📄 তাবুক অঞ্চলে
[১৭৩.] মালিক ইবনু আহমার থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ এসেছেন'-এ সংবাদ তার কাছে পৌঁছুলে তিনি প্রতিনিধি-দল পাঠিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নবি ﷺ-কে এমন একটি চিঠি লিখে দিতে বলেন, যার মাধ্যমে তিনি (লোকদেরকে) ইসলামের দিকে আহ্বান জানাতে পারবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নবি ﷺ তাঁর জন্য চামড়ার একটি পত্রে লিখে দেন:
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، هُذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللهِ ﷺ لِمَالِكِ بْنِ أَحْمَرَ وَلِمَنِ اتَّبَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ أَمَانًا لَهُمْ مَا أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَاتَّبَعُوا الْمُسْلِمِينَ وَجَانَبُوا الْمُشْرِكِينَ وَأَدُّوا الخمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ وَسَهْمَ الْغَارِمِينَ وَسَهُمَ كَذَا وَسَهْمَ كَذَا فَهُمْ آمِنُوْنَ بِأَمَانِ اللَّهِ وَأَمَانِ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللهِ ﷺ
"পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর পক্ষ থেকে মালিক ইবনু আহমার ও তার মুসলিম অনুসারীদের উদ্দেশে একটি চিঠি। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা
> নামাজ আদায় করবে,
» যাকাত দেবে,
» মুসলিমদের অনুসরণ করবে,
» মুশরিকদের পরিহার করবে এবং
» যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে এক-পঞ্চমাংশ, ঋণগ্রস্তদের অংশ, অমুক অংশ ও অমুক অংশ আদায় করবে, ততক্ষণ তারা নিরাপত্তা লাভ করবে। তারা আল্লাহর-দেওয়া নিরাপত্তা-বলয় ও আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর দেওয়া নিরাপত্তা-বলয়ে নিরাপদ থাকবে।”
তাবারানি, আওসাত ৫/১৩২ (৬৮১৯); উসদুল গবা ৫/১৯, একজন বর্ণনাকারীর জীবনবৃত্তান্ত জানা নেই (হাইসামি); আল-ইসাবা ১/৩৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৮-২৯ (৬৮); জামউল ফাওয়াইদ ১০৪।
টিকাঃ
[৪] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ তাবুক এসে অবস্থান করছেন' (উসদুল গবাহ ৪৫৬০) |
📄 ওখানে
[১৭৪.] ওমানের দামা এলাকার আবূ শাদ্দাদ নামে একব্যক্তি বলেন, 'ওমানবাসীদের উদ্দেশে আল্লাহর রাসূল ﷺ যে ফরমান পাঠিয়েছিলেন, তা আমাদের কাছে পৌঁছয়। (তাতে লেখা ছিল-)
سَلَامٌ ، أَمَّا بَعْدُ ، فَأَقِرُّوا بِشَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ، وَأَدُّوا الزَّكَاةَ ، وَخُطُّوا الْمَسَاجِدَ وَإِلَّا غَزَوْتُكُمْ
“শান্তি (বর্ষিত হোক)! মূলকথায় আসি। তোমরা
» এ-মর্মে স্বীকৃতি দাও-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল,
» যাকাত আদায় করো এবং
» মাসজিদে যাও।
অন্যথায় আমি তোমাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাব।”
আমরা এমন কাউকে পাচ্ছিলাম না, যে আমাদের ওই ফরমানটি পড়ে শোনাবে। খুঁজতে খুঁজতে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে পেয়ে যাই। সে ওই ফরমানটি আমাদের পড়ে শোনায়।' (বর্ণনাকারী বলেন) আমি আবূ শাদ্দাদকে জিজ্ঞেস করি, 'ওই সময় ওমানের গভর্নর কে ছিলেন?' তিনি বলেন, '(পারস্য-সম্রাট) খসরু'র নিযুক্ত এক ইসওয়ার, যার নাম ছিল সুবহায়ান।'
তাবারানি, আওসাত ৫/১৪০-১৪১ (৬৮৪৯), ইসনাদটি হাসান (দারানি); আল-ইসতীআব ১১/৩১৯; উসদুল গবাহ ৬/১৬৩; আল-ইসাবা ১১/১৯৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৯ (৬৯)।
📄 হুমায়রা গোত্রের প্রতি
[১৭৫.] আমর ইবনুল হামিক বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ একটি বাহিনী পাঠালে তারা বলেন, "আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের পাঠাচ্ছেন, অথচ আমাদের কাছে রসদ নেই, খাবার নেই, পথঘাটও আমাদের চেনা নেই!" তখন নবি ﷺ বলেন-
إِنَّكُمْ سَتَمُرُّونَ بِرَجُلٍ صَبِيحِ الْوَجْهِ ، يُطْعِمُكُمْ مِنَ الطَّعَامِ ، وَيَسْقِيْكُمْ مِنَ الشَّرَابِ ، وَيَدُلُّكُمْ عَلَى الطَّرِيقِ ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
"তোমরা সুন্দর-চেহারার একব্যক্তির পাশ দিয়ে যাবে, সে তোমাদের খাবার খাওয়াবে, পানীয় পান করাবে এবং রাস্তা দেখিয়ে দেবে; সে এক জান্নাতী লোক।”
(বাহিনীর) লোকজন আমার এখানে এসে আমার দিকে তাকিয়ে একে অপরকে ইশারা করতে থাকে। আমি বলি-
"আমার দিকে তাকিয়ে আপনারা একে অপরকে ইশারা করছেন; ব্যাপার কী?"
তারা বলেন,
"আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেওয়া সুসংবাদ লও! আল্লাহর রাসূল ﷺ যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছিলেন, তোমার মধ্যে সেগুলো দেখতে পাচ্ছি।"
এরপর নবি ﷺ তাদের যা বলেছিলেন, সেসব বিষয় তারা আমাকে জানান। আমি তাদের পানাহার করাই, রসদের ব্যবস্থা করি এবং তাদের সঙ্গে বের হয়ে রাস্তা দেখিয়ে দিই। তারপর আমার পরিবারের লোকজনের কাছে ফিরে এসে, আমার উটটি নিয়ে আসার জন্য তাদের নির্দেশ দিই। তারপর আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ি।
সেখানে পৌঁছে বলি, "আপনি কীসের দিকে (লোকদের) ডাকছেন?"
নবি ﷺ বলেন-
أَدْعُو إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ ، وَحَجَّ الْبَيْتِ ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ
"আমি তাদের ডাকছি, তারা যেন
» সাক্ষ্য দেয়-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল,
» নামাজ কায়েম রাখে,
» যাকাত দেয়,
» (কা'বা) ঘরের হজ আদায় করে, এবং
» রমজান মাসে রোযা রাখে।"
আমি বলি, "এসব বিষয়ে আপনার ডাকে সাড়া দিলে, আমাদের পরিবার-পরিজন ও জানমালের ব্যাপারে নিরাপত্তা পাব?"
নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!”
তখন আমি ইসলাম গ্রহণ করি। তারপর আমার গোত্রের কাছে ফিরে এসে আমার ইসলাম-গ্রহণের বিষয়টি তাদের জানাই। আমার হাতে তাদের অনেক লোক ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর আমি হিজরত করে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে চলে আসি।
একদিন নবি ﷺ-এর কাছে থাকাকালে তিনি আমাকে বলেন-
يَا عَمْرُو ، هَلْ لَكَ أَنْ أُرِيَكَ آيَةَ الْجَنَّةِ ، يَأْكُلُ الطَّعَامَ ، وَيَشْرَبُ الشَّرَابَ ، وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ؟
"আমর! তুমি কি জান্নাতের নিদর্শন দেখতে চাও—যে কিনা পানাহার ও বাজারঘাট করছে?”
আমি বলি "অবশ্যই! আপনার জন্য আমার পিতা কুরবান হোক!"
নবি ﷺ আলি ইবনু আবী তালিব রা.-এর দিকে ইশারা করে বলেন-
"এ ব্যক্তি ও তার (অনুগত) লোকজন হলো জান্নাতের নিদর্শন।”
এরপর নবি ﷺ আমাকে বলেন-
هُذَا وَقَوْمُهُ آيَةُ الْجَنَّةِ يَا عَمْرُو ، هَلْ لَكَ أَنْ أُرِيكَ آيَةَ النَّارِ ، يَأْكُلُ الطَّعَامَ ، وَيَشْرَبُ الشَّرَابَ ، وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ؟
"আমর! তুমি কি জাহান্নামের নিদর্শন দেখতে চাও—যে কিনা পানাহার ও বাজারঘাট করছে?"
আমি বলি "অবশ্যই! আপনার জন্য আমার পিতা কুরবান হোক!"
নবি ﷺ তখন এক ব্যক্তির দিকে ইশারা করেন।
এর পর যখন (গৃহযুদ্ধের) গোলযোগ শুরু হলো, তখন আমি জাহান্নামের নিদর্শনের কাছ থেকে পালিয়ে জান্নাতের নিদর্শনের কাছে চলে আসি।
তুমি দেখবে-এর পর বানু উমাইয়ার লোকজন আমার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হবে।
আমি বলি, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।”
শপথ আল্লাহর! আমি যদি গর্তের ভেতরের আরেকটি গর্তে থাকি, বানু উমাইয়ার লোকজন আমাকে (সেখান থেকেও) বের করে এনে হত্যা করবে। এ কথাটি আমার প্রিয় বন্ধু আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বলেছেন। ইসলামে (র ইতিহাসে) আমার মাথাটি হবে প্রথম মাথা, যা কেটে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় নেওয়া হবে।'
তাবারানি, আওসাত ৩/১২৯-১৩০ (৪০৮১), একজন বর্ণনাকারী ত্রুটিপূর্ণ আর দুজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কেউ আলোচনা করেননি (হাইসামি); বুখারি, আত-তারীখ ৪/৩১১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৯-৩০ (৭০)।
📄 হামদানের জনতার উদ্দেশে
[১৭৬.] উমাইর (যু মাররান হামদানি) বলেন, 'আমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর এ ফরমানটি এসে পৌঁছয়:
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى عُمَيْرٍ ذِي مَرَّانٍ وَمَنْ أَسْلَمَ مِنْ هَمْدَانَ، سَلامُ عَلَيْكُمْ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكُمُ اللهَ الَّذِي لا إلهَ إِلا هُوَ، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّنَا بَلَغَنَا إِسْلَامُكُمْ مَقْدَمَنَا مِنْ أَرْضِ الرُّومِ، فَأَبْشِرُوا، فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى قَدْ هَدَاكُمْ بِهِدَايَتِهِ، وَإِنَّكُمْ إِذَا شَهِدْتُمْ أَنْ لا إِلهَ إلا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَأَقَمْتُمُ الصَّلاةَ وَأَعْطَيْتُمُ الزَّكَاةَ، فَإِنَّ لَكُمْ ذِمَّةً اللهِ وَذِمَّةَ رَسُولِهِ ، عَلَى دِمَائِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ، وَعَلَى أَرْضِ الْقَوْمِ الَّذِينَ أَسْلَمْتُمْ عَلَيْهَا، سَهْلِهَا وَجِبَالِهَا، غَيْرَ مَظْلُومِينَ وَلا مُضَيَّقٌ عَلَيْهِمْ، وَإِنَّ الصَّدَقَةَ لَا تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلا لأَهْلِ بَيْتِهِ، وَإِنَّ مَالِكَ بْنَ مِرَارَةً الرَّهَاوِي قَدْ حَفِظَ الْغَيْبَ، وَأَدَّى الأَمَانَةَ، وَبَلَغَ الرِّسَالَةَ، فَآمُرُكَ بِهِ خَيْرًا فَإِنَّهُ مَنْظُورُ إِلَيْهِ قَوْمُهُ ، وَلْيُحَبِّبَكُمْ رَبُّكُمْ
"করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর বার্তাবাহক মুহাম্মাদ ﷺ-এর পক্ষ থেকে উমাইর যু মাত্রান ও হামদান এলাকার ইসলাম-গ্রহণকারী লোকদের প্রতি। তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া আর কোনও ইলাহ্ নেই। এবার মূলকথায় আসি। আমরা জানতে পেরেছি-আমরা রোমানদের এলাকা থেকে আসার পর তোমরা ইসলাম গ্রহণ করেছ। সুসংবাদ তোমাদের! কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তাঁর পথের দিশা দিয়েছেন। তোমরা যদি
» এ মর্মে সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই আর মুহাম্মাদ আল্লাহর বার্তাবাহক,
» নামাজ কায়েম রাখো, এবং
» যাকাত দাও,
তা হলে তোমরা আল্লাহর নিরাপত্তা ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী হবে; এ সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে তোমাদের নিজেদের জানমাল ও সেসব লোকের এলাকার ক্ষেত্রে, যাদের পক্ষ থেকে তোমরা আত্মসমর্পণ করেছ; সেখানকার সমতল ও পাহাড়ি সব এলাকার ক্ষেত্রেই এ নিরাপত্তা প্রযোজ্য; তাদের ওপর কোনও ধরনের জুলুম করা হবে না; তাদের ওপর সংকীর্ণতা আরোপ করা হবে না।
মনে রাখবে-মুহাম্মাদ ও তাঁর ঘরের সদস্যদের জন্য যাকাত-গ্রহণ বৈধ নয়। মালিক ইবনু মিরারা রাহাবি (যুদ্ধের) গোপনীয়তা রক্ষা করেছে, বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে এবং বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তাই, তোমার প্রতি আমার নির্দেশ-তার সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে, কারণ তার গোত্রের লোকদের দৃষ্টি (এখন) তার ওপর নিবদ্ধ। তোমাদের রব তোমাদের মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দিন!"'
তাবারানি, কাবীর ১৭/৫০ (১০৭) বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কারও কোনও মন্তব্য দেখা যায়নি (হাইসামি); উসদুল গবাহ ৪/২৯৭; আল-ইসাবা ৭/২৮৮, ১/৬৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩০ (৭১)।