📄 আনসার সাহাবিদের ভালোবাসা
[১৬১.] আনাস থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেছেন-
آيَةُ الْإِيْمَانِ حُبُّ الْأَنْصَارِ، وَآيَةُ النَّفَاقِ بُغْضُ الْأَنْصَارِ
"ঈমানের নিদর্শন আনসার সাহাবিদের ভালোবাসা, আর মুনাফিকির নিদর্শন আনসারদের ঘৃণা করা。[১১]"
বুখারি ১৭, ৩৭৮৪; মুসলিম ২৩৫/১২৮ (৭৪), ২৩৬ (...); আহমাদ ৩/১৩০ (১২৩১৬), ৩/১৩৪ (১২৩৬৯), ৩/২৪৯ (১৩৬০৭); নাসাঈ ৫০১১; নাসাঈ, কুবরা ৮৩৩১; আবু ইয়া'লা ৭/১৯০-১৯১ (৪১৭৫), ৭/২৮৫-২৮৬ (৪৩০৮); বাইহাকি, শুআব ২/১৯১ (১৫১০); বাগাবি ৩৯৬৬।
[১৬২.] বারা (ইবনু আযিব) বলেন, 'আমি নবি ﷺ-কে বলতে শুনেছি-
الْأَنْصَارُ لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ. فَمَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ الله
"মুমিন ছাড়া আর কেউ আনসারদের ভালোবাসবে না, আর মুনাফিক ছাড়া অন্য কেউ তাদের ঘৃণা করবে না। যে তাদের ভালোবাসবে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসবেন, আর যে তাদের ঘৃণা করবে, আল্লাহও তাদের ঘৃণা করবেন।"
বুখারি ৩৭৮৩; মুসলিম ২৩৭/১২৯ (৭৫); আহমাদ ৪/২৮৩ (১৮৫০০)।
[১৬৩.] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
لا يُبْغِضُ الْأَنْصَارَ رَجُلٌ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَلَوْلَا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ، وَلَوْ سَلَكَتِ الْأَنْصَارُ وَادِيًا أَوْ شِعْبًا، لَسَلَكْتُ وَادِيَهُمْ أَوْ شِعْبَهُمْ الْأَنْصَارُ شِعَارِي، وَالنَّاسُ دِنَارِي
"আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান আছে এমন কেউ আনসারদের ঘৃণা করবে না। আমি হিজরত করে এসেছি, নতুবা আমি হতাম আনসারদেরই একজন। আনসাররা যদি চলার জন্য কোনও একটি উপত্যকা অথবা গিরিখাত বেছে নেয়, আমি তাদের উপত্যকা অথবা গিরিখাত দিয়ে যাব। আনসাররা আমার বুকের-সঙ্গে-লাগানো জামা, আর অন্যান্য লোকজন আমার চাদর। ২খ'
আহমাদ ২/৪১৯ (১৪৩৪), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ২/৩১৫ (৮১৬৯), ২/৪১০ (১৩০৯), ৩/৪৫ (১১৪০৭), ৩/৬৭ (১১৬৩৬); বুখারি ৩৭৭৯, ৭২৪৪; মুসলিম ২৩৮/১৩০ (৭৬), ২৩৯ (৭৭)।
টিকাঃ
حُبُّ الْأَنْصَارِ آيَةُ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَمُنَافِقٍ، فَمَنْ أَحَبَّ الْأَنْصَارَ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ، وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِيْ [২] أَبْغَضَهُمْ "প্রত্যেক মুমিন ও মুনাফিকের (পার্থক্যকারী) নিদর্শন হলো আনসারদের ভালোবাসা; যে আনসারদের ভালোবাসে, সে মূলত আমাকে ভালোবাসে বলেই তাদের ভালোবাসে; আর যে তাদের ঘৃণা করে, সে মূলত আমাকে ঘৃণা করে বলেই তাদের ঘৃণা করে।” (আবূ ইয়ালা ৭/১৯০-১১১ (৪১৭৫))
وَلَوْ يَنْدَفِعُ النَّاسُ فِي شِعْبَةٍ أَوْ فِي وَادٍ وَالْأَنْصَارُ فِي شِعْبَةٍ لَانْدَفَعْتُ مَعَ الْأَنْصَارِ فِي شِعْبِهِمْ [১] "লোকজন যদি একটি গিরিখাত অথবা উপত্যকা দিয়ে যায়, আর আনসাররা যায় আরেকটি উপত্যকা দিয়ে, তা হলে আমি যাব আনসারদের সঙ্গে, তাদের উপত্যকা দিয়ে।” (আহমাদ ২/৩১৫ (৮১৬৯))。
[২] আবূ হুরায়রা বলেন, 'আমার পিতামাতা (তাঁর জন্য) কুরবান হোক! আল্লাহর রাসূল ﷺ আনসারদের পাওনার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু দেননি; তারাই তো তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে, তাঁকে সাহায্য করেছে।' (বুখারি ৩৭৭৯)。
📄 আলি (রাঃ)-কে ভালোবাসা
[১৬৪.] আলি বলেন, 'শপথ সেই সত্তার, যিনি শস্যদানা বিদীর্ণ করে চারা বের করে আনেন এবং মৃদুমন্দ বায়ু প্রবাহিত করেন। উম্মি নবি আমাকে স্পষ্ট ওয়াদা দিয়ে বলেছেন যে, একমাত্র মুমিনই আমাকে ভালোবাসবে আর একমাত্র মুনাফিকই আমাকে ঘৃণা করবো।'
মুসলিম ২৪০/১৩১ (৭৮); আহমাদ ১/৮৪ (৬৪২), ১/৯৫ (৭৩১), ১/১২৮ (১০৬২); নাসাঈ ৫০১৮, ৫০২২; নাসাঈ, কুবরা ৮৪৩২, ৮৪৩৩।
টিকাঃ
]0[ لايُحِبُّكَ إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضُكَ إِلَّا مُنَافِيٌّ "কেবল মুমিনই তোমাকে ভালোবাসবে, আর কেবল মুনাফিকই তোমাকে ঘৃণা করবে” (আহমাদ ১/৯৫ (৭৩১))|
📄 খারাপ বিশ্বাস লালন করে খারাপ কাজ করা সবচেয়ে বড়ো মুসিবত
[১৬৫.] নুমান ইবনু বশীর বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে তায়িফের কিছু আঙুর উপহার দেওয়া হলে, তিনি একটি থোকা আমাকে দিয়ে বলেন-
اذْهَبْ بِهِ إِلَى أُمَّكَ
“এটা তোমার মায়ের কাছে নিয়ে যাও।”
কিন্তু 'আমি সেটি রাস্তাতেই খেয়ে ফেলি।
তারপর তিনি বলেন, مَا فَعَلَ الْمُنْتُورُ؟ “থোকাটির কী হলো?”
আমি বলি, "আমি খেয়ে ফেলেছি।”
তখন তিনি আমাকে ‘বিশ্বাসঘাতক' নামে অভিহিত করেন。[৩]
ইয়াহসুবি বলেন, 'নুমান তার মিম্বারে উঠে বলতেন—
أَلَا إِنَّ الْبَلِيَّةَ كُلَّ الْبَلِيَّةِ : أَنْ تَعْمَلَ أَعْمَالَ السُّوْءِ فِي إِيْمَانِ السُّوْءِ
"মনে রাখবে, শোচনীয় বিপর্যয় হলো খারাপ বিশ্বাস লালন করে খারাপ কাজ করা।"'
তাবারানি, আওসাত ১/৫১৫ (১৮৯৯), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); ইবনু মাজাহ ৩৩৬৮; তাবারানি, মুসনাদুশ শামিয়্যীন ১৪৮৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৭ (৪১৭)।
টিকাঃ
[৪] 'আমাকে ডেকে' (ইবনু মাজাহ ৩৩৬৮)。
[৫] خُذْهَذَا الْعُنْقُوْدَ، فَأَبْلِغْهُ أُمَّكَ "লও, এই থোকাটি তোমার মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ো” (ইবনু মাজাহ ৩৩৬৮)|
[৬] 'সেটি তার কাছে পৌঁছানোর আগেই' (ইবনু মাজাহ ৩৩৬৮)。
[৭] উল্লেখ্য, নুমান ছিলেন অল্পবয়স্ক সাহাবি। নবি ﷺ-এর মদীনায় হিজরতের পর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নবি ﷺ-এর ইন্তেকালের সময়, নুমান-এর বয়স ছিল দশ বছরের মতো (যাহাবি, সিয়ার ৩/৪১১-৪১২)。
[৮] 'কয়েক রাত যাওয়ার পর' (ইবনু মাজাহ ৩৩৬৮)。
[১] هَلْ أَبْلَغْتَهُ أُمَّكَ “তোমার মাকে সেটি দিয়েছিলে তো?” (ইবনু মাজাহ ৩৩৬৮)。
[২] "না।” (ইবনু মাজাহ ৩৩৬৮)。
[৩] নুমান ইবনু বশীর রা. এ থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ তাকে আঙুরের দুটি থোকা দিয়ে পাঠান; একটি তার জন্য, আর অপরটি তার মা 'আমরার জন্য। পরে, 'আমরার সঙ্গে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে দেখা হলে তিনি বলেন, أَسَلْتُ لَكِ مَعَ الْنُّعْمَانِ بِقَطْفٍ مِنْ عِنْبٍ "আপনার জন্য নুমানের কাছে এক থোকা আঙুর পাঠিয়েছিলাম। (পেয়েছেন তো?)" তিনি বলেন, "না।” তখন নবি ﷺ নুমানের কলার পাকড়াও করে বলেন, এ غَدَرُ “ওহে বিশ্বাসঘাতক!” ' (তাবারানি, মুসনাদুশ শানিয়্যীন ১৪৮৭)。