📄 আল্লাহর কাছে মুমিনের মর্যাদা
[১৭৮.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَيْسَ شَيْيٌّ أَكْرَمَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ
“আল্লাহর কাছে কোনোকিছুই মুমিন ব্যক্তির চেয়ে বেশি সম্মানিত নয়।"'
তাবারানি, আওসাত ৪/৩১০ (৬০৮৪), বর্ণনাসূত্রের উবাইদুল্লাহ ইবনু তাম্মাম ভীষণ ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি), ৫/২৩৮ (৭১৯২), ৬/১৫৯-১৬০ (৮৩৫৬); তাবারানি, সগীর ৮৯৭; কানযুল উম্মাল ১/১৪৫ (৭১৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮১ (২৬৪)।
[১৭৯.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
قَالَ اللَّهُ: عَبْدِي الْمُؤْمِنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ بَعْضٍ مَلَائِكَتِي
“আল্লাহ বলেন-আমার মুমিন বান্দা আমার কাছে আমার কোনও কোনও ফেরেশতার চেয়েও বেশি প্রিয়。[১]"'
তাবারানি, আওসাত ৫/৭৯ (৬৬৩৪), বর্ণনাসূত্রের আবুল মাহযাম পরিত্যক্ত (হাইসামি); ইবনু মাজাহ্ ৩৯৪৭; তারীখু বাগদাদ ৪/৪৫; বাইহাকি, শুআব ১/১৭৪ (১৫২); ইবনু আদি ৭/২৭২১; মুসনাদুল ফিরদাউস ৪/১০৫ (৬৩৩১); কানযুল উম্মাল ১/১৪৫ (৭১২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮২ (২৬৯)।
[১৮০.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
مَا مِنْ شَيْءٍ أَكْرَمُ عَلَى اللهِ - جَلَّ ذِكْرُهُ - يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ ابْنِ آدَمَ
"কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে কোনোকিছুই আদম-সন্তানের চেয়ে বেশি সম্মানের অধিকারী হবে না।"
বলা হলো "আল্লাহর রাসূল! ফেরেশতারাও নয়?”
তিনি বলেন-
وَلَا الْمَلَائِكَةُ، إِنَّ الْمَلَائِكَةَ مَجْبُورُونَ، بِمَنْزِلَةِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ
"ফেরেশতারাও নয়। ফেরেশতারা স্বাধীন নয়, তাদের অবস্থা অনেকটা চন্দ্র-সূর্যের মতো।”'
তাবারানি, কাবীর ১৩/৫৯৪ (১৪৫০৯), বর্ণনাসূত্রের উবাইদুল্লাহ ইবনু তাম্মাম ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); তারীখু বাগদাদ ৪/৪৫; বাইহাকি, শুআব ১/১৭৪ (১৫৩), ১/১৭৫ (১৫৪); মুসনাদুল ফিরদাউস ৪/১০৫ (৬৩৩১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮২ (২৬৮)।
[১৮১.] আমর ইবনু শুআইব তার পিতার মাধ্যমে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, 'নবি কা'বার দিকে তাকিয়ে বলেন-
لَقَدْ شَرَّفَكِ اللهُ وَكَرَّمَكِ وَعَظَمَكِ، وَالْمُؤْمِنُ أَعْظَمُ حُرْمَةً مِنْكِ
"আল্লাহ তোমাকে সম্মান, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তবে মুমিনের মর্যাদা তোমার চেয়ে বেশি।"'
তাবারানি, আওসাত ৪/২০৩ (৫৭১১), আমর ইবনু শুআইব তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন (হাইসামি), ইসনাদটি হাসান (দারানি); কানযুল উম্মাল ১/১৬৪ (৮১৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮১ (২৬৫)।
[১৮২] জাবির বলেন, 'মক্কা-বিজয়ের সময় এর দিকে মুখ করে নবি ﷺ বলেন-
أَنْتِ حَرَامٌ، مَا أَعْظَمَ حُرْمَتَكِ وَأَطْيَبَ رِيحَكِ وَأَعْظَمُ حُرْمَةٌ عِنْدَ اللَّهِ مِنْكِ الْمُؤْمِنُ
"তুমি সম্মানিত! কী বিশাল তোমার সম্মান! কত সুবাসিত তোমার ঘ্রাণ! তবে, আল্লাহর কাছে মুমিনের সম্মান তোমার চেয়ে বেশি।”'
তাবারানি, আওসات ১/২০৫ (৬৯৫), বর্ণনাসূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু মিহসান আছে, সে মিথ্যুক ও জাল হাদীস রচনা করত (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮১-৮২ (২৬৫)।
[১৮৩.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলতেন-
إِنَّ الْمَلَائِكَةَ قَالَتْ: يَا رَبَّنَا، أَعْطَيْتَ بَنِي آدَمَ الدُّنْيَا يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَيَلْبَسُونَ، وَنَحْنُ أَغْضَبْتَ بَنِي آدَمَ الدُّنْيَا يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَيَلْبَسُونَ، وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَلَا تَأْكُلُ وَلَا نَلْهُو، فَكَمَا جَعَلْتَ لَهُمُ الدُّنْيَا، فَاجْعَلْ لَنَا الْآخِرَةَ، فَقَالَ: لَا أَجْعَلُ صَالِحَ ذُرِّيَّةِ مَنْ خَلَقْتُ بِيَدِي كَمَنْ قُلْتُ لَهُ: كُنْ، فَكَانَ
"ফেরেশতারা বললেন, 'রব আমাদের! আপনি আদম-সন্তানদের দুনিয়া দিয়েছেন, তারা সেখানে পানাহার করছে ও পোশাক-পরিচ্ছদে সজ্জিত হচ্ছে, আর আমরা আপনার প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করছি, আমরা খাওয়াদাওয়া করি না, খেলতামাশায় লিপ্ত হই না; সুতরাং তাদের যেমন দুনিয়া দিয়েছেন, আমাদের সেভাবে পরকাল দিয়ে দিন।' এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ বললেন, 'যাকে (অর্থাৎ মানুষকে) আমি নিজের হাতে বানিয়েছি, তার সৎকর্মশীল সন্তানদেরকে আমি ওর (অর্থাৎ ফেরেশতার) দলভুক্ত করব না, যাকে আমি বলেছি "হও” আর অমনি সে হয়ে গিয়েছে।”'
তাবারানি, কাবীর ১৩/৬৫৮ (১৪৫৮৬), বর্ণনাসূত্রের ইবরাহীম ইবনু আবদিল্লাহ ইবনি খালিদ মিস্সীসি মিথ্যুক, পরিত্যক্ত (হাইসামি); তাবারানি, আওসات ৪/৩৩৯ (৬১৭৩); কানযুল উম্মাল ১২/১৯২ (৩৪৬১৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮২ (২৬৭)।
[১৮৪.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলতেন-
إِنَّ اللهَ - تَبَارَكَ وَتَعَالَى - أَضَنُّ بِمَوْتِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِكَرِيمَةِ مَالِهِ حَتَّى يَقْبِضَهُ عَلَى فراشه
"তোমাদের কেউ উত্তম সম্পদ পাওয়ার জন্য যেরূপ উদ্গ্রীব, মহামহিম আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার ব্যাপারে এর চেয়ে বেশি উদ্গ্রীব, যতক্ষণ-না তার মৃত্যুশয্যায় তিনি তার জান কবজ করে নিচ্ছেন।"'
বাযযার (কাশফ) ১/৩১ (৪২), বর্ণনাসূত্রে আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনি আনআম আছেন, যাকে আহমাদ ও অধিকাংশ বিদ্বান 'ত্রুটিযুক্ত' আখ্যায়িত করেছেন, তবে কেউ কেউ তাকে ইবনু লাহীআ'র ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন (হাইসামি); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮২ (২৭০)।
[১৮৫.] নবি ﷺ-এর এক সাহাবি থেকে বর্ণিত, 'তিনি বলেন-
يُوشِكُ أَنْ يَغْلِبَ عَلَى الدُّنْيَا لُكَعُ بْنُ لُكَ ، وَأَفْضَلُ النَّاسِ مُؤْمِنٌ بَيْنَ كَرِيمَيْنِ
"কিছুদিন পর 'বাপ জঘন্য চরিত্রের, ছেলেও জঘন্য চরিত্রের'-এ-ধরনের লোকজন দুনিয়ায় রাজত্ব করবে; তবে সর্বোত্তম মানুষ হলো সেই মুমিন, যার পিতা মুমিন, ছেলেও মুমিন।"'
আহমাদ ৫/৪৩০ (২৩৬৫১), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), বর্ণনাকারী উক্তিটিকে নবি ﷺ-এর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ না করলেও, এটি নবি ﷺ-এর বক্তব্যের পর্যায়ভুক্ত, কারণ এ-ধরনের বক্তব্য নিজের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া হয় না (দারানি); তাবারানি, কাবীর ১৯/৮২ (১৬৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮২ (২৭১)।
[১৮৬.] আলকামা বলেন, 'আমরা আয়িশা-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় আবূ হুরায়রা প্রবেশ করলে আয়িশা রা. বলেন, "আপনি কি এ-কথা বর্ণনা করছেন-এক মহিলা তার একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল, একে কোনও খাবার ও পানীয় দেয়নি, এর দরুন ওই মহিলাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে?” আবূ হুরায়রা বলেন, "আমি এটি তাঁর-অর্থাৎ নবি ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছি।” তখন আয়িশা রা. বলেন-
"আপনি কি জানেন, ওই মহিলা কী ছিল? ওই কর্মের পাশাপাশি সে ছিল এক কাফির। একটি বিড়ালের জন্য আল্লাহ মুমিনকে শাস্তি দেবেন-মহান আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের সম্মান এর চেয়ে অনেক বেশি। সুতরাং, আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে কোনোকিছু বর্ণনা করার আগে দেখে নেবেন, আপনি কীভাবে বর্ণনা করছেন।”'
আহমাদ ২/৫১৯ (১০৭২৭), হাদীসটি সহীহ, ইসনাদটি হাসান (হাইসামি); ইবনু আসাকির ৬৭/৩৫১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১১৬ (৪৬২)।
টিকাঃ
[১] الْمُؤْمِنُ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ “মুমিন আল্লাহর কাছে ফেরেশতাদের চেয়ে অধিক সম্মানিত” (বাইহাকি, শুআব ১/১৭৪ (১৫২)); وَاللهِ لَلْمُؤْمِنُ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ الَّذِيْنَ عِنْدَ “শপথ আল্লাহর! মুমিন আল্লাহর কাছে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের চেয়েও অধিক সম্মানিত" (ইবনু আদি, ৭/২৭২১); الْمُؤْمِنُ أَكْرَمُ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ بَعْضٍ مَلَائِكَتِهِ কোনও ফেরেশতার চেয়েও বেশি সম্মানের অধিকারী" (ইবনু মাজাহ ৩৯৪৭)。
[১] কা'ব ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো "কোন মানুষ সর্বোত্তম?” নবি ﷺ বলেন...' (তাবারানি ১৯/৮২ (১৬৫)) |
📄 কাউকে ‘ইসলাম’-গ্রহণ করানোর মহত্ব
[১৮৭.] উকবা ইবনু আমির বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
مَنْ أَسْلَمَ عَلَى يَدَيْهِ رَجُلٌ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
"যার হাতে কোনও ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।"'
তাবারানি, কাবীর ১৭/২৮৫ (৭৮৬), বর্ণনাসূত্রের মুহাম্মাদ ইবনু মুআবিয়া নিশাপুরী ইমাম আহমাদের মতে 'বিশ্বস্ত', অধিকাংশের মতে 'ত্রুটিযুক্ত' আর ইয়াহইয়া ইবনু মাঈনের মতে 'মহামিথ্যুক' (হাইসানি); তাবারানি, আওসات ২/৩৬২-৩৬৩ (৩৫৪৬); তাবারানি, সগীর ৪৩৯; কানযুল উম্মাল ৪/৩০৬ (১০৬২৯); মুসনাদুশ শিহাব ১/২৮৮ (৪৭২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৪ (৩৩৮)।
📄 আন্তরিকভাবে ইসলাম-গ্রহণ করলে পেছনের গোনাহ মাফ
[১৮৮.] আবুদ দারদা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
أَجِلُّوا اللَّهَ يَغْفِرْ لَكُمْ
“আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করোগ, তা হলে তিনি তোমাদের মাফ করে দেবেন।"'
আহমাদ ৫/১৯৯ (২১৭৩৪), ইসনাদে আবুল আযরা'র পরিচয় জানা যায়নি (হাইসামি); তাবারানি, আওসাত ৫/১২৬ (৬৭৯৮); বুখারি, আত-তারীখ ১/৬৩; ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা ১/১১৪ (১৩০); হিইয়া ১/২২৬; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩১ (৭৫)।
[১৮৯.] নুআইম ইবনু কা'নাব রিয়াহি বলেন, 'আমি আবূ যার রা.-এর কাছে এসে দেখি, তিনি নেই। তার স্ত্রীকে দেখে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, "তিনি তার জমিতে গিয়েছেন।” কিছুক্ষণ পর আবু যার রা. দুটি উট হাঁকিয়ে-অথবা টেনে-নিয়ে আসেন, উটগুলোর একটির লালা আরেকটির পশ্চাদ্ভাগে পড়ছিল, প্রত্যেকটির কাঁধে একটি চামড়ার মল্ক। তিনি মঙ্ক-দুটি নামিয়ে রাখলে আমি বলি-
"আবূ যার! আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, আবার আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ আমার কাছে সবচেয়ে অপছন্দের!"
আবু যার বলেন, "কী আশ্চর্য! এ দুটি (বিপরীতমুখী অনুভূতি) একত্র হলো কীভাবে?”
আমি বলি, "জাহিলি যুগে আমি একটি কন্যাসন্তানকে জীবন্ত পুঁতে ফেলেছিলাম। একবার মনে আশা জাগল-আপনার সঙ্গে দেখা করলে আপনি আমাকে এ গোনাহ থেকে তাওবা ও মুক্তির রাস্তা বলে দেবেন! আবার এ আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল যে, আপনার সঙ্গে দেখা হলে আপনি বলে দেবেন-আমার জন্য তাওবার কোনও রাস্তা খোলা নেই!"
তিনি বলেন, "এটা কি জাহিলি যুগের ঘটনা?"
আমি "হ্যাঁ" বললে, তিনি বলেন- "পেছনে যা ঘটেছে, আল্লাহ তা মাফ করে দেবেন!"
এরপর আমাকে কিছু খাবার দেওয়ার জন্য, মাথার ইশারায় তার স্ত্রীকে নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি তার কথায় কর্ণপাত করেননি। এরপর আবার নির্দেশ দেন, তিনি তাতেও সাড়া দেননি। একপর্যায়ে উভয়ের গলার আওয়াজ চড়া হয়ে ওঠে। তখন আবূ যার রা. বলেন-(১) "পেছনেই পড়ে থাকো! তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের যা বলেছেন, তা তোমরা কখনও ডিঙাতে পারবে না!"
আমি বলি, "তাদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল ﷺ আপনাদের কী বলেছিলেন?"
তিনি বলেন (নবি ﷺ বলেছিলেন)-
الْمَرْأَةُ ضِلَعُ ، فَإِنْ تَذْهَبْ تُقَوِّمُهَا تَكْسِرُهَا ، وَإِنْ تَدَعْهَا فَفِيْهَا أَوَدُ وَبُلْغَةٌ
"নারী হলো পাঁজর'; তাকে সোজা করতে গেলে ভেঙে ফেলবে, আর একেবারে ছেড়ে দিয়ে রাখলে তার মধ্যে বক্রতা থেকে যাবে আর এভাবেই জীবন কেটে যাবে।"
এরপর তার স্ত্রী গিয়ে সারীদ নিয়ে আসেন; সম্ভবত সেটি ছিল মরুভূমির ঘুঘু পাখির মাংস দিয়ে তৈরি। এরপর তিনি বলেন,
“খান; আমার জন্য চিন্তা করবেন না, আমি রোযা রেখেছি।”
এরপর তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যান। তার রুকূ ছিল সুন্দর, তবে তিনি কিছুটা তাড়াতাড়ি করছিলেন। তাকে দেখে মনে হলো-আমি পেটভরে খাচ্ছি, নাকি কোনোরকমে খেয়ে উঠে যাচ্ছি, এ নিয়ে তিনি পেরেশানিতে আছেন। এরপর তিনি এসে আমার সঙ্গে খাবারে হাত লাগান। এ দৃশ্য দেখে আমি বলে উঠি-
"সাধারণ মানুষের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা ছিল-তারা আমার সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে; কিন্তু আপনি আমার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলবেন-তা তো কখনও ভাবিনি!”
আবূ যার রা. বলেন, “কী আশ্চর্য! আমার সঙ্গে আপনার দেখা হওয়ার পর থেকে তো আমি আপনার সঙ্গে কোনও মিথ্যা কথা বলিনি!”
তিনি বলেন, “আপনি কি আমাকে বলেননি যে, আপনি রোযা আছেন? এখন দেখছি আপনি খাবার খাচ্ছেন!”
আবূ যার রা. বলেন, “অবশ্যই (বলেছি)! তবে এ মাসে আমি তিনদিন রোযা রেখেছি, যার প্রতিদান আমার জন্য আবশ্যক হয়ে গিয়েছে। তাই (এখন) আপনার সঙ্গে খাবার খাওয়া আমার জন্য বৈধ।”
আহমাদ ৫/১৫০-১৫১ (২১৩৩৯), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামী), ৫/১৬৪ (২১৪৫৪); নাসাঈ, কুবরা ১১০৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩১ (৭৪)।
[১৯০.] আমর ইবনু আবাসা বলেন, 'এক বুড়ো লোক তার লাঠির ওপর ভর করে নবি ﷺ-এর কাছে এসে বলেন, "আল্লাহর রাসূল! আমি অনেক বিশ্বাসভঙ্গ ও গোনাহের কাজ করেছি; আমার ক্ষমা হবে কি?”
নবি ﷺ বলেন, "আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই-তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও না?
তিনি বলেন, "অবশ্যই! আমি আরও সাক্ষ্য দিই-আপনি আল্লাহর বার্তাবাহক।”
নবি ﷺ বলেন,
أَلَسْتَ تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
قَدْ غُفِرَ لَكَ غَدَرَاتُكَ وَفَجَرَاتُكَ
"তোমার বিশ্বাসভঙ্গ ও গোনাহের কাজগুলো ইতোমধ্যে মাফ করে দেওয়া হয়েছে।"
আহমাদ ৪/৩৮৫ (১৯৪৩২), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, তবে মাকহুল আমর ইবনু আবাসা থেকে সরাসরি শুনেছেন কি না তা আমার জানা নেই (হাইসামী); তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৭৮; ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা ১/৭০ (৪৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩২ (৭৮)।
[১৯১.] জারূদ আব্দি বলেন, 'আমি নবি ﷺ-এর কাছে বাইআত বা শপথগ্রহণের জন্য এসে তাঁকে বলি, "আমি যদি আমার দ্বীন ছেড়ে আপনার দ্বীনে প্রবেশ করি, তা হলে আল্লাহ আমাকে পরকালে শাস্তি দেবেন না-বিষয়টা কি এমন?"
নবি ﷺ বলেন, نَعَمْ "হ্যাঁ!”'
আবূ ইয়া'লা ২/২১৯-২২০ (৯১৮), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ২/২৬৮ (২১২৬), ২/২৬৮ (২১২৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩২ (৭৯)।
টিকাঃ
[১] أَجِيبُوا اللَّهَ “আল্লাহর ডাকে সাড়া দাও” (ইতহাফ ১/১১৪ (১৩০)) |
[২] 'রবাযা এলাকায়' (আহমদ ৫/১৬৪ (২১৪৫৪)) |
[১] 'আবূ যার রা. (কোথাও থেকে) এসে কোনও এক বিষয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সম্ভবত তার স্ত্রী তাকে পালটা জবাব দেন। তিনি আবার কথা বললে, তার স্ত্রী আবারও পালটা জবাব দেন। তখন তিনি বলেন...' (আহমদ ৫/১৬৪ (২১৪৫৪))。
[২] الْمَرْأَةُ كَالضَّلَعِ "নারী হলো পাঁজরের মতো” (আহমদ ৫/১৬৪ (২১৪৫৪); إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَع "নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজর থেকে" (নাসাঈ, কুবরা ১১০৭)。
[৩] فَإِنْ ثَنَيْتَهَا انْكَسَرَتْ "ভাঁজ করতে গেলে, ভেঙে যাবে" (আহমদ ৫/১৬৪ (২১৪৫৪))。
[৪] মাংস ও রুটির মিশ্রণে তৈরি স্যুপবিশেষ。
📄 ইসলামের বিধান সুন্দরভাবে পালন করলে সাত শ গুণ পর্যন্ত প্রতিদান
[১৯৮.] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—
إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ، فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِئَةِ ضِعْفٍ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِمِثْلِهَا
"তোমাদের কেউ যখন সুন্দরভাবে ইসলাম (-এর বিধিবিধান) পালন করে, তখন তার সম্পাদিত প্রত্যেকটি ভালো কাজ দশ থেকে সাত শ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে (তার আমলনামায়) লেখা হয়, অপরদিকে তার সম্পাদিত প্রত্যেকটি খারাপ কাজ লেখা হয় (কেবল) একগুণ[১]।”'
বুখারি ৪২; মুসলিম ৩৩৬/২০৫ (১২৯, তৃতীয় বিবরণী); আহমাদ ২/৩১৭ (৮২১৭)।
টিকাঃ
]১[ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ "যতক্ষণ-না সে মহামহিম আল্লাহর সঙ্গে দেখা করছে” (আহমাদ ২/৩১৭ (৮২১৭((|