📄 ইসলামের বিধান সুন্দরভাবে পালন করলে সাত শ গুণ পর্যন্ত প্রতিদান
[১৯৮.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—
إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ، فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِئَةِ ضِعْفٍ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِمِثْلِهَا
"তোমাদের কেউ যখন সুন্দরভাবে ইসলাম (-এর বিধিবিধান) পালন করে, তখন তার সম্পাদিত প্রত্যেকটি ভালো কাজ দশ থেকে সাত শ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে (তার আমলনামায়) লেখা হয়, অপরদিকে তার সম্পাদিত প্রত্যেকটি খারাপ কাজ লেখা হয় (কেবল) একগুণ[১]।”'
বুখারি ৪২; মুসলিম ৩৩৬/২০৫ (১২৯, তৃতীয় বিবরণী); আহমাদ ২/৩১৭ (৮২১৭)।
টিকাঃ
]১[ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ "যতক্ষণ-না সে মহামহিম আল্লাহর সঙ্গে দেখা করছে” (আহমাদ ২/৩১৭ (৮২১৭((|
📄 অপরাধ না করলে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না
[২০১.] আবিদুল্লাহ ইবনু মায়িয বলেন, 'মায়িয নবি ﷺ-এর কাছে এলে, তিনি তাকে এ-মর্মে একটি পত্র লিখে দেন-
إِنَّ مَاعِزًا أَسْلَمَ آخِرَ قَوْمِهِ وَإِنَّهُ لَا يَجْنِي عَلَيْهِ إِلَّا يَدُهُ
"মায়িয তার গোত্রের সবার শেষে ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে কোনও অপরাধ না করলে, তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না।"
এর ভিত্তিতে তিনি নবি ﷺ-এর কাছে শপথবদ্ধ হন।'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৬৭; বুখারি, আত-তারীখ ৮/৩৭ (২০৬৮), ইসনাদটি হাসান; উসদুল গবাহ ৫/৮; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৮ (৬৭)।
📄 নওমুসলিমের অধিকার ও দায়দায়িত্ব সমান
[২০২.] আবূ উমামা বলেন, '(মক্কা) বিজয়ের দিন আমি ছিলাম আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর বাহনের নিচে। সে-সময় তিনি একটি চমৎকার সুন্দর কথা বলেছিলেন। তাঁর কথার একটি অংশ ছিল:
مَنْ أَسْلَمَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ، وَلَهُ مَا لَنَا وَعَلَيْهِ مَا عَلَيْنَا، وَمَنْ أَسْلَمَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَلَهُ أَجْرُهُ، وَلَهُ مَا لَنَا وَعَلَيْهِ مَا عَلَيْنَا
"ইহুদি-খ্রিষ্টানদের যে-ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে, সে দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে; আর আমাদের যেসব অধিকার ও দায়দায়িত্ব আছে তারও সেসব অধিকার ও দায়দায়িত্ব থাকবে। আর মুশরিকদের যে-ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে, সে তার প্রতিদান পাবে; আর আমাদের যেসব অধিকার ও দায়দায়িত্ব আছে তারও সেসব [১] অধিকার ও দায়দায়িত্ব থাকবে।”'
আহমাদ ৫/২৫৯ (২২২৩৪), সহীহ (আরনাউত); তাবারানি, কাবীর ৮/২২৪-২২৫ (৭৭৮৬); কানযুল উম্মাল ১/৯৬ (৪২৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৩ (৩৩৬)।
টিকাঃ
[১] 'বিদায় হজের বছর আমি নবি ﷺ-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন' (তাবারানি, কাবীর ৮/২২৪-২২৫ (৭৭৮৬))|
[২] 'অনেক' (তাবারানি, কাবীর ৮/২২৪-২২৫ (৭৭৮৬))|
[৩] مثل "সে-ধরনের" (তাবারানি, কাবীর ৮/২২৪-২২৫ (৭৭৮৬))|
📄 শর্তসাপেক্ষে ইসলাম গ্রহণ করলেও যাকাত দিতে হবে
[২০৩.] সাদ ইবনু আবী যুবাব বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বিলি- "আল্লাহর রাসূল! আমার গোত্রের লোকজন নিজেদের সম্পদের ব্যাপারে যেসব শর্ত দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, আমাকে সেসব বিষয় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্ব দিন!" এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে তাদের যাকাত-আদায়কারী নিযুক্ত করেন। নবি ﷺ *-এর পর আবূ বকর আমাকে ওই পদে নিযুক্ত করেন, তাঁর পর উমর আমাকে ওই পদে নিয়োগ দেন। (দায়িত্ব পাওয়ার পর) আমি আমার গোত্রের লোকদের কাছে এসে বলি- "মধুর যাকাত দিতে হবে; কারণ যে-সম্পদের যাকাত দেওয়া হয় না, তাতে কোনও কল্যাণ নেই।" তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে, “আপনার মতে কতটুকু (যাকাত দিতে হবে)?” আমি বলি, "দশভাগের একভাগ।"'
এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে দশভাগের একভাগ (যাকাত) আদায় করেন। তারপর তা নিয়ে উমর-এর কাছে এসে এ-বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। উমর তা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি তা বিক্রি করে, বিক্রিত অর্থ মুসলিমদের যাকাত-তহবিলে জমা দেন。
বাযযার (কাশফ) ১/৪১৬-৪১৭ (৮৭৮), একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাতপরিচয়, যাকে আযদিও 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি); আহমাদ ৪/৭৯ (১৬৭২৮); ইবনু আবী শাইবা ৩/১৪১-১৪২ (১০১৪৮); ইবনু সাদ ৪/২/৬৪; বুখারি, আত-তারীখ ৪/৪৬; উকাইলি, আদ-দুআফা ২/৩২০; তাবারানি, কাবীর ৬/৪৩ (৫৪৫৮); বাইহাকি, কুবরা ৪/১২৭ (৭৫৩৬), ৪/১৩৭ (৭৫৩৭), ৪/১৩৭ (৭৫৩৮); আল-মুহাল্লা ৫/২৩২; আল-ইসতীআব ৪/১৪৪-১৪৫; উসদুল গবাহ ২/৩৪৭; আল-ইসাবা ৪/১৪২; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৮ (৬৪)।
টিকাঃ
[২] 'ইসলাম গ্রহণ করে' (আহমাদ ৪/৭৯ (১৬৭২৮))|