📄 খাবার খাওয়ানো ও সালাম দেওয়া
[১৫৫.] আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি নবি ﷺ-এর কাছে জানতে চায়, "ইসলামের কোন কাজটি সর্বোত্তম?"
নবি ﷺ বলেন,
تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفُ
"খাবার খাওয়ানো ও চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেওয়া।"'
বুখারি ১২, ২৮, ৬২৩৬; মুসলিম ১৬০/৬৩ (৩৯); আবূ দাউদ ৫১৯৪; নাসাঈ ৫০০০; ইবনু মাজাহ ৩২৫৩; আহমাদ ২/১৬৯ (৬৫৮১); জামিউল উসূল ৩০; জামউল ফাওয়াইদ ৭৭।
📄 আল্লাহর অবাধ্যতা এড়িয়ে চলা, ভালো কথা বলা নতুবা চুপ থাকা, প্রতিবেশী ও মেহমানকে সম্মান করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
[১৫৬.] নবি ﷺ-এর কয়েকজন সাহাবি থেকে বর্ণিত, 'তিনি বলেছেন—[৩]
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلْيَتَّقِ اللهَ وَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، فَلْيَتَّقِ اللهَ وَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، فَلْيَتَّقِ اللهَ وَلْيَقُلْ حَقًّا أَوْ لِيَسْكُتْ
» "যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন আল্লাহর অবাধ্যতা এড়িয়ে চলে আর তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে;
» [খ]যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন আল্লাহর অবাধ্যতা এড়িয়ে চলে আর তার মেহমানকে সম্মান করে; আর
» যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন আল্লাহর অবাধ্যতা এড়িয়ে চলে আর সত্য কথা বলে, নতুবা যেন চুপ থাকে।"
আহমাদ৫/২৪ (২০২৮৫), ইসনাদটি সহীহ (আরনাউত), ২/১৭৪ (৬৬২১), ২/২৬৭ (৭৬২৬), ২/২৬৯ (৭৬৪৫), ২/৪৩৩ (৯৫৯৫), ২/৪৬৩ (৯৯৬৭), ২/৪৬৩ (৯৯৭০), ৪/৩১ (১৬৩৭০), ৫/৪১২ (২৩৪৯৬), ৬/৬৯ (২৪৪০৪), ৬/৩৮৪ (২৭১৫৯); বুখারি ৫১৮৫, ৬০১৮, ৬১৩৬, ৬১৩৮, ৬৪৭৫; মুসলিম ১৭৩/৭৪ (৪৭), ১৭৪/৭৫ (...), ১৭৫/৭৬ (...), ১৭৬/৭৭ (৪৮); আবু দাউদ ৫১৫৪; তিরমিযি ২৫০০; নাসাঈ, কুবরা ১১৭৭৯, ১১৭৮০, ১১৭৮১, ১১৭৮২, ১১৭৮৩; ইবনু মাজাহ ৩৬৭২, ৩৯৭১; দারিমি ২০৬১; বুখারি, মুফরাদ ১০২; ইবনুল মুবারক, যুহদ ৩৬৮, ৩৭২; হান্নাদ যুহদ ১০৫০, ১০৫১, ১১০৫; আবদুর রাযযাক ১১/৭ (১৯৭৪৬); ইবনু আবী শাইবা ৮/৩৫৮ (২৫৯২৭); তায়ালিসি ৪/১০৬ (২৪৬৮); হুমাইদি ২/১১৪ (৫৮৫); বাযযার (কাশফ) ২/৩৯০-৩৯১ (১৯২৫), ২/৩৯১ (১৯২৬), ২/৩৯১ (১৯২৭), ৪/২২০-২২১ (৩৫৭৫); আবু ইয়া'লা ১১/৮৫-৮৬ (৬২১৮, প্রথম অংশ); তাবারানি কাবীর ৫/২৩৩ (৫১৮৭), ১০/৪১২-৪১৩ (১০৮৪৩), ১৪/৭৩ (১৪৬৭৭), ২২/১৯২ (৫০১); তাবারানি, মাকারিম ২১১-২৩৫; তহাড়ি, শারহু মুশকিল ৭/২০৮ (২৭৭৪), ৭/২০৯ (২৭৭৫), ৭/২০৯-২১০ (২৭৭৬), ৭/২১০ (২৭৭৭, ২৭৭৮), ৭/২১১ (২৭৮১); ইবনু হিব্বান ২/২৫৯ (৫০৬), ২/২৭৩-২৭৪ (৫১৬); ইবনু মানদাহ ঈমান ২৯৮, ২৯৯, ৩০০, ৩০১, ৩০৩; মুসনাদুশ শিহাব ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭০; আবূ আওয়ানা ৯৪, ৯৫, ৯৬; ইবনু আবিদ দুনইয়া, মাকারিম ৩২৩, ৩২৪; ইবনু আবিদ দুনইয়া আস-সামৃত ৪০, ৫৫৭, ৫৫৯; খারাইতি, মাকারিম ৯৯, ১৩৮; হাকিম৪/১৬৪ (৭২৯৭); বাইহাকি, কুবরা ৫/৬৮ (১২৫১), ৮/১৬৪ (১৬৭৪১); বাইহাকি, শুআব ৪/২৩৫ (৪৯১২), ৭/৭৪ (১৫৩০), ৭/৭৫ (১৫৩২), ৭/৭৫ (৯৫৩৩), ৭/৮৯ (১৫৮২), ৭/৮৯ (১৫৮৩), ৭/৮৯ (১৫৮৪); বাইহাকি, আদাব ৭৬; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ২৩৩২, ৩০০১, ৪১২১; মাজমাউয যাওয়াইদ৮/১৬৬ (১৩৫৭৪), ৮/১৬৬-১৬৭ (১৩৫৭৫), ৮/১৬৭ (১৩৫৭৬), ৮/১৬৭ (১৩৫৭৭), ৮/১৭৬ (১৩৬৪৩), ৮/১৭৬ (১৩৬৪৪), ৮/১৭৬-১৭৭ (১৩৬৪৫), ৮/১৭৭ (১৩৬৪৬), ১০/৩০০ (১৮১০৬), ১০/৩০০-৩০১ (১৮১০৭)।
টিকাঃ
[৩] সাহাবি আবূ শুরাইহ খুযাঈ বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি-' (আহমাদ ৪/৩১ (১৬৩৭০))|
]১[ فَلَا يُؤْذِي جَارَهُ “সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়” (মুসলিম ১৭৪/৭৫ )( فَلْيُحْسِنُ إِلَى جَارِهِ যেন তার প্রতিবেশীর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে" (মুসলিম ১৭৫/৭১ (...); 'কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন' (আহমাদ ৫/৪১২ (২৩৪৯৬(( ; فَلْيَحْفَظُ جَارَهُ "সে যেন তার প্রতিবেশীকে হেফাজত করে" (আহমাদ ২/১৭৪ (৬৬২১))。
[২] 'তিনি তিনবার বলেছেন' (আহমাদ ৫/৪১২ (২৩৪৯৬))|
]0[ فَلْيُحْسِنُ قُوْتَ ضَيْفِهِ "সে যেন তার মেহমানের জন্য উত্তম খাবারের ব্যবস্থা করে।" সাহাবিগণ বললেন, "মেহমানের খাবার কতদিন?" নবি ﷺ বলেন, ثَلَاثَةُ، وَمَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ فَصَدَقَةٌ “তিন (দিন); এর পর মেহমানদারি করা হলে, তা সদাকা হিসেবে গণ্য।” (ইবনু মানদাহ, ঈ১۵( فَلْيُحْسِنُ قِرَى ضَيْفِهِ যেন তার মেহমানকে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করে।" জিজ্ঞেস করা হলো, "আল্লাহর রাসূল! মেহমানের আপ্যায়ন কতদিন?" নবি ﷺ বলেন, ثَلَاثُ وَالضَّبَافَةُ ثَلَانَةُ أَيَّامٍ ثَلَاثُ لَيَالٍ فَمَا كَانَ بَعْدُ فَهُوَ صَدَقَةٌ “তিন [ মেহমানদারি করতে হবে তিনদিন/ তিনরাত (বাযযার (কাশফ) ২/৩৯০-৩৯১ (১৯২৫); তাবারানি, কাবীর ৫/২৩৩ (৫১৮৭))]; এর পরের মেহমানদারি সদাকা হিসেবে গণ্য হবে।" (আবূ ইয়া'লা ১১/৮৫-৮৬ (৬২১৮))|
]8[ خَيْرًا "কল্যাণজনক” (মুসলিম ১৭৩/৭৪ (৪৭(( |
]4[ " وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَصِلُ رَحِمَهُ রাখে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে" (বুখারি ৬১৩৮)。
📄 নিয়মিত মাসজিদে যাওয়া
[১৫৭.] আবূ সাঈদ বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَتَعَاهَدُ الْمَسْجِدَ فَاشْهَدُوا لَهُ بِالْإِيْمَانِ فَإِنَّ اللهَ يَقُوْلُ (إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ ءَامَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَعَالَى الزَّكَاةَ )
"কাউকে নিয়মিত মাসজিদে আসতে দেখলে, তার ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়ো, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন-'আল্লাহর মাসজিদগুলো তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও পরকালকে মানে, নামাজ কায়েম করে ও যাকাত দেয়।' (সূরা আত-তাওবাহ্ ৯:১৮)"'
তিরমিযি ২৬১৭, ৩০৯৩, হাসান গরীব; আহমাদ ৩/৬৮ (১১৬৫১), ৩/৭৬ (১১৭২৫) ইসনাদটি দুর্বল; ইবনু মাজাহ্ ৮০২, ইসনাদটি দুর্বল; দারিমি ১২৪৩; জামিউল উসূল ৩১; জামউল ফাওয়াইদ ৭৮।
📄 মুসলিমকে হত্যা না করা, জিহাদ চলমান রাখা ও তাকদীরে ঈমান রাখা
[১৫৮.] আনাস ইবনু মালিক বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
ثَلَاثَةٌ مِنْ أَصْلِ الْإِيْمَانِ الْكَفُّ عَمَّنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَلَا تُكَفِّرْهُ بِذَنْبٍ وَلَا تُخْرِجُهُ مِنَ الْإِسْلَامِ بِعَمَلٍ وَالْجِهَادُ مَاضٍ مُنْذُ بَعَثَنِي اللهُ إِلَى أَنْ يُقَاتِلَ آخِرُ أُمَّتِي الدَّجَّالَ لَا يُبْطِلُهُ جَوْرُ جَائِرٍ وَلَا عَدْلُ عَادِلٍ وَالْإِيْمَانُ بِالْأَقْدَارِ
"ঈমানের মূলে রয়েছে তিনটি বিষয়:
» যে-ব্যক্তি বলে-'আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই' তাকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকা, কোনও গোনাহের দরুন তাকে কাফির সাব্যস্ত না করা ও কোনও আমলের দরুন তাকে ইসলাম থেকে বের করে না দেওয়া;
» জিহাদ চলমান থাকবে-যে-সময় আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন সে-সময় থেকে নিয়ে আমার উম্মাহর শেষ অংশটি দাজ্জালের বিরুদ্ধে লড়াই করার আগ পর্যন্ত; কোনও জালিমের জুলুম অথবা ন্যায়পরায়ণের ন্যায়পরায়ণতা একে বাতিল করতে পারবে না; এবং
» তাকদীরের ওপর ঈমান আনা।"'
আবূ দাউদ ২৫৩২, হাসান লি গাইরিহী; আবূ ইয়া'লা ৭/২৮৭ (৪৩১১), ৭/২৮৭-২৮৮ (৪৩১২); সাঈদ ইবনু মানসূর ২৩৬৭; বাইহাকি ৯/১৫৬ (১৮৫২৩); জামিউল উসূল ৩২; জামউল ফাওয়াইদ ৭৯।
টিকাঃ
]১[ কُلِّهِ “সবটুকুর” (আবূ ইয়ালা ৪৩১১, ৪৩১২)。