📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 স্পষ্ট কুফরের ক্ষেত্রে শাসকের আনুগত্য বাধ্যতামূলক নয়

📄 স্পষ্ট কুফরের ক্ষেত্রে শাসকের আনুগত্য বাধ্যতামূলক নয়


[২১৮.] জুনাদা ইবনু আবী উমাইয়া বলেন, "উবাদা ইবনুস সামিত তখন অসুস্থ। সে-সময় আমরা তার কাছে গিয়ে বলি, 'আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করে দিন! আপনি নবি ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছেন এমন একটি হাদীস বলুন। এর বিনিময়ে আল্লাহ আপনার জন্য কল্যাণের ফায়সালা করবেন।' (এর পরিপ্রেক্ষিতে) তিনি বলেন, 'নবি ﷺ আমাদের ডাকলে আমরা তাঁর কাছে গিয়ে শপথগ্রহণ করি। তিনি আমাদের কাছ থেকে যে শপথ নিয়েছিলেন, তার মধ্যে ছিল-
» কষ্ট-দারিদ্র্য, সুখ-সচ্ছলতা, আনন্দ-অবসাদ, ন্যায্য-অধিকার-বঞ্চনা-সবসময় আমরা (নির্দেশনা) শুনব ও মানবো; এবং
» শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করব না। (নবি ﷺ বলেন,)
إِلَّا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ فِيهِ مِنَ اللَّهِ بُرْهَانُ
"তবে তোমরা যদি (শাসকদের মধ্যে) স্পষ্ট কুফর দেখতে পাও, যার ব্যাপারে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অকাট্য প্রমাণ থাকে (তাহলে আনুগত্য করা যাবে না)।"
বুখারি ৭০৫৫, ৭০৫৬; মুসলিম ৪৭৭১/৪২ (...); আহমাদ ৫/৩১৪ (২২৬৭৯), ৫/৩২১ (২২৭৩৫); জামিউল উসূল ৪৪; জামউল ফাওয়াইদ ১০।

টিকাঃ
[২] وَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ لَكَ “যদি তোমার মনে হয়, (কর্তৃত্বের ব্যাপারে) তোমারও অধিকার আছে” (আহমদ ২২৭৩৫)。
]0[ مَا لَمْ تَرَوْا كُفُرًا بَوَاحًا "(আনুগত্য কোরো) যতক্ষণ-না সুস্পষ্ট কুফর দেখতে পাও” (আহমদ ২২৬৭৯)。

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইমাম নববির ব্যাখ্যা

📄 ইমাম নববির ব্যাখ্যা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শাসক যদি কুফরে লিপ্ত হয়

📄 শাসক যদি কুফরে লিপ্ত হয়


“কাদি আইয়াদ বলেন, ‘শাসকের মধ্যে যদি কুফর দেখা যায়, তা হলে তার আনুগত্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে; শাসক যদি নামাজ কায়েম রাখা ও নামাজের দিকে ডাকা—এসব কাজ ছেড়ে দেয়, সে-ক্ষেত্রেও তার আনুগত্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে। অধিকাংশ আলিমের মতে, বিদআতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শাসকের মধ্যে যদি কুফর দেখা দেয়, সে যদি শরিয়তের কোনো বিধান পরিবর্তন করে ফেলে, অথবা কোনও বিদআত চালু করে, তা হলে সে শাসকের বিধান থেকে বেরিয়ে যাবে, তার আনুগত্য বাতিল হয়ে পড়বে, আর সামর্থ্য থাকলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ন্যায়পরায়ণ নেতা নিযুক্ত করা মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব হয়ে যাবে। ... সামর্থ্য না থাকলে, রুখে দাঁড়ানো ওয়াজিব হবে না, তবে মুসলিমদের উচিত হবে ওই দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া—নিজের দ্বীন নিয়ে পালিয়ে যাওয়া।” [নববি, আল-মিনহাজ শারহু সহাহি মুসলিম ইবনিল হাজ্জাজ, খ. ১২, পৃ. ৪৩৩, দারুল মারিফা, বৈরুত, ১৪৩৩ হি.।]

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শাসক যদি কুফরে লিপ্ত না হয়ে, শুধু ফাসিকি, জুলুম ও অধিকা-বঞ্চনা—এসব অপরাধে লিপ্ত হয়

📄 শাসক যদি কুফরে লিপ্ত না হয়ে, শুধু ফাসিকি, জুলুম ও অধিকা-বঞ্চনা—এসব অপরাধে লিপ্ত হয়


“আহলুস-সুন্নাহর অধিকাংশ ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুতাকাল্লিম বলেন, ‘ফাসিকি, জুলুম ও অধিকার- বঞ্চনা—এসবের ভিত্তিতে শাসক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না, তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না, আর এসবের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাও জায়েয হবে না, বরং তাকে উপদেশ দেওয়া ও (পরকালীন) ভয়ভীতি দেখানো ওয়াজিব হবে।’ কাদি আইয়াদ বলেন, ‘আবূ বকর ইবনু মুজাহিদের দাবি, এ বিষয়ে ইজমা রয়েছে। তবে কোনও কোনও আলিম তার এ দাবি খণ্ডন করে দেখিয়েছেন—বানূ উমাইয়ার বিরুদ্ধে হাসান, ইবনুয যুবাইর ও মদীনাবাসীরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনিভাবে তাবিয়িদের একটি বিশাল দল ইবনুল আসআছের সঙ্গে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এ-মতের প্রবক্তার মতে “আমরা শাসকদের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হব না” এটি ন্যায়পরায়ণ শাসকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর অধিকাংশ আলিমের প্রমাণ হল—তারা নিছক ফাসিকির দরুন হাজ্জাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াননি, বরং এর কারণ ছিল হাজ্জাজ শরিয়তের বিধান পালটে ফেলেছিল এবং তার মধ্যে কুফর দেখা গিয়েছিল।’" [নববি, আল-মিনহাজ শারহু সহাহি মুসলিম ইবনিল হাজ্জাজ, খ. ১২, পৃ. ৪৩৩, দারুল মারিফা, বৈরুত, ১৪৩৩ হি.।]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00