📄 দ্বীনের কিছু মৌলিক বিষয়
[২৩৬.] কাসীর ইবনু আব্দিল্লাহ মুযানি তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-এর কাছ থেকে দ্বীনের বারোটি মৌলিক বিষয় আয়ত্ত করেছি।'
তাবারানি, কাবীর ১৭/২৩ (৩২), বর্ণনাকারী কাসীর ইবনু আবৃদিল্লাহ ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৫ (৯৭)।
[২৩৭.] আনাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَوْحًا مِنْ زَبَرْجَدٍ خَضِرًا جَعَلَهُ تَحْتَ الْعَرْشِ كَتَبَ فِيْهِ أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ خَلَقْتُ بِضْعَةَ عَشْرَةَ وَتَلْتَمِائَةِ خُلُقٍ مَنْ جَاءَ بِخُلُقٍ مِنْهَا مَعَ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ
"আল্লাহ তাআলার একটি সবুজ রঙের হীরকখণ্ড আছে, যা তিনি আরশের নিচে রেখেছেন; তাতে তিনি লিখে রেখেছেন-
» আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, সবচেয়ে বেশি করুণাময়。
» আমি তিনশ দশটির অধিক বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করেছি。
» যে-ব্যক্তি সেগুলোর যে-কোনও একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে, আর সঙ্গে এ সাক্ষ্য দিয়ে থাকে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ (ইবাদাত-লাভের অধিকারী) নেই-তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।"'
তাবারানি, আওসাত ১/৩০৭ (১০৯৩), ইবনু হিব্বানের মতে বর্ণনাকারী আবূ যিলাল কাসমালি 'বিশ্বস্ত', অধিকাংশের মতে 'ত্রুটিযুক্ত' (হাইসামি); আবদ ইবনু হুমাইদ ১৬৮; আবূ ইয়া'লা ২/৪৮৪ (১৩১৪), ইসনাদে আবদুল্লাহ ইবনু রাশিদ ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); বাইহাকি, শুআব ৬/৩৬৫ (৮৫৪৭), ৬/৩৬৭ (৮৫৫১); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৫৬ (২৮৬৪); কানযুল উম্মাল ১/৩৯ (৮০), ১/৩৯ (৮২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬ (৯৮), ১/৩৬ (১০১); জামউল ফাওয়াইদ ৬৩।
[২৩৮.] উবাইদ থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেছেন-
الْإِيْمَانُ ثَلَاثُ مِئَةٍ وَثَلَاثُوْنَ شَرِيعَةً ، مَنْ وَافَى بِشَرِيعَةٍ مِنْهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
"ঈমানা হলো তিনশ তিরিশটি বিধান (-এর সমষ্টি); যে-ব্যক্তি সেসব বিধানের যে-কোনও একটি পরিপূর্ণভাবে পালন করে, সে জান্নাতে যাবে।"'
তাবারানি, আওসাত ৫/২৭৪ (৭৩১০), ঈসা ইবনু সিনান কারও কারও কাছে বিশ্বস্ত, আবার অধিকাংশের মতে দুর্বল, আরেকজনের জীবনবৃত্তান্ত অজানা (হাইসামি); বাইহাকি, শুআব ৬/৩৬৬ (৮৫৪৮), ৬/৩৬৬ (৮৫৪৯); উসদুল গবাহ ৩/৫৪৩; আল-ইসাবা ৬/৩৬৯; কানযুল উম্মাল ১/৩৯ (৮৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬ (৯৯), ১/৩৬ (১০২), ১/৩৬ (১০৩)।
[২৩৯.] উসমান ইবনু আফ্ফান বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ لِلَّهِ مِئَةٌ وَسَبْعَةَ عَشَرَ شَرِيعَةٌ مَنْ وَافَاهُ بِخُلُقٍ مِنْهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
“আল্লাহ তাআলার একশ সতেরোটি বৈশিষ্ট্যা আছে; কেউ সেগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর কাছে গেলে, সে জান্নাতে যাবে।”
বাযযার (কাশফ) ১/২৮ (৩৬), একজন বর্ণনাকারী 'শক্তিশালী' নয়, আরেকজনের পরিচয় অজ্ঞাত (বাযযার); বাইহাকি, শুআব ৬/৩৬৬-৩৬৭ (৮৫৫০); কানযুল উম্মাল ১/৩৫ (৫৫), ১/৩৯ (৭৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬ (১০০)।
[২৪০.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
الإِسْلَامُ عَشْرَةُ أَسْهُمْ وَقَدْ خَابَ مَنْ لَا سَهْمَ لَهُ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهِيَ الْمِلَّةُ وَالثَّانِيَةُ الصَّلَاةُ وَهِيَ الْفِطْرَةُ وَالثَّالِثَةُ الزَّكَاةُ وَهِيَ الطَّهُورُ وَالرَّابِعَةُ الصَّوْمُ وَهِيَ الْجُنَّةُ وَالْخَامِسَةُ الْحَجُّ وَهِيَ الشَّرِيعَةُ وَالسَّادِسَةُ الْجِهَادُ وَهِيَ الْعُرْوَةُ وَالسَّابِعَةُ الْأَمْرُ بِالْمَعْرُوْفِ وَهُوَ الْوَفَاءُ وَالثَّامِنَةُ النَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ وَهِيَ الْحُجَّةُ وَالتَّاسِعَةُ الْجَمَاعَةُ وَهِيَ الْأُلْفَةُ وَالْعَاشِرَةُ الطَّاعَةُ وَهِيَ الْعِصْمَةُ
“ইসলামের দশটি ভাগ বা অংশ আছে; ব্যর্থ সে, যার মধ্যে (সেগুলোর) একটি ভাগও নেইাখ:
» এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ (ইবাদাত-লাভের অধিকারী) নেই-আর এটিই হলো আসল দ্বীন;
» নামাজ-এটি (মানুষের) সহজাত প্রকৃতি;
» যাকাত-এটি পরিচ্ছন্নতা-দানকারী;
» রোযা-এটি ঢালস্বরূপ;
» হজ-এটি শারীআ;
» জিহাদ-এটি হলো বন্ধন বা অবলম্বন;
» ভালো কাজের আদেশ-এটি হলো (আল্লাহর দেওয়া) দায়িত্ব পালন;
» খারাপ কাজে নিষেধাজ্ঞা-এটি হলো অকাট্য প্রমাণ;
"সঙ্ঘবদ্ধ থাকা—এটি হলো পারস্পরিক সৌহার্দ-সৃষ্টিকারী; এবং
> আনুগত্য—আর এটি হলো রক্ষাকবচ।"'
তাবারানি, আওসাত ৬/৩২-৩৩ (৭৮৯৩), ইসনাদে হামিদ ইবনু আদম আছেন, হাদীস জাল করার ব্যাপারে যার পরিচিতি রয়েছে (হাইসামি); বাযযার ৭/৩৩০ (২৯২৭), ৭/৩৩০-৩৩১ (২৯২৮); বাযযার (কাশফ) ১/১৭০ (৩৩৬), ১/১৭০ (৩৩৭), ১/৪১৫ (৮৭৫), আহমাদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিসের মতে বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনু আতা বিশ্বস্ত, আরেকদলের মতে ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); তায়ালিসি ৪১৩; আবূ ইয়া'লা ১/৪০০ (৫২৩); তাবারানি, কাবীর ১১/৩৪৪ (১১৯৫৮); বাইহাকি, শুআব ৬/৯৪ (৭৫৮৫), ৬/৯৪ (৭৫৮৬); আত-তারগীব ১/৫১৮-৫১৯; কানযুল উম্মাল ১/৩০ (৩২), ১/৩৩ (৪৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৭ (১০৫), ১/৩৭-৩৮ (১০৯), ১/৩৮ (১১০, ১১১)।
[২৪১.] বালকাইনের একব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ ওয়াদিল কুরা'য়[১] অবস্থানকালে আমি তাঁর কাছে এসে বলি'—
"আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কোন কোন কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে?”
নবি ﷺ বলেন—
أُمِرْتُ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ لَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ، وَأَنْ تُقِيمُوا الصَّلَاةَ ، وَتُؤْتُوا الزَّكَاةَ
"আমাকে এ-মর্মে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে,
> তোমরা আল্লাহর গোলামি করবে, তাঁর সঙ্গে কোনও শির্ক করবে না;
> নামাজ কায়েম রাখবে; এবং
> যাকাত দেবে।[*]
"
আমি বলি, “আল্লাহর রাসূল! এ লোকগুলো কারা!?”
তিনি বলেন—
"গজবপ্রাপ্ত লোকজন।” অর্থাৎ ইহুদি।
الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ
এরপর জানতে চাই, "এরা কারা?”
তিনি বলেন—
الضَّالِّينَ
"পথ-হারিয়ে-ফেলা জনগোষ্ঠী।” অর্থাৎ খ্রিষ্টান। [১]
আমি বলি, “আল্লাহর রাসূল! যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হকদার কে?”
তিনি বলেন-
للهِ عَزَّ وَجَلَّ سَهُمُ ، وَلِهُؤُلَاءِ أَرْبَعَةُ أَسْهُم
“(পাঁচভাগের) একভাগ আল্লাহ তাআলার, আর চার ভাগ এদের।”
আমি বলি, "যুদ্ধলব্ধ সম্পদে কেউ কি অন্যের চেয়ে বেশি হকদার হতে পারে?”
নবি ﷺ বলেন-
لَا ، حَتَّى السَّهْمُ يَأْخُذُهُ أَحَدُكُمْ مِنْ جُعْبَتِهِ فَلَيْسَ بِأَحَقَّ بِهِ مِنْ أَحَدٍ
"না; এমনকি তোমাদের কেউ তার তিরদানি থেকে যা বের করবে, সেটিতেও অন্যদের চেয়ে তার কোনও বেশি অধিকার নেই।"'
আবূ ইয়া'লা ১৩/১৩১-১৩২ (৭১৭৯), ইসনাদটি সহীহ (হাইসামি); বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৮-৪৯ (১৪৪)।
[২৪২.] আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর আযাদকৃত গোলাম আবূ সাল্লাম থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
بخ بخ الخَمْسٍ مَا أَثْقَلَهُنَّ فِي الْمِيزَانِ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَاللهُ أَكْبَرُ ، وَسُبْحَانَ اللهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَالْوَلَدُ الصَّالِحُ يُتَوَفَّى فَيَحْتَسِبُهُ وَالِدُهُ
"পাঁচটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, পাল্লায় এগুলো অত্যন্ত ভারী:
» লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই;
> আল্লাহু আকবার/ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ;
> সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত;
» আলহামদু লিল্লাহ/ প্রশংসা সবই আল্লাহর; এবং
» নেক সন্তানের মৃত্যুতে আল্লাহর কাছে পিতারা প্রতিদান কামনা।"
তিনি বলেছেন-
بَحْ بَحْ لِخَمْسٍ ، مَنْ لَقِيَ اللهَ مُسْتَيْقِنَا بِهِنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ : يُؤْمِنُ بِاللهِ ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَبِالْجَنَّةِ ، وَالنَّارِ ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ ، وَالْحِسَابِ
"পাঁচটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যে-ব্যক্তি এসব বিষয়ে সংশয়মুক্ত বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে যাবে:
» আল্লাহ,
» পরকাল,
» জান্নাত ও জাহান্নام,
» মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, ও
» হিসাবনিকাশ -এসব বিষয়কে সত্য হিসেবে মেনে নেওয়া।"'
আহমাদ ৩/৪৪৩ (১৫৬৬২), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামী ১০/৮৮), ৪/২৩৭ (১৮০৭৬), ৫/৩৬৫-৩৬৬ (২৩১০০); নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ১৬৭; ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৭৮১; বাযযার (কাশফ) ৪/৯ (৩০৭২); তাবারানি, কাবীর ২২/৩৪৮ (৮৭৩); ইবনু আবী শাইবা ১০/২৯৫ (৩০০৪৯); ইবনু হিব্বان ৩/১১৪-১১৫ (৮৩৩), (মাওয়ারিদ ২৩২৮); হাকিম ১/৫১১-৫১২ (১৮৮৫); উসদুল গবাহ ৬/১৫৪; তুহাফাতুল আশরাফ ৯/২২০ (১২০৪৯); কানযুল উম্মাল ৩/২৮৫ (৬৫৭৯), ১৫/৮৮৬-৮৮৭ (৪৩৫১০, ৪৩৫১১, ৪৩৫১২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৯ (১৪৬)।
টিকাঃ
[১] إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ الرَّحْمَنِ "করুণাময়ের সামনে” (আবূ ইয়া'লা ২/৪৮৪ (১৩১৪))|
[২] فِيْهِ ثَلَاثُ مِئَةٍ وَخَمْسٌ عَشْرَةَ شَرِيعَةً يَقُولُ الرَّحْمَنُ : وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا يَأْتِي عَبْدٌ مِنْ عِبَادِي لَا يُشْرِكُ بِي شَيْئًا ، فِيْهِ وَاحِدَةٌ مِنْهَا ، إِنَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ "তাতে (অর্থাৎ ওই হীরকখণ্ডে) তিনশ পনেরোটি বিধান আছে। করুণাময় (আল্লাহ) বলেন-আমার শক্তিমত্তা ও মহানুভবতার শপথ! আমার কোনও দাস যদি আমার সঙ্গে শির্ক না করে সেসব বিধানের যে-কোনও একটি নিয়ে আসে, সে নিশ্চিত জান্নাতে যাবে।” (আবু ইয়া'লা ২/৪৮৪ (১৩১৪))|
[৩] "ইসলাম" (তাবারানি, আওসাত ৮৭০৯)。
[১] মূলে ব্যবহৃত হয়েছে 'শারীআ' শব্দ, আবূ ইয়া'লার একটি ভাষ্যে 'শারীআ'র জায়গায় 'খুলুক' শব্দ রয়েছে (হাইসামি)。
[১] الْإِسْلَامُ ثَمَانِيَةُ أَسْهُم : الْإِسْلَامُ سَهُمُ ، وَالصَّلَاةُ سَهُمُ، وَالزَّكَاة سَهُمُ ، وَحَجُّ الْبَيْتِ سَهُمُ ، وَالصَّيَامُ سهُمُ ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ سَهُمُ ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ سَهُمُ ، وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ سَهُمُ ، وَقَدْ خَابَ مَنْ لَا سُهُمْ لَهُ “ইসলামের অংশ আটটি: ইসলাম বা আত্মসমর্পণ একটি অংশ, নামাজ একটি অংশ, যাকাত একটি অংশ, (কা'বা) ঘরের হজ একটি অংশ, রোযা একটি অংশ, ভালো কাজের আদেশ একটি অংশ, খারাপ কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি অংশ, এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ একটি অংশ। নিশ্চিত ব্যর্থ সে, (এগুলোতে) যার কোনও অংশ নেই।” (বাযযার ১/১৭০ (৩৩৭); আবূ ইয়াসা ১/৪০০ (৫২৩))。
[১] মদীনা ও শামের মাঝখানে একটি উপত্যকা। তাইমা ও খাইবারের মাঝখানের এ অঞ্চলটি এখন জনমানবশূন্য। হিজরতের সপ্তম বছর খাইবার থেকে এসে নবি ﷺ এখানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিলেন。
[২] 'সে-সময় নবি ﷺ একটি ঘোড়ার পরিচর্যা করছিলেন। তখন আমি বলি...' (বাইহাকি, কুবরা ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩))|
[৩] أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ، فَإِذَا قَالُوْهَا عَصَمُوْا مِن دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ হয়েছে, যতক্ষণ-না তারা বলছে—আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহর বার্তাবাহক। এ ঘোষণা দিলে, তারা আমার কাছ থেকে নিজেদের জানমালের ব্যাপারে নিরাপত্তা পাবে, তবে এর (অর্থাৎ ইসলামের) বিধিবিধান লঙ্ঘন করলে এ নিরাপত্তা প্রযোজ্য হবে না; আর তাদের (চূড়ান্ত) হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩))|
[৪] "যাদের বিরুদ্ধে আপনি লড়াই করছেন?” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩)) |
[১] هؤُلَاءِ الْيَهُودُ الْمَغْضُوْبُ عَلَيْهِمْ وَهُؤُلَاءِ النَّصَارَى الضَّالُّوْنَ পড়েছে, আর এরা হলো খ্রিষ্টান যারা (সঠিক) পথ হারিয়ে ফেলেছে।" (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬০))
[২] “যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬০))。
]0[ لِلَّهِ خُمُسُهَا ، وَأَرْبَعَةُ أَخْمَاسٍ لِلْجَيْشِ “এর পাঁচ ভাগের একভাগ আল্লাহর, আর পাঁচ ভাগের চার ভাগ সামরিক বাহিনীর।" (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬০))。
]8[ مِنْ أَخِيْكَ الْمُسْلِمِ “তোমার মুসলিম ভাইয়ের চেয়ে” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩))
[৫] আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর মেষচালক (হাকিম ১/৫১১-৫১২ (১৮৮৫))
[৬] 'হাতের ইশারায়' (ইবনু হিব্বান ৩/১১৪-১১৫ (৮৩৩))。
[৭] 'একব্যক্তি বলে, "আল্লাহর রাসূল! কী সেগুলো?" নবি ﷺ বলেন,...' (আহমাদ ৫/৩৬৫-৩৬৬ (২৩১০০))|
[১] لِلْمَرْءِ الْمُسْلِمِ “কোনও মুসলিমের” (ইবনু হিব্বان ৩/১১৪-১১৫ (৮৩৩))
[২] مَنِ اتَّقَى اللَّهَ بِهِنَّ مُسْتَيْقِنَا دَخَلَ الْجَنَّةَ : مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، وَأَيْقَنَ بِالْمَوْتِ ، وَالْبَعْثِ ، وَالْحِسَابِ অসন্তুষ্টি এড়িয়ে চলবে, সে জান্নাতে যাবে: এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক, এবং মৃত্যু, পুনরুত্থান ও হিসাবনিকাশের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।” (আহমাদ ৫/৩৬৫-৩৬৬ (২৩১০০))
[২৩৬.] কাসীর ইবনু আব্দিল্লাহ মুযানি তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল-এর কাছ থেকে দ্বীনের বারোটি মৌলিক বিষয় আয়ত্ত করেছি।'
তাবারানি, কাবীর ১৭/২৩ (৩২), বর্ণনাকারী কাসীর ইবনু আবৃদিল্লাহ ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৫ (৯৭)।
[২৩৭.] আনাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَوْحًا مِنْ زَبَرْجَدٍ خَضِرًا جَعَلَهُ تَحْتَ الْعَرْشِ كَتَبَ فِيْهِ أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ خَلَقْتُ بِضْعَةَ عَشْرَةَ وَتَلْتَمِائَةِ خُلُقٍ مَنْ جَاءَ بِخُلُقٍ مِنْهَا مَعَ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ
"আল্লাহ তাআলার একটি সবুজ রঙের হীরকখণ্ড আছে, যা তিনি আরশের নিচে রেখেছেন; তাতে তিনি লিখে রেখেছেন-
» আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, সবচেয়ে বেশি করুণাময়。
» আমি তিনশ দশটির অধিক বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করেছি。
» যে-ব্যক্তি সেগুলোর যে-কোনও একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে, আর সঙ্গে এ সাক্ষ্য দিয়ে থাকে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ (ইবাদাত-লাভের অধিকারী) নেই-তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।"'
তাবারানি, আওসাত ১/৩০৭ (১০৯৩), ইবনু হিব্বানের মতে বর্ণনাকারী আবূ যিলাল কাসমালি 'বিশ্বস্ত', অধিকাংশের মতে 'ত্রুটিযুক্ত' (হাইসামি); আবদ ইবনু হুমাইদ ১৬৮; আবূ ইয়া'লা ২/৪৮৪ (১৩১৪), ইসনাদে আবদুল্লাহ ইবনু রাশিদ ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); বাইহাকি, শুআব ৬/৩৬৫ (৮৫৪৭), ৬/৩৬৭ (৮৫৫১); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৫৬ (২৮৬৪); কানযুল উম্মাল ১/৩৯ (৮০), ১/৩৯ (৮২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬ (৯৮), ১/৩৬ (১০১); জামউল ফাওয়াইদ ৬৩।
[২৩৮.] উবাইদ থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেছেন-
الْإِيْمَانُ ثَلَاثُ مِئَةٍ وَثَلَاثُوْنَ شَرِيعَةً ، مَنْ وَافَى بِشَرِيعَةٍ مِنْهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
"ঈমানা হলো তিনশ তিরিশটি বিধান (-এর সমষ্টি); যে-ব্যক্তি সেসব বিধানের যে-কোনও একটি পরিপূর্ণভাবে পালন করে, সে জান্নাতে যাবে।"'
তাবারানি, আওসাত ৫/২৭৪ (৭৩১০), ঈসা ইবনু সিনান কারও কারও কাছে বিশ্বস্ত, আবার অধিকাংশের মতে দুর্বল, আরেকজনের জীবনবৃত্তান্ত অজানা (হাইসামি); বাইহাকি, শুআব ৬/৩৬৬ (৮৫৪৮), ৬/৩৬৬ (৮৫৪৯); উসদুল গবাহ ৩/৫৪৩; আল-ইসাবা ৬/৩৬৯; কানযুল উম্মাল ১/৩৯ (৮৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬ (৯৯), ১/৩৬ (১০২), ১/৩৬ (১০৩)।
[২৩৯.] উসমান ইবনু আফ্ফান বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ لِلَّهِ مِئَةٌ وَسَبْعَةَ عَشَرَ شَرِيعَةٌ مَنْ وَافَاهُ بِخُلُقٍ مِنْهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
“আল্লাহ তাআলার একশ সতেরোটি বৈশিষ্ট্যা আছে; কেউ সেগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর কাছে গেলে, সে জান্নাতে যাবে।”
বাযযার (কাশফ) ১/২৮ (৩৬), একজন বর্ণনাকারী 'শক্তিশালী' নয়, আরেকজনের পরিচয় অজ্ঞাত (বাযযার); বাইহাকি, শুআব ৬/৩৬৬-৩৬৭ (৮৫৫০); কানযুল উম্মাল ১/৩৫ (৫৫), ১/৩৯ (৭৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬ (১০০)।
[২৪০.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
الإِسْلَامُ عَشْرَةُ أَسْهُمْ وَقَدْ خَابَ مَنْ لَا سَهْمَ لَهُ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهِيَ الْمِلَّةُ وَالثَّانِيَةُ الصَّلَاةُ وَهِيَ الْفِطْرَةُ وَالثَّالِثَةُ الزَّكَاةُ وَهِيَ الطَّهُورُ وَالرَّابِعَةُ الصَّوْمُ وَهِيَ الْجُنَّةُ وَالْخَامِسَةُ الْحَجُّ وَهِيَ الشَّرِيعَةُ وَالسَّادِسَةُ الْجِهَادُ وَهِيَ الْعُرْوَةُ وَالسَّابِعَةُ الْأَمْرُ بِالْمَعْرُوْفِ وَهُوَ الْوَفَاءُ وَالثَّامِنَةُ النَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ وَهِيَ الْحُجَّةُ وَالتَّاسِعَةُ الْجَمَاعَةُ وَهِيَ الْأُلْفَةُ وَالْعَاشِرَةُ الطَّاعَةُ وَهِيَ الْعِصْمَةُ
“ইসলামের দশটি ভাগ বা অংশ আছে; ব্যর্থ সে, যার মধ্যে (সেগুলোর) একটি ভাগও নেইাখ:
» এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ (ইবাদাত-লাভের অধিকারী) নেই-আর এটিই হলো আসল দ্বীন;
» নামাজ-এটি (মানুষের) সহজাত প্রকৃতি;
» যাকাত-এটি পরিচ্ছন্নতা-দানকারী;
» রোযা-এটি ঢালস্বরূপ;
» হজ-এটি শারীআ;
» জিহাদ-এটি হলো বন্ধন বা অবলম্বন;
» ভালো কাজের আদেশ-এটি হলো (আল্লাহর দেওয়া) দায়িত্ব পালন;
» খারাপ কাজে নিষেধাজ্ঞা-এটি হলো অকাট্য প্রমাণ;
"সঙ্ঘবদ্ধ থাকা—এটি হলো পারস্পরিক সৌহার্দ-সৃষ্টিকারী; এবং
> আনুগত্য—আর এটি হলো রক্ষাকবচ।"'
তাবারানি, আওসাত ৬/৩২-৩৩ (৭৮৯৩), ইসনাদে হামিদ ইবনু আদম আছেন, হাদীস জাল করার ব্যাপারে যার পরিচিতি রয়েছে (হাইসামি); বাযযার ৭/৩৩০ (২৯২৭), ৭/৩৩০-৩৩১ (২৯২৮); বাযযার (কাশফ) ১/১৭০ (৩৩৬), ১/১৭০ (৩৩৭), ১/৪১৫ (৮৭৫), আহমাদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিসের মতে বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনু আতা বিশ্বস্ত, আরেকদলের মতে ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); তায়ালিসি ৪১৩; আবূ ইয়া'লা ১/৪০০ (৫২৩); তাবারানি, কাবীর ১১/৩৪৪ (১১৯৫৮); বাইহাকি, শুআব ৬/৯৪ (৭৫৮৫), ৬/৯৪ (৭৫৮৬); আত-তারগীব ১/৫১৮-৫১৯; কানযুল উম্মাল ১/৩০ (৩২), ১/৩৩ (৪৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৭ (১০৫), ১/৩৭-৩৮ (১০৯), ১/৩৮ (১১০, ১১১)।
[২৪১.] বালকাইনের একব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ ওয়াদিল কুরা'য়[১] অবস্থানকালে আমি তাঁর কাছে এসে বলি'—
"আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কোন কোন কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে?”
নবি ﷺ বলেন—
أُمِرْتُ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ لَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ، وَأَنْ تُقِيمُوا الصَّلَاةَ ، وَتُؤْتُوا الزَّكَاةَ
"আমাকে এ-মর্মে আদেশ দেওয়া হয়েছে যে,
> তোমরা আল্লাহর গোলামি করবে, তাঁর সঙ্গে কোনও শির্ক করবে না;
> নামাজ কায়েম রাখবে; এবং
> যাকাত দেবে।[*]
"
আমি বলি, “আল্লাহর রাসূল! এ লোকগুলো কারা!?”
তিনি বলেন—
"গজবপ্রাপ্ত লোকজন।” অর্থাৎ ইহুদি।
الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ
এরপর জানতে চাই, "এরা কারা?”
তিনি বলেন—
الضَّالِّينَ
"পথ-হারিয়ে-ফেলা জনগোষ্ঠী।” অর্থাৎ খ্রিষ্টান। [১]
আমি বলি, “আল্লাহর রাসূল! যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হকদার কে?”
তিনি বলেন-
للهِ عَزَّ وَجَلَّ سَهُمُ ، وَلِهُؤُلَاءِ أَرْبَعَةُ أَسْهُم
“(পাঁচভাগের) একভাগ আল্লাহ তাআলার, আর চার ভাগ এদের।”
আমি বলি, "যুদ্ধলব্ধ সম্পদে কেউ কি অন্যের চেয়ে বেশি হকদার হতে পারে?”
নবি ﷺ বলেন-
لَا ، حَتَّى السَّهْمُ يَأْخُذُهُ أَحَدُكُمْ مِنْ جُعْبَتِهِ فَلَيْسَ بِأَحَقَّ بِهِ مِنْ أَحَدٍ
"না; এমনকি তোমাদের কেউ তার তিরদানি থেকে যা বের করবে, সেটিতেও অন্যদের চেয়ে তার কোনও বেশি অধিকার নেই।"'
আবূ ইয়া'লা ১৩/১৩১-১৩২ (৭১৭৯), ইসনাদটি সহীহ (হাইসামি); বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৮-৪৯ (১৪৪)।
[২৪২.] আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর আযাদকৃত গোলাম আবূ সাল্লাম থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
بخ بخ الخَمْسٍ مَا أَثْقَلَهُنَّ فِي الْمِيزَانِ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَاللهُ أَكْبَرُ ، وَسُبْحَانَ اللهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَالْوَلَدُ الصَّالِحُ يُتَوَفَّى فَيَحْتَسِبُهُ وَالِدُهُ
"পাঁচটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, পাল্লায় এগুলো অত্যন্ত ভারী:
» লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই;
> আল্লাহু আকবার/ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ;
> সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত;
» আলহামদু লিল্লাহ/ প্রশংসা সবই আল্লাহর; এবং
» নেক সন্তানের মৃত্যুতে আল্লাহর কাছে পিতারা প্রতিদান কামনা।"
তিনি বলেছেন-
بَحْ بَحْ لِخَمْسٍ ، مَنْ لَقِيَ اللهَ مُسْتَيْقِنَا بِهِنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ : يُؤْمِنُ بِاللهِ ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، وَبِالْجَنَّةِ ، وَالنَّارِ ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ ، وَالْحِسَابِ
"পাঁচটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যে-ব্যক্তি এসব বিষয়ে সংশয়মুক্ত বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে যাবে:
» আল্লাহ,
» পরকাল,
» জান্নাত ও জাহান্নام,
» মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, ও
» হিসাবনিকাশ -এসব বিষয়কে সত্য হিসেবে মেনে নেওয়া।"'
আহমাদ ৩/৪৪৩ (১৫৬৬২), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামী ১০/৮৮), ৪/২৩৭ (১৮০৭৬), ৫/৩৬৫-৩৬৬ (২৩১০০); নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ১৬৭; ইবনু আবী আসিম, আস-সুন্নাহ ৭৮১; বাযযার (কাশফ) ৪/৯ (৩০৭২); তাবারানি, কাবীর ২২/৩৪৮ (৮৭৩); ইবনু আবী শাইবা ১০/২৯৫ (৩০০৪৯); ইবনু হিব্বان ৩/১১৪-১১৫ (৮৩৩), (মাওয়ারিদ ২৩২৮); হাকিম ১/৫১১-৫১২ (১৮৮৫); উসদুল গবাহ ৬/১৫৪; তুহাফাতুল আশরাফ ৯/২২০ (১২০৪৯); কানযুল উম্মাল ৩/২৮৫ (৬৫৭৯), ১৫/৮৮৬-৮৮৭ (৪৩৫১০, ৪৩৫১১, ৪৩৫১২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৯ (১৪৬)।
টিকাঃ
[১] إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ الرَّحْمَنِ "করুণাময়ের সামনে” (আবূ ইয়া'লা ২/৪৮৪ (১৩১৪))|
[২] فِيْهِ ثَلَاثُ مِئَةٍ وَخَمْسٌ عَشْرَةَ شَرِيعَةً يَقُولُ الرَّحْمَنُ : وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَا يَأْتِي عَبْدٌ مِنْ عِبَادِي لَا يُشْرِكُ بِي شَيْئًا ، فِيْهِ وَاحِدَةٌ مِنْهَا ، إِنَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ "তাতে (অর্থাৎ ওই হীরকখণ্ডে) তিনশ পনেরোটি বিধান আছে। করুণাময় (আল্লাহ) বলেন-আমার শক্তিমত্তা ও মহানুভবতার শপথ! আমার কোনও দাস যদি আমার সঙ্গে শির্ক না করে সেসব বিধানের যে-কোনও একটি নিয়ে আসে, সে নিশ্চিত জান্নাতে যাবে।” (আবু ইয়া'লা ২/৪৮৪ (১৩১৪))|
[৩] "ইসলাম" (তাবারানি, আওসাত ৮৭০৯)。
[১] মূলে ব্যবহৃত হয়েছে 'শারীআ' শব্দ, আবূ ইয়া'লার একটি ভাষ্যে 'শারীআ'র জায়গায় 'খুলুক' শব্দ রয়েছে (হাইসামি)。
[১] الْإِسْلَامُ ثَمَانِيَةُ أَسْهُم : الْإِسْلَامُ سَهُمُ ، وَالصَّلَاةُ سَهُمُ، وَالزَّكَاة سَهُمُ ، وَحَجُّ الْبَيْتِ سَهُمُ ، وَالصَّيَامُ سهُمُ ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ سَهُمُ ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ سَهُمُ ، وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ سَهُمُ ، وَقَدْ خَابَ مَنْ لَا سُهُمْ لَهُ “ইসলামের অংশ আটটি: ইসলাম বা আত্মসমর্পণ একটি অংশ, নামাজ একটি অংশ, যাকাত একটি অংশ, (কা'বা) ঘরের হজ একটি অংশ, রোযা একটি অংশ, ভালো কাজের আদেশ একটি অংশ, খারাপ কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি অংশ, এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ একটি অংশ। নিশ্চিত ব্যর্থ সে, (এগুলোতে) যার কোনও অংশ নেই।” (বাযযার ১/১৭০ (৩৩৭); আবূ ইয়াসা ১/৪০০ (৫২৩))。
[১] মদীনা ও শামের মাঝখানে একটি উপত্যকা। তাইমা ও খাইবারের মাঝখানের এ অঞ্চলটি এখন জনমানবশূন্য। হিজরতের সপ্তম বছর খাইবার থেকে এসে নবি ﷺ এখানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিলেন。
[২] 'সে-সময় নবি ﷺ একটি ঘোড়ার পরিচর্যা করছিলেন। তখন আমি বলি...' (বাইহাকি, কুবরা ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩))|
[৩] أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ، فَإِذَا قَالُوْهَا عَصَمُوْا مِن دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ হয়েছে, যতক্ষণ-না তারা বলছে—আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহর বার্তাবাহক। এ ঘোষণা দিলে, তারা আমার কাছ থেকে নিজেদের জানমালের ব্যাপারে নিরাপত্তা পাবে, তবে এর (অর্থাৎ ইসলামের) বিধিবিধান লঙ্ঘন করলে এ নিরাপত্তা প্রযোজ্য হবে না; আর তাদের (চূড়ান্ত) হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩))|
[৪] "যাদের বিরুদ্ধে আপনি লড়াই করছেন?” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩)) |
[১] هؤُلَاءِ الْيَهُودُ الْمَغْضُوْبُ عَلَيْهِمْ وَهُؤُلَاءِ النَّصَارَى الضَّالُّوْنَ পড়েছে, আর এরা হলো খ্রিষ্টান যারা (সঠিক) পথ হারিয়ে ফেলেছে।" (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬০))
[২] “যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬০))。
]0[ لِلَّهِ خُمُسُهَا ، وَأَرْبَعَةُ أَخْمَاسٍ لِلْجَيْشِ “এর পাঁচ ভাগের একভাগ আল্লাহর, আর পাঁচ ভাগের চার ভাগ সামরিক বাহিনীর।" (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬০))。
]8[ مِنْ أَخِيْكَ الْمُسْلِمِ “তোমার মুসলিম ভাইয়ের চেয়ে” (বাইহাকি, কাবীর ৬/৩৩৬ (১৩০৬৩))
[৫] আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর মেষচালক (হাকিম ১/৫১১-৫১২ (১৮৮৫))
[৬] 'হাতের ইশারায়' (ইবনু হিব্বান ৩/১১৪-১১৫ (৮৩৩))。
[৭] 'একব্যক্তি বলে, "আল্লাহর রাসূল! কী সেগুলো?" নবি ﷺ বলেন,...' (আহমাদ ৫/৩৬৫-৩৬৬ (২৩১০০))|
[১] لِلْمَرْءِ الْمُسْلِمِ “কোনও মুসলিমের” (ইবনু হিব্বان ৩/১১৪-১১৫ (৮৩৩))
[২] مَنِ اتَّقَى اللَّهَ بِهِنَّ مُسْتَيْقِنَا دَخَلَ الْجَنَّةَ : مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، وَأَيْقَنَ بِالْمَوْتِ ، وَالْبَعْثِ ، وَالْحِسَابِ অসন্তুষ্টি এড়িয়ে চলবে, সে জান্নাতে যাবে: এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক, এবং মৃত্যু, পুনরুত্থান ও হিসাবনিকাশের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।” (আহমাদ ৫/৩৬৫-৩৬৬ (২৩১০০))