📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 মক্কায় ছোটোখাটো বিষয়ে আনুগত্য-প্রসঙ্গ

📄 মক্কায় ছোটোখাটো বিষয়ে আনুগত্য-প্রসঙ্গ


[২৩২.] আমর ইবনুল আহ্ওয়াস তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'বিদায় হজের সময় আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে লোকদের উদ্দেশে বলতে শুনেছি,
أَلَا وَإِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيِسَ مِنْ أَنْ يُعْبَدَ فِي بِلَادِكُمْ هَذِهِ أَبَدًا، وَلَكِنْ سَيَكُونُ لَهُ طَاعَةُ فِيمَا تَحْتَقِرُونَ مِنْ أَعْمَالِكُمْ فَسَيَرْضَى بِهِ
"... মনে রেখো, শয়তান এ-মর্মে হতাশ হয়ে গিয়েছে যে, তোমাদের এ শহরে আর কখনও তার গোলামি করা হবে না। তবে অচিরেই তোমাদের এমন কিছু কাজে সে আনুগত্য পাবে, যা তোমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হবে। আর সে তাতেই খুশি হবে।"
তিরমিযি ২১৫৯, হাসান সহীহ; নাসাঈ, কুবরা ৪০৮৫; ইবনু মাজাহ ৩০৫৫; জামিউল উসূল ৫২ (২য় বর্ণনা); জামউল ফাওয়াইদ ৯১।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ

📄 ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ


[২৩৩.] আবূ বাকরা থেকে বর্ণিত, নবি ﷺ বলেন,
الزَّمَانُ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتَةِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ثَلَاثُ مُتَوَالِيَاتُ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ
"সময় আবর্তিত হয়ে মূল অবস্থায় ফিরে এসেছে, যেমনটি ছিল মহাকাש ও পৃথিবী সৃষ্টি করার সময় - বছরে বারো মাস, এর মধ্যে চার মাস মহিমান্বিত ও নিষিদ্ধ। (মাস চারটি হলো) পরপর তিন মাস - যুল কা'দা, যুল হিজ্জা ও মুহাররম এবং মুদার গোত্রের অনুসৃত রজব, যার অবস্থান জুমাদা (আস-সানি) ও শা'বান মাসের মাঝখানে।"
(এরপর নবি ﷺ জিজ্ঞেস করেন,) أَيُّ شَهْرٍ هَذَا "এটি কোন মাস?” আমরা বলি, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” নবি ﷺ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তাতে আমাদের মনে হলো, তিনি এ মাসের নাম পালটে অন্য নাম রাখতে যাচ্ছেন। এরপর তিনি বলেন, أَلَيْسَ ذُو الْحِجَّةِ "এটি কি যুল হিজ্জাহ্ মাস নয়?" আমরা বলি, "অবশ্যই।”
নবি ﷺ জিজ্ঞেস করেন, أَيُّ بَلَدٍ هَذَا "এটি কোন শহর?” আমরা বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" নবি ﷺ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তাতে আমাদের মনে হলো, তিনি এ শহরের নাম পালটে অন্য নাম রাখতে যাচ্ছেন। এরপর তিনি বলেন, أَلَيْسَ الْبَلَدَةَ الْحَرَامَ "এটি কি সম্মানিত শহরটি নয়?" আমরা বলি, "অবশ্যই।”
নবি ﷺ জিজ্ঞেস করেন, فَأَيُّ يَوْم هَذَا "আজ কোন দিন?” আমরা বলি, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” নবি ﷺ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তাতে আমাদের মনে হলো, তিনি এ দিনের নাম পালটে অন্য নাম রাখতে যাচ্ছেন। এরপর তিনি বলেন, أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ "আজ কি কুরবানির দিন নয়?” আমরা বলি, "অবশ্যই।” এরপর নবি ﷺ বলেন, [8]
فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ أَلَا فَلَا تَرْجِعُوا بَعْدِي ضُلَّالًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ أَلَا لِيُبَلِّغ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يُبَلِّغُهُ أَنْ يَكُونَ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضٍ مَنْ سَمِعَهُ
"তোমাদের এ মাসে এ শহরে এ দিনটি যেভাবে সম্মানিত, ঠিক তেমনিভাবে'। তোমাদের জান-মাল-সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য সম্মানিত।
তোমরা অচিরেই তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। তখন তিনি তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন।
অতএব সাবধান! আমার (ইন্তেকালের) পর পথভ্রষ্টা হয়ে তোমরা পরস্পরের গর্দানে আঘাত কোরো না।
মনে রেখো, শ্যারা উপস্থিত আছে, তারা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়; কারণ, যাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে, তাদের কেউ কেউ (এখানকার) কোনও কোনও শ্রোতার চেয়ে এটি ভালো বুঝতে পারো।"
মুহাম্মাদ (ইবনু সীরীন) এ (শেষোক্ত) কথাটি কখনও উল্লেখ করলে বলতেন, 'মুহাম্মাদ ﷺ সত্য বলেছেন!'[] এরপর নবি ﷺ দু'বার বলেন,
أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ
"ওহে! আমি কি বার্তা পৌঁছে দিয়েছি?"[]
বুখারি ৪৪০৬, ৬৭, ১০৫, ১২১, ১৭৩৯, ১৭৪১, ১৭৪২, ৩১১৭, ৪৪০৩, ৪৪০৫, ৪৬৬২, ৫৫৫০, ৬০৪৩, ৬১৬৬, ৬৭৮৫, ৬৮৬৮, ৬৮৬৯, ৭০৭৭, ৭০৭৮, ৭০৭৯, ৭০৮০, ৭৪৪৭; মুসলিম ২২৩/১১৮ (৬৫), ২২৪/১১৯ (৬৬), ২২৫/১২০ (...), ২২৬ (...), ৪৩৮৩/২৯ (১৬৭৯), ৪৩৮৪/৩০ (...), ৪৩৮৫ (...), ৪৩৮৬/৩১ (...); আহমাদ ১/২৩০ (২০৩৬), ১/৪০২ (৩৮১৫), ২/৮৫ (৫৫৭৮), ৩/৮০ (১১৭৬২), ৩/৮০ (১১৭৬৩), ৪/৩৫৮ (১৯১৬৭), ৪/৩৬৩ (১৯২১৭), ৪/৩৬৬ (১৯২৫৯), ৪/৩৬৬ (১৯২৬০), ৫/৩৭ (২০৩৮৬), ৫/৩৭ (২০৩৮৭), ৫/৩৯ (২০৪০৭), ৫/৪৯ (২০৪৯৮); আবূ দাউদ ১৯৪৭, ৪৬৮৬; নাসাঈ ৪১২৫, ৪১২৬, ৪১২৭, ৪১২৮, ৪১২৯, ৪১৩০, ৪১৩১, ৪১৩২; নাসাঈ, কুবরা ৩৫৭৭, ৩৫৭৮, ৩৫৭৯, ৩৫৮০, ৩৫৮১, ৩৫৮২, ৩৫৮৩, ৩৫৮৪; ইবনু মাজাহ ২৩৩, ৩৯৪৩; দারিমি ১৯৪০; জামিউল উসূল ৫৩, ৫৪, ৫৫; জামউল ফাওয়াইদ ১০০।

টিকাঃ
[১] '(বিদায় হজের সময়) নবি ﷺ ইয়াওমুন নাহর বা কুরবানির দিন আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি বলেন, ...' (বুখারি ১৭৩৯); 'সেদিন নবি ﷺ একটি উটের ওপর আরোহণ করেন। একব্যক্তি সেই উটের লাগাম অথবা নাকের দড়ি ধরে রাখেন। এরপর নবি ﷺ বলেন,...' (মুসলিম ১৬৭৯); নবি ﷺ বিদায় হজের দিন বলেন, يَا جَرِيرُ إِسْتَنْصِتِ النَّاسَ “জারীর! লোকদের চুপ করতে বলো।" এরপর তিনি ভাষণে বলেন, ...' (বুখারি ৬৮৬৯)。
[২] জাহিলি যুগের মুশরিকরা নিষিদ্ধ মাসের বাধ্যবাধকতা এড়ানোর জন্য নিজেদের ইচ্ছেমতো মাস-গণনায় রদবদল করে নিত। এখানে নবি ﷺ বোঝাতে চেয়েছেন, এখন তাঁরা যে মাস ও দিনে অবস্থান করছেন, সেটি প্রকৃত সময়, এতে কাফিরদের রদবদলের ছোঁয়া নেই। (জামিউল উসূল ১/১৮০-১৮১)。
[৩] মুদার গোত্র যথাযথভাবে এ মাসের সম্মান বজায় রাখত এবং খেয়ালখুশি মতো আগপাছ করত না; তাই এ মাসটির সঙ্গে মুদার গোত্রকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে (জামিউল উসূল ১/১৮১)。
[8] أَلَا إِنَّ أَحْرَمَ الْأَيَّامِ يَوْمُكُمْ هَذَا وَإِنَّ أَحْرَمَ الشُّهُورٍ شَهْرُكُمْ هَذَا وَإِنَّ أَحْرَمَ الْبِلَادِ بَلَدُكُمْ هَذَا সম্মানিত দিন হলো তোমাদের এ দিনটি, সবচেয়ে সম্মানিত মাস হলো তোমাদের এ মাসটি, সবচেয়ে সম্মানিত শহর হলো তোমাদের এ শহরটি। মনে রেখো..." (আহমাদ ১১৭৬২)|
]1[ إِلَى يَوْمِ تَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ "তোমাদের রবের সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হওয়ার আগ পর্যন্ত” (বুখারি ১৭৪১)。
]২[ ﻛﻔﺎﺭًا "কাফির” (বুখারি ১৭৪১)。
]৩[ ﻣِﻨْكُمْ "তোমাদের মধ্যে” (বুখারি ১০৫)。
]৪] মূলে রয়েছে أَرْغَى শব্দ, যা বুদ্ধিমান, সমঝদার ও সংরক্ষক অর্থে ব্যবহৃত হয় (তাহযীবুল লুগাহ)。
]৫] فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَلَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ هُوَ أَوْعَى لَهُ مِنْهُ "কারণ, উপস্থিত ব্যক্তি এমন কারও কাছে পৌঁছে দিতে পারে, যে-কিনা এটি তার চেয়ে ভালো বুঝবে" (বুখারি ৬৭; আহমাদ ২০৩৮৭) ; فَرُبَّ مُبَلَّغَ أَوْعَى مِنْ سَامِع “যাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, তাদের কেউ কেউ শ্রোতার চেয়ে ভালো বোঝে” (বুখারি ১৭৪১; আহমাদ ২০৪৯৮)。
[৬] 'বাস্তবে তা-ই হয়েছে' (বুখারি ৭০৭৮); 'যাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ কেউ (আগের) শ্রোতার চেয়ে অধিক সমঝদার ছিলেন' (আহমাদ ২০৩৮৬)。
[৭] আল্লাহ তাআলা নবি ﷺ-এর কাছে যা কিছু নাযিল করেছেন, তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নবি ﷺ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। (সূরা আল-মাইদাহ ৫:৬৭) তাই জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নবি ﷺ সাহাবিদের এ প্রশ্ন করেছিলেন。
]৮] 'সাহাবিগণ বলেন, “হ্যাঁ!” নবি ﷺ তিনবার বলেন, الله أُشْهَدُ اللهم "হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।"' (বুখারি #৪৪০০); 'এরপর নবি ﷺ অগ্রসর হয়ে বিচিত্র দাগবিশিষ্ট সাদা-কালো রঙের দুটি ভেড়া জবাই করেন এবং একপাল ছাগল আমাদের মধ্যে বণ্টন করেন।' (মুসলিম ৪৩৮৩/২৯ (১৬৭১)) |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00