📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শাসক যদি কুফরে লিপ্ত না হয়ে, শুধু ফাসিকি, জুলুম ও অধিকা-বঞ্চনা—এসব অপরাধে লিপ্ত হয়

📄 শাসক যদি কুফরে লিপ্ত না হয়ে, শুধু ফাসিকি, জুলুম ও অধিকা-বঞ্চনা—এসব অপরাধে লিপ্ত হয়


“আহলুস-সুন্নাহর অধিকাংশ ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুতাকাল্লিম বলেন, ‘ফাসিকি, জুলুম ও অধিকার- বঞ্চনা—এসবের ভিত্তিতে শাসক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না, তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না, আর এসবের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাও জায়েয হবে না, বরং তাকে উপদেশ দেওয়া ও (পরকালীন) ভয়ভীতি দেখানো ওয়াজিব হবে।’ কাদি আইয়াদ বলেন, ‘আবূ বকর ইবনু মুজাহিদের দাবি, এ বিষয়ে ইজমা রয়েছে। তবে কোনও কোনও আলিম তার এ দাবি খণ্ডন করে দেখিয়েছেন—বানূ উমাইয়ার বিরুদ্ধে হাসান, ইবনুয যুবাইর ও মদীনাবাসীরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনিভাবে তাবিয়িদের একটি বিশাল দল ইবনুল আসআছের সঙ্গে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এ-মতের প্রবক্তার মতে “আমরা শাসকদের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হব না” এটি ন্যায়পরায়ণ শাসকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর অধিকাংশ আলিমের প্রমাণ হল—তারা নিছক ফাসিকির দরুন হাজ্জাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াননি, বরং এর কারণ ছিল হাজ্জাজ শরিয়তের বিধান পালটে ফেলেছিল এবং তার মধ্যে কুফর দেখা গিয়েছিল।’" [নববি, আল-মিনহাজ শারহু সহাহি মুসলিম ইবনিল হাজ্জাজ, খ. ১২, পৃ. ৪৩৩, দারুল মারিফা, বৈরুত, ১৪৩৩ হি.।]

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 সাহাবিগণ যেসব বিষয়ে বাইআত নিয়েছেন

📄 সাহাবিগণ যেসব বিষয়ে বাইআত নিয়েছেন


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শির্ক, চুরি, ব্যভিচার, হত্যা, অপবাদ ও অবাধ্যতায় লিপ্ত না হওয়া

📄 শির্ক, চুরি, ব্যভিচার, হত্যা, অপবাদ ও অবাধ্যতায় লিপ্ত না হওয়া


[২১৯.] [বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও আকাবার রাতের অন্যতম নকীব উবাদা ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর পাশে তখন একদল সাহাবি। এমন সময় তিনি বলেন:
بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ وَلَا تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ فَمَنْ وَلَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللهُ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ
"তোমরা আমার কাছে এ মর্মে শপথ নাও যে, [৪]
> তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোনোকিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে না;
> চুরি করবে না;
> ব্যভিচার করবে না;
> নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না;
> সন্তান সম্পর্কে কোনও অপবাদ রটাবে না; [৫] এবং
> ভালো কাজে অবাধ্য হবে না।
তোমাদের মধ্যে যে-ব্যক্তি এ ওয়াদা পূরণ করবে, তাকে প্রতিদান দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর।[৮] যে-ব্যক্তি এর কোনও একটি অপরাধ করবে, তাকে যদি দুনিয়ায় এজন্য পাকড়াও করা হয়, [১] তাহলে সেটি হবে তার কাফ্ফারা বা গোনাহ-মাফের-মাধ্যম [১০]; আর যে-ব্যক্তি এর কোনও একটি অপরাধ করবে, এরপর যার অপরাধ আল্লাহ গোপন রাখবেন, তার বিষয়টি আল্লাহর কাছে ন্যস্ত থাকবে-তিনি চাইলে তাকে (পরকালে) শাস্তি দেবেন, আর চাইলে তাকে মাফ করে দেবেন।"
তখন আমরা নবি ﷺ-এর কাছে এ মর্মে শপথ নিই।'
বুখারি ১৮, ৩৮৯২, ৩৮১৩, ৩৯৯১, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ৪৪৬১/৪১ (১৭০৯), ৪৪৬২/৪২ (...), ৪৪৬৩/৪৩ (...), ৪৪৬৪/৪৪ (...); আহমাদ ৫/৩১৩ (২২৬৬৮), ৫/৩১৪ (২২৬৭৮), ৫/৩২০ (২২৭৩৩); তিরমিযি ১৪৩৯, ২৬২৫ (শেষাংশ); নাসাঈ ৪১৬১, ৪১৬২, ৪১৭৮, ৪২১০, ২০০২; নাসাঈ, কুবরা ৭২৫২, ৭৭৩৬, ৭৭৮৭, ১১৫২৪; ইবনু মাজাহ ২৬০৩; দারিমি ২৪৮৪; হাকিম ২/৪৪৫ (৩৬৬৪); জামিউল উসূল ৪৩; জামউল ফাওয়াইদ ৮৭, ৮৮।

টিকাঃ
[১] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে' (বুখারি ৩৮৯২)。
[১] 'এক মজলিসে আমরা ছিলাম নবি ﷺ-এর কাছে' (বুখারি ৬৭৮৪)。
[২] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ যেভাবে মহিলাদের থেকে শপথ নিয়েছেন, সেভাবে আমাদের কাছ থেকেও ছয়টি বিষয়ে শপথ নিয়েছেন' (আহমাদ ২২৬৬৮; মুসলিম ১৭০১)。
[৩] تَعَالَوْا "আসো” (বুখারি ৩৮৯২)。
[৪] أَتْبَايِعُوْنِي عَلَى أَنْ “তোমরা কি আমার কাছে এ মর্মে শপথ নেবে যে, ...?” (বুখারি ৪৮৯৪)。
[৫] (শপথের মধ্যে আরও ছিল: ( وَلَا نَقْتُلَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ وَلَا نَنْتَهِبَ “আমরা এমন কাউকে হত্যা করব না, যার প্রাণহরণ আল্লাহ হারাম করেছেন; আর লুটতরাজ করব না” (বুখারি ৩৮৯৩; মুসলিম ১৭০৯)。
[৬] وَلَا تَعْصُوْنِي فِي مَعْرُوفٍ "ভালো কাজে আমার অবাধ্য হবে না” (বুখারি ৩৮৯২)。
[৭] 'এরপর নবি ﷺ নারী-সংক্রান্ত পুরো আয়াতটি (সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০:১২) পাঠ করেন' (বুখারি ৬৭৮৪)。
[৮] "এসব কথা মেনে চললে, আমাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের ওয়াদা; আর এসব (নিষিদ্ধ) কাজের কোনও একটি করে ফেললে, বিষয়টি আল্লাহ ফায়সালা করবেন।” (বুখারি ৩৮৯৩; মুসলিম ১৭০৯)。
[৯] وَمَنْ أَتَى مِنْكُمْ حَدًّا فَأَقِيمَ عَلَيْهِ فَهُوَ كَفَّارَتُهُ “আর তোমাদের মধ্যে যে-ব্যক্তি নির্ধারিত-শাস্তির কোনও অপরাধ করবে, এরপর তার ওপর যদি সেই শাস্তি কার্যকর হয়, সেটি হবে তার জন্য কাফ্ফারা বা গোনাহ-মাফের মাধ্যমস্বরূপ” (মুসলিম ৪৪৬১/৪১ (১৭০৯))。
[১০] وظهُورُ "ও পরিচ্ছন্নতা-স্বরূপ” (বুখারি ৬৮০১)。

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 কালিমা, নামাজ, যাকাত, হজ, রোযা ও জিহাদ

📄 কালিমা, নামাজ, যাকাত, হজ, রোযা ও জিহাদ


[২২০.] ইবনুল খাসাসিয়্যা সাদৃসি বলেন, 'শপথ-গ্রহণের জন্য আমি নবি ﷺ-এর কাছে এলে, তিনি আমাকে এসব শর্ত দেন:
شَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، وَأَنْ أُقِيمَ الصَّلَاةَ ، وَأَنْ أُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ ، وَأَنْ أَحُجَّ حَجَّةَ الْإِسْلَامِ ، وَأَنْ أَصُوْمَ شَهْرَ رَمَضَانَ ، وَأَنْ أُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
"এ-মর্মে সাক্ষ্য (দেবো) যে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; নামাজ কায়েম রাখব; যাকাত আদায় করব; ইসলামের নির্দেশিত হজ আদায় করব; রমজান মাসে রোযা রাখব: এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করব।"
তখন আমি বলি, "আল্লাহর রাসূল! শপথ আল্লাহর! জিহাদ ও যাকাত-এ দুটির সামর্থ্য আমার নেই। লোকজন বলছে-যে-ব্যক্তি (যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) পালায়, আল্লাহর ক্রোধ তাকে ঘিরে ফেলে। আমার ভয় হয়-যুদ্ধক্ষেত্রে হাজির হলে আমার মনে দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও মৃত্যুর প্রতি ঘৃণা জেগে ওঠবে। আর শপথ আল্লাহর! যাকাতের ব্যাপারে বলতে গেলে আমার কাছে কেবল একটি ছোট্ট ছাগল ও দশটি উষ্ট্রী আছে, যেগুলো দিয়ে আমার পরিবারের লোকজন স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন ও যাতায়াতের কাজ করে।"
এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল ﷺ তার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বলেন,
فَلَا جِهَادَ وَلَا صَدَقَةَ فَبِمَ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِذَا؟
"তুমি জিহাদও করতে পারবে না, যাকাতও দিতে পারবে না, তা হলে জান্নাতে যাবে কী দিয়ে?"
আমি বলি, “আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে (এ সকল বিষয়ে) শপথগ্রহণ করব।”
এরপর আমি নবি ﷺ-এর কাছে এসবের প্রত্যেকটির ব্যাপারে শপথগ্রহণ করি।'
আহমাদ ৫/২২৪ (২১৯৫২) বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ২/৪৪-৪৫ (১২৩৩), ২/৪৫ (১২৩৪); তাবারানি, আওসাত ১/৩১৫ (১১২৬); হাকিম ২/৭৯-৮০ (২৪২১), সহীহ; তারীখু বাগদাদ ১/১৯৫; তারীখু দিমাশক ১০/৩০৮-৩০৯ (২৫৭২, ২৫৭৩); উসদুল গবাহ ১/২৩০; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪২ (১১৯)।

টিকাঃ
[১] 'আমি' (বুখারি ৫৮৯২, ৬৮০১)。
[২] 'আমি বলি, "কোন কোন বিষয়ে আমি আপনার কাছে শপথ নেব?"' (তাবারানি, কাবীর ২/৪৫ (১২৩৪))。
[৩] الخنش "পাঁচ ওয়াক্ত" (তাবাবনি, কাবীর ২/৪৪-৪২ (১২৩০))。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00