াবাড়ির ব্যাপারে সাবধান! বানু ইসরাঈলের অনেকে ইতঃপূর্বে বাড়াবাড়ি করেছিল। (তাদের বাড়াবাড়ির একটা উদাহরণ হল-) তাদের খাটো নারীরা কাঠের জুতার ভেতর (বিভিন্ন বস্তু) ভর্তি করে, তাতে পা ঢুকিয়ে দিত, এরপর লম্বা-গড়নের মহিলাদের কাছে গিয়ে একসঙ্গে হাঁটত; এভাবে খাটোরা দীর্ঘদেহীদের সমান হতো, আর১ (কখনও কখনও) উচ্চতায় তাদের ছাড়িয়ে যেত।”
বাযযার (কাশফ) ১/৫৮ (৭৬), ইয়াহইয়া ইবনু মাঈনের মতে বর্ণনাসূত্রের ইউসুফ ইবনু খালিদ নিকৃষ্ট মিথ্যুক (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ৭/৩২২ (৭০৯৪); কানযুল উম্মাল ৩/৫৩৭ (৭৭৯০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২-৬৩ (২২২)।
[২৬২.] আবদুল্লাহ ইবনু বুসর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—
سَدِّدُوا وَأَبْشِرُوا ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيْسَ إِلَى عَذَابِكُمْ بِسَرِيعٍ ، وَسَيَأْتِي قَوْمٌ لَا حُجَّةً لَهُمْ
"ভারসাম্যপূর্ণ পথে চলো আর সুসংবাদ লও; কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাদের দ্রুত শাস্তি দিতে চান না। আর অচিরেই কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের কাছে (আল্লাহর সামনে পেশ করার মতো) কোনও প্রমাণ থাকবে না।"
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ২২৩, বর্ণনাসূত্রে বাকিয়্যা রয়েছেন, তবে তিনি 'হাদ্দাসা' শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৪৬ (৫৩৯৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৩ (২২৩)।

টিকাঃ
[২] وَلَا تُبَغْضُ إِلى نَفْسِكَ عِبَادَةَ اللهِ "আর তোমার নিজের কাছে আল্লাহর গোলামিকে ঘৃণ্য করে তোলো না;" (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৬); وَلَا تُكَرِّهُوْا عِبَادَةَ اللهِ إِلَى عِبَادِهِ "আল্লাহর বান্দাদের কাছে আল্লাহর গোলামিকে অপছন্দনীয় করে তোলো না;" (বাইহাকি, শুআব ৩/৪০২ (৩৮৮৫))|
[২] لَا سَفَراً قَطَعَ “না তার সফর শেষ হয়” (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৯ (৪৮০৭))|
[৩] " فَاعْمَلْ عَمَلَ امْرِئٍ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَمُوْتَ أَبَداً ، وَاحْذَرُ حَذَرًا تَخْشَى أَنْ تَمُوْتَ غَدًا আমল কোরো, যার ধারণা সে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে; আর (মন্দের ব্যাপারে) এমনভাবে সতর্ক থেকো, যেন আগামীকালই তোমার মৃত্যু হবে।" (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৯ (৪৮০৭)) |
[৪] 'একদিন বের হয়ে হাঁটছি। এমন সময় নবি ﷺ-এর মুখোমুখি হয়ে যাই। তখন আমার মনে হলো-তিনি কোনও কাজে যাচ্ছেন, তাই তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য পিছু হটতে থাকি। আমাকে দেখে তিনি ইশারা দেন। তাঁর কাছে যাওয়ার পর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর আমরা একসঙ্গে চলতে থাকি। একপর্যায়ে এমন একব্যক্তির দেখা পাই...' (আহমাদ ৪/৪২২ (১৯৭৮৬)) |
[৫] 'নিজের দু হাতের তালু ভাঁজ করে একত্র করেন' (আহমাদ ৪/৪২২ (১৯৭৮৬)) |
[৬] 'দু হাতের তালু নিজের দু কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে আবার নামাতে থাকেন।' (আহমাদ ৪/৪২২ (১৯৭৮৬))。
[১] 'এ-কথা বলে তিনি এক হাত দিয়ে আরেক হাতের ওপর আঘাত করেন' (বাইহাকি, কুবরা ৩/১৮ (৪৮০৫)) |
[২] 'দ্বীনের বিপরীতে নিজের শক্তি দেখানো' মানে অর্থাৎ, দ্বীনের কোনও বিধান এমনভাবে পালন করার চেষ্টা করা, যা তার সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে। (ইবনুল আসীর, আন-নিহায়া ফী গরীবিল হাদীস, পৃ. ৬৩২)。
[৩] “তাদের) ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে” (বাইহাকি, শুআব ৩/৪০১ (৩৮৮৪))。
[১] ; “অথবা” (তাবারানি, কাবীর ৭/৩২২ (৭০৯৪))。

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 নম্রতার মহত্ব

📄 নম্রতার মহত্ব


[২৬৩.] আবূ যার থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন—
الْإِسْلَامُ ذَلُولُ لَا يُرْكَبُ إِلَّا ذَلُوْلاً
"ইসলাম শান্ত প্রকৃতির উষ্ট্রীর মতো, যার পিঠে কেবল নম্র প্রকৃতির লোকজনকে আরোহণ করতে দেওয়া হয়।"
আহমাদ ৫/১৪৫ (২১২৯২), বর্ণনাকারী আবু খলাফ আ'মা মুনকিরুল হাদীস (হাইসামি); ইবনু আদি, আল-কামিল ৬/২৩৩০; ইবনু আসাকির, তারীখ ৫৯/৭; কানযুল উম্মাল ১/৬৬ (২৪৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২২০)।
[২৬৪.] আবূ উমামা বাহিলি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ আমার হাত ধরে বলেছিলেন—
يَا أَبَا أُمَامَةَ إِنَّ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ مَنْ يَلِيْنُ لِي قَلْبُهُ
"আবূ উমামা! সে-ব্যক্তি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত, যার অন্তর আমার প্রতি নরম।”
আহমাদ ৫/২৬৭ (২২২৯৯), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ৮/১২২ (৭৪৯৯), ৮/১৭৬-১৭৭ (৭৬৫৫); তাবারানি, মুসনাদুশ শামিয়‍্যীন ৮৫০; ইবনু আদি, আল-কামিল ২/৫০৪, ২/৫০৯; ইবনু আসাকির ৬৬/২২৭ (১৩৩৭৭); কানযুল উম্মাল ১/১৬৭ (৮৩৭), ১৫/৬১২ (৩৭৫৬৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৩ (২২৬)।

টিকাঃ
]2[ مَنْ يَلِيْنُ لَهُ قَلْبِي “আমার অন্তর যার প্রতি নরম” (তাবারনি, কাবীর ৮/১২২ (৭৪৯৯))。

[২৬৩.] আবূ যার থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন—
الْإِسْلَامُ ذَلُولُ لَا يُرْكَبُ إِلَّا ذَلُوْلاً
"ইসলাম শান্ত প্রকৃতির উষ্ট্রীর মতো, যার পিঠে কেবল নম্র প্রকৃতির লোকজনকে আরোহণ করতে দেওয়া হয়।"
আহমাদ ৫/১৪৫ (২১২৯২), বর্ণনাকারী আবু খলাফ আ'মা মুনকিরুল হাদীস (হাইসামি); ইবনু আদি, আল-কামিল ৬/২৩৩০; ইবনু আসাকির, তারীখ ৫৯/৭; কানযুল উম্মাল ১/৬৬ (২৪৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬২ (২২০)।
[২৬৪.] আবূ উমামা বাহিলি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ আমার হাত ধরে বলেছিলেন—
يَا أَبَا أُمَامَةَ إِنَّ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ مَنْ يَلِيْنُ لِي قَلْبُهُ
"আবূ উমামা! সে-ব্যক্তি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত, যার অন্তর আমার প্রতি নরম।”
আহমাদ ৫/২৬৭ (২২২৯৯), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ৮/১২২ (৭৪৯৯), ৮/১৭৬-১৭৭ (৭৬৫৫); তাবারানি, মুসনাদুশ শামিয়‍্যীন ৮৫০; ইবনু আদি, আল-কামিল ২/৫০৪, ২/৫০৯; ইবনু আসাকির ৬৬/২২৭ (১৩৩৭৭); কানযুল উম্মাল ১/১৬৭ (৮৩৭), ১৫/৬১২ (৩৭৫৬৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬৩ (২২৬)।

টিকাঃ
]2[ مَنْ يَلِيْنُ لَهُ قَلْبِي “আমার অন্তর যার প্রতি নরম” (তাবারনি, কাবীর ৮/১২২ (৭৪৯৯))。

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 দ্বীনি দায়িত্বের ক্ষমতা

📄 দ্বীনি দায়িত্বের ক্ষমতা


প্রথমে তাওহীদ ও রিসালাতের দাওয়াত, তারপর অন্যান্য আমলের
[২৬৫.] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, 'মুআয বলেন, "আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে(১) পাঠানোর সময় বলেন-
إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَادْعُهُمْ إِلى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةٌ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذلِكَ، فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ، وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُوْمِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ
"তুমি আসমানি কিতাবধারী কিছু লোকের কাছে যাচ্ছ。
» সুতরাং, এ-সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাদের আহ্বান জানাবে- আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, আর আমি(৪) আল্লাহর বার্তাবাহক [৫] [৬]
> যদি তারা সেটি মেনে নেয়, তখন তাদের জানাবে-আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন。
> যদি তারা সেটি মেনে নেয়, [১৯] তখন তাদের জানাবে-আল্লাহ তাদের ওপর [১০) যাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নিয়ে তাদের ফকিরদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে。
>> যদি তারা সেটি মেনে নেয়, তখনা (যাকাত আদায় করতে গিয়ে বেছে বেছে) তাদের ভালো ভালো সম্পদ নেওয়ার ব্যাপারে সাবধান থেকো; আর মজলুমের আর্তনাদকে ভয় কোরো, কারণ সেটার ও আল্লাহর মাঝখানে কোনও পর্দা থাকে না।"
মুসলিম ১২১/২৯ (১৯), ১২২/৩০ (...), ১২৩/৩১ (...); বুখারি ১৩৯৫, ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, ৪৩৪৭, ৭৩৭১, ৭৩৭২; আবু দাউদ ১৫৮৪; তিরমিযি ৬২৫, ২০১৪; নাসাঈ ২৪৩৫, ২৫২২; নাসাঈ, কুবরা ২২২৬, ২৩১৩; ইবনু মাজাহ ১৭৮৩; আহমাদ ১/২৩৩ (২০৭১); দারিমি ১৬৪০, ১৬৫৭; ইবনু আবী শাইবা ৩/১১৪ (১৯২৪), ৩/১২৬ (১০০১২), ১০/২৭৪ (২৯৯৮৪); তাবারানি, কাবীর ১১/৪২৬ (১২২০৭), ১১/৪২৬ (১২২০৮); ইবনু খুযাইমা ২২৭৫, ২৩৪৬; ইবনু হিব্বান ১/৩৭০-৩৭১ (১৫৬); দারাকুতনি ৩/৫৫-৫৬ (২০৫৮), ৩/৫৬ (২০৫৯); ইবনু মানদাহ, আল-ঈমান ১১৬, ১১৭, ২১৩, ২১৪; বাইহাকি, আল-মাদখাল ৩১৪; বাইহাকি, কুবরা ৪/৯৬ (৭৩৫২), ৪/১০১ (৭৩৭৯), ৭/২ (১৩২৪১), ৭/৭ (১৩২৫৬), ৭/৮ (১৩২৬৪); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ১৫৫৭।

টিকাঃ
[১] "ইয়ামানে” (মুসলিম ১২২/৩০ (...)); "ইয়ামানের উদ্দেশে” (বুখারি ৭৩৭২); "ইয়ামানের দায়িত্ব দিয়ে” (বুখারি ১৪৫৮); "ইয়ামানের গভর্নর হিসেবে" (ইবনু খুযাইনা ২৩৪৬)。
]2[ إِذَا جِئْتَهُمْ "তাদের কাছে গিয়ে” (বুখারি ১৪৯৬)。
]0[ نقُلْ لَهُمْ أَنْ يَشْهَدُوا "সুতরাং, তাদের বলবে, তারা যেন এ-মর্মে সাক্ষ্য দেয়” (ইবনু মানদাহ, ঈমান ১১৬)。
]8[ مُحَمَّدٌ "মুহাম্মাদ” (বুখারি ১৪৯৬)。
]৫[ عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ “তাঁর দাস ও বার্তাবাহক" (ইবনু মানদাহ, আল-ঈমান ১১৬)。
]৬[ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوْهُمْ إِلَيْهِ عِبَادَةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ "অতএব, তাদের সর্বপ্রথম যে আহ্বান জানাবে, সেটি হলো আল্লাহ তাআলার দাসত্ব।” (মুসলিম ১২৩/৩১ )...(( توْحِيْدُ اللهِ "সেটি হলো আল্লাহ তাআলার তাওহীদ বা এককত্ব” (দারাকুতনি ৩/৫৬ (২০৫৯((; أَنْ يُوَحِّدُوا اللَّهَ تَعَالٰى "তারা যেন আল্লাহ তাআলার তাওহীদ বা এককত্বের ঘোষণা দেয়।” (বুখারি ৭৩৭২)。
]৭[ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْكَ لِذْلِكَ "তারা যদি সে-বিষয়ে তোমার কথা মেনে নেয়” (আহমাদ ১/২৩৩ (২০৭১((; فَإِنْ أَجَابُوْكَ بِذَلِكَ “তারা যদি তোমার এ-কথায় সাড়া দেয়” (ইবনু মানদাহ, ঈমান ১১৬(; فَإِذَا عَرَفُوا اللَّهَ "তারা যখন আল্লাহকে চিনবে" (মুসলিন ১২৩/৩১ (...))。
]৫[ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَ “তাদের স্বীকৃতি কবুল করবে, এবং” (ইবনু মানদাহ, ঈমান ১১৬)。
]৯[ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ “তারা যখন সেটি করবে” (তাবারানি, কাবীর ১১/৪২৬ (১২২০৭((; فَإِذَا صَلُّوا "তারা যখন নামাজ আদায় করবে” (বুখারি ৭৩৭২)|
]১০[ فِي أَمْوَالِهِمْ “তাদের সম্পদের” (বুখারি ১৩৯৫)。
[১] مِنْ أَمْوَالِهِمْ “তাদের সম্পদ থেকে” (তাবারানি, কাবীর ১১/৪২৬ (১২২০৭))。
[২] فَخُذْ مِنْهُمْ “তখন তাদের কাছ থেকে (যাকাত) আদায় কোরো, তবে” (মুসলিম ১২৩/৩১ (...))。
[৩] الناس “লোকজনের” (বুখারি ৭৩৭২)。
[৪] فَإِنَّهَا لَا تُحْجَبُ "কারণ সেটার সামনে কোনও পর্দা থাকে না" (দারাকুতনি ৩/৫৫-৫৬ (২০৫৮))。

প্রথমে তাওহীদ ও রিসালাতের দাওয়াত, তারপর অন্যান্য আমলের
[২৬৫.] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, 'মুআয বলেন, "আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে(১) পাঠানোর সময় বলেন-
إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَادْعُهُمْ إِلى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةٌ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذلِكَ، فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ، وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُوْمِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ
"তুমি আসমানি কিতাবধারী কিছু লোকের কাছে যাচ্ছ。
» সুতরাং, এ-সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাদের আহ্বান জানাবে- আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, আর আমি(৪) আল্লাহর বার্তাবাহক [৫] [৬]
> যদি তারা সেটি মেনে নেয়, তখন তাদের জানাবে-আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন。
> যদি তারা সেটি মেনে নেয়, [১৯] তখন তাদের জানাবে-আল্লাহ তাদের ওপর [১০) যাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নিয়ে তাদের ফকিরদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে。
>> যদি তারা সেটি মেনে নেয়, তখনা (যাকাত আদায় করতে গিয়ে বেছে বেছে) তাদের ভালো ভালো সম্পদ নেওয়ার ব্যাপারে সাবধান থেকো; আর মজলুমের আর্তনাদকে ভয় কোরো, কারণ সেটার ও আল্লাহর মাঝখানে কোনও পর্দা থাকে না।"
মুসলিম ১২১/২৯ (১৯), ১২২/৩০ (...), ১২৩/৩১ (...); বুখারি ১৩৯৫, ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, ৪৩৪৭, ৭৩৭১, ৭৩৭২; আবু দাউদ ১৫৮৪; তিরমিযি ৬২৫, ২০১৪; নাসাঈ ২৪৩৫, ২৫২২; নাসাঈ, কুবরা ২২২৬, ২৩১৩; ইবনু মাজাহ ১৭৮৩; আহমাদ ১/২৩৩ (২০৭১); দারিমি ১৬৪০, ১৬৫৭; ইবনু আবী শাইবা ৩/১১৪ (১৯২৪), ৩/১২৬ (১০০১২), ১০/২৭৪ (২৯৯৮৪); তাবারানি, কাবীর ১১/৪২৬ (১২২০৭), ১১/৪২৬ (১২২০৮); ইবনু খুযাইমা ২২৭৫, ২৩৪৬; ইবনু হিব্বান ১/৩৭০-৩৭১ (১৫৬); দারাকুতনি ৩/৫৫-৫৬ (২০৫৮), ৩/৫৬ (২০৫৯); ইবনু মানদাহ, আল-ঈমান ১১৬, ১১৭, ২১৩, ২১৪; বাইহাকি, আল-মাদখাল ৩১৪; বাইহাকি, কুবরা ৪/৯৬ (৭৩৫২), ৪/১০১ (৭৩৭৯), ৭/২ (১৩২৪১), ৭/৭ (১৩২৫৬), ৭/৮ (১৩২৬৪); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ১৫৫৭।

টিকাঃ
[১] "ইয়ামানে” (মুসলিম ১২২/৩০ (...)); "ইয়ামানের উদ্দেশে” (বুখারি ৭৩৭২); "ইয়ামানের দায়িত্ব দিয়ে” (বুখারি ১৪৫৮); "ইয়ামানের গভর্নর হিসেবে" (ইবনু খুযাইনা ২৩৪৬)。
]2[ إِذَا جِئْتَهُمْ "তাদের কাছে গিয়ে” (বুখারি ১৪৯৬)。
]0[ نقُلْ لَهُمْ أَنْ يَشْهَدُوا "সুতরাং, তাদের বলবে, তারা যেন এ-মর্মে সাক্ষ্য দেয়” (ইবনু মানদাহ, ঈমান ১১৬)。
]8[ مُحَمَّدٌ "মুহাম্মাদ” (বুখারি ১৪৯৬)。
]৫[ عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ “তাঁর দাস ও বার্তাবাহক" (ইবনু মানদাহ, আল-ঈমান ১১৬)。
]৬[ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوْهُمْ إِلَيْهِ عِبَادَةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ "অতএব, তাদের সর্বপ্রথম যে আহ্বান জানাবে, সেটি হলো আল্লাহ তাআলার দাসত্ব।” (মুসলিম ১২৩/৩১ )...(( توْحِيْدُ اللهِ "সেটি হলো আল্লাহ তাআলার তাওহীদ বা এককত্ব” (দারাকুতনি ৩/৫৬ (২০৫৯((; أَنْ يُوَحِّدُوا اللَّهَ تَعَالٰى "তারা যেন আল্লাহ তাআলার তাওহীদ বা এককত্বের ঘোষণা দেয়।” (বুখারি ৭৩৭২)。
]৭[ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْكَ لِذْلِكَ "তারা যদি সে-বিষয়ে তোমার কথা মেনে নেয়” (আহমাদ ১/২৩৩ (২০৭১((; فَإِنْ أَجَابُوْكَ بِذَلِكَ “তারা যদি তোমার এ-কথায় সাড়া দেয়” (ইবনু মানদাহ, ঈমান ১১৬(; فَإِذَا عَرَفُوا اللَّهَ "তারা যখন আল্লাহকে চিনবে" (মুসলিন ১২৩/৩১ (...))。
]৫[ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَ “তাদের স্বীকৃতি কবুল করবে, এবং” (ইবনু মানদাহ, ঈমান ১১৬)。
]৯[ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ “তারা যখন সেটি করবে” (তাবারানি, কাবীর ১১/৪২৬ (১২২০৭((; فَإِذَا صَلُّوا "তারা যখন নামাজ আদায় করবে” (বুখারি ৭৩৭২)|
]১০[ فِي أَمْوَالِهِمْ “তাদের সম্পদের” (বুখারি ১৩৯৫)。
[১] مِنْ أَمْوَالِهِمْ “তাদের সম্পদ থেকে” (তাবারানি, কাবীর ১১/৪২৬ (১২২০৭))。
[২] فَخُذْ مِنْهُمْ “তখন তাদের কাছ থেকে (যাকাত) আদায় কোরো, তবে” (মুসলিম ১২৩/৩১ (...))。
[৩] الناس “লোকজনের” (বুখারি ৭৩৭২)。
[৪] فَإِنَّهَا لَا تُحْجَبُ "কারণ সেটার সামনে কোনও পর্দা থাকে না" (দারাকুতনি ৩/৫৫-৫৬ (২০৫৮))。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00