📄 নারীদের কাছ থেকে শপথ নেওয়ার ধরণ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 নারীদের কাছ থেকে শপথ নেওয়ার সময় নবি ﷺ তাদের স্পর্শ করেননি
[২২৪.] আয়িশা রা. জানিয়েছেন, “নিচের আয়াতের ভিত্তিতে আল্লাহর রাসূল ﷺ (নারীদের ঈমান) পরীক্ষা করতেন। (আল্লাহ তাআলা বলেন-)
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِفْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانِ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (١٢)
“হে নবি! মুমিন নারীরা যখন তোমার কাছে এসে এ মর্মে শপথ নিতে চায় যে-তারা
> আল্লাহর সঙ্গে কোনোকিছুকে শরীক করবে না,
> চুরি করবে না,
> ব্যভিচার করবে না,
> নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না,
> সন্তান সম্পর্কে অপবাদ রটাবে না, এবং
> ভালো কাজে তোমার অবাধ্য হবে না
-তখন তাদের কাছ থেকে শপথ নিয়ো এবং আল্লাহর কাছে তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা কোরো। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০:১২)
কোনও নারী এসব শর্ত মানতে রাজি হলে, আল্লাহর রাসূল ﷺ তার সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করে তাকে বলে দিতেন-
"[১] আমি তোমার শপথ নিয়ে নিয়েছি।"
قَدْ بَايَعْتُكِ
শপথ আল্লাহর! শপথ নেওয়ার সময় নবি ﷺ-এর হাত কখনও কোনও নারীর হাত স্পর্শ করেননি。[২] তিনি কেবল কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে শপথ নিতেন।'
বুখারি ২৭১৩, ৪১৮২ (প্রথমাংশ), ৪৮৯১, ৫২৮৮, ৭২১৪; আহমাদ ২/২১৩ (৬৯৯৮), ৬/১১৪ (২৪৮২৯), ৬/১৫৩ (২৫১৯৮), ৬/২৭০ (২৬৩২৬); মুসলিম ৪৮৩৪/৮৮ (১৮৬৬), ৪৮৩৫/৮৯ (...); আবূ দাউদ ২৯৪১; তিরমিযি ৩৩০৬; ইবনু মাজাহ্ ২৮৭৫; জামিউল উসূল ৫১।
[২২৫.] উমাইনা বিনতু রুকাইকা বলেন, 'ইসলামের ব্যাপারে শপথ নেওয়ার জন্য, কয়েকজন আনসার মহিলার সঙ্গে আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে যাই। সেখানে গিয়ে তারা বলেন, [*]
نُبَايِعُكَ عَلَى أَنْ لَا نُشْرِكَ بِالله شَيْئًا وَلَا نَسْرِقَ وَلَا نَزْنِي وَلَا نَقْتُلَ أَوْلَادَنَا وَلَا نَأْتِيَ بِبُهْتَانٍ نَفْتَرِيهِ بَيْنَ أَيْدِينَا وَأَرْجُلِنَا وَلَا نَعْصِيَكَ فِي مَعْرُوفٍ
“হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার কাছে এ মর্মে শপথ নিচ্ছি
> আমরা আল্লাহর সঙ্গে কোনোকিছু শরীক করব না,
> চুরি করব না,
> ব্যভিচার করব না,
> আমাদের সন্তানদের হত্যা করব না,
> সন্তান সম্পর্কে কোনও অপবাদ রটাব না এবং
> ভালো কাজে আপনার অবাধ্য হব না।"
এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
فِيمَا اسْتَطَعْتُنَّ وَأَطَقْتُنَّ
"তোমাদের শক্তি-সামর্থ্যে যেটুকু কুলাবে (ততটুকু করবে)।”
তখন তারা বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের প্রতি আমাদের চেয়ে বেশি দয়াবان! হে আল্লাহর রাসূল! আসুন, আমরা আপনার কাছে (হাত ধরে)[১] শপথ নিই।”
নবি ﷺ বলেন,
إِنِّي لَا أُصَافِحُ النِّسَاءَ إِنَّمَا قَوْلِي لِمِائَةِ امْرَأَةٍ كَقَوْلِي لِامْرَأَةٍ وَاحِدَةٍ
"আমি মহিলাদের সঙ্গে হাত মেলাই না। আমি একজন মহিলাকে যেভাবে (হাত না ধরে, শপথবাক্য) বলে দিই, এক শ মহিলাকেও সেভাবে বলি।" [*]
মালিক ১৯০৩; আহমাদ ২/১৯৬ (৬৮৫০), ৬/৩৫৭ (২৭০০৬), ৬/৩৫৭ (২৭০০৭), ৬/৩৫৭ (২৭০০৮), ৬/৩৫৭ (২৭০০১), ৬/৩৫৭ (২৭০১০); তিরমিযি ১৫৯৭; নাসাঈ ৪১৮১, ৪১১০; নাসাঈ, কুবরা ৭৭৫৬, ৭৭৬৫; ইবনু মাজাহ্ ২৮৭৪; জামিউল উসূল ৪৬; জামউল ফাওয়াইদ ১২।
টিকাঃ
]১[ ذَهَبَ أَهْلُ الْهِجْرَةِ بِمَا فِيْهَا “হিজরতের যত মাহাত্ম্য, তা হিজরতকারীরা ইতোমধ্যে নিয়ে নিয়েছে” (বুখারি ৪৩০৫-৪০০৬); لَا هِجْرَةَ بَعْدَ فَتْحِ مَكَّةَ “মক্কা-বিজয়ের পর কোনও হিজরত নেই” (বুখারি ৩০৭৮-৩০৭৯); لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ، وَيَكُونُ مِنَ التَّابِعِيْنَ بِإِحْسَانٍ "মক্কা-বিজয়ের পর কোনও হিজরত নেই, তবে নিষ্ঠার সঙ্গে (ইসলামের বিধিবিধানের) অনুসারী হওয়ার সুযোগ রয়েছে” (আহমদ ১৫৮৪৭, ১৫৮৪৯)。
[২] وَالْإِيْمَانِ "ঈমান” (বুখারি ৪৩০৫-৪০০৬); وَالْخَيْرِ “কল্যাণ” (মুসলিম ৪৮২৬/৮৩ (১৮৬০))。
[৩] 'যেসব নারী হিজরত করে আসত, তাদের ক্ষেত্রে' (বুখারি ৪১৮২)。
[১] انْطَلِقْنَ “চলে যাও!" (বুখারি ৫২৮৮)。
[২] 'ব্যতিক্রম ছিল কেবল তাঁর অধীনস্থ কোনও নারী' (বুখারি ৭২১৪)。
[৩] 'তখন নবি ﷺ আমাদের কাছ থেকে সেসব বিষয়ে শপথ নেন, যেসব বিষয়ে শপথ নেওয়ার কথা কুরআনে (সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০:১২) বলা হয়েছে।' (আহমাদ ২৭০০১)。
[৪] "আমরা বলি" (আহমাদ ২৭০০৮)。
[৫] "এ মর্মে শপথ নিতে এসেছি” (আহমাদ ২৭০০৭)。
[৬] '(নবি ﷺ বলেন( وَلَا تَنُرْحِي وَلَا تَبَرَّجِي تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأَوْلَى “বিলাপ করবে না; এবং প্রথম জাহিলি যুগের মতো প্রদর্শনী করে বেড়াবে না” (আহমদ ৬৮৫০)。
[১] "অর্থাৎ, আমাদের সঙ্গে মুসাফাহা (করমর্দন) করুন" (তিরমিযি ১৫৯৭); 'আমরা বলি, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সঙ্গে মুসাফাহা করবেন না?"' (আহমদ ২৭০০১)。
[২] اذْهَبْنَ فَقَدْ بَايَعْتُكُنَّ "যাও! আমি তোমাদের শপথ নিয়ে নিয়েছি” (আহমাদ ২৭০০৭)。
[৩] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের কোনও মহিলার সঙ্গে মুসাফাহা করেননি' (আহমদ ২৭০০৭)。
📄 মুহাজির নারীদের বাইআত নেওয়ার সময় যা বলতে হতো
[২২৬.] ইবনু আব্বাস রা. -কে জিজ্ঞেস করা হলো, 'নবি ﷺ কীভাবে মহিলাদের (ঈমান) পরীক্ষা করতেন?'
তিনি বলেন,
"কোনও মহিলা ইসলাম গ্রহণের জন্য নবি ﷺ-এর কাছে এলে, তিনি তাকে বলতেন—
» সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে বলে—সে তার স্বামীর প্রতি বিদ্বেষবশত বেরিয়ে আসেনি,
» আল্লাহর নামে শপথ করে বলে—সে কোনও দীনার কামানোর জন্য বেরিয়ে আসেনি,
» আল্লাহর নামে শপথ করে বলে—সে নিছক একদেশে থাকতে ভালো লাগে না বিধায় আরেক দেশে আসেনি,[১] এবং
» সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে বলে—সে কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসায় বেরিয়ে এসেছে।"
তাবারানি, কাবীর ১২/১২৭ (১২৬৬৮), একজন বর্ণনাকারী শু'বা ও সাওরির মতে বিশ্বস্ত, অন্যদের মতে দুর্বল (মাজমাউয যাওয়াইদ ৬/৪০); জামউল ফাওয়াইদ ৯৫।
টিকাঃ
[৪] মুমিন মহিলারা হিজরত করে এলে, কুরআনের সূরা আল-মুমতাহিনায় (৬০:১২) তাদের ঈমানের পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে。
[৫] অর্থাৎ শুধু ভ্রমণের উদ্দেশে আসেনি。
📄 নাবালকের শপথ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।