📄 যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ যদি ঈমানের স্বীকৃতি দেয়
[২০৪.] মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ বলেন, "আল্লাহর রাসূল! আমি একজন কাফিরের মুখোমুখি হলাম, সে আমার সঙ্গে লড়াই করতে এসে তরবারি দিয়ে আমার এক হাতে আঘাত করে তা কেটে ফেলল, এরপর আমার হাত থেকে বাঁচার জন্য গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে ওঠল 'আমি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি' [১]-এক্ষেত্রে আপনার কী মত? আল্লাহর রাসূল! এ কথা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করব?"
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, ম "তাকে হত্যা কোরো না।"
তখন আমি বলি, "আল্লাহর রাসূল! সে কিন্তু আমার হাত কেটে ফেলেছে। হাত কাটার পর সে এ কথা বলেছে। আমি কি তাকে হত্যা করব?"
নবি ﷺ বলেন,
لَا تَقْتُلُهُ ، فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ ، وَإِنَّكَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُوْلَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ
"তাকে হত্যা কোরো না; কারণ, তুমি যদি তাকে হত্যা করো, তা হলে হত্যার আগ-মুহূর্তে (ঈমানের দিক দিয়ে) সে তোমার অবস্থানে চলে আসবে, আর সে ওই কথা বলার আগে যে অবস্থানে ছিল তুমি সেই অবস্থানে চলে যাবে।”'
মুসলিম ২৭৪/১৫৫ (৯৫), ২৭৫/১৫৬ (...), ২৭৬/১৫৭ (...); বুখারি ৪০১৯, ৬৮৬৫; আহমাদ ৬/৩ (২৩৮১১), ৬/৫-৬ (২৩৮৩১), ৬/৬ (২৩৮৩২)।
[২০৫.] উসামা ইবনু যাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের একটি অভিযানে পাঠান। ভোরবেলা জুহাইনা গোত্রের হুরাকাত এলাকায় আমরা আক্রমণ চালাই। [৬] ওইসময় আমি একব্যক্তিকে ধরে ফেললে, সে বলে ওঠে - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই)। [৮] তখন আমি তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করি। বিষয়টি আমার মনে খটকা সৃষ্টি করে। বিষয়টি নবি ﷺ-কে জানালে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
أَقَالَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَقَتَلْتَهُ
"সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই)' বলার পরও তুমি তাকে হত্যা করেছ? [১]"
আমি বলি, “আল্লাহর রাসূল! সে তো অস্ত্রের ভয়ে এ কথা বলেছে?”
নবি ﷺ বলেন,
أَفَلَا شَفَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ حَتَّى تَعْلَمَ أَقَالَهَا أَمْ لَا
"তা হলে তুমি তার হৃৎপিণ্ড চিরে দেখলে না কেন? যাতে জানতে পারতে-সে এজন্য বলেছে, নাকি না!]"
নবি ﷺ এ কথাটি এতবার পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন যে, একপর্যায়ে আমার মনে ইচ্ছা জাগল- হায়, আমি যদি ওইদিন ইসলাম গ্রহণ করতাম!'
এরপর সাদ বলেন, "আমি কোনও মুসলিমকে হত্যা করব না, যতক্ষণ-না মেদবহুল ব্যক্তি-অর্থাৎ উসামা-তাকে হত্যা করতে রাজি হচ্ছেন।"
তখন একব্যক্তি বলে, "আল্লাহ কি বলেননি-
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
'তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতক্ষণ-না ফিতনা দূর হচ্ছে এবং দ্বীনের পুরোটাই আল্লাহর জন্য হয়ে যাচ্ছে।' (সূরা আল-আনফাল ৮:৩৯)?"
এর পরিপ্রেক্ষিতে সাদ বলেন, "আমরা লড়াই করেছি ফিতনা দূর হওয়ার আগ-পর্যন্ত, আর তোমরা চাও ফিতনা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ-পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে।”
মুসলিম ২৭৭/১৫৮ (৯৬), ২৭৮/১৫৯ (...); বুখারি ৪২৬৯, ৬৮৭২; আহমাদ ৫/২০০ (২১৭৪৫), ৫/২০৭ (২১৮০২)।
[২০৬.] সাফওয়ান ইবনু মুহরিয থেকে বর্ণিত, 'ইবনুয যুবাইর -এর গোলযোগের সময় জুনদুব ইবনু আব্দিল্লাহ বাজালি আসআস ইবনু সালামা-এর কাছে লোক পাঠিয়ে বলেন, "আপনার ভাইদের মধ্যে কিছু লোককে একত্র করুন; আমি তাদের উদ্দেশে কিছু কথা বলব।" তিনি তাদের কাছে একজন দূত পাঠান। তারা সমবেত হলে, জুনদুব একটি হলুদ আলখাল্লা গায়ে জড়িয়ে সেখানে এসে বলেন, "তোমরা যে-বিষয়ে কথা বলছিলে, তা অব্যাহত রাখো।"
এরপর তারা পর্যায়ক্রমে কথা বলতে থাকেন। জুনদুব -এর পালা এলে, তিনি মাথা থেকে আলখাল্লাটি নামিয়ে বলেন,
"তোমাদের সামনে তোমাদের নবি ﷺ সম্পর্কিত কোনও কথা বলব-এখানে আসার সময় এরূপ কোনও ইচ্ছা ছিল না। (তারপরও বলছি-)
আল্লাহর রাসূল ﷺ মুসলিমদের একটি বাহিনীকে একটি কাফির জনগোষ্ঠীর কাছে পাঠান। তারা (যুদ্ধক্ষেত্রে) পরস্পরের মুখোমুখি হলে, মুশরিকদের একব্যক্তিকে দেখা গেল-সে মুসলিমদের যাকে চাচ্ছে তাকে আক্রমণ করে হত্যা করছে। তখন মুসলিমদের মধ্যে একব্যক্তি তার একটু অসাবধান হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন।
আমরা বলতাম, সেই ব্যক্তিটি ছিলেন উসামা ইবনু যাইদ।
তিনি তার ওপর তরবারি উত্তোলন করলে, সে বলে ওঠে-'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই)।' এরপর তিনি তাকে হত্যা করেন।
(যুদ্ধজয়ের) সুসংবাদদাতা নবি ﷺ-এর কাছে আসার পর, নবি ﷺ তার কাছ থেকে (যুদ্ধের অবস্থা সম্পর্কে) জানতে চাইলে সে তাঁকে অবহিত করে। একপর্যায়ে সে নবি ﷺ-কে ওই ব্যক্তির কর্মপদ্ধতি সম্পর্কেও অবহিত করে। তখন নবি ﷺ তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করেন-
'তুমি তাকে হত্যা করেছ কেন?'
لِمَ قَتَلْتَهُ
তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল! সে মুসলিমদের ভীষণ কষ্ট দিয়েছে এবং অমুক অমুককে হত্যা করেছে।'
তিনি নবি ﷺ-এর সামনে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। 'এরপর আমি তার ওপর আক্রমণ করি। তখন তরবারি দেখে সে বলে ওঠে- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই)।”'
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
'তুমি তাকে হত্যা করেছ?'
أَقَتَلْتَهُ
তিনি বলেন, 'হ্যাঁ!'
নবি ﷺ বলেন-
فَكَيْفَ تَصْنَعُ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'কিয়ামাতের দিন যখন (ওই ব্যক্তির) 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' হাজির হবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে?'
তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমাপ্রার্থনা করুন!'
নবি ﷺ বলেন-
وَكَيْفَ تَصْنَعُ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'কিয়ামাতের দিন যখন (ওই ব্যক্তির) 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' হাজির হবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে?'
এরপর নবি ﷺ বাড়তি কিছু না বলে, বলতে থাকেন-
كَيْفَ تَصْنَعُ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'কিয়ামাতের দিন যখন (ওই ব্যক্তির) 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' হাজির হবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে?'
মুসলিম ২৭৯/১৬০ (৯৭)।
[২০৭.] বাজীলা গোত্রের একব্যক্তি—জুনদুব ইবনু সুফইয়ান—বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর কাছে থাকাকালে, তাঁর পাঠানো এক বাহিনীর সুসংবাদদাতা এসে তাঁকে (যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে) অবহিত করে। ওই বাহিনীকে আল্লাহ কীভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের কীভাবে বিজয় দান করেছেন—এসব বিষয় নবি ﷺ-কে জানিয়ে সেই সুসংবাদদাতা বলে, “আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করার পর, আমরা তাদের ধাওয়া করি। একপর্যায়ে তরবারি-হাতে-থাকা এক লোকের নাগাল পেয়ে যাই। তার ওপর তরবারির আঘাত পড়তে যাচ্ছে—এমনটি আঁচ করতে পেরে সে দৌড়াতে দৌড়াতে বলতে থাকে 'আমি মুসলিম। আমি মুসলিম'।”
নবি ﷺ বলেন, قَتَلْتَهُ "তখন তুমি তাকে মেরে ফেললে?"
সে বলে, “আল্লাহর নবি! সে তো বাঁচার জন্য এ কথা বলেছে!”
নবি ﷺ বলেন,
فَهَلَّا شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ فَنَظَرْتَ أَصَادِقُ هُوَ أَمْ كَاذِبٌ
“তুমি তার হৃৎপিণ্ড চিরে দেখলে না কেন—সে সত্য বলছে, নাকি মিথ্যা?”
সে বলে, “তার হৃৎপিণ্ড চিরার পর, হৃৎপিণ্ড দেখে আমি কী জানতে পারতাম? তার হৃৎপিণ্ড কি মাংসের একটি দলা ছাড়া আর কিছু?”
নবি ﷺ বলেন,
فَأَنْتَ قَتَلْتَهُ لَا مَا فِي قَلْبِهِ عَلِمْتَ ، وَلَا لِسَانَهُ صَدَّقْتَ
"তার অন্তরে কী আছে তা তুমি জানলে না, আবার সে মুখে যা বলল তা সত্য বলে মানলে না, অথচ তুমি তাকে মেরে ফেললে!”
সে বলে, “আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমাপ্রার্থনা করুন!”
নবি ﷺ বলেন,
لَا أَسْتَغْفِرُ لَكَ
"আমি তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব না।"
এরপর লোকজন তাকে দাফন করলে, তার মৃতদেহ মাটির ওপরে উঠে আসে। এ ঘটনা তিনবার ঘটে। তার এ অবস্থা দেখে তার গোত্রের লোকজন লজ্জিত ও অপদস্থ হয়। এরপর তারা তার মৃতদেহটি নিয়ে সেখানকার একটি উপত্যকায় ফেলে দেয়।'
আবু ইয়া'লা ৩/৯১-৯২ (১৫২২), ইসনাদটি হাসান (দারানি), বর্ণনাসূত্রে আবদুল হামীদ ইবনু বাহরাম ও শাহর ইবনু হাওশাব আছেন, যাদের কথাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যায় কি না-এ নিয়ে মতবিরোধ আছে (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ২/১৭৬-১৭৭ (১৭২৩); উসদুল গবাহ ১/৩৬০-৩৬১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৭ (৬১)।
[২০৮.] ইমরান ইবনুল হুছাইন থেকে বর্ণিত, 'নাফি ইবনুল আযরাক ও তার সঙ্গীরা এসে বলে, "ইমরান! আপনি কিন্তু ধ্বংস হয়ে গেলেন!”
তিনি বলেন, "আমি তো ধ্বংস হইনি!"
তারা বলে, "অবশ্যই (ধ্বংস হয়েছেন)!"
তিনি বলেন, "কোন কাজ আমাকে ধ্বংস করল?"
তারা বলে, "আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
"তাদের সঙ্গে লড়াই করো, যতক্ষণ-না ফিতনা দূর হয়ে দ্বীনের পুরোটাই আল্লাহর জন্য হয়ে যাচ্ছে।” (সূরা আল-আনফال ৮:৩৯)
তিনি বলেন, "আমরা তো লড়াই করে তাদের (প্রভাব-প্রতিপত্তি) নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলাম, যার ফলে দ্বীনের সবটুকুই আল্লাহর জন্য হয়ে গিয়েছিল। তোমরা চাইলে আমি এমন একটি কথা তোমাদের বলব, যা আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছি।"
তারা বলে, "আপনি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছেন?”
তিনি বলেন, “হ্যাঁ! আমি (তখন) আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে হাজির ছিলাম। তিনি মুসলিমদের একটি বাহিনীকে মুশরিকদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তারা শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হলে, তাদের মধ্যে ভীষণ লড়াই হয়। একপর্যায়ে শত্রুবাহিনী পালিয়ে যায়। তখন আমার গোত্রের একব্যক্তি বল্লম দিয়ে এক মুশরিককে আক্রমণ করে। তাকে কাবু করে ফেললে সে বলে ওঠে—'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, আমি একজন মুসলিম।' তারপরও সে তাকে আক্রমণ করে হত্যা করে। এরপর সে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বলে—
'আল্লাহর রাসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি!'
নবি ﷺ তাকে একবার অথবা দু'বার বলেন—
'তুমি কী করেছ?'
وَمَا الَّذِي صَنَعْتَ
সে তার কাজের ব্যাপারে নবি ﷺ-কে অবহিত করলে, নবি ﷺ বলেন—
فَهَلَّا شَقَقْتَ عَنْ بَطْنِهِ فَعَلِمْتَ مَا فِي قَلْبِهِ
'তুমি তার পেট চিরে দেখলে না কেন? তা হলে জানতে পারতে তার অন্তরে কী ছিল!'
সে বলে, 'আল্লাহর রাসূল! তার পেট চিরলে কি তার অন্তরে কী ছিল, তা জানতে পারতাম?'
নবি ﷺ বলেন,
فَلَا أَنْتَ قَبِلْتَ مَا تَكَلَّمَ بِهِ ، وَلَا أَنْتَ تَعْلَمُ مَا فِي قَلْبِهِ
'সে (মুখে) যা বলল তা তুমি মানলে না, আবার তার অন্তরে কী আছে তাও তুমি জানো না!'
এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ তার ব্যাপারে চুপ থাকেন। অল্প কিছুদিন পর সে মারা গেলে আমরা তাকে দাফন করি। কিন্তু সকালবেলা দেখা গেল, তার মৃতদেহ মাটির ওপরে! এ অবস্থা দেখে তারা বলে, 'সম্ভবত তার কোনও শত্রু তাকে কবর থেকে বের করেছে।' এরপর তাকে দাফন করে পাহারা দেওয়ার জন্য আমাদের ছেলেদের নির্দেশ দিই। পরদিন সকালে মৃতদেহটি (আবার) মাটির ওপরে দেখা যায়। তখন আমরা বলি, 'সম্ভবত আমাদের ছেলেরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল (আর ওই সুযোগে কেউ এসে এ কাজটি করেছে)।' এরপর তাকে দাফন করে আমরা নিজেরাই পাহারা দিই। সকালে সেটি (আবারও) মাটির ওপরে উঠে আসে। তারপর আমরা সেটি সেখানকার একটি গিরিখাতে ফেলে রাখি।"'
ইবনু মাজাহ ৩৯৩০, বর্ণনাসূত্রটি ত্রুটিপূর্ণ।
[২০৯.] ইমরান ইবনুল হুছাইন থেকে বর্ণিত, বানু জুশামেরা। কিছু লোকের সঙ্গে উবাইস অথবা ইবনু উবাইস তার কাছে আসে। এরপর তাদের একজন তাকে বলে, 'আপনি কি লড়াই করবেন না, যাতে ফিতনা দূর হয়ে যায়?' জবাবে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়-ফিতনা দূর হওয়া পর্যন্ত আমি লড়াই করেছি। শোনো, আমি তোমাদের সেই কথা বলছি, যা আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন। মনে হয় না, এতে তোমাদের কোনও উপকার হবে! তারপরও চুপ করে শোনো-
আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন,
اغْزُوا بَنِي فُلَانٍ مَعَ فُلَانٍ
"অমুক গোত্রকে সঙ্গে নিয়ে অমুক গোত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করো।"
(যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে দেখা গেল-শত্রুপক্ষের) পুরুষরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে, আর মহিলারা আছে পুরুষদের পেছনে। (যুদ্ধ থেকে) ফেরার পর একব্যক্তি বলে-
[২]"আল্লাহর নবি! আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন!"
নবি ﷺ বলেন, هَلْ أَحْدَثْتَ "তুমি কি কোনও ঘটনা ঘটিয়েছ?”
সে বলে-"আল্লাহর নবি! আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন!"
নবি ﷺ বলেন, هَلْ أَحْدَثْتَ
"তুমি কি কোনও ঘটনা ঘটিয়েছ?”
সে বলে,
"শত্রুবাহিনী পরাজিত হওয়ার পর, আমি একব্যক্তিকে পুরুষ ও নারীদের মাঝখানে দেখতে পাই। আমাকে দেখে সে বলে ওঠে— 'আমি মুসলিম' অথবা 'আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।' এরপর আমি তাকে হত্যা করি। (কারণ) আমি তাকে বল্লম দিয়ে আক্রমণ করার পর, আত্মরক্ষার জন্য সে এ কথা বলেছিল।"
নবি ﷺ বলেন, هَلْ شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ تَنْظُرُ إِلَيْهِ “তুমি কি তার হৃৎপিণ্ড চিরে দেখেছিলে?”
সে বলে, "না, শপথ আল্লাহর! আমি তা করিনি।"
নবি ﷺ তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেননি।'
অথবা তিনি এর কাছাকাছি বিবরণী পেশ করেছেন।
তার (অপর) এক বর্ণনায় তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন—
اغْزُوا بَنِي فُلَانٍ مَعَ فُلَانٍ
"অমুক গোত্রকে সঙ্গে নিয়ে অমুক গোত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করো।”
তখন আমার গোত্রের একব্যক্তি তাদের সঙ্গে যায়। (যুদ্ধশেষে) নবি ﷺ-এর কাছে ফিরে এসে সে বলে, "আল্লাহর নবি! আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন!"
নবি ﷺ বলেন, وَمَلْ أَحْدَنْت "তুমি কি কোনও ঘটনা ঘটিয়েছ?”
সে বলে— "শত্রুবাহিনী পরাজিত হওয়ার পর, আমি দু ব্যক্তিকে পুরুষ ও নারীদের মাঝখানে দেখতে পাই। আমাকে দেখে তারা বলে ওঠে— 'আমরা মুসলিম' অথবা 'আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি।' তখন আমি তাদের হত্যা করি।"
এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
عَمَّا أُقَاتِلُ النَّاسَ إِلَّا عَلَى الْإِسْلَامِ ، وَاللَّهِ لَا أَسْتَغْفِرُ لَكَ
"ইসলাম ছাড়া আর কীসের জন্য আমি মানুষের সঙ্গে লড়াই করছি? শপথ আল্লাহর, আমি তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব না।"
অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেছিলেন।
কিছুদিন পর সে মারা গেলে, তার আত্মীয়স্বজন তাকে দাফন করে। সকালবেলা দেখা গেল, মাটি তার মৃতদেহটি উগরে দিয়েছে। এরপর তারা তাকে দাফন করে, দ্বিতীয়দিন তার জন্য পাহারাদার নিযুক্ত করে। মাটি তাকে আবারও উগরে দেয়। তখন তারা বলে,
"তোমরা যখন ঘুমিয়ে পড়েছিলে, তখন সম্ভবত কেউ এসে তাকে (কবর থেকে) বের করে দিয়েছে।”
এরপর তারা তাকে তৃতীয়বারের মতো দাফন করে পাহারাদার নিযুক্ত করে। মাটি তৃতীয়বারও তাকে উগরে দেয়। এ অবস্থা দেখে তারা তাকে (মাটির ওপরেই) ফেলে রাখে।'
আহমাদ ৪/৪৩৮-৪৩৯ (১৯৯৩৭), ইমরান ইবনু হুছাইন থেকে যিনি বর্ণনা করেছেন তার বিষয়টি অস্পষ্ট থাকার দরুন ইসনাদটি ত্রুটিযুক্ত; তাবারানি, কাবীর ১৮/২২৬ (৫৬২), ১৮/২৪৩ (৬০৯); ইবনু মাজাহ ৩৯৩০, অতিরিক্ত সংখ্যা; তহাভি, শারহু মুশকিল ৮/২৭৭-২৭৯ (৩২৩৪, ৩২৩৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৭ (৬২)।
[২১০.] আবদুল্লাহ ইবনু উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি ﷺ খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ -কে বানু জাযীমা গোত্রে পাঠান। তিনি গিয়ে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। "أَسْلَمْنَا /আমরা ইসলাম গ্রহণ করলাম"-স্পষ্টভাবে এ কথা না বলে, তারা বলে ওঠে: "صَبَأْنَا ، صَبَأْنَا / আমরা (আগের) দ্বীন ছেড়ে দিলাম! আমরা (আগের) দ্বীন ছেড়ে দিলাম!”
এর পরিপ্রেক্ষিতে খালিদ তাদের হত্যা ও বন্দি করতে শুরু করেন। তিনি আমাদের প্রত্যেককে যার যার বন্দি দেখভালের দায়িত্ব দেন। এরপর একদিন খালিদ নির্দেশ জারি করেন-আমরা যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ বন্দিকে হত্যা করি।
তখন আমি বলি, "শপথ আল্লাহর! আমি আমার বন্দিকে হত্যা করব না; আমাদের কোনও সঙ্গীই তার বন্দিকে হত্যা করবে না।" একপর্যায়ে আমরা নবি ﷺ-এর কাছে এসে, তাঁর সামনে বিষয়টি উল্লেখ করি। তখন নবি ﷺ দু হাত তুলে দু বার বলেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدٌ
“হে আল্লাহ! খালিদ যা করেছে, তা থেকে আমি মুক্ত।”'
আহমাদ ২/১৫০-১৫১ (৬৩৮২); বুখারি ৪৩৩৯, ৭১৮৯; নাসাঈ ৫৪০৫; নাসাঈ, কুবরা ৫৯২২; ইবনু সাদ, আত-তবাকাত ২/১৪৭, ১৪৮; বাইহাকি, দালাইল ৫/১১৩, ১১৪।
[২১১.] কুতবা ইবনু কাতাদা সাদৃসি বলেন, 'আমি বললাম— "আল্লাহর রাসূল! আপনার হাত বাড়ান, আপনার কাছে আমার নিজের ও আমার মেয়ে হুওয়াইসিলা'র ব্যাপারে শপথগ্রহণ করব। আল্লাহর নাম নিয়ে আমি যদি মিথ্যা বলি, তা হলে সেটি হবে আপনার সঙ্গে প্রতারণার শামিল।"
তিনি বলেন, "খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তাঁর অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছিলেন। তখন আমরা বললাম— 'আমরা মুসলিম'। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাদের ছেড়ে দেন। উবুল্লা'র যুদ্ধে আমরা তাঁর সঙ্গে যোগ দিই। ওই যুদ্ধে জয়লাভ করার পর, আমরা দু হাত ভরে (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) বণ্টন করি।"'
তাবারানি, কাবীর ১৯/২০ (৩৭), একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাতপরিচয় (হাইসামি); আহমাদ ৪/৭৮ (১৬৭১৯); বুখারি, আত-তারীখ ৭/১৯১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৭-২৮ (৬৩)।
[২১২] মুসলিম তামীমী বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের একটি অভিযানে পাঠান। আমরা শত্রুপক্ষের ওপর আক্রমণ করার সময়, আমি একটি ঘোড়ায় চড়ে আমার সঙ্গীদের সামনে চলে যাই। তখন (শত্রুপক্ষের) নারী ও শিশুরা চিৎকার করতে করতে আমাদের সামনে এলে, আমি তাদের বলি: "তোমরা কি নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চাও?"
তারা বলে, "হ্যাঁ!”
আমি বলি, "তা হলে বলো—আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনও অংশীদার নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক।”
তারা তা বলে। তখন আমার সঙ্গীরা এসে আমাকে তিরস্কার করে বলে, "আমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের দিকে এগিয়ে গেলাম, আর তুমি কিনা বাধা হয়ে দাঁড়ালে!”
তারপর আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে পৌঁছুলে, তিনি বলেন:
أَتَدْرُوْنَ مَا صَنَعَ لَقَدْ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ إِنْسَانٍ كَذَا وَكَذَا
"তোমরা কি জানো—সে কী করেছে? (সেখানকার) প্রত্যেকটি মানুষের বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য এই এই পরিমাণ সাওয়াব লিখে দিয়েছেন।"
এরপর নবি ﷺ আমাকে কাছে টেনে নিয়ে বলেন:
إِذَا صَلَّيْتَ صَلَاةَ الْغَدَاةِ فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمَ أَحَدًا اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ ، فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ مِنْ يَوْمِكَ ذلِكَ كَتَبَ اللهُ لَكَ بِهَا جِوَارًا مِنَ النَّارِ ، وَإِذَا صَلَّيْتَ الْمَغْرِبَ فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمَ أَحَدًا اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ ، فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ كَتَبَ اللهُ لَكَ جِوَارًا مِنَ النَّارِ
"সকালে (ফজরের) নামাজ আদায় করে, কারও সঙ্গে কথা বলার আগে সাতবার বলবে-
اَللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
'হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো';
এরপর তুমি যদি ওইদিন মারা যাও, তা হলে এর বিনিময়ে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে তোমার সুরক্ষা পাওয়ার ফায়সালা লিখে দেবেন।
আর মাগরিবের নামাজ আদায় করে, কারও সঙ্গে কথা বলার আগে সাতবার বলবে-
اللهم أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
'হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কোরো';
এরপর তুমি যদি ওই রাতে মারা যাও, তা হলে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে তোমার সুরক্ষা পাওয়ার ফায়সালা লিখে দেবেন।"'
তাবারানি, কাবীর ১৯/৪৩৪ (১০৫২), ইসনাদটি সহীহ (মাওয়ারিদ); ইবনু হিব্বান (মাওয়ারিদ) ২৩৪৬; আহমাদ ৪/২৩৪ (১৮০৫৪); আবু দাউদ ৫০৭৯, ৫০৮০; নাসাঈ, কুবরা ৯৮৫৯ (সংক্ষেপে); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৬ (৫৯)।
[২১৩.] উকবা ইবনু মালিক লাইসি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ একটি বাহিনীকে সামরিক অভিযানে পাঠান। তারা একটি জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ চালালে, " সেখানকার একলোক একাকী বেরিয়ে আসে। তখন (রাসূল ﷺ-এর পাঠানো) বাহিনীর একব্যক্তি কোষমুক্ত তরবারি উঁচিয়ে তার পিছু নেয়। এ অবস্থা দেখে শত্রুবাহিনীর সেই একাকী ব্যক্তি বলে ওঠে-
"আমি একজন মুসলিম!”
কিন্তু তার কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে, সে তার ওপর আঘাত হানে এবং তাকে হত্যা করে। বিষয়টি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে তুলে ধরা হলে, তিনি এ ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করেন। (নবি ﷺ-এর অসন্তোষের) বিষয়টি হত্যাকারী জানতে পারেন।
এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ ভাষণ দিচ্ছেন, এমন সময় হত্যাকারী বলে-
"আল্লাহর রাসূল! শপথ আল্লাহর! সে তো কেবল প্রাণ বাঁচানোর জন্য এ কথা বলেছিল!"
আল্লাহর রাসূল ﷺ তার ও তার দিকের লোকদের থেকে চেহারা ঘুরিয়ে নিয়ে ভাষণ দিতে থাকেন।
লোকটি দ্বিতীয়বার বলে,
"শপথ আল্লাহর! সে তো কেবল প্রাণ বাঁচানোর জন্য এ কথা বলেছিল!"
আল্লাহর রাসূল ﷺ তার দিক থেকে চেহারা ঘুরিয়ে নিয়ে ভাষণ অব্যাহত রাখেন।
লোকটি ধৈর্যধারণ না করে তৃতীয়বার বলে,
"শপথ আল্লাহর! সে তো কেবল প্রাণ বাঁচানোর জন্য এ কথা বলেছিল!"
তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ তার দিকে ঘুরেন। তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এরপর নবি ﷺ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ أَبَى عَلَيَّ فِيمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا
“যে-ব্যক্তি কোনও মুমিনকে হত্যা করে, তার ব্যাপারে আল্লাহ আমার কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।"
নবি ﷺ এ কথাটি তিনবার বলেন'
তাবারানি, কাবীর ১৭/৩৫৫-৩৫৬ (১৮০) ইসনাদটি সহীহ, ১৭/৩৫৬ (৯৮১); আবূ ইয়া'লা ১২/২১০-২১২ (৬৮২৯); আহমাদ ৪/১১০ (১৭০০৮), ৪/১১০ (১৭০০৯), ৫/২৮৮-২৮৯ (২২৪৯০); ইবনু হিব্বان (মাওয়ারিদ) ১১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৬-২৭ (৬০)।
[২১৪.] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِذَا شَرَعَ أَحَدُكُمْ بِالرُّمْحِ إِلَى الرَّجُلِ ، فَإِنْ كَانَ سِنَانُهُ عِنْدَ ثَغْرَةٍ نَحْرِهِ فَقَالَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، فَلْيَرْفَعْ عَنْهُ الرُّمْحَ
"তোমাদের কেউ যখন কোনও ব্যক্তিকে বল্লম দিয়ে আঘাত করতে যায়, তখন বল্লমের অগ্রভাগ তার বুকের ওপর রাখার সময় সে যদি বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, তা হলে সে যেন তার কাছ থেকে বল্লম সরিয়ে নেয়।”'
তাবারানি, কাবীর ১০/১৮৯ (১০২৯২), ইসনাদে এমন একজন বর্ণনাকারী আছেন যাকে দিয়ে প্রমাণ পেশ করা যায় না (হাইসামি); তাবারানি, আওসাত ১/৩৩ (৬৯); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৪৭ (২৮৪১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৫ (৫১)।
টিকাঃ
[৩] বানু যুহরা'র মিত্র এবং বদর যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে অংশগ্রহণকারী মিকদাদ ইবনু আমর কিন্দি (বুখারি ৪০১৯); মিকদাদ ইবনু আমর ইবনিল আসওয়াদ কিন্দি (মুসলিম ২৭৬/১৫৭ (...))|
[৪] "আমরা পরস্পরের ওপর দুটি আঘাত হানলাম” (আহমাদ ৬/৫-৬ (২৩৮৩১)); "আমাদের মধ্যে লড়াই শুরু হলো” (বুখারি ৪০১৯)。
[১] "আমি তাকে হত্যা করার জন্য এগিয়ে গেলে, সে বলে ওঠল—'আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই'।” (মুসলিম ২৭৫/১৫৬ (...))。
[২] "আমি কি তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব?" (আহমদ ৬/৫-৬ (২৩৮৩১)); "আমি তাকে হত্যা করব, নাকি ছেড়ে দেবো?” (আহমাদ ৬/৬ (২৩৮৩২)。
[৩] 'আমি (প্রশ্নটি) দু-তিনবার পুনরাবৃত্তি করি' (আহমদ ৬/৩ (২৩৮১১)。
[৪] "আমার একটি হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে” (বুখারি ৬৮৬৫)。
[৫] "আমি কি তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব?” (আহমদ ৬/৫-৬ (২৩৮৩১))|
[৬] 'তাদের মধ্যে একজন ছিল এমন—পুরো বাহিনী অগ্রসর হলে সে আমাদের প্রতি সবচেয়ে বেশি কঠোরতা দেখাত, আর তারা পিছু হটলে সে তাদের সুরক্ষা দিত' (আহমদ ৫/২০০ (২১৭৪৫)); 'এরপর তারা আমাদের ভয়ে ভীত হয়ে পালিয়ে যায়' (আহমদ ৫/২০৭ (২১৮০২))|
[৭] 'এবং একজন আনসার সাহাবি' (বুখারি ৪২৬৯)。
[৮] 'এ কথা শুনে সেই আনসার সাহাবি তার কাছ থেকে হাত গুটিয়ে নেয়' (বুখাবি ৪২৬৯; আহমাদ ৫/২০০ (২১৭৪৫))
[৯] 'আমি তাকে বল্লম দিয়ে আঘাত করে হত্যা করি' (বুখারি ৪২৬৯)。
]১[ مَنْ لَكَ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "কিয়ামাতের দিন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর বিপরীতে তোমাকে কে সুরক্ষা দেবে?” (আহমাদ ৫/২০৭ (২১৮০২))|
[২] 'অস্ত্র ও মৃত্যুর ভয়ে' (আহমাদ ৫/২০৭ (২১৮০২))|
]৩[ مَنْ لَكَ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "কিয়ামাতের দিন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর বিপরীতে তোমাকে কে সুরক্ষা দেবে?” (আহমাদ ৫/২০৭ (২১৮০২))|
[১] 'ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর' (তাবারানি, কাবীর ২/১৭৬-১৭৭ (১৭২৩))
[১] খাসআম গোত্রের (তাবারানি, কাবীর ১৮/২৪৩ (৬০৯))|
[২] "আমি গোনাহ করেছি; আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন!" (তাবারানি ১৮/২২৬ (৫৬২)) |
[১] 'কয়েকজন ছেলেকে' (তাবারানি ১৮/২২৬ (৫৬২))。
[১] أَمَا إِنَّهَا تَقْبَلُ مَنْ هُوَ شَرٌّ مِنْهُ " وَلَكِنَّ اللهَ أَرَادَ أَنْ يُعَلِّمَكُمْ تَعْظِيمَ الدَّمِ (حُرْمَةُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ) ব্যক্তিকেও গ্রহণ করবে, তবে হত্যাকাণ্ড কত জঘন্য ব্যাপার [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর মর্যাদা কত বিশাল (ইবনু মাজাহ ৩৯৩০, অতিরিক্ত সংখ্যা)] -তা (এ ঘটনার মাধ্যমে) আল্লাহ তোমাদের শেখাতে চেয়েছেন।" এরপর তিনি বলেন, اذْهَبُوا بِهِ إِلَى سَفْحِ هَذَا الْجَبَلِ فَانْضَدُوا عَلَيْهِ مِنَ الْحِجَارَةِ "তাকে এ পাহাড়ের ঢালে নিয়ে যাও, এরপর তার ওপর কিছু পাথর স্তূপ আকারে রেখে দাও।" আমরা তাই করি।' (তাবারানি ১৮/২২৬ (৫৬২))|
[২] তাদের অবস্থান ছিল মক্কার নিচু এলাকায়, ইয়ালামলাম-এর দিকে (ফাতহুল বারী ৮/৫৭)。
[৩] এ অভিযান পাঠানো হয়েছিল মক্কা-বিজয়ের পর শাওয়াল মাসে, হুনাইন যুদ্ধের আগে (ফাতহুল বারী ৮/৫৭)。
[১] "হাওসালা” (আহমাদ ৪/৭৮ (১৬৭১১))。
[২] 'আমার ঘোড়াটিকে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটিয়ে' (আবু দাউদ ৫০৮০)。
[৩] 'আমার সঙ্গীরা আমার কাজ সম্পর্কে নবি ﷺ-কে জানালে, নবি ﷺ আমাকে ডাকেন। এরপর আমার কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ...' (আবূ দাউদ ৫০৮০)。
[১] 'জলাধারের পাশে বসবাসরত একটি জনগোষ্ঠীর ওপর ভোরবেলা আক্রমণ চালালে' (তাবারানি, কারীর ১৭/৩৫৬ (৯৮১))|
[২] 'এরপর নবি ﷺ ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করে বলেন-أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ الْمُسْلِمِ يَقْتُلُ الْمُسْلِمَ وَهُوَ يَقُوْلُ إِنِّي مُسْلِمٌ “মূলকথায় আসি। মুসলিমদের হলো কী! একজন বলছে-'আমি মুসলিম!' তারপরও এক মুসলিম আরেক মুসলিমকে হত্যা করছে!” (তাবারানি, কাবীর ১৭/৩৫৬ (১৮১)) |
[১] 'তাঁর ডান হাত প্রসারিত করে' (আহমাদ ৪/১১০ (১৭০০৯))|
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَبي عَلَيَّ أَنْ أَقْتُلَ مُؤْمِنًا [২] “আল্লাহ তাআলা আমাকে কোনও মুমিনকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।” (আবূ ইয়া'লা ১২/২১১ (৬৮২৯))。