📄 শির্ক, চুরি, ব্যভিচার, হত্যা, অপবাদ ও অবাধ্যতায় লিপ্ত না হওয়া
[২১৯.] [বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও আকাবার রাতের অন্যতম নকীব উবাদা ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর পাশে তখন একদল সাহাবি। এমন সময় তিনি বলেন:
بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ وَلَا تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ فَمَنْ وَلَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللهُ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ
"তোমরা আমার কাছে এ মর্মে শপথ নাও যে, [৪]
> তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোনোকিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে না;
> চুরি করবে না;
> ব্যভিচার করবে না;
> নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না;
> সন্তান সম্পর্কে কোনও অপবাদ রটাবে না; [৫] এবং
> ভালো কাজে অবাধ্য হবে না।
তোমাদের মধ্যে যে-ব্যক্তি এ ওয়াদা পূরণ করবে, তাকে প্রতিদান দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর।[৮] যে-ব্যক্তি এর কোনও একটি অপরাধ করবে, তাকে যদি দুনিয়ায় এজন্য পাকড়াও করা হয়, [১] তাহলে সেটি হবে তার কাফ্ফারা বা গোনাহ-মাফের-মাধ্যম [১০]; আর যে-ব্যক্তি এর কোনও একটি অপরাধ করবে, এরপর যার অপরাধ আল্লাহ গোপন রাখবেন, তার বিষয়টি আল্লাহর কাছে ন্যস্ত থাকবে-তিনি চাইলে তাকে (পরকালে) শাস্তি দেবেন, আর চাইলে তাকে মাফ করে দেবেন।"
তখন আমরা নবি ﷺ-এর কাছে এ মর্মে শপথ নিই।'
বুখারি ১৮, ৩৮৯২, ৩৮১৩, ৩৯৯১, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ৪৪৬১/৪১ (১৭০৯), ৪৪৬২/৪২ (...), ৪৪৬৩/৪৩ (...), ৪৪৬৪/৪৪ (...); আহমাদ ৫/৩১৩ (২২৬৬৮), ৫/৩১৪ (২২৬৭৮), ৫/৩২০ (২২৭৩৩); তিরমিযি ১৪৩৯, ২৬২৫ (শেষাংশ); নাসাঈ ৪১৬১, ৪১৬২, ৪১৭৮, ৪২১০, ২০০২; নাসাঈ, কুবরা ৭২৫২, ৭৭৩৬, ৭৭৮৭, ১১৫২৪; ইবনু মাজাহ ২৬০৩; দারিমি ২৪৮৪; হাকিম ২/৪৪৫ (৩৬৬৪); জামিউল উসূল ৪৩; জামউল ফাওয়াইদ ৮৭, ৮৮।
টিকাঃ
[১] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে' (বুখারি ৩৮৯২)。
[১] 'এক মজলিসে আমরা ছিলাম নবি ﷺ-এর কাছে' (বুখারি ৬৭৮৪)。
[২] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ যেভাবে মহিলাদের থেকে শপথ নিয়েছেন, সেভাবে আমাদের কাছ থেকেও ছয়টি বিষয়ে শপথ নিয়েছেন' (আহমাদ ২২৬৬৮; মুসলিম ১৭০১)。
[৩] تَعَالَوْا "আসো” (বুখারি ৩৮৯২)。
[৪] أَتْبَايِعُوْنِي عَلَى أَنْ “তোমরা কি আমার কাছে এ মর্মে শপথ নেবে যে, ...?” (বুখারি ৪৮৯৪)。
[৫] (শপথের মধ্যে আরও ছিল: ( وَلَا نَقْتُلَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ وَلَا نَنْتَهِبَ “আমরা এমন কাউকে হত্যা করব না, যার প্রাণহরণ আল্লাহ হারাম করেছেন; আর লুটতরাজ করব না” (বুখারি ৩৮৯৩; মুসলিম ১৭০৯)。
[৬] وَلَا تَعْصُوْنِي فِي مَعْرُوفٍ "ভালো কাজে আমার অবাধ্য হবে না” (বুখারি ৩৮৯২)。
[৭] 'এরপর নবি ﷺ নারী-সংক্রান্ত পুরো আয়াতটি (সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০:১২) পাঠ করেন' (বুখারি ৬৭৮৪)。
[৮] "এসব কথা মেনে চললে, আমাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের ওয়াদা; আর এসব (নিষিদ্ধ) কাজের কোনও একটি করে ফেললে, বিষয়টি আল্লাহ ফায়সালা করবেন।” (বুখারি ৩৮৯৩; মুসলিম ১৭০৯)。
[৯] وَمَنْ أَتَى مِنْكُمْ حَدًّا فَأَقِيمَ عَلَيْهِ فَهُوَ كَفَّارَتُهُ “আর তোমাদের মধ্যে যে-ব্যক্তি নির্ধারিত-শাস্তির কোনও অপরাধ করবে, এরপর তার ওপর যদি সেই শাস্তি কার্যকর হয়, সেটি হবে তার জন্য কাফ্ফারা বা গোনাহ-মাফের মাধ্যমস্বরূপ” (মুসলিম ৪৪৬১/৪১ (১৭০৯))。
[১০] وظهُورُ "ও পরিচ্ছন্নতা-স্বরূপ” (বুখারি ৬৮০১)。
📄 কালিমা, নামাজ, যাকাত, হজ, রোযা ও জিহাদ
[২২০.] ইবনুল খাসাসিয়্যা সাদৃসি বলেন, 'শপথ-গ্রহণের জন্য আমি নবি ﷺ-এর কাছে এলে, তিনি আমাকে এসব শর্ত দেন:
شَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، وَأَنْ أُقِيمَ الصَّلَاةَ ، وَأَنْ أُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ ، وَأَنْ أَحُجَّ حَجَّةَ الْإِسْلَامِ ، وَأَنْ أَصُوْمَ شَهْرَ رَمَضَانَ ، وَأَنْ أُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
"এ-মর্মে সাক্ষ্য (দেবো) যে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; নামাজ কায়েম রাখব; যাকাত আদায় করব; ইসলামের নির্দেশিত হজ আদায় করব; রমজান মাসে রোযা রাখব: এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করব।"
তখন আমি বলি, "আল্লাহর রাসূল! শপথ আল্লাহর! জিহাদ ও যাকাত-এ দুটির সামর্থ্য আমার নেই। লোকজন বলছে-যে-ব্যক্তি (যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) পালায়, আল্লাহর ক্রোধ তাকে ঘিরে ফেলে। আমার ভয় হয়-যুদ্ধক্ষেত্রে হাজির হলে আমার মনে দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও মৃত্যুর প্রতি ঘৃণা জেগে ওঠবে। আর শপথ আল্লাহর! যাকাতের ব্যাপারে বলতে গেলে আমার কাছে কেবল একটি ছোট্ট ছাগল ও দশটি উষ্ট্রী আছে, যেগুলো দিয়ে আমার পরিবারের লোকজন স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন ও যাতায়াতের কাজ করে।"
এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল ﷺ তার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বলেন,
فَلَا جِهَادَ وَلَا صَدَقَةَ فَبِمَ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِذَا؟
"তুমি জিহাদও করতে পারবে না, যাকাতও দিতে পারবে না, তা হলে জান্নাতে যাবে কী দিয়ে?"
আমি বলি, “আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে (এ সকল বিষয়ে) শপথগ্রহণ করব।”
এরপর আমি নবি ﷺ-এর কাছে এসবের প্রত্যেকটির ব্যাপারে শপথগ্রহণ করি।'
আহমাদ ৫/২২৪ (২১৯৫২) বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ২/৪৪-৪৫ (১২৩৩), ২/৪৫ (১২৩৪); তাবারানি, আওসাত ১/৩১৫ (১১২৬); হাকিম ২/৭৯-৮০ (২৪২১), সহীহ; তারীখু বাগদাদ ১/১৯৫; তারীখু দিমাশক ১০/৩০৮-৩০৯ (২৫৭২, ২৫৭৩); উসদুল গবাহ ১/২৩০; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪২ (১১৯)।
টিকাঃ
[১] 'আমি' (বুখারি ৫৮৯২, ৬৮০১)。
[২] 'আমি বলি, "কোন কোন বিষয়ে আমি আপনার কাছে শপথ নেব?"' (তাবারানি, কাবীর ২/৪৫ (১২৩৪))。
[৩] الخنش "পাঁচ ওয়াক্ত" (তাবাবনি, কাবীর ২/৪৪-৪২ (১২৩০))。
📄 ভয়ভীতির ভালো-মন্দ মেনে নেওয়া
[২২১.] জারীর বলেন, 'নবি ﷺ (নবি হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পর, আমি শপথগ্রহণের জন্য তাঁর কাছে আসি। (আমাকে দেখে) নবি ﷺ বলেন, لِأَيِّ شَيْءٍ جِئْتَ يَا جَرِيرُ "জারীর! কী উদ্দেশ্যে এসেছ?"
আমি বলি, “আপনার হাতে ইসলাম-গ্রহণের জন্য এসেছি।”
তখন নবি ﷺ আমাকে আহ্বান জানিয়ে বলেন-
شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ الْمَكْتُوبَةَ ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ ، وَتُؤْمِنُ بِالْقَدْرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
"এ-মর্মে সাক্ষ্য দেবে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর আমি আল্লাহর রাসূল; ফরজ নামাজ কায়েম রাখবে; ফরজ যাকাত আদায় করবে; এবং তাকদীরের ভালো-মন্দকে মেনে নেবে।"
এরপর তিনি তাঁর জামা আমার দিকে নিক্ষেপ করেন। তারপর সাহাবিদের দিকে মুখ করে বলেন-
إِذَا جَاءَكُمْ كَرِيمُ قَوْمٍ ، فَأَكْرِمُوْهُ
"তোমাদের কাছে কোনও জনগোষ্ঠীর সম্মানিত ব্যক্তি এলে, তোমরা তাকে সম্মান কোরো।"
তাবারানি, কাবীর ২/৩০৪ (২২৬৬), বর্ণনাকারী হুছাইন ইবনু উমরের দুর্বলতা ও মিথ্যাবাদিতার ব্যাপারে মতৈক্য রয়েছে (হাইসামি), তবে শেষের মারফু' অংশের একাধিক শাহিদ (অনুসমর্থক) হাদীস রয়েছে; মুসনাদুশ শিহাব ১/৪৪৪-৪৪৫ (৭৬২); হিলইয়া ৬/২০৫-২০৬; কানযুল উম্মাল ১৩/৩২৭ (৩৬৯২৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪২ (১১৮)।
টিকাঃ
]<[ لَا صَدَقَةَ وَلَا جِهَادَ ، تَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ "যাকাতও দেবে না, জিহাদও করবে না, অথচ তুমি জান্নাতে চলে যাবে?" (তাবারানি, কাবীর ২/৪৪-৪৫ (১২৩৩))。
📄 মানুষের কাছে কোনোকিছু না-চাওয়া
[২২২.] আউফ ইবনু মালিক আশজায়ি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে আমরা নয়/আট/সাতজন'৷ ছিলাম। তখন নবি ﷺ বলেন, أَلَّا تُبَابِعُونَ رَسُولَ الله "তোমরা কি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে শপথ নেবে না?" আমরা মাত্র একটু আগে শপথ নিয়েছিলাম; তাই বলি, “আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনার কাছে শপথ নিয়েছি!" নবি ﷺ বলেন, أَلَّا تُبَايِعُونَ رَسُولَ الله “তোমরা কি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে শপথ নেবে না?” আমরা বলি, "আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনার কাছে শপথ নিয়েছি!” নবি ﷺ বলেন, أَلَّا تُبَايِعُونَ رَسُولَ الله "তোমরা কি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে শপথ নেবে না?" আমরা আমাদের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলি, "আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনার কাছে শপথ নিয়েছি। এখন আপনার কাছে কোন বিষয়ে শপথ নেব?” নবি ﷺ বলেন,
أَنْ تَعْبُدُوا الله وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وتصلوا الصَّلَوَاتِ الْخَمْس وتسمعوا وَتُطِيعُوا
"(এ মর্মে শপথ নাও) যে,
> তোমরা আল্লাহর গোলামি করবে;
> তাঁর সঙ্গে কোনোকিছু শরীক করবে না,
> পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে,
> (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা) শুনবে ও মানবে এবং"
নবি ﷺ চুপিসারে বলেন
> "মানুষের কাছে কোনোকিছু চাইবে না।"
وَلَا تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا
পরবর্তী সময়ে আমি ওই লোকদের কয়েকজনকে দেখেছি-তাদের কারও চাবুক পড়ে গেলে, তারা কাউকে তা তুলে দিতে বলেননি।'
মুসলিম ২৪০৩/১০৮ (১০৪৩); আহমাদ ৬/২৭ (২৩৯৯৩); আবু দাউদ ১৬৪২; নাসাঈ ৪৬০; নাসাঈ, কুবরা ৩১৬; ইবনু মাজাহ ২৮৬৭; জামিউল উসূল ৪৫; জামউল ফাওয়াইদ ১১।
টিকাঃ
[১] 'অথবা ছয়জন' (আহমাদ ২৩৯৯৩)。